is third world war already happening in front of our eyes? | Robbar
Robbar
  • ৩ ভাদ্র ১৪৩৩
  • শুক্রবার
  • ২১ আগস্ট ২০২৬

তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ কি চলমান বর্তমান?

একদিকে এই ইরান যুদ্ধ নিয়ে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি, অন্যদিকে ট্রাম্পের প্রস্তাবিত গাজা চুক্তি খারিজ করে দিয়েছেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। লেবানন পরিস্থিতি উত্তপ্ত। আবার রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামারও লক্ষণ নেই। তাহলে এই সব সংঘাত হঠাৎ কখনও আরও ছড়িয়ে কি এবার তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ বাধিয়ে দেবে?

Published by: Robbar Digital

Posted:August 20, 2026 6:24 pm | Updated:August 20, 2026 6:24 pm  
Facebook WhatsApp Messenger

ইরান যুদ্ধের মধ্যেই গত মে মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেজিং সফরের সময় তাইওয়ান নিয়েও ছিল উত্তেজনা তুঙ্গে! কিন্তু পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের সংঘাত কিংবা তাইপে-কে ১৪০০ কোটি ডলারের অস্ত্র ওয়াশিংটন বেচলে পরিণতি কী হতে পারে– সেসব প্রসঙ্গে সরাসরি না গিয়ে চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং হঠাৎ প্রাচীন গ্রিসের যুদ্ধের কথা টেনে আনলেন। আধিপত্য বিস্তারের প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে ট্রাম্পের প্রতি শি প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন, চিন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কি তথাকথিত ‘থুসিডিডিস ট্র্যাপ’ পেরিয়ে বড় শক্তির সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন কোনও দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে? থুসিডিডিসের ফাঁদ ধারণাটির প্রবক্তা হার্ভার্ড কেনেডি স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ডিন এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক গ্রাহাম অ্যালিসন। গ্রিক ইতিহাসবিদ থুসিডিডিস তাঁর ‘হিস্ট্রি অব দ্য পেলোপনেশিয়ান ওয়ার’ বইতে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, সেই যুদ্ধটি ছিল অনিবার্য, কারণ একটি উদীয়মান শক্তি হিসেবে এথেন্স তৎকালীন শাসক-শক্তি স্পার্টার আধিপত্যকে মারাত্মক চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছিল। সমগ্র ইতিহাস জুড়ে এই একই ধরনের প্রবণতা বা প্যাটার্ন নিয়ে গবেষণা করে অ্যালিসন দেখেছেন, একটি উদীয়মান শক্তি এবং একটি প্রতিষ্ঠিত শক্তির মধ্যে ঘটে চলা এমন ১৬টি তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার ১২টিরই পরিণতি হয়েছিল যুদ্ধে। তাঁর এই ধারণাটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-সহ বিশ্বব্যাপী নীতি-নির্ধারক মহলে গুরুত্ব পেয়ে আসছে। খ্রিস্টপূর্ব ৪৩১ অব্দে এথেন্স যেমন স্পার্টার সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছিল, এখানেও ইঙ্গিতটি ঠিক তেমনই– চিনের এই উত্থান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মনে উদ্বেগ এবং সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কা জাগিয়ে তুলছে। শি সতর্ক করে ট্রাম্পকে বলেছিলেন, তাইওয়ান ইস্যুতে যে-কোনও ভুল পদক্ষেপ তাঁদের দুই দেশকে ‘সংঘাতের’ দিকে ঠেলে দিতে পারে। স্বশাসিত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে চিন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একদিকে যেমন গণপ্রজাতন্ত্রী চিনকে ‘চিনের একমাত্র আইনি সরকার’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, তেমনই অন্যদিকে আবার তাদের দীর্ঘদিনের কৌশলগত অস্পষ্টতা বা ধোঁয়াশা নীতির (Strategic Ambiguity) অংশ হিসেবে তাইওয়ানের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক সম্পর্কও বজায় রেখে চলেছে। শি-র বক্তব্য ছিল, ‘চিন-মার্কিন সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাইওয়ান সমস্যাটিই হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।’ আর সেই সঙ্গে স্পার্টার দৃষ্টান্ত দিয়ে শি অত্যন্ত চমৎকারভাবে আমেরিকাকে সম্ভবত একটি ক্ষয়িষ্ণু রাষ্ট্র হিসেবে বর্ণনার সুযোগ ছাড়েননি।

zoom
ট্রাম্পের সঙ্গে চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং

আমেরিকা কি তাহলে সত্যিই এক ক্ষয়িষ্ণু রাষ্ট্র? ইরান যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি থেকে কিন্তু স্পষ্ট, এই সংঘাতের সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী হল চিন। এজন্য বেজিংকে একটি গুলিও ছুড়তে হয়নি, বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হয়নি কিংবা নিজেদের রাজনৈতিক পুঁজিও খাটাতে হয়নি। অথচ গত তিন দশকের মধ্যে এই সংকট থেকে চিন সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছে। আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক ফরিদ জাকারিয়ার পর্যবেক্ষণ, এই যুদ্ধ চিনের দীর্ঘদিনের তিনটি লক্ষ্য অর্জনকে আরও ত্বরান্বিত করেছে– পশ্চিম এশিয়াকে আমেরিকার ওপর কম নির্ভরশীল করে তোলা, চিনের অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ওপর দুনিয়ার নির্ভরতা বাড়িয়ে দেওয়া এবং বিশ্বমঞ্চে বেজিংকে এক দায়িত্বশীল ও অবিচল মহাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা।

আর অন্যদিকে ইরানের যুদ্ধে এ পর্যন্ত মার্কিন খরচের বহর সাড়ে ৩৭ বিলিয়ন ডলার বা সাড়ে তিন লক্ষ কোটি ডলারেরও বেশি। নিঃশেষ হয়ে আসছে মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডার। অথচ ইজরায়েলের প্ররোচনায় যৌথ অভিযান চালিয়েও ইরানে না হল জমানা বদল, না হল পরমাণু অস্ত্র চুক্তি। হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খুলে দেওয়ার চেষ্টায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তো এমন ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন যে, কোনও পারমাণবিক চুক্তি ছাড়াই তিনি এই যুদ্ধ থেকে সরে আসতে রাজি। এর আগে ট্রাম্প অন্তত সাতবার ইরানকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করার হুমকি দিলেও পরে পিছু হটেছেন। তবে ইরান ও ট্রাম্পের পাল্টা শর্তে সাম্প্রতিক আলোচনায় যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে তা স্পষ্টই সংকেত দিচ্ছে, তেহরান এক দীর্ঘস্থায়ী ও ক্লান্তিকর সংঘাতের জন্য পুরোপুরি তৈরি। ট্রাম্প পালানোর পথ পাচ্ছেন না। অধিকাংশ যুদ্ধই একসময় ইতিহাসের পাতায় হারিয়ে যায়। তবে অল্প কিছু যুদ্ধ ইতিহাসকে ‘পূর্ববর্তী’ ও ‘পরবর্তী’– এই দু’টি স্পষ্ট ভাগে বিভক্ত করে দেয়। ঠান্ডাযুদ্ধ-পরবর্তী বিশ্বের জন্য ১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধ ছিল তেমনই একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। এই সংঘাতের ফলেই কুয়েত মুক্ত হয়েছিল এবং এর হাত ধরেই পরবর্তী যুগের সূচনা হয়েছিল– যাকে সাধারণত মার্কিন একমেরুবিশ্বের (U.S. unipolarity) যুগ বলা হয়ে থাকে। এই সময়ে অতুলনীয় মার্কিন সামরিক শক্তিই বিশ্বায়ন, ক্রমবর্ধমান সমৃদ্ধি এবং তুলনামূলক স্থিতিশীলতার মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছিল। কিন্তু সেই যুগের এখন অবসান ঘটেছে। সেই সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যে ধরনের সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব ছিল, তা আজ আর নেই। বিশ্বায়নের কল্যাণে নিখুঁত ও লক্ষ্যভেদী যুদ্ধ (Precision warfare) পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি বা ব্যবস্থাগুলি এখন আর মাত্র হাতেগোনা কয়েকটি সুপার পাওয়ারের একচেটিয়া সম্পত্তি নয়; বরং এগুলি এখন বিভিন্ন পক্ষের হাতের নাগালে এসে গিয়েছে, যারা এখন নিজেদের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী রাষ্ট্রের বিরুদ্ধেও রুখে দাঁড়াতে পারে।

zoom
অধিকাংশ যুদ্ধই একসময় ইতিহাসের পাতায় হারিয়ে যায়

একদিকে এই ইরান যুদ্ধ নিয়ে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি, অন্যদিকে ট্রাম্পের প্রস্তাবিত গাজা চুক্তি খারিজ করে দিয়েছেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। লেবানন পরিস্থিতি উত্তপ্ত। আবার রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামারও লক্ষণ নেই। তাহলে এই সব সংঘাত হঠাৎ কখনও আরও ছড়িয়ে কি এবার তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ বাধিয়ে দেবে? স্বাভাবিক কারণেই এমন এক উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে দুনিয়ার নানা মহলে। আর কে না জানে, রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয়, উলুখাগড়ার প্রাণ যায়! যুদ্ধ হলে তো সবচেয়ে ক্ষতি আমাদের মতো সাধারণ মানুষের। তেল-গ্যাস থেকে শুরু করে সব জিনিসের দাম যে ক্রমাগত বেড়ে চলেছে, তার সঙ্গে এঁটে ওঠার অসম লড়াইয়ে আমাদের এখনই দিশেহারা অবস্থা। এরপর যদি যুদ্ধ এক অঞ্চল থেকে আরও নানা অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বযুদ্ধের চেহারা নেয়, তাহলে যে শোচনীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে তা কল্পনা করাও ভয়াবহ। কিন্তু যুদ্ধ-অর্থনীতির ফয়দা যারা লোটার তারা লোটে। ইরানের সঙ্গে আমেরিকা-ইজরায়েলের যুদ্ধ চলছে প্রায় ছ’ মাস ধরে। হরমুজ প্রণালী কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে থাকায় বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের কারণে অপরিশোধিত তেলের দামের ওঠানামায় বিরতি নেই। ব্যারেল প্রতি দাম প্রায়ই ছাড়িয়ে যাচ্ছে ১২০ ডলার। সেই বাড়তি দাম এবং তেল পরিশোধন বাবদ মুনাফার ফলে বি পি, শেল, সৌদি অ্যারামকোর মতো কোম্পানি আগের বছরের তুলনায় বিপুল অর্থ কামিয়েছে। তেলের চড়া দামের মওকায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, নরওয়ে ও কানাডার উৎপাদকদের রাজস্ব খাতে আয় বেড়েছে রকেট গতিতে। বিশ্ববাজারে চড়া দামে জ্বালানি রফতানি করে উল্লেখযোগ্যভাবে লাভবান হয়েছে মস্কোও। তাদের ওপর মার্কিন ও পাশ্চাত্য দেশগুলির জারি করা নিষেধাজ্ঞার ক্ষতি অনেকটাই পুষিয়ে নিয়েছে রাশিয়া।

বাজারের তীব্র অস্থিরতার মধ্যে ফিক্সড ইনকাম, কারেন্সি এবং কমোডিটিজ (এফআইসিসি) নিয়ে কাজ করা জে পি মরগ্যান চেজ ও গোল্ডম্যান স্যাকস-সহ শীর্ষস্থানীয় ওয়াল স্ট্রিট ঋণদাতারা কোটি কোটি ডলারের মুনাফা বৃদ্ধির কথা জানিয়েছে। এছাড়া লকহিড মার্টিন, নরথ্রপ গ্ৰুম্যান ও আরটিএক্স কর্পোরেশনের মতো উচ্চ প্রযুক্তির মিসাইল সিস্টেম, মহাকাশ প্রযুক্তি ও জেট ইঞ্জিন নির্মাতারা রেকর্ড পরিমাণ সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির বরাত পাওয়ায় শেয়ার বাজারে তাদের বিরাট উত্থান। অন্যদিকে পশ্চিম এশিয়ার অপরিশোধিত তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির ওপর নির্ভরশীল ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও চিন সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক ধাক্কা খেয়েছে। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে জাপানের জ্বালানি আমদানি এক ধাক্কায় ৬৪% কমে গিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধান শেয়ার বাজার ‘কোসপি’ ২০০৮ সালের পর সবচেয়ে বড় ধসের মুখে পড়েছে। পাকিস্তান ও বাংলাদেশের অবস্থা শোচনীয়। পাকিস্তানে জ্বালানির দাম রেকর্ড ছুঁয়েছে এবং মূল্যস্ফীতি আকাশচুম্বী। আমাদের দেশে গুরুত্বপূর্ণ শিল্প কারখানাগুলি যন্ত্রাংশের তীব্র সংকটে ভুগছে।

zoom
জেলেনস্কি ও পুতিন

ড্রোন হামলার কারণে বাহরিনের আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস অ্যালুমিনিয়াম এবং তেল রপ্তানি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। কাতারের বিশাল রাসায়নিক শিল্পাঞ্চল ‘রাস লাফান’-এ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, যা বিশ্বব্যাপী মোট এলএনজি সরবরাহ ক্ষমতার প্রায় ১৭% স্তব্ধ করে দিয়েছে। অবরোধ শুরু হওয়ার পর হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। মার্স্ক এবং এমএসসি-র মতো বড় শিপিং কোম্পানিগুলি বাধ্য হয়ে আফ্রিকা মহাদেশ ঘুরে জাহাজ পরিচালনা করছে। এতে প্রতিটি যাত্রায় অতিরিক্ত ১০ থেকে ২০ দিন বেশি সময় লাগছে, জ্বালানি খরচ বাড়ছে এবং সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনের ভাড়া প্রায় ৫০% পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। উপসাগরীয় সংঘাতের ফলে বিশ্বজুড়ে কৃষি উপকরণের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। ওই অঞ্চল থেকে ইউরিয়া রফতানি ৮৩% এবং অ্যামোনিয়া রফতানি ৭৫% হ্রাস পেয়েছে। ফলে আমাদের দেশ-সহ অন্যান্য দেশের সার কারখানাগুলি উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছে, যার জেরে দুনিয়া জুড়ে খাদ্যপণ্যের দাম মারাত্মকভাবে বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

তবে ক্ষমতার চাকা ঘুরে যাওয়ার বিষয়টিকে চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তুলেছে ইরানের যুদ্ধ। যেখানে উপসাগরীয় যুদ্ধ আমেরিকার একচ্ছত্র আধিপত্য প্রমাণ করেছিল, সেখানে আজ হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে ঘটা সংঘাতগুলি আমেরিকার সীমাবদ্ধতাকেই প্রকট করছে। এমন এক নতুন যুগের সূচনা হতে চলেছে, যেখানে ঠান্ডাযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ের চেনা সমীকরণগুলি সম্পূর্ণ উল্টে যাচ্ছে। কম খরচে বা কম ক্ষয়ক্ষতির বিনিময়ে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে অন্য দেশগুলিকে নিজের ইচ্ছার অনুগামী করার সক্ষমতা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আর নেই। স্থিতিশীলতা ও সুরক্ষার নিশ্চয়তা দেওয়া তো দূরের কথা, মার্কিন ক্ষমতাই এখন এক বড় অস্থিরতার উৎসে পরিণত হয়েছে। অপেক্ষাকৃত দুর্বল দেশগুলি এখন প্রতিরোধ ও বিঘ্ন সৃষ্টির কার্যকারিতা শিখে গিয়েছে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র বা অংশীদারদের ওপর বিশাল ক্ষয়ক্ষতির ধকল চাপিয়ে দেওয়ার মতো প্রয়োজনীয় হাতিয়ারও এখন তাদের হাতে রয়েছে। ফলে হরমুজ প্রণালী, গালফ অব ওমান, লোহিত সাগর, গালফ অব এডেন কিংবা তার আশপাশে বিভিন্ন তেলবাহী জাহাজের ওপর মাঝেমাঝেই ক্ষেপণাস্ত্র হানা চলছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ১১ আগস্ট পর্যন্ত অন্তত ৮৫টি ট্যাঙ্কারের ওপর হামলার খবর পাওয়া গিয়েছে। এতে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। আশঙ্কা অমূলক নয়, আগামী দিনগুলিতে ঘনিয়ে উঠবে আরও ঘন ঘন সংকট, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সুরক্ষায় ঘটবে বিপুল ব্যয় বৃদ্ধি এবং বিশ্বের কৌশলগত সামুদ্রিক পথগুলির (Chokepoints) ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার তীব্র প্রতিযোগিতা আরও বাড়বে। ঠান্ডাযুদ্ধ-পরবর্তী যুগ নিয়ন্ত্রণকারী ক্ষমতার নিয়মকানুনগুলি আজ কার্যত বিলীন হয়ে গিয়েছে এবং সামনে অপেক্ষা করছে এক অত্যন্ত বিপজ্জনক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা।

zoom
ওমান প্রণালীতে তেলের ট্যাঙ্কারে হামলা

তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সম্ভাবনা এখন আর কেবল বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি বা ভূ-রাজনৈতিক আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বিশের দশকের শুরু থেকে এ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা একটি নিয়মভিত্তিক স্থিতিশীল পরিবেশ থেকে ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে এক বহুমুখী নিরাপত্তা সংকটের চেহারা নিয়েছে। বিশ্বের প্রথম সারির সামরিক বিশেষজ্ঞ ও পর্যবেক্ষকেরা বলছেন যে, একটি পরিপূর্ণ বা ঘোষিত বিশ্বযুদ্ধ হয়তো অনিবার্য নয়, তবে বিগত আট দশক ধরে বড় শক্তিগুলির মধ্যে যুদ্ধ রুখে দেওয়ার কাঠামোগত সুরক্ষা-প্রাচীরগুলি এখন দ্রুত ভেঙে পড়ছে। ঠান্ডাযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে আমেরিকার একচ্ছত্র আধিপত্যের অবসানের পাশাপাশি তৈরি হয়েছে একটি ভঙ্গুর ও ভারসাম্যহীন বহুমুখী শক্তির বিশ্ব– যেখানে রাশিয়া, চিন, ইরান এবং উত্তর কোরিয়ার মতো দেশগুলি এক অলিখিত কৌশলগত জোট গঠন করে পশ্চিমি বিশ্বের সামরিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। ন্যাটোর মতো আনুষ্ঠানিক কোনও সামরিক চুক্তি না থাকলেও তাদের এই সম্মিলিত অবস্থান ইউরেশিয়া জুড়ে পশ্চিমি শক্তিকে একযোগে ব্যস্ত ও দুর্বল করে তুলছে। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক শান্তি বজায় রাখার প্রধান মাধ্যম রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ এখন স্থায়ীভাবে পঙ্গু হয়ে পড়েছে। স্থায়ী সদস্যদের একে অপরের বিরুদ্ধে নিয়মিত ভেটো প্রয়োগের ক্ষমতা এই সংস্থাকে বড় কোনও আন্তর্জাতিক বিরোধ নিষ্পত্তিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ করে দিয়েছে। এই মুহূর্তে বিশ্বের তিনটি প্রধান অঞ্চলকে ঘিরে এই উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। প্রথমত, ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ন্যাটো ও রাশিয়ার মধ্যে সীমান্ত অঞ্চলটি যে কোনও মুহূর্তে সরাসরি সংঘাতের রূপ নিতে পারে। ন্যাটোর কৌশলগত নথিতে রাশিয়াকে সরাসরি প্রধান হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যার জবাবে রাশিয়াও তার পারমাণবিক নীতি পরিবর্তন করে কৌশলগত বা সীমিত পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের শর্ত অনেক শিথিল করে এনেছে। আবার পোল্যান্ড ও বেলারুশের মধ্যবর্তী সুওয়ালকি করিডোর বা বাল্টিক সাগরে একটি সাধারণ ভুল বোঝাবুঝি বা লক্ষ্যভ্রষ্ট ক্ষেপণাস্ত্রও ন্যাটোর ৫ নং অনুচ্ছেদকে সক্রিয় করে তুলতে পারে, যা পুরো ইউরোপকে সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলবে।

এই তো সেদিন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি ও ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরপর বৈঠক হল। সেই আলোচনা থেকে বেশ আঁচ পাওয়া গেল– প্রথমে শুরু হওয়া ছোটখাটো আঞ্চলিক যুদ্ধ থেকেই কীভাবে বিশ্বযুদ্ধের ঝুঁকি তৈরি হয়। ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে থমকে যাওয়া আলোচনা আর ইরানের ওপর নতুন করে মার্কিন হামলার জেরে গোটা দুনিয়ায় আতঙ্ক বেড়েই চলেছে। চলতি বছরের গোড়ায় ‘পলিটিকো’র সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, পাশ্চাত্যের অধিকাংশ মানুষের ধারণা, পৃথিবী দিনদিন আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। অনেকে এমনও ভাবছেন, যে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যেই তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ লেগে যেতে পারে।

zoom
হোয়াইট হাউসে ইউক্রেন ইজরায়েল আমেরিকা বৈঠক

এই মুহূর্তে ইউরোপ যদি বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে সক্রিয় রণক্ষেত্র হয়, তবে ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলটি হল কাঠামোগতভাবে সবচেয়ে বেশি অস্থির, যা বিশ্বের বৃহত্তম দু’টি অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তিকে একে অপরের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতরের বার্ষিক ‘চায়না মিলিটারি পাওয়ার রিপোর্ট’-এ বারবার সতর্ক করা হয়েছে, ‘জয়েন্ট অ্যাম্ফিবিয়াস অপারেশনস কেপেবিলিটিজ’ অর্জনের জন্য বেজিং পিপলস লিবারেশন আর্মি-র আধুনিকীকরণ ব্যাপকভাবে ত্বরান্বিত করেছে। একইসঙ্গে তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা শ্বেতপত্রগুলিতে তাদের ‘এয়ার ডিফেন্স আইডেন্টিফিকেশন জোন’ (ADIZ)-এ নিয়মিত অনুপ্রবেশের ঘটনা এবং নৌ-মহড়াসহ গ্রে-জোন বা ধূসর-অঞ্চলে যুদ্ধ পরিস্থিতি (grey-zone warfare) মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার নথিবদ্ধ প্রমাণ দেওয়া হয়েছে। এখানে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্ফুলিঙ্গ ছড়াতে তাইওয়ানে কোনও আক্রমণ শানানোর দরকার নেই। এর চেয়েও সম্ভাব্য অনুঘটক হতে পারে আকস্মিক কোনও নৌ কিংবা বিমান দুর্ঘটনা। আবার আন্তর্জাতিক জলসীমায় তাইওয়ান প্রণালীতে চিনের চাপিয়ে দেওয়া কোনও শুল্ক অবরোধ (customs blockade) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তার আঞ্চলিক মিত্রদের (জাপান, অস্ট্রেলিয়া এবং দক্ষিণ কোরিয়া) কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিতে পারে। নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা বজায় রাখার জন্য সেই অবরোধ প্রতিরোধ করতে গেলেও তা মুহূর্তের মধ্যে কৌশলগত লক্ষ্মণরেখা (red lines) অতিক্রম করে সরাসরি সামরিক সংঘাতের সূচনা করতে পারে। অনেকের ধারণা, চিন ২০২৭ সালের মধ্যে তাইওয়ান আক্রমণ করতে চাইবে। লন্ডনের এক পত্রিকা জানাচ্ছে, আগামী বছরটি চিনের কাছে ‘জাদুকরি’ কারণ এটা সেই সংগঠনের শতবর্ষ যা পরে পিএলএ (People’s Liberation Army) হয়েছে। ওই সময়কে বেজিংয়ের সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের সঙ্গে মেলানোর চিন্তা ওয়াশিংটনে বেশ জোরদার হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে ডিফেন্স নিউজ জানিয়েছে। ‘টাইম’ পত্রিকা বলছে, ওয়াশিংটনের প্রায় সব রিপাবলিকানই যে মিত্রকে রক্ষা করতে চায়, সেটা হল চিনের বিরুদ্ধে তাইওয়ান। আবার বেজিং বিলক্ষণ জানে, তাইওয়ানের ওপর পূর্ণাঙ্গ হামলা চালালে সেটা ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধের ঝুঁকি’ তৈরি করবে।

অবশ্য মনে রাখতে হবে, হরমুজ প্রণালীতে যা ঘটেছে, পূর্ব এশিয়ায় তা আরও বড় আকার ধারণ করতে পারে। তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য কোনও সংঘাতের প্রচলিত সমীকরণ বলে– চিন এই দ্বীপটির বিরুদ্ধে আগ্রাসন চালালে তাইওয়ানকে দীর্ঘ অবরোধের ধকল পোহাতে হবে। তবে নিখুঁত প্রযুক্তির দ্বিতীয় বিপ্লব (second precision revolution) আরও একটি জটিল সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিচ্ছে। আর তা হল– ড্রোন, ভ্রাম্যমাণ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, বাণিজ্যিক সেন্সর এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সমন্বয়ে তাইওয়ান নিজেই চিনের সামুদ্রিক বাণিজ্যকে বিপর্যস্ত করে দিতে পারে। বিশ্বের মোট সামুদ্রিক বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয় তাইওয়ান প্রণালী দিয়ে। ফলে এটি পৃথিবীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক জলপথ। চিনের অভাবনীয় অর্থনৈতিক সাফল্য সত্ত্বেও দেশটির মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৪০ শতাংশ এখনও বৈদেশিক বাণিজ্যের ওপর নির্ভরশীল– যার সিংহভাগই সম্পন্ন হয় সমুদ্রপথে। ইরান যেভাবে হরমুজ প্রণালীর মতো কৌশলগত নৌ-পথকে ভূ-রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে বেছে নিয়েছে, তাইওয়ানের পক্ষেও ঠিক একই পথ অবলম্বন করা অসম্ভব নয়।

zoom
তাইওয়ান প্রণালী

চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মিকে বিরাট চাপে ফেলতে অনেক জাহাজ ডুবিয়ে দেওয়ার দরকার হবে না তাইওয়ানের। মাত্র কয়েকটি সফল ড্রোন হামলা, অথবা ভবিষ্যতে হামলার সম্ভাবনাই যথেষ্ট আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা ছড়িয়ে দিতে পারে। তাতে বিমা খরচ হঠাৎ বেড়ে যাবে, বাণিজ্যিক পরিবহন সংস্থাগুলি ঝুঁকির পুনর্মূল্যায়ন করবে, আর ট্রাফিক কমে যাবে। অর্থনৈতিক বিপর্যয় বেড়ে যাবে। চিনা পণ্যের ওপর বিশ্বের নির্ভরতার কারণে এর প্রভাব অধিকাংশ দেশের জন্য মারাত্মক হবে এবং কয়েক মাসের মধ্যেই আন্তর্জাতিক অর্থনীতির সংকোচনের ঝুঁকি তৈরি হবে। ফলে বাণিজ্যনির্ভর চিনা অর্থনীতি সম্ভবত ১৯৮০-এর দশকে বড় অর্থনৈতিক সংস্কার শুরু করার পর থেকে সবচেয়ে গুরুতর আঘাতের মুখোমুখি হবে। আধুনিক বাণিজ্যের ভিত্তি যে আস্থার ওপর দাঁড়িয়ে আছে, তার পতনের সঙ্গে চিনকে লড়াই করতে হবে। জ্বালানি আমদানি, উৎপাদন সরবরাহ শৃঙ্খল, রফতানি শিল্প, জাহাজ পরিবহন এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ– সবকিছু একসঙ্গে চাপের মুখে পড়বে। ইরান যুদ্ধে আমেরিকার নাজেহাল অবস্থা চিনকে তাইওয়ান আক্রমণের হঠকারিতা আগাম বুঝতে সাহায্য করতে পারে। অন্যথায় দ্বীপরাষ্ট্রটি ইরানের কৌশলই বেছে নিতে পারে, যা চিন ও সমগ্র বিশ্বের জন্য বয়ে আনবে সুদূরপ্রসারী ও ভয়াবহ পরিণতি।

ভবিষ্যতে ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠতে পারে বিশ্বের প্রধান প্রধান সামুদ্রিক নৌ-পথ বা কৌশলগত সংকীর্ণ জলপথগুলি। তাইওয়ান প্রণালী, দক্ষিণ চিন সাগর, মালাক্কা প্রণালী, লোহিত সাগর কিংবা খোদ হরমুজ প্রণালীই হয়ে উঠতে পারে এর রণক্ষেত্র। এর ফলে বিমা খরচ ও নৌ-পরিবহন ব্যয় যেমন বাড়বে, তেমনই বারবার বিঘ্নিত হবে আন্তর্জাতিক সরবরাহ শৃঙ্খল। বাধ্য হয়েই রাষ্ট্রগুলিকে কৌশলগত কারণে বিশাল মজুত গড়ে তুলতে হবে এবং দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে রাজনৈতিক চাপ তৈরি হবে, যা শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের খরচকে আকাশচুম্বী করে তুলবে। বিশ্বায়নের ছোঁয়ায় যে পৃথিবী একসময় উন্মুক্ত ও বাধাহীন হয়ে উঠেছিল, তা আজ আবারও নানা বিভাজন আর সংকটে চড়াই-উতরাইয়ের মুখে পড়েছে। ফলে বিশ্ব ব্যবস্থার প্রচলিত সমীকরণ ও নিয়মনীতিতে এক আমূল পরিবর্তন এখন ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

zoom
চিনা বাহিনীর কুচকাওয়াজ

হরমুজ প্রণালী হয়তো কেবল শুরু ছিল। যদি একই ধরনের প্রক্রিয়া তাইওয়ানকে ঘিরেও দেখা দেয়, তবে আন্তর্জাতিক রাজনীতির পরবর্তী যুগ আর বিশ্বায়নের সম্প্রসারণের মাধ্যমে সংজ্ঞায়িত হবে না; বরং তা নির্ধারিত হবে বিশ্বায়নকে রক্ষা করার খরচের বহরে। আর সেই সূত্রে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ ১৯১৪ সালের ট্রেঞ্চ ওয়ার কিংবা ১৯৩৯ সালের অতর্কিত বিমান ও ট্যাংক হামলার (ব্লিৎসক্রিগ) মতো হবে না। এটি হবে একইসঙ্গে বহু রণাঙ্গন ও বহুমুখী মাত্রার এক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মহাবিপর্যয়।

Donald Trump Iran Usa war Putin Sangbad Pratidin Sangbad Pratidin Robbar third world war War World war

Share this article on