
বনলতা বা নীরা কোনও নির্দিষ্ট বাস্তব অস্তিত্ব নয়। অস্পষ্ট, অলীক। দৃশ্য ও সময়ে তা বহুগামী। বহুস্তরীয় ভাবনার মিথ, সময় ও প্রেক্ষিতে বদলে যায়। এই বদলটুকুই কবিতার রহস্য। এই রহস্যটুকু না থাকলে দীর্ঘদিন কোনও নারী পাঠকের চিন্তা ও চেতনা অধিকার করতে পারে না। যদি তার প্রত্যক্ষ অস্তিত্বও থাকে, কবিতায় যিনি এসে হাজির হন, তার নাম মিললেও তিনি এক ব্যক্তি নন। এমনকী কবির পক্ষেও তাকে চেনা সম্ভব নয়। বাস্তবের চরিত্র যখন কবিতায় প্রবেশ করে, তখন অবচেতনের আরও অনেক জটিল মিথস্ক্রিয়ায় শেষপর্যন্ত যা হয়ে ওঠে, সেখানে নামটি আছে, কিন্তু সেই মানুষটি কোথাও নেই।
নব্বইয়ের শুরুর দিকের মফস্সলের একটি অষ্টম শ্রেণির ক্লাস। তখনকার দিনে বাংলার মাস্টারমশাইরা ছাত্রছাত্রীদের কবিতা বা গদ্য রিডিং পড়তে বলতেন। তেমনই একটি ক্লাসে সুকান্ত ভট্টাচার্যের ‘রানার’ কবিতাটি পাঠ করতে বললেন শিক্ষক। কিন্তু অধিকাংশ ছাত্রই ব্যর্থ হল। কখনও শুরুর দিকে কখনও শেষের দিকে কবিতার মধ্যে সুর এসে পৌঁছল। শেষপর্যন্ত শিক্ষককেই কবিতাটি পাঠ করতে হল। সেদিন ‘রানার’ কবিতাপাঠে বাধা দিয়েছিল গানের স্মৃতি। হয়তো ‘গীতাঞ্জলি’ পাঠ করতে গিয়েও বাঙালি অনেক পাঠকের প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায় সুরের স্মৃতি। শুধু সুর নয়, যে কোনও অতিরিক্ত তথ্য কবিতাপাঠের চূড়ান্ত অন্তরায় হয়ে দাঁড়াতে পারে তার নিদর্শন আমরা বহুবার পেয়েছি।

শ্রেণিকক্ষ ছেড়ে যদি আরেকটু বড় পরিসরে, গবেষণার ক্ষেত্রে দাঁড়াই তাহলে দেখব কবিকে জীবনচরিতে খুঁজে পাবার কত নিষ্ফল চেষ্টা ছড়িয়ে আছে বাঙালির জীবনে। রবীন্দ্রনাথের কবিতায় ও গানে কাদম্বরী দেবীর উপস্থিতি নিয়ে যে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে, তা কবিতা বা গানের পক্ষে কতটুকু সহায়ক আজ আমাদের তা ভাবতে হয়। ভাবতে হয় পাঠককে ব্যর্থ করে দিয়ে গবেষকের এই আবিষ্কারের আনন্দ সাহিত্যের পক্ষে জরুরি কি না। এমনই একটি তত্ত্ব ছিল রবীন্দ্রনাথের জীবনদেবতাকে ঘিরে। অনেক সমালোচক এই নিয়ে নানা পরস্পরবিরোধী কথা বলেছেন। এমনকী রবীন্দ্রনাথও তাতে অংশগ্রহণ করে ব্যাপারটিকে আরও জটিল করে তুলেছেন। অথচ এই বিপুল তথ্য ও তত্ত্ব কবিতা পাঠের আনন্দকে অস্বীকার করে, কবির মনোধর্মকেও অস্বীকার করে। অ্যাকাডেমিক পরিসরে এর কুফল দীর্ঘদিন ভোগ করেছি আমরা। তবু তা একরকম মানা যেত সিলেবাস আর প্রশ্ন-উত্তরের খাঁচায় বন্দি থেকে। কিন্তু পাঠকের টেবিলে যখন তারা পৌঁছত, তখন তা যেন মৃতপ্রায়। এইসব কথার ভিড়ে একটি সাধারণ কথা, কবিতাটি ভালো না মন্দ, কীভাবে আমি অনুভব করেছি সেই কথাটি ঢাকা পড়ে যেত। গবেষকের উদ্দেশ্য যতখানি সার্থক হত, পাঠকের উদ্দেশ্য ততখানি ব্যর্থ হয়ে গেছে এভাবেই। তারই উগ্র পরিণতি আজ কাদম্বরী দেবীর সুইসাইড-নোট থেকে রানু ভানু, আদরের দাগ ছাড়িয়ে বাবরের সমকামিতায় পৌঁছেছে। জীবনী উপন্যাসের খোপে বাঙালি পাঠকের উদগ্র কৌতূহল, অন্যের জীবনকে ছুঁয়ে-ছেনে অলীক আনন্দ পাবার প্রতিবেশী নোংরামি, বোঝা যায় এইসব উপন্যাসের জনপ্রিয়তা দেখে।

পাঠক হিসেবে আমাদের লজ্জা হয়। আমরা সংখ্যালঘু হয়ে বসে বসে দেখি এক-একটি ব্যর্থ দুপুর কীভাবে চলে যায় শহর মফস্সলের উপর দিয়ে কোনও এক বনলতা সেনের খোঁজে। ‘সব চরিত্র কাল্পনিক’ লিখেও পার পাননি লেখকেরা। বিভূতিভূষণই ‘অপু’ কি না বা ‘সত্যচরণ’ কি না, শরৎচন্দ্র ‘শ্রীকান্ত’ কি না, ‘ইন্দ্রনাথ’ বা ‘অন্নদাদি’ বাস্তবে আছেন কি না এই নিয়ে লড়াই কিছু কম হয়নি। অপর্ণা সেনকেও শুনতে হয়েছে ‘পরমা’ ছবির পরমা আসলে তিনি কি না! দুঃখ পেয়ে তাঁকে বলতে হয়েছে, আমার জানা কি এতই ছোট? আমি কি এতই সীমাবদ্ধ, নিজের জীবনটুকু ছাড়া কিছু নেই!

তবুও এক হিসেবে এসবই ছিল অ্যাকাডেমিক পরিসরের ব্যাপার। সাধারণ পাঠক খুব বেশি নাক গলাননি। কিন্তু দৃশ্য পালটাতে শুরু করে বনলতা সেনকে ঘিরে। যদিও জীবনানন্দের কবিতায় অরুণিমা সান্যাল, সুরঞ্জনা, সুদর্শনা, শঙ্খমালা, শ্যামলী, মনিয়া আরও অনেক নাম এসেছে; কিন্তু রহস্য মূলত বনলতা সেনকে ঘিরে। পদবি-সহ নামের এমন অপ্রত্যাশিত ব্যবহার বাংলা কবিতায় নতুন এক দৃষ্টান্ত। কিন্তু পাঠক, কবিতার চেয়ে, কে এই বনলতা সেন– এই প্রশ্নের উত্তরে আগ্রহী হয়েছেন বহুদিন। বারবার এসেছে সুচিত্রা সেনের নাম। বনলতার অস্তিত্বের জন্য ডায়েরি, চিঠিপত্র ব্যবহার করে একাধিক বনলতার অস্তিত্ব বার করা হয়েছে। শোভনা মজুমদার অর্থাৎ বেবী, তিনি বনলতা সেন কি না তার বিচারও চলেছে। শোনা যায় জীবনানন্দ দাশ দার্জিলিং মেল করে যাওয়ার পথে নাটোর স্টেশন থেকে ভুবন সেন নামক এক বয়স্ক লোক কন্যাকে নিয়ে ট্রেনে ওঠেন। মেয়েটির নাম নাকি বনলতা সেন। কেউ কেউ বলেছেন বনলতা নাটোরের কোনও এক বারবনিতা। অশোক মিত্রকে জীবনানন্দ দাশ একবার বলেছিলেন আনন্দবাজার পত্রিকায় রাজশাহি জেলে রাজবন্দি এক বনলতা সেনের কথা। বনলতা সেনের আরও অনেক অস্তিত্বের কথা বলেছেন সম্প্রতি গবেষক গৌতম মিত্র। কিন্তু সত্যি কি এসবের প্রয়োজন আছে? বনলতা সেনের বাস্তব অস্তিত্ব আছে কি না তা কবিতার পাঠককে সামান্যতম সাহায্য করে কি? গবেষক তার অনুসন্ধানের শ্রম সার্থক করতে উঠে পড়ে লাগবেন। ডায়েরির পাতা, পাণ্ডুলিপি ঘাঁটবেন। কিন্তু সেখানে কবিতা কোথায়? শুধু বনলতা সেন খুজতে খুঁজতেই ‘দু-দণ্ড’ শব্দটির বিচার করার সুযোগ মিলল না। ফলে যা তৈরি হল তা একটি নামের কুহক। কিন্তু কবিতার ব্যঞ্জনা নিয়ে যে অনির্দেশ্য রহস্যের পথে হাঁটার কথা সাধারণ পাঠক বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রের তা অগোচরেই রইল।

ধরা যাক, জীবনানন্দের কবিতায় আপনি এমন কয়েকটি লাইন পেলেন– ‘আকাশে সাতটি তারা যখন উঠেছে ফুটে আমি এই ঘাসে/ বসে থাকি; কামরাঙা-লাল মেঘ যেন মৃত মনিয়ার মতো/ গঙ্গাসাগরের ঢেউয়ে ডুবে গেছে– আসিয়াছে শান্ত অনুগত/ বাংলার নীল সন্ধ্যা-কেশবতী কন্যা যেন এসেছে আকাশে।’ আপনি হয়তো এর আগেও লক্ষ করেছেন মনিয়ার কথা ‘কুড়ি বছর পরে’ কবিতায় ‘পাখির নীড়ের থেকে খড়/ ছড়াতেছে; মনিয়ার ঘরে রাত, শীত আর শিশিরের জল।’ এই মনিয়া কে জানা কি খুব জরুরি? কবিতার ভেতরেই কি একজন কিশোরীর ইঙ্গিত নেই, নেই প্রেমের আভাস? ব্যর্থতার বিষাদের জন্য কি আমাদের ডায়েরি থেকে খুঁজে বার করতে হবে মনিয়ার পরিচয়। জীবনানন্দ দাশের বাড়ির সামনেই ছিল মনিয়াদের বাড়ি। ডানপিটে মনি, হুজুগে, কাঁঠাল গাছ থেকে বাড়ি মেরে পাখি ফেলে দেয়। মায়ের সঙ্গে বাড়ি বাড়ি ঘুরে কাজ করে। জীবনানন্দ দাশের ভাইদের কাছে সে একজন ঝি। মনিয়াকে নিয়ে একটি উপন্যাস লেখার কথাও ভাবছেন তিনি (A Girl’s World: A Novel)। এই তথ্যগুলি আমরা জেনেছি গবেষক গৌতম মিত্রের গ্রন্থ থেকে। কিন্তু সত্যি কি তাতে পাঠকের কোনও লাভ হয়! মনিয়া যে গঙ্গাসাগরে ডুবে মারা গিয়েছিল এই তথ্য কি আমাদের সাহায্য করছে? কবিতার মনিয়ার এই পরিচয় গবেষণার একটা সার্থকতা হতে পারে নিশ্চিত, কিন্তু এই পরিচয়টুকু বিভ্রান্ত করে পাঠককে। তার নান্দনিক চৈতন্যকে সীমিত করে দেয় এই তথ্য। সীমাবদ্ধতা আরোপ করে ভাবনায়। হুজুগে তা খেয়াল থাকে না। হুজুগ আজও কাটেনি। আর তাই যে কোনও পাঠের আগে এক মূর্তিমান দেহ পথ অবরোধ করে। কৌতূহল নিবৃত্তি না করে তার উপায় নেই। শুধু হৃদয়ের দৃষ্টিপথ আচ্ছন্ন করে রাখে অনুসন্ধানকারীর অব্যর্থ চোখ। এই ক্ষতি সহজে যাবার নয়।

তেমনই কবিতায় আরেকজন নারীকে ঘিরে বহু পাঠক কৌতূহলী হয়েছেন দীর্ঘদিন। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের নীরা। হঠাৎ নীরার জন্য পাঠক যতবার ছুঁয়েছেন তার চেয়েও বেশি বুঝতে চেয়েছেন নীরার রক্তমাংসময় অস্তিত্ব। কেউ কেউ অনুমান করেছেন নারী থেকেই কি নীরার ব্যবহার এসেছে। যেহেতু সুনীলের কবিতায় নারী শরীরের উপস্থিতি বড় তীব্র; আর নীরার কবিতাগুলি বহুদিন পর প্রেমের কবিতায় যৌনতা ও শরীর নিয়ে নানা ফ্যালাসি ভেঙে উপস্থিত, তাই অবান্তর আগ্রহের শেষ নেই। তারপরও পাঠক ছুঁতে চেয়েছেন নীরার বাস্তব শরীর। একাধিক সভায় সারাজীবন সুনীলকে শুনতে হয়েছে নীরা কে? প্রত্যাশিত কোনও উত্তর মেলেনি তাঁর তরফে। শোনা যায় ‘বনলতা সেন কে?’ জিজ্ঞেস করলে জীবনানন্দ মুচকি মুচকি হাসতেন। আমিও স্বচক্ষে দেখেছি ‘নীরা কে?’ এই জিজ্ঞাসায় সুনীল মুচকি মুচকি হেসেছেন। সেই হাসি বলে দেয় কোনও নির্দিষ্ট বাস্তব অস্তিত্ব নয়, তা অস্পষ্ট অলীক। দৃশ্য ও সময়ে তা বহুগামী। বহুস্তরীয় ভাবনার মিথ, সময় ও প্রেক্ষিতে বদলে যায়। এই বদলটুকুই কবিতার রহস্য। এই রহস্যটুকু না থাকলে দীর্ঘদিন কোনও নারী পাঠকের চিন্তা ও চেতনা অধিকার করতে পারে না। যদি তার প্রত্যক্ষ অস্তিত্বও থাকে, কবিতায় যিনি এসে হাজির হন, তার নাম মিললেও তিনি এক ব্যক্তি নন। এমনকী কবির পক্ষেও তাকে চেনা সম্ভব নয়। বাস্তবের চরিত্র যখন কবিতায় প্রবেশ করে, তখন অবচেতনের আরও অনেক জটিল মিথস্ক্রিয়ায় শেষপর্যন্ত যা হয়ে ওঠে, সেখানে নামটি আছে, কিন্তু সেই মানুষটি কোথাও নেই। তার কারণ সেই মানুষটিকে গড়ে নিতে হবে একজন পাঠককে। কবি তাকে সাহায্য করবেন না। কবির ডায়েরি বা জীবনী তাকে সাহায্য করবে না। তাকে আবিষ্কারের নামে কোনও বাস্তব পথ দেখালে কবিতাটিকে খাটো করে দেওয়া হয়। একথা একজন গবেষক না বুঝলেও পাঠককে বুঝতে হয়।

এতদিন এই কৌতূহল ছিল মূলত নারীকে নিয়ে। সম্প্রতি যুক্ত হয়েছে একজন পুরুষ। শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের ‘অবনী বাড়ি আছো’ কবিতার ‘অবনী’। কে এই অবনী? অভিনেতা অম্বরীশ ভট্টাচার্য তার বাবা যে অবনী এমনটি দাবি করেছেন কিছুদিন আগে। অথচ অনেকের দাবি, তিনি অবনী নাগ। শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের বন্ধু, বাঁকুড়ায় থাকতেন ইত্যাদি। আনন্দ বাগচী যখন বাঁকুড়ায় অধ্যাপনা করতেন তখন কবি অবনী নাগের সঙ্গে যৌথভাবে একটি পত্রিকা ‘পারাবত’ সম্পাদনা করেছিলেন। এছাড়াও শক্তি, সুনীল, সমরেশ বসু, তারাপদ রায় প্রত্যেকের সঙ্গেই ছিল তার ঘনিষ্ঠতা। আনন্দ বাগচী যখন অসুস্থ তখন তাঁর জন্য সহায়ক তহবিল গঠনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন তিনি। ২০১২ সালের ৯ এপ্রিল আনন্দবাজার পত্রিকার কলকাতার কড়চায় তাঁর সম্পর্কে লেখা হয় ‘অবনী নাগ, শক্তি-র কবিতাখ্যাত সেই অবনীবাবুই বাঁকুড়া থেকে বারবার তুলে ধরেছেন বিস্মৃত সাহিত্যিকদের কথা।’ সমরেশ বসুর কিংবা শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের চিঠি হয়তো এসবের সাক্ষ্য দেবে। শোনা যায়, শক্তি চট্টোপাধ্যায় অবনী নাগের বাড়ির কাছাকাছি এসে হাঁক দিতেন ‘অবনী বাড়ি আছো’ বলে। এবার পাঠক সত্যি করে বলুন তো তাতে আপনার কবিতাটি পড়তে সুবিধা হয় কি? কবিতাটির নতুন ব্যঞ্জনা তৈরি হয় কি? খেয়াল করে দেখুন, এই কবিতাটির সবচেয়ে বড় শক্তি এই প্রক্ষিপ্ত লাইনটি যা ঘুরে ঘুরে বারবার এসে রহস্যময়তা তৈরি করেছে। সেখানে অবনীকে একটি নির্দিষ্ট মানুষ হিসেবে চিহ্নিত করে দিলে কবিতাটি নষ্ট হয়ে যায়। গোটা কবিতার প্রক্রিয়াটির মধ্যে খেয়াল করে দেখুন অবনী কোথাও নেই। শুধু আচমকা একটি স্মৃতি এসে ধাক্কা মারছে। যা স্বতঃস্ফূর্ত এবং বাস্তব থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। যতই বাস্তবের চরিত্র থাক কবিতায় সে কোথাও নেই। থাকতে পারে না। স্বয়ং শক্তিও জানতেন, অম্বরীশের বাবা কিংবা অবনী নাগ নয় পৃথক এক অস্তিত্ব অবচেতন থেকে উঠে এসে ভর করেছিল তাঁর উপর। অবনী তারই ফসল।

একজন পাঠকের উদ্দেশে তাই আমরা বলতে চাই– আত্মজীবনী, ডায়েরি, চিঠিপত্র ঘেঁটে গবেষণা করুন আপত্তি নেই; কিন্তু তার সাথে মৌলিক সৃষ্টিকে গুলিয়ে ফেলবেন না। কবিতা নিজের অস্তিত্বের বাইরে আর কোনও তথ্যকে স্বীকার করে না। তাতে কবি ও কবিতার মর্যাদা নষ্ট হয়। একজন পাঠকের কাজ কবির অবচেতনকে চিহ্নিত করা। তা বহু পাঠের মধ্য দিয়েই তৈরি হতে পারে। ডায়েরি বা চিঠিতেও কবির অবচেতন ধরা দেয় না। তা একমাত্র পাঠক চিহ্নিত করতে পারেন। সেটুকুই আপনার কাজ। কে নীরা, কে বনলতা, কে মনিয়া– এসব না জানলেও চলে। বেঁচে থাকবে কবিতা। নানাভাবে তার বিস্তার হবে। ব্যক্তিনাম ঘুচে ঘষা কাচের মতো অস্পষ্ট বেদনা তৈরি করবে। সেখানেই কবিতার সার্থকতা। একজন গবেষকের কাজ কোনও নামের অস্তিত্ব খোঁজা, কিন্তু একজন সচেতন পাঠকের ধর্ম ব্যক্তিনামের আড়ালের অস্পষ্ট অস্বস্তিটুকু।
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved