

বিহারের অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মী মোহনলাল নিজের মৃত্যুর রিহার্সাল ও শেষকৃত্য নিজেই সেরে নিলেন! কেন এমন কাণ্ড করেছেন জিজ্ঞেস করায় তাঁর উত্তর– ‘জানতে চেয়েছিলাম মানুষ আমাকে কতটা সম্মান দেয় ও স্নেহ করে।’ তবে কি বর্তমান একাকিত্বের যুগে মানুষ স্বীকৃতি খুঁজছে, এমনকী মৃত্যুর বিনিময়েও?
খেলোয়াড়দের সঙ্গে মিশেলও প্রত্যেকদিন প্র্যাকটিস করেন। খেলার দিন ৯০ মিনিট টানা দাঁড়িয়ে থাকার জন্য, অন্যান্য দিন ৪০ মিনিট ঠায় দাঁড়িয়ে থেকে নিজেকে প্রস্তুত করেন কঙ্গোর ‘লুমুম্বা ভেয়া’।
মৃত্যুর পাশে দীর্ঘ সময় কাটালে মানুষের ভিতরে অদ্ভুত পরিবর্তন আসে। প্রথমে ভয় লাগে। তারপর অভ্যেস হয়। তারপর একসময় মৃত্যু আর ভয়ের বিষয় থাকে না, বরং প্রশ্নের বিষয় হয়ে ওঠে। সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই হয়তো আমি বারবার ফিরে গিয়েছি বেনারসে।
দিনকয়েক আগেও আমার সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছিল অনীকের। আমার কাছে আসবে, দেখা করবে, এমনটাই বলেছিল। কী কথা, ফোনে কি বলা যায়? জিজ্ঞেস করাতে বলেছিল, ‘না, না। সামনাসামনি গিয়ে কথা বলব।’ দুর্ভাগ্য, সেই বসাটাও হল না, কী কথা যে ওর বলার ছিল, সেটাও আর জানার কোনও উপায় রইল না।
তা দেখতে এখনও সুন্দর তরুলতাকে। বছর ৪২ বয়স হল তরুলতার, চেহারাটাকে এখন ছিপছিপে রেখেছে কচি মেয়েদের মতো। গায়ের রং ফরসা, চোখ-মুখে টান আছে। আর আছে ভদ্র ও রুচিশীল ব্যবহার। অন্য মেয়েদের মতো খদ্দেরদের দিকে সে তেড়ে যায় না বা গালিগালাজ করে না। প্রথম দিনেই তার সঙ্গে জমে গেল রবীন্দ্রর।
আমি তমালের দিকে চেয়ে হাসলাম। কিছুটা বোকা হাসি। কী বলব, ঠিক বুঝতে পারছি না। আমার সব ইনফরমেশন লোকটার কাছে আছে। শুধু যেটা মিলছে না, কখনও মিলবেও না, সেটা হল আমার মৃত্যু তারিখ। আমি পান্ডেজির দিকে তাকালাম। বললাম, ‘ভালো। কী আর করা যাবে? আপনাদের খাতায় থাকুক– আমি মৃত।’
কোনও কোনও বিয়োগব্যথা অনুভবের অতীত। সংবেদনশীল মন সেই মৃত্যুচেতনাকে অতিক্রম করতে পারে না একজীবনে। যতই তা জীবনের অনিবার্য, শান্ত ও দার্শনিক পরিণতি হোক, আক্ষেপের দিগন্তে তাই তোমাকে নিয়ে ‘সহজ কথা’ ফুরবে না, রাহুলদা।
‘আমার কাছে খবর আছে’– বলতে বলতে এই প্যাটার্নে অনেকেই মৃত্যুসংবাদ আগে জেনে এবং জাঁকজমক সহকারে ফোনে বা পাড়ার মোড়ে বলে অকারণ এক আজব গুরুত্ব পেতে চায়। এটা একটা সামাজিক ক্ষমতা দেখানোর বিচিত্ বহিঃপ্রকাশ।
শরীরী মৃত্যুর ভয়, আশঙ্কা, হাতছানি বারবার এসেছে বিবেকানন্দের চৌকাঠে। তিনি জীবনভর খুঁজতেন ‘মানুষ’কে; আর সেই ‘মানুষের’ অপমৃত্যু তাঁকে দর্শনের ‘এলিটিজম’ থেকে জীবনযুদ্ধে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে বারবার। তাঁর কাছে মৃত্যু যেন জীবনকে বারবার খুঁজে পাওয়ার পথে নিত্যনতুন চ্যালেঞ্জ!
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved