

মির তকি মির। আমার কাছে তিনি ফিরে আসেন তাঁর কবিতার মাধ্যমে করা স্বীকারোক্তির কায়দার জন্য। আজকের পৃথিবীতে মার্কিন কনফেশনাল কবিতা বা স্বীকারোক্তিমূলক অন্যান্য রচনার যে পরিসর তৈরি হয়েছে– তার যেন এক বীজতলা এই মির প্রদেশ।
নিজামুদ্দিন তাঁর দরগাহ খুলে দিয়েছিলেন। তবু আমির খুসরু অপেক্ষা করেছিলেন আট বছর। রক্তক্ষয়, যুদ্ধ, ক্ষমতা কি মূক করে দিয়েছিল তাঁকে? আজ সুদূর সিরিয়া থেকে আসা সালমান দারবিশের প্রিয় বাদ্যযন্ত্র যখন বোমার আঘাতে ক্ষতবিক্ষত, তখন তার মুখের উপর আমির খুসরুর ছায়া পড়ে। ক্ষমতার ছায়া কি কবিতা মুছে দিতে পারে?
গার্সিয়া মার্কেসের ক্ষেত্রে আখ্যানের নির্মাতা শুধু চারপাশ বা আখ্যানকার নন। তাঁর নিজের কথায়, কবিরাই তাঁকে দিয়ে লিখিয়েছেন। যেমন হোমার তেমন পাবলো নেরুদা। কবিতাই তাঁর চালিকাশক্তি। তাঁর নোবেল পুরস্কারের ব্যাঙ্কোয়েট ভাষণের নাম তাই ‘কবিতার জন্য উল্লাস’।
পুরাতন দিল্লি শহর। যেখানে শতাব্দীর পর শতাব্দী জুড়ে নানা কবির সমাহার। যে শহর মির্জা গালিবের, সেখানে সমর সেন বন্ধ লেখা আর খুলতে পারলেন না। নিজের কাছে দরকার কমে গেল কবিতার। কিন্তু সেটা কি শুধুই নিজের?
নাদিয়া আঞ্জুমান ও ফারোক ফারখজাদ। আফগানিস্থান ও ইরানের দুই নারী-কবি। তারা আসলে লিখতে চেয়েছিল সতত পরাধীন মানুষের স্বাধীনতা সংগ্রামের কবিতা। অথচ সেই কবিতাই খুন করল তাদের!
চমকপ্রদ অন্ত্যমিল, যার সঙ্গে জুড়েছিল তাঁর নিজস্ব প্রায়-কথ্য ভাষায় লেখা অন্বয়। এইসব বৈশিষ্ট্য তাঁকে পরিচিতি দিচ্ছিল প্রতিভাময়ী কবি হিসেবে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ তাঁকে নাড়িয়ে দিয়ে গেলেও, রুশ বিপ্লবের মতো প্রভাব তাঁর কবিজীবন ও জীবনীর উপর আর কোনও ঘটনা ফেলেনি।
‘আমেরিকার শ্রেষ্ঠ ব্যর্থ লেখক কে?’ প্রশ্ন করলে তিনি বলতেন, এক নম্বরে টমাস উল্ফ আর দু’ নম্বরে উইলিয়াম ফকনার। এবং এই কথা তিনি বলে চলেছিলেন টমাস উল্ফের মৃত্যু থেকে অর্থাৎ ১৯৩৫ সাল থেকে। ফকনার নোবেল পান ১৯৪৯ সালে। তারপর দু’বার ন্যাশনাল বুক অ্যাওয়ার্ড এবং দু’বার কথাসাহিত্যের পুলিৎজার প্রাইজ।
পাউন্ড দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মুসোলিনির হয়ে ইতালির রেডিও থেকে মার্কিন-বিরোধী ধারাবাহিক বক্তৃতা দেন। যুদ্ধশেষে মার্কিন সেনা তাঁকে গ্রেফতার করে। তাঁকে জনসমক্ষে প্রায় প্রদর্শিত করা হয়। তারপর যুদ্ধবন্দি মানসিক রোগী হিসেবে সেন্ট এলিজাবেথে রাখা হয় ১২ বছর। এই বন্দিদশা থেকে তাঁকে মুক্ত করেছিল রবার্ট ফ্রস্টের কবি-ঈর্ষা।
উইলিয়াম কার্লোস উইলিয়ামস, অ্যালেন গিনসবার্গের দেখায় এনে দিয়েছিলেন সেই ভাবনার ছাপ যা বৌদ্ধ-দর্শনের সঙ্গে দ্বিরালাপে আরও ঋদ্ধ হল। তাঁকে নিয়ে গেল তাৎক্ষণিক দেখার কবিতা জগতে। গীতল নয়, বরং নিজের ভিতরকার অন্ধকার থেকে ঠিকরে বেরিয়ে দুনিয়ার অন্ধকারের সঙ্গে একাত্ম হওয়া।
মল্লিকা সেনগুপ্ত সেই ১৯৮০-র দশকের কবি, যে দশককে রাজনীতিকদের মতো জন্মবৃদ্ধ বাংলা কবিতার পুরুষেরা অগ্রাহ্য করতে চেয়েছিলেন। আধুনিকতার দাগিয়ে দেওয়া আগমার্কা মার্কসবাদীদের শ্রেণীশত্রুর রক্ত নয়। মল্লিকা আরও আগে মার্কসকেই প্রশ্ন করেছিলেন– ‘শ্রেণীহীন রাষ্ট্রহীন আলো-পৃথিবীর সেই দেশে/ আপনি বলুন মার্কস, মেয়েরা কি বিপ্লবের সেবাদাসী হবে?’
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved