Robbar

এক ‘বহিরাগত’ কবি

চমকপ্রদ অন্ত্যমিল, যার সঙ্গে জুড়েছিল তাঁর নিজস্ব প্রায়-কথ্য ভাষায় লেখা অন্বয়। এইসব বৈশিষ্ট্য তাঁকে পরিচিতি দিচ্ছিল প্রতিভাময়ী কবি হিসেবে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ তাঁকে নাড়িয়ে দিয়ে গেলেও, রুশ বিপ্লবের মতো প্রভাব তাঁর কবিজীবন ও জীবনীর উপর আর কোনও ঘটনা ফেলেনি।

→

আমেরিকার শ্রেষ্ঠ ব্যর্থ লেখক

‘আমেরিকার শ্রেষ্ঠ ব্যর্থ লেখক কে?’ প্রশ্ন করলে তিনি বলতেন, এক নম্বরে টমাস উল্‌ফ আর দু’ নম্বরে উইলিয়াম ফকনার। এবং এই কথা তিনি বলে চলেছিলেন টমাস উল্‌ফের মৃত্যু থেকে অর্থাৎ ১৯৩৫ সাল থেকে। ফকনার নোবেল পান ১৯৪৯ সালে। তারপর দু’বার ন্যাশনাল বুক অ্যাওয়ার্ড এবং দু’বার কথাসাহিত্যের পুলিৎজার প্রাইজ।

→

তোমার ঈর্ষা আমার জয়

পাউন্ড দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মুসোলিনির হয়ে ইতালির রেডিও থেকে মার্কিন-বিরোধী ধারাবাহিক বক্তৃতা দেন। যুদ্ধশেষে মার্কিন সেনা তাঁকে গ্রেফতার করে। তাঁকে জনসমক্ষে প্রায় প্রদর্শিত করা হয়। তারপর যুদ্ধবন্দি মানসিক রোগী হিসেবে সেন্ট এলিজাবেথে রাখা হয় ১২ বছর। এই বন্দিদশা থেকে তাঁকে মুক্ত করেছিল রবার্ট ফ্রস্টের কবি-ঈর্ষা।

→

দৃশ্য-ধ্যানের কবি

উইলিয়াম কার্লোস উইলিয়ামস, অ্যালেন গিনসবার্গের দেখায় এনে দিয়েছিলেন সেই ভাবনার ছাপ যা বৌদ্ধ-দর্শনের সঙ্গে দ্বিরালাপে আরও ঋদ্ধ হল। তাঁকে নিয়ে গেল তাৎক্ষণিক দেখার কবিতা জগতে। গীতল নয়, বরং নিজের ভিতরকার অন্ধকার থেকে ঠিকরে বেরিয়ে দুনিয়ার অন্ধকারের সঙ্গে একাত্ম হওয়া।

→

মল্লিকার মল্লিকা নির্মাণ

মল্লিকা সেনগুপ্ত সেই ১৯৮০-র দশকের কবি, যে দশককে রাজনীতিকদের মতো জন্মবৃদ্ধ বাংলা কবিতার পুরুষেরা অগ্রাহ্য করতে চেয়েছিলেন। আধুনিকতার দাগিয়ে দেওয়া আগমার্কা মার্কসবাদীদের শ্রেণীশত্রুর রক্ত নয়। মল্লিকা আরও আগে মার্কসকেই প্রশ্ন করেছিলেন– ‘শ্রেণীহীন রাষ্ট্রহীন আলো-পৃথিবীর সেই দেশে/ আপনি বলুন মার্কস, মেয়েরা কি বিপ্লবের সেবাদাসী হবে?’

→

শ্রবণ-শক্তি

কিন্তু যেই জীবনে দ্বিতীয় দশক এল, কানে গেল শক্তির স্বকণ্ঠে কবিতা পাঠ। ‘দুঃখ কি সহজে যায়? তাকে ধুতে নদী-ভরা জল/ লাগে ও বাতাস লাগে সেই ভেজা অঞ্চল শুকাতে।’ এইচএমভি-র লাল মলাটের ক্যাসেট। ব্যাস হয়ে গেল নেশা!

→

এই কামসূত্রের দেশেও গুলিয়ে যায় কামনা-প্রেম-বিয়ে!

এখন এই প্রেমের মাসে, গ্রেট ইন্ডিয়ান মেটিং সিজনে, কোটি মানুষের বিয়ে হচ্ছে, এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সেটা মেয়েটির অনিচ্ছায়, মুখ্যত সামাজিক চাপে। আর অনেক ক্ষেত্রে সামাজিকভাবে অনুমোদিত যৌনতার জন্য। এখানেই সন্দেহ হয় কামসূত্র সত্যি আমাদের দেশে লেখা হয়েছিল? আর কতকাল আমরা কামনা-প্রেম গুলিয়ে ঘুলিয়ে বেঁচে থাকব?

→