


এমনিতেই, মেয়েরা মেয়েদের দাবির কথাই বলেন, এবং তা না কি বলেই চলেন! নারীবাদী আলোচনা দেখলে সে পাড়ার দোকান হোক বা পারিবারিক জমায়েত, এমনকী, উচ্চশিক্ষার প্রাঙ্গণে গবেষণার জায়গাতেও আজকাল দেখি, লোকজন আড়ালে নাক সিটকায়। ভাবখানা এই– আর কত স্বাধীনতা দরকার! আইন-সমাজ সবই এখন মেয়েদের দিকে ঝুঁকে– এমন ভাব গড়পড়তা অনেকেরই। সেইসব অনেক মিথই স্বাতী ভেঙেছেন তাঁর ‘সমাজ’ শ্রেণিভুক্ত অনেক লেখাতে।
বছর ২০ আগে, আমাদের ভাড়াবাড়িতে এক মহিলা আসতেন। সাবান, শায়া, ব্লাউজ, নাইটি বিক্রি করতে। কাঁচুমাচু মুখ। তাঁর মুখের জ্যামিতিতে স্থায়ীভাবে ধরা থাকত আগামী যে কোনও ভুলের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা। নিজের অস্তিত্ব নিয়ে সর্বদা সংকুচিত ভাব তাঁর শরীরী ভাষায়। অনেকটা পথ হেঁটে হেঁটে আসতেন, হেঁটে হেঁটে যেতেন। আরও যেসব মেয়ে ডিম বিক্রি করতে আসতেন বা জামাকাপড়ের বদলে স্টিলের জিনিস দিতেন, তাঁরা কাজের সঙ্গে সঙ্গে অনেক গল্পও করতেন। তাঁদের অনেককেই পাড়ার সবাই নামে চিনতেন। তবে খুব ভয় পেতাম যাঁরা রাস্তার বা পাড়ার জঞ্জাল, নোংরা কুড়োতে আসতেন, তাদেঁর দেখা পেলে। তাঁদের আসল উদ্দেশ্য যে বাচ্চাদের ঝোলায় পুরে নিয়ে যাওয়া, তা শুনে হাড় হিম হয়ে আসত। তারপর বয়স গড়িয়েছে। জীবনও শাখাপ্রশাখা মেলেছে। আমার দেখার পরিধির সঙ্গে সঙ্গে খেটে খাওয়া মেয়েদের জীবনও প্রসারিত হয়েছে আরও নতুন নতুন ক্ষেত্রে।
কলেজবেলায় ট্রেনের লোকাল কামরায় রোজকার যাতায়াতের পথে যেসব খেটে-খাওয়া চোয়াল শক্ত ক্ষুরধার শাণিত মুখ দেখেছি, মনে মনে তাঁদের লড়াইয়ের কাছে প্রণত হয়েছি। ট্রেনে উঠেছেন ধাক্কাধাক্কি করে, মুড়ি খেয়েছেন ট্রেনের মেঝেতে বসে, একে-অন্যের জন্য বসার জায়গা রেখেছেন, ঝগড়া করেছেন চিৎকার করে। বিনা যুদ্ধে ছাড়েননি সূচ্যগ্র মেদিনী। ট্রেন থেকে নেমে ছড়িয়ে পড়েছেন বিভিন্ন কাজের জায়গায়। এরা বেশিরভাগই কাজ করেন অসংগঠিত ইনফর্মাল সেক্টরে। ফিরতি পথের ট্রেনের গেটের মুখে হাওয়ায় ভাসিয়ে দিয়েছেন সারাদিনের রোদে পোড়া ঘাম, চুল আর নিজেদের টুকিটাকি ঘরে-বাইরের সুখ-দুঃখের গল্প। সেইসব দেখে-শুনে ভাবতাম একরকম করে বোধহয় জানি খেটে-খাওয়া মেয়েদের অভিজ্ঞান। সেই মধ্যবিত্তের সবজান্তা ফানুসে সূচ ফুটিয়েছেন স্বাতী ভট্টাচার্য।

এ বছর বইমেলায় রাবণ প্রকাশনী থেকে স্বাতী ভট্টাচার্যের ‘তিলোত্তমা টোটো স্ট্যান্ড/ খেটে খাওয়া মেয়েদের কথা’ বইটি প্রকাশ পেয়েছে। প্রচ্ছদের রং অনেকক্ষণ ধরে জমাট-বাঁধা রক্তের মতো কালচে বাদামি। বইয়ের জ্যাকেটে বিভিন্ন পেশার মেয়ের ছবি, হঠাৎ করে দেখলে সহজপাঠের ছবির আদল মনে পড়তে পারে। শহুরে মধ্যবিত্ত জীবন থেকে বহু দূরের এবং কাছের যেসব খেটে-খাওয়া মেয়ের জীবন-অভিজ্ঞতা আমাদের জীবনবৃত্ত থেকে বহু আলোকবর্ষ দূরে অবস্থান করে, স্বাতী সেই সমস্ত মেয়ের শ্রমজীবনের শোচনীয়তার কথা তথ্য দিয়ে বিশ্লেষণ করেছেন। এই বইয়ের তথ্যে, গবেষণায় ও বিশ্লেষণে মিশে আছে স্বাতীর বহু দিনের খুব কাছ থেকে খেটে খাওয়া মেয়েদের যন্ত্রণার জীবনকে দেখা ও বোঝার অভিজ্ঞতা। তার সঙ্গে সঙ্গত দিয়েছে তাঁর সংবেদী মন, দূরদৃষ্টি আর গভীর ইতিহাসচেতনা। প্রায় কবর খোঁড়ার মতো করেই খুঁড়ে এনেছেন একেবারে নিচুস্তরের শ্রমজীবী মেয়েদের নিরাশ্রয় বিপন্নতার কথা। সঙ্গে সঙ্গে ধরতাই রেখেছেন শ্রমজীবী মেয়েদের দীর্ঘ আন্দোলনের ইতিহাসকে এবং সার্বিক নারী আন্দোলনের ও আইনের বিভিন্ন পর্যায়ক্রমকে।
এই বইয়ের প্রথম প্রবন্ধ আবর্তিত হয়েছে একটি চেয়ারকে ঘিরে। না, এই চেয়ার ক্ষমতার নয়, পদের নয়, সম্মানের নয়। নিদেনপক্ষে, কোনও শহুরে এলিট নান্দনিকতা বা সাহিত্যিক মেটাফরও এই চেয়ারের ভাগ্যে জোটেনি। এই চেয়ার শুধু বসতে চাওয়ার। ১০-১২ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে শপিং মলের কর্মী, বাড়িতে ডেলিভারি সংস্থার প্যাকিং কর্মী, চটকল কর্মীদের পায়ের শিরা ফুলে-জড়িয়ে ‘ভেরিকোজ ভেইন’ উপসর্গ দেখা দেয়। এই চেয়ার তাদের বসার দাবির। হ্যাঁ, এতই তুশ্চু এই চেয়ার-কাহিনি। কাজের জায়গায় এদের বসার অধিকার নেই। প্রথম কবে এই অধিকার অন্তত আইনে-কাগজে পেলেন তাঁরা? ২০১৮ সালে। যে বছর ইসরো ৩১-টা স্যাটেলাইট লঞ্চ করছে, বিশ্বের সর্বোচ্চ স্ট্যাচু ‘স্ট্যাচু অফ ইউনিটি’ মাথা ফুঁড়ে বেরচ্ছে, সেই বছর একইসঙ্গে প্রথম কেরল, কর্মীদের বসার অধিকার দিচ্ছে ‘শপস্ অ্যান্ড এসটাব্লিশমেন্ট অ্যাক্ট’ সংশোধন করে।

এই আইনও সহজে আসেনি। এসেছে দীর্ঘ আন্দোলনের মধ্যে নিয়ে। মেয়েদের সামনে নতুন শ্রমবিধির সমস্যা, খামতিও আসছে অনেক পরের ধাপে। স্বাতী জানাচ্ছেন, নতুন শ্রমবিধির সংজ্ঞাতেই ছিটকে পড়ছেন অনেক শ্রমিক না-শ্রমিক হয়ে। বেশিরভাগ শ্রমজীবী মেয়েরা খাতায়-কলমে শ্রমিকই নন। পুরুষ মজুরদের নাম লেখা শুধু খাতায়। ঘরে-বাইরে মেয়েদের শ্রম প্রয়োজনীয়, কিন্তু পিতৃতন্ত্রের অদ্ভুত ক্ষমতাবলে তা অদৃশ্য। যেখানে আইন আছে তা মানতেও অনীহা সিস্টেমের। স্বাতী তাই বলবেন–
“মেয়েদের পারিশ্রমিকহীন শ্রমের উপরেই সংসার থেকে রাষ্ট্র গোটা দেশটা দাঁড়িয়ে রয়েছে। তাই মেয়েরা ‘আইন মানো’ বললে সরকারের কানে বাজে ‘দড়ি ধরে মারো টান’।”
ধাপায় কাজ করা নোংরা-কুড়ানি, মাছ বিক্রেতা, চা বাগানের মেয়েদের অস্বাস্থ্যকর ঝুঁকিপূর্ণ পরিকাঠামোয় বৈষম্যপূর্ণ বেতনে যে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়, তা তুলে ধরেছেন লেখক। তার ওপর না আছে কাজের নিরাপত্তা, না আছে সম্মান। ঘরে আবার বেশিরভাগই মাতাল স্বামীর গৃহহিংসার শিকার। পড়তে পড়তে মনে হয়– মেয়েমানুষের জীবন কী সস্তা! কী তুচ্ছ! কী অকিঞ্চিৎকর!
চা বাগানের মহিলা শ্রমিকরা জানায়, নিয়ম-নীতি নির্ধারক আলোচনায় মেয়েদের প্রতিনিধিত্বকে পাত্তা দেওয়া হয় না, কথা বলায় বাধা দেওয়া হয়। পিতৃতন্ত্রের যে শিকড় মিটিং-মিছিলে নারীকে ‘সংখ্যা’ হিসেবে ভালোবাসে, কিন্তু তার মতামতকে ঘৃণা করে, তার সিদ্ধান্তকে ‘থ্রেট’ হিসেবে দেখে, তা যে এই চা বাগানের মেয়েদের কপালেই সীমাবদ্ধ নয়, তা জানেন অফিস-আদালত পুলিশ-কাছারি থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অবধি সর্বস্তরের মেয়েরা।

ক্ষমতার সমস্ত স্তরে মেয়েদের অভিযোগের মূল মেরুদণ্ড প্রোথিত থাকে সেই একই পিতৃতন্ত্রের জোয়ালে। ‘চেয়ার ও একটি মেয়ে’ প্রবন্ধেও আমরা তাই মধ্যবিত্ত উচ্চপদস্থ নারীদের প্রতি যে বৈষম্যের কথা পাব, তার প্রকাশ আলাদা হলেও ভেতরের সারবস্তু একই। ডিজিটাল প্রযুক্তিও যে সমাজের প্রান্তিক উপেক্ষিত মানুষদের সঙ্গে সুবিধেভোগী মানুষদের আরামের, বিলাসের, সুযোগের ফারাক কমাতে পারেনি– সেই সমীক্ষার কথাও তুলে ধরেছেন স্বাতী এই বইয়ে।
আশাকর্মীদের, স্কুলে মিড ডে মিলে রান্নার কাজ করা মেয়েদের দিয়ে রাষ্ট্র ও সমাজের বেগার খাটানোর মানসিকতার কথা তাঁদের বয়ানেই জানান লেখক। মেয়েরা যেখানেই যাক না কেন, ছায়ার মতো তাদের অনুসরণ করে ঘর-গৃহস্থালির একটি স্পেস। মেয়েদের অস্তিত্বের আর একটি এক্সটেনশনই যেন তা। যা বহু বহু বছর ধরে হুকুম তালিম করতে অভ্যস্থ। তাই যিনি রান্নার কাজে নিযুক্ত, তাঁকে স্কুলের স্যররা ঘর ঝাঁট দিতে বলতে পারেন অনায়াসে। আমরা, মেয়েরা জানি, এই নিয়ম তাড়া করে ফেরে যে কোনও অফিস-কাছারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণেও। মিটিংয়ের চা, পিকনিকের প্রাতরাশ হাতে-হাতে হাসি সমেত এখনও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মহিলা সহকর্মীরাই এগিয়ে দেন। মেয়েদের আবেগ এবং শ্রম– সবসময়ই ফ্রি ফ্রি ফ্রি।
স্বাতী বারবার জোর দিয়েছেন– সন্তান দেখাশোনার জন্য আইনসিদ্ধ ক্রেশের দাবিকে। মাতৃত্ব যে প্রায় সব মেয়েদের জীবনের স্বাধীনতা, কেরিয়ার ও উন্নতিতে প্রধান বাধা– সেকথাও উচ্চারিত হয়েছে আয়াসহীনভাবে, বিশ্লেষিত হয়েছে নানা তথ্যের সমাহারে। গ্রাম-শহরের সমস্ত রাস্তাঘাট মায় গোটা পৃথিবীকেই যেখানে পুরুষেরা বিনা দ্বিধায় তাঁদের মূত্রাগার করে ফেলেন, সেখানে বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে মেয়েদের উপযুক্ত শৌচাগারের অভাবে কিডনির অসুখ খুব সাধারণ বিষয়।

স্বাতী তাঁর প্রবন্ধগুলিকে তিনটে শ্রেণিতে রেখেছেন। এক, শ্রম; দুই, সমাজ; আর তিন হল সাহিত্য। অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধায় আর এস্থার ডুফলোর একটি চমৎকার সাক্ষাৎকারও এই বইয়ে জায়গা করে নিয়েছে। মেয়েদের শ্রম, মাতৃত্ব এবং তাঁদের নিজেদের দাম্পত্যে শ্রমের বিভাজনের মতো অনেক কথাই খোলাখুলি উঠে এসেছে এই সাক্ষাৎকারে।
এমনিতেই, মেয়েরা মেয়েদের দাবির কথাই বলেন, এবং তা না কি বলেই চলেন! নারীবাদী আলোচনা দেখলে সে পাড়ার দোকান হোক বা পারিবারিক জমায়েত, এমনকী, উচ্চশিক্ষার প্রাঙ্গণে গবেষণার জায়গাতেও আজকাল দেখি, লোকজন আড়ালে নাক সিটকায়। ভাবখানা এই– আর কত স্বাধীনতা দরকার! আইন-সমাজ সবই এখন মেয়েদের দিকে ঝুঁকে– এমন ভাব গড়পড়তা অনেকেরই। সেইসব অনেক মিথই স্বাতী ভেঙেছেন তাঁর ‘সমাজ’ শ্রেণিভুক্ত অনেক লেখাতে। মেয়েদের মতামতকে গুরুত্বহীন করে তোলা, তাদের স্বাস্থ্যের সুরক্ষা বিষয়ে অনীহা, তাদের শরীর এবং যৌনতার অধিকার মেনে নিতে আপত্তি– পরিবার থেকে রাষ্ট্র সকলের। চর্যাপদের ভুসুকুপাদের পদ ‘অপণা মাংসে হরিণা বৈরী’– আজও তাড়া করে বেড়ায় দেশ-কাল-ধর্ম-শ্রেণির সব বিভেদ ঘুচিয়ে সমস্ত মেয়েকে। নারী শরীর আজও নারীর মেধা-বুদ্ধি-হৃদয় সবকিছুকে ছাপিয়ে যায়। ডিজিটাল যুগ আরও অভিনব করেছে যৌন হয়রানির নানা কৌশলকে। সমাজের সর্বস্তরের মেয়েদের বিভিন্ন সময়ে কাজ ছেড়ে দেওয়ার একটি বড় কারণ– কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি। ট্রেড ইউনিয়নে পুরুষ শ্রমিকের দাবি যেখানে বেতন বৃদ্ধি, পেনশন, পিএফ বা চাকরির সুরক্ষা, শ্রমজীবী নারীদের দাবি এখনও ততদূর নাগালই পায় না।

