Robbar

বহু জনতার মাঝে অপূর্ব একা

Published by: Robbar Digital
  • Posted:June 23, 2026 7:41 pm
  • Updated:June 23, 2026 7:52 pm  

কঙ্গোর খেলোয়াড়দের সঙ্গে মিশেলের সম্পর্ক এরই সমান্তরালে ক্রমেই গভীরতর হয়েছে। তাঁরা বুঝতে পেরেছেন, যে এই মানুষটি শুধুই একজন দর্শক বা সমর্থক নন। মিশেল আদতে কঙ্গোর সেই বৃহৎ জনগোষ্ঠীর একজন প্রতিনিধি, যাঁদের দৈনন্দিন দুঃখ-দুর্দশা, আশা আকাঙ্ক্ষার অনেকখানি জড়িয়ে আছে জাতীয় ফুটবল দলের সঙ্গে। খেলোয়াড়দের সঙ্গে মিশেলও প্রত্যেকদিন প্র্যাকটিস করেন। খেলার দিন ৯০ মিনিট টানা দাঁড়িয়ে থাকার জন্য, অন্যান্য দিন ৪০ মিনিট ঠায় দাঁড়িয়ে থেকে নিজেকে প্রস্তুত করেন মিশেল।

স্যমন্তক চট্টোপাধ্যায়

ফুটবল মাঠ। হইচই। গ্যালারি জুড়ে বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস! মাঠ পেরিয়ে আসা আহ্বানে সাড়া দিয়ে দর্শকের ভিড় যেন ফেটে পড়েছে! একেকটি পাস, সেভ, একেকটি ট্যাকল বা দুরন্ত গোলের তারিফে কোরাস, ড্রাম, ভুভুজেলা, নাচের তালে তালে ঘনঘন মুখর হয়ে উঠছে স্টেডিয়াম! ঢেউ উঠছে, টিম খেলছে! মাঠের খেলা থেকে লোকের মেলার ওপর দিয়ে লেন্স বুলিয়ে যেতে যেতে হঠাৎ চমকায় স্যাটেলাইট ক্যামেরার চোখ! আরে, ভিড়ের মাঝে ও কী? গ্যালারিতে এমন পেল্লায় একখানা মূর্তি এল কোথা থেকে? দর্শকাসনের সামনেই একটা উঁচু প্ল্যাটফর্মের ওপর মূর্তিটি রাখা… নাহ্, ক্যামেরার জুম ভুল ভাঙায় অচিরেই! মূর্তি তো নয়, ইনি জলজ্যান্ত মানুষ!

লুমুম্বা ভেয়া: মূর্তি নয়, জলজ্যান্ত মানুষ

কৃষ্ণাঙ্গ, নির্মেদ চেহারা, চোখে চশমা, পরিপাটি করে আঁচড়ানো চুল, ছাঁটা গোঁফ, পরনে উজ্জ্বল ব্লেজার, টাই এবং আগুনরঙা প্যান্ট। ডানহাত অভিবাদন এবং আশ্বাসের মাঝামাঝি এক মুদ্রায় মাঠের দিকে তুলে রেখে তিনি স্থির, নিষ্পলক দাঁড়িয়ে! অবিরাম হইহল্লা ও তুমুল উল্লাসের মধ্যে তিনি যেন একটেরে নিঃশব্দ এক দ্বীপ। আশ্চর্য বৈপরীত্যের দরুন চোখ এড়িয়ে যাওয়ার জো নেই!

চারপাশের লোকও ফিরে ফিরে দেখছে তাকে। ভাবখানা এমন: ‘একবার না একবার নির্ঘাৎ চোখের পাতা ফেলবে লোকটা?’ বা ‘একবার কি লোকটা ঘাম মুছবে না?’ কিন্তু সে গুড়ে বস্তাখানেক বালি ঢেলে ম্যাচের ৯০ মিনিট এবং এক্সট্রা টাইমেও ভদ্রলোক নট-নড়ন চড়ন, নট কিচ্ছু! তাজ্জব ব্যাপার! দর্শক থেকে খেলোয়াড় থেকে কর্মকর্তা সকলের মুখে একটাই প্রশ্ন– কে এই লিভিং স্ট্যাচু?

কঙ্গোর ফুটবল অন্তপ্রাণ সমর্থক– মিশেল কুকা এম্বোলাদিঙ্গা

সামান্য খোঁজখবর করতেই ভদ্রলোকের নামটা উঠে এল। মিশেল কুকা এম্বোলাদিঙ্গা, নিবাস কঙ্গো। মাঠে তাঁর দেখা মেলে কঙ্গোর কট্টর সমর্থক রূপে। কিন্তু কোনও স্লোগান নয়, কোনও উল্লাস বা উচ্ছ্বাসের লেশমাত্র নেই তাঁর মধ্যে। গোটা ম্যাচ আগাগোড়া স্থানুবৎ দেখে যাওয়াই আছে তাঁর সবটুকু জুড়ে। মনে ভরসা, দু’চোখ ভরা আশ্বাস। মিশেলের মতে, তাঁর এই স্থির অবস্থান দলের উদ্দেশে পৌঁছে দেয় এক ধরনের মানসিক শক্তি। তিনি একে নাম দিয়েছেন ‘ইমোশনাল স্ট্যামিনা’– এই অদৃশ্য আবেগের ক্যাপসুল যেন সবেগে চারিত হয় খেলার মাঠে। খেলোয়াড়দের লড়াইয়ে আবেগের দৃঢ়তা পৌঁছে দিতে একজন পাথরের মতো দাঁড়িয়ে থাকেন গ্যালারিতে। দল হারলে সে পাথরের চোখ বেয়ে গড়িয়ে নামে জল! ওটুকু মিশেল নিজেও রুখতে পারেন না। মূর্তি হলেও মানুষ তো!

কঙ্গোর জাতীয় দলের কাছে তিনি অবিশ্যি অধিক পরিচিত ‘লুমুম্বা ভেয়া’ নামে। সে নামও নিছক কথার কথা নয়, এক রাজনৈতিক ইতিহাস জড়িয়ে আছে এ-নামের সঙ্গে। সে কাহিনির পরতে পরতে মিশে আছে দেশপ্রেম।

গল্যালারিতে কঙ্গোর প্রাণভ্রোমরা

স্বাধীন কঙ্গোর প্রথম প্রধানমন্ত্রী ছিলেন প্যাট্রিস লুমুম্বা। তাঁর স্মৃতির উদ্দেশেই মিশেল নিজের ছদ্মনাম রেখেছেন। আফ্রিকার উপনিবেশ-বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা প্যাট্রিস, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর নতুন কঙ্গোর নেতৃত্বভার গ্রহণ করেন ১৯৬০ সালে। দেশের খনিজ সম্পদ তিনি পুঁজিবাদী রাষ্ট্রের হাতে তুলে দেননি। বিকিয়ে দেননি সদ্য স্বাধীন মাতৃভূমিকে। কিন্তু মাত্র এক বছরের মধ্যে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের কবলে পড়ে খুন হন লুমুম্বা। কঙ্গোর ইতিহাসের সবচেয়ে নির্মম অধ্যায়গুলির অন্যতম হিসেবে দেখা হয় এই হত্যাকে। পরে জানা যায় যে, প্যাট্রিসের দেহ টুকরো টুকরো করে সালফিউরিক অ্যাসিডে গলিয়ে দেওয়া হয়েছিল, যাতে তাঁর অস্তিত্বের প্রমাণ পুরোপুরি লোপাট করে দেওয়া যায়। কিন্তু জনশ্রুতির মতো গণস্মৃতিও বড় সহজে মোছা যায় না। তাই আজও কঙ্গোর বিপুল সংখ্যক মানুষের কাছে প্যাট্রিস লুমুম্বা একজন মসীহা। স্বাধীনতা, মর্যাদা এবং অধরা স্বপ্নের প্রতীক। মিশেল এম্বোলাদিঙ্গা সেই স্মৃতিকেই নতুনভাবে ফিরিয়ে এনেছেন ফুটবল গ্যালারিতে। তাঁর স্থির-ভঙ্গিটি আসলে লুমুম্বার একটি বিখ্যাত মূর্তির অনুকৃতি। হইহল্লার মাঝে থিরবিজুরির মতো দাঁড়িয়ে সে ভঙ্গি যেন টিমের উদ্দেশে বলতে থাকে– নিশিদিন ভরসা রাখিস… ওরে মন হবেই হবে। কারণ, ইতিহাস মৃত্যুঞ্জয়। তাই মিশেলের আরেক নাম ‘লুমুম্বা ভেয়া’ অর্থাৎ ‘লুমুম্বা আজও বেঁচে আছেন’।

কঙ্গোর প্রথম প্রধানমন্ত্রী ছিলেন প্যাট্রিস লুমুম্বা

গোড়ায় অবিশ্যি মিশেলের এই সমর্থনের ধরন অনেকেই বাঁকা-চোখে দেখেছিলেন। একাধিক লোক তাঁকে বিশেষ ধরনের খ্যাপাটে সমর্থক বলেও ঠাউরেছিল। কিন্তু ছবিটা ধীরে ধীরে বদলাতে শুরু করে গতবছর থেকে। মাঠে পুরো সময় মিশেলের উপস্থিতি কঙ্গোর জাতীয় দল ‘লেপার্ডস’-এর সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে যায়। ২০২৫ সালে মরক্কোয় অনুষ্ঠিত আফ্রিকা কাপ অফ নেশনস-এর পর থেকেই আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি মিশেলকে। মাঠে তাঁর আশ্চর্য উপস্থিতি বারবার ধরা পড়তে থাকে ক্যামেরায়। সোশাল মিডিয়ায় মুহূর্তে ভাইরাল হতে দেরি হয়নি সেই দৃশ্য। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম তাঁকে নিয়ে প্রতিবেদন ছাপতে শুরু করে অচিরেই। বিশ্বের তাবৎ ফুটবলপ্রেমীরা তাঁর কীর্তি জেনে বিস্মিত হন!

মিশেলের জনপ্রিয়তা কঙ্গোর সীমানা ছাড়িয়ে যায়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সমর্থকেরা তাঁর ভঙ্গি অনুকরণ করতে শুরু করেন। শিশু ও কিশোর ফুটবল দলগুলিও এই আশ্চর্য ভঙ্গি আপন করে নিতে বিন্দুমাত্র দেরি করেনি। দেখা গেল আপন খেয়ালে মিশেল এক স্বতঃস্ফূর্ত সাংস্কৃতিক দূত হয়ে দেশকালের গণ্ডি পেরিয়ে গিয়েছেন। এমন এক চৌহদ্দিতে তিনি আসীন, সেখানে সবুজ ঘাসে গড়িয়ে চলা ফুটবল-ই একমাত্র সত্য। একমাত্র আবেগ।

অপূর্ব সে একা

তবে বিতর্ক পিছু ছাড়েনি। আফ্রিকা কাপ অফ নেশনসের এক ম্যাচেই আলজিরিয়ার ফুটবলার মহম্মদ আমৌরা মিশেলের বিখ্যাত ভঙ্গিকে ব্যঙ্গ করে কদর্য অনুকরণ করেছিলেন। সমাজ মাধ্যমে সে ছবি ছড়িয়ে পড়তে নিন্দায় সরব হয়েছিল ক্রীড়াদুনিয়া। প্রতিক্রিয়ার তীব্রতা এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে, শেষমেশ আলজিরিয়ান ফুটবল ফেডারেশন আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখপ্রকাশ করতে বাধ্য হয়। তাঁরা জানায়, ওই ভঙ্গির নেপথ্যে যে গভীর ঐতিহাসিক তাৎপর্য রয়েছে, তা আমৌরা জানতেন না। এই ঘটনা ‘লুমুম্বা ভেয়া’ অর্থাৎ মিশেলের প্রতি বিশ্বজোড়া মানুষের সহানুভূতি ও শ্রদ্ধা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

আলজিরিয়ার ফুটবলার মহম্মদ আমৌরার বিতর্কিত সেলিব্রেশন, মিশেলকে বিদ্রুপ করে

কঙ্গোর খেলোয়াড়দের সঙ্গে মিশেলের সম্পর্ক এরই সমান্তরালে ক্রমেই গভীরতর হয়েছে। তাঁরা বুঝতে পেরেছেন, যে এই মানুষটি শুধুই একজন দর্শক বা সমর্থক নন। মিশেল আদতে কঙ্গোর সেই বৃহৎ জনগোষ্ঠীর একজন প্রতিনিধি, যাঁদের দৈনন্দিন দুঃখ-দুর্দশা, আশা-আকাঙ্ক্ষার অনেকখানি জড়িয়ে আছে জাতীয় ফুটবল দলের সঙ্গে। খেলোয়াড়দের সঙ্গে মিশেলও প্রত্যেকদিন প্র্যাকটিস করেন। খেলার দিন ৯০ মিনিট টানা দাঁড়িয়ে থাকার জন্য, অন্যান্য দিন ৪০ মিনিট ঠায় দাঁড়িয়ে থেকে নিজেকে প্রস্তুত করেন মিশেল। খেলোয়াড়দের উৎসাহ দেওয়া, মানসিকভাবে অনুপ্রেরণা জোগানো এবং সর্বোপরি দেশের মানুষের আবেগকে সগর্বে তুলে ধরার কাজটি করতে করতে মিশেল একসময় দলের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠেন।

চলতি বিশ্বকাপের কোয়ালিফায়ার রাউন্ডে তাঁর ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। টিম বিশ্বকাপ খেলার ছাড়পত্র পেতেই দলের খেলোয়াড়রা দাবি জানান, লুমুম্বা ভেয়াকে দলের সঙ্গে রাখা হোক। কঙ্গোর প্রেসিডেন্ট ফেলিক্স তশিসেকেদি সে দাবি মঞ্জুর করেন। সরকারি প্রতিনিধিদলের অন্তর্ভুক্ত হন মিশেল। গ্যালারির একনিষ্ঠ এক সমর্থক থেকে রাতারাতি হয়ে ওঠেন জাতীয় দলের স্বীকৃত সদস্য! এমন আশ্চর্য রূপকথা বোধহয় ফুটবলই লিখতে পারে!

কোলাহলের মধ্যেও অবিচল

সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া এক প্রতিবেদনে মিশেল বলেছিলেন, তাঁর একমাত্র উদ্দেশ্য কঙ্গোর মানুষের মনে আশা জাগিয়ে রাখা। তাঁর মতে, ফুটবল কখনওই নিছক খেলা নয়, বরং একটি জাতিকে একত্রিত করার অবিশ্বাস্য শক্তি। পুঁজিবাদী আস্ফালনও ময়দানি পরাজয়ে মাথা হেঁট করে তার চেয়ে দুর্বল রাষ্ট্রের কাছে। সবার ওপরে খেলা সত্য। সম্ভবত এই কারণেই মিশেলের উপস্থিতি যেন দলের উদ্দেশে নীরব প্রার্থনার মতো। বহু জনতার মাঝে অপূর্ব একা একজনের চারপাশে যেন আন্দোলিত হচ্ছে গোটা দেশ! একা মানুষের নৈঃশব্দ্যে টগবগ করে ফুটছে জাতির সম্মিলিত জয়ধ্বনি! কে জানে, জটায়ু থাকলে নির্ঘাৎ বলে বসতেন, ‘গ্রেট স্ট্যাচু-আর্টিস্ট কি না জানি না, তবে গ্রেট পার্সোনালিটি। যা-ই বলুন!’

গত ১৭ জুন, চলতি বিশ্বকাপে কঙ্গোর প্রথম ম্যাচ ছিল পর্তুগালের বিরুদ্ধে। অথচ দেশের এমন ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনের সাক্ষী হতে পারেননি মিশেল। কেন? কঙ্গোয় ইবোলা-ভাইরাসের দৌরাত্ম্য ফের অতিমারির আকার নিয়েছে। ইতিমধ্যেই আক্রান্ত বহু মানুষ, প্রাণ গিয়েছে শতাধিকের। সেই সংক্রান্ত বিধিনিষেধ, কোয়ারেন্টাইন এবং ভ্রমণ-জটিলতার কারণে দূরদেশে বসেই কঙ্গোর অবিশ্বাস্য ড্রয়ের খবর শুনতে হয়েছে দলের প্রাণপ্রিয় ‘লুমুম্বা ভেয়া’-কে।

আমেরিকার পথে মিশেল

কঙ্গোর খেলা, অথচ মিশেল নেই– এমনটা কল্পনার অতীত। তাই অনেকেরই মুখভার। কিন্ত ফুটবল মাঝেমধ্যেই অসম্ভবকে পেরিয়ে যায় রেনবো শটের মতো ক্ষিপ্রতায়। এক্ষেত্রেও তার অন্যথা হয়নি। কঙ্গোর খেলোয়াড়রা যখন কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তখন দলের শিবিরে হঠাৎ-ই এল এক অভাবনীয় বার্তা! সব বাধা পেরিয়ে আসছেন ‘লুমুম্বা ভেয়া’! বিশ্বকাপের মঞ্চে দ্বিতীয় ম্যাচে হাজির থাকবেন দলের স্তম্ভ এই বিরল সমর্থক!

এই দৃশ্য এবার দেখা যাবে বিশ্বকাপে

সুখবরে শক্তি দ্বিগুণ হয়, এ-কেবল কথার কথা নয়। কঙ্গো বনাম কলম্বিয়ার যুযুধান লড়াই দেখতে দেখতে মাঠ পেরিয়ে, গ্যালারি ঘুরিয়ে ক্যামেরার চোখ আবারও থমকাবে– অবিরাম হইহল্লার মাঝে ডান হাত প্রসারিত এক রঙিন, স্তব্ধ আশ্বাসের দিকে। অকুতোভয়। ‘আর তখনই চাবুক! আকাশে চিড়, ক্ষেত-ফাটা হাহা রেখা– তার কাছে ছেলেমানুষ’!