‘নারী দিবসের উপহার’ প্রবন্ধে স্বাতী জানাচ্ছেন–
‘মেয়েদের দাবি– ব্যবহারযোগ্য শৌচাগার, ক্রেশ, মাতৃত্বের ছুটি, যৌন হয়রানি থেকে মুক্তি, এগুলো কোনও দিন তেমন পাত্তা পায়নি। অথচ, মেয়েদের কাছে এগুলো খুচরো বিষয়, বাড়তি বিষয় নয়, একেবারে মৌলিক বিষয়।’
‘সাহিত্য’ শ্রেণিভুক্ত প্রবন্ধগুলিতে বেশ কিছু ক্লাসিক ও পপুলার সাহিত্য নিয়ে স্বাতী আলোচনা করেছেন, জেন্ডারকে মূল অক্ষ করে। উঠে এসেছে ঠাকুরবাড়ির বিদ্রোহিনী মেয়ে সরলা দেবীর কথা এবং প্রসঙ্গত রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে তাঁর মিলমিশ না হওয়ার কথাও।
তাঁর প্রবন্ধগুলি বেশিরভাগই সংবাদপত্রে বেরিয়েছিল বলেই হয়তো শাণিত, সপাট ও বেপরোয়া। কিন্তু স্থির প্রজ্ঞা আর জীবন-অভিজ্ঞতার মহতী সঞ্চয় তাঁর লেখাগুলিকে গভীরভাবে প্রোথিত রেখেছে মাটির সঙ্গে। উচ্চকিত বিদ্রোহ নেই বটে, কিন্তু এ লেখায় নিরপেক্ষতার ভানও নেই কোথাও। শ্রম সমাজ ও সাহিত্যের লেখাগুলি একত্রে সমাজের সম্মিলিত মানসে, অবচেতনে, সাহিত্যে এবং রাষ্ট্রের কাঠামোর মধ্যে নিহিত পিতৃতন্ত্রের মূল স্বরকে চিনিয়ে দেবে। একই সঙ্গে স্বাতী ভট্টাচার্যের গবেষক সত্তা, অধ্যবসায় আর গভীর নিষ্ঠাও পাঠক উপলব্ধি করবেন। সরস্বতী, রহিমা খাতুনেরা জোর করে আদায় করেছেন টোটো চালানোর সুযোগ, ‘পুরুষের ক্ষেত্রে’ পা বাড়ানোর সমস্ত মূল্যও চুকিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা। যেমন যুগে যুগে পূর্ব নারীরা চুকিয়েছেন। আর একটি একটি করে ‘পুরুষের ক্ষেত্র’কে নিজেদের সীমানাভুক্ত করার আপ্রাণ চেষ্টা করে গিয়েছেন। পথ অনেকটা। কিন্তু সব প্রজন্মকেই নিজের লড়াইটা দাঁতে দাঁত চেপে লড়ে যেতে হয়। তাতে কিছু লড়াই পরের প্রজন্মে সহজ হলেও, আরও কিছু নতুন লড়াই ঠিক এসে যোগ দেয়। এই বই শুধু মেয়েদের অসহায়তা আর বৈষম্যের ছবিই তুলে ধরে না, তাঁদের দাঁতে দাঁত চেপে লড়াইকেও জানায় কুর্নিশ।
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved