কী বলিষ্ঠ তুলির টান! রঙের কী দ্বিধাহীন প্রয়োগ! বিষয়ের কী সাবলীল প্রাণপ্রতিষ্ঠা! এবং প্রতিটি ক্যানভাসের সঙ্গে কী উত্তাল প্রাণ ও কল্পনার সংযোগ! এবং কী উদ্দাম তোয়াক্কাহীন যৌনতার প্রকাশ! আমি একইসঙ্গে ভেসে গেলাম মুগ্ধতায় এবং আতঙ্কে! কেমন যেন ভয় করল আমার। আমাদের সমাজ, পরিবেশ, সংস্কৃতি, সংস্কার, রাজনীতি নিতে পারবে তো এই মাপের পরোয়াহীন আত্মপ্রকাশ?
১০৯.
তিনি প্রবল প্রতিভা। তিনি বিপুল বিতর্কিত। তিনি প্রভূত ধনী। তিনি অপূর্ব রঙিন। তিনি অমনস্ক উদাসীন। তিনি অনন্য অর্বাচীন। তিনি রেস্তোরাঁয় খেতে এসে দেওয়ালে এঁকে রেখে যান কোটি টাকার পেইন্টিং। তিনি রোলস রয়েস থেকে নামেন জীর্ণ জামায়। খালি পায়ে। সেই ভুবন-বিখ্যাত শিল্পী মকবুল ফিদা হুসেনের ১১১তম জন্মদিন ১৭ সেপ্টেম্বর। কিন্তু সেটাই একমাত্র কারণ নয় তাঁকে নিয়ে এবারের কাঠখোদাইয়ের। এই শিল্পীকে আমি পেয়েছিলাম আমার মার্জার-ভাগ্যে শিকে ছেঁড়ার মতো সাক্ষাৎকারে এবং আলাপে দু’-তিনবার! সেটাও কারণ হিসেবে হয়তো খুব নিরেশ নয়।

ঠিক মনে নেই। সময়টা ১৯৭০-’৭২ হবে। ‘জুনিয়র স্টেটসম্যান’, যার ডাকনাম ‘জে. এস.’, সেই পত্রিকার জন্য আমি দিল্লিতে, হুসেনের বাড়ির বসার ঘরে। আগের দিন রাতে এসেছি কলকাতা থেকে দিল্লি, কারণ হুসেন টাইম দিয়েছেন ঠিক সকাল ন’টায় ওঁর বাড়িতে। দিল্লি আসার আমার আর কোনও কারণ নেই। শুধু এই সাক্ষাৎকার। এবং আমি ঠিক সময় পৌঁছেছি। হুসেন তারিফ করেছেন আমার সময়জ্ঞানের। এবং বলেছেন, একটু বসতে। ঘণ্টাদেড়েক হয়ে গিয়েছে আমি অপেক্ষা করছি। কারও সাড়াশব্দ পাচ্ছি না। এবং উঠে যে একটু উঁকিঝুঁকি মারব তারও উপায় নেই। একটা বাঘের সাইজের অ্যালসেশিয়ান আমাকে সেই থেকে পাহারা দিচ্ছে! আমি চেয়ার থেকে উঠলেই গলা থেকে একটা ভয়ংকর প্রাগৈতিহাসিক শব্দ বের করছে। আমি আবার বসে পড়ছি। ঘণ্টাদুয়েক অপেক্ষার পরে এক বালকের আবির্ভাব হল। সেই বালক আমাকে প্রশ্ন করল, আমি কার জন্য অপেক্ষা করছি। আমি বললাম, মিস্টার হুসেনের জন্য। উনি আমাকে একটু বসতে বলে চলে গেলেন। বালক তখন বলল, ‘ফাদার হ্যাজ লেফ্ট ফর জ্যপ্যান। সো নো ইউজ ওয়েটিং!’ আমি তো থ!
কলকাতায় ফিরে আমি সম্পাদক ডেসমন্ডকে বললাম। ডেসমন্ড বলল, ‘পালাবে কোথায়? কলকাতায় আসতেই হবে। শান্তি চৌধুরী ওর ওপরে ডকুমেন্টারি করছে।’ বুঝলাম, ইমেজ কাকে বলে। হুসেন তো এটা করতেই পারে।

কিছুদিনের মধ্যেই সাদার্ন এভিনিউয়ের ‘বিড়লা একাডেমি অফ আর্ট এন্ড কালচার’-এর বাড়িতে প্রথম আমার খপ্পরে পড়লেন মকবুল ফিদা হুসেন। আমি অবশ্য হুসেনের আগেই পৌঁছেছিলাম। শান্তি চৌধুরীর সঙ্গে কথা বলে নিলাম। সুভদ্র মানুষ। বললেন, শুটিংয়ের ফাঁকে ফাঁকে কথা বলে নেবেন, আমার কোনও আপত্তি নেই। কিছুক্ষণের মধ্যেই হুসেন এলেন। এবং আমাকে দেখেই মৃদু ধাক্কাটা সামলালেন। আমি বললাম, চিনতে পারছেন, গত মাসে আমি আপনার দিল্লির বাড়িতে গিয়েছিলাম, আপনি আমাকে ‘একটু ওয়েট করুন, এখুনি আসছি’ বলে জাপান চলে গিয়েছিলেন। হুসেন ইংরেজিতে বিড়বিড় করলেন: ‘ঠিক ঠিক। তোমার কথা আমার মনে পড়েছিল প্লেনে উড়তে উড়তে। যাই হোক, আজ তোমার সঙ্গে কথা বলবই।’

আন্তর্জাতিক মানুষ বলতে যা বোঝায়, মকবুল ফিদা হুসেন তাই। এই দ্বিধাহীন সত্যের প্রেক্ষিতে হুসেনের ব্যাকগ্রাউন্ড বেশ ইন্টারেস্টিং: ‘আমি গরিব মুসলমান পরিবারের ছেলে। মাদ্রাসায় পড়তাম। জন্মেছিলাম বোম্বাইয়ের একদম গরিব ঘরে। লেখাপড়া তেমন হল না। কিন্তু ছবি আঁকতে খুব ভালো লাগত। যা দেখতাম সব হুবহু এঁকে ফেলতে পারতাম। এই করতে করতে ড্রয়িংটা খুব স্ট্রং হল। একটা কথা খুব ইম্পর্ট্যান্ট, এদেশের অনেক বড় আর্টিস্টের দেখেছি, ড্রয়িং স্ট্রং নয়, মীনা কুমারীর মুখটা ঠিক মতো আঁকতে পারবে না। বিদেশি আর্টিস্টদের কিন্তু রিয়েলিস্টিক ড্রয়িং খুব স্ট্রং, যেমন মাতিসের, পিকাসোর। ফর্ম না জানলে, হুবহু আঁকতে না পারলে, ফর্ম ওইভাবে ভাঙা যায়?’

‘আপনি সুচিত্রা সেনের মুখ হুবহু আঁকতে পারেন?’ আমার এই প্রশ্নের উত্তরে হুসেন– ‘হ্যাঁ’ ‘না’ কিছুই বলেন না। হাতের কাছে ওঁর লেদার ফাইল থেকে একটা সাদা চৌকো কাগজ বের করে কানে গোঁজার মতো একটা নগণ্য পেনসিল দিয়ে সুচিত্রা সেন আমার দিকে তাকিয়ে, তার এমন একটা মোক্ষম রেখা– ফটোগ্রাফ এঁকে ফেললেন। এবং আমার ‘অবাক’-টা আমার মুখ থেকে মিলিয়ে যাওয়ার আগে ড্রয়িংটা কুচিকুচি করে উড়িয়ে দিলেন! আমি আঁতকে বললাম, এ কী করলেন! আমাকে দিলেন না? বলেই মনে হল, হুসেনের সইটা পড়লেই আর ছবিটা আমার হাতে এলেই, আমি হতাম কয়েক লক্ষ টাকার মালিক! এত সহজ হুসেনের একটা ছবি পাওয়া? আরও একবার শিখলাম, একেই বলে ইমেজ। তৈরি করতে হয়। ধরে রাখতে হয়।

“আমি এই রকম স্কেচ করে বোম্বের ফুটপাতে ১০ টাকায় বিক্রি করতাম। তাতে আমার সই থাকত। দু’-একটা বিক্রি হত। তখন আমি খুব ছোট। ভিক্ষে না করে ছবি বিক্রি করতাম। সে-সব ছবি কেউ রেখেছেন কি না জানি না। কারও কাছে থাকলে, অনেক দাম এখন। তখন দু’বেলা খেতে পেতাম না। তবে ওই স্কেচগুলোর সূত্রে একটা কাজ পেয়ে গেলাম। বোম্বাই তো ফিল্ম সিটি। সেটা ১৯৩০ সাল। আমার ১৫ বছর বয়স। আমি হিন্দি ছবির হোর্ডিং, বিলবোর্ড আঁকার কাজ পেলাম। বেশ কিছু বছর ওই কাজ করলাম। শিখলাম বড় ক্যানভাস কীভাবে সামলাতে হয়, তার একটা নেপথ্য অঙ্ক আছে, সেটা শিখে নিলাম। এবং তখন সিনেমার বিলবোর্ড, পোস্টার এই সব এঁকে রোজগারও হতে লাগল। আমি নিজে নিজে ক্যানভাসে ল্যান্ডস্কেপ আঁকতে শিখলাম। এবং ঠিক করে ফেললাম শিল্পী হব। প্রথম থেকে সমস্ত ব্যাপারটা বড় স্কেলে ভাবতে শুরু করলাম। আই স্টার্টেড থিংকিং বিগ।”

হুসেনের বড় স্কেলে ভাবার প্রথম পদক্ষেপে বোধহয় ২৬ বছর বয়সে। বিয়ে করলেন ১৯৪১ সালে। ফাজিলা নামের এক কন্যাকে। হুসেন এবং ফজিলা-বিবির চার ছেলেমেয়ে, আমি যতদূর জানি। ১৯৯৮ সালে ফজিলা মারা যান। হুসেন আর বিয়ের বন্ধনে যাননি। এবং অসম্ভব প্রাইভেট, নিভৃত হুসেনের সাংসারিক জীবন। তাঁর ইমেজ হচ্ছে, সংসারছুট বিশুদ্ধ শিল্পী। এবং এমন এক বাউন্ডুলে বাউলমনের আর্টিস্ট, যিনি আর্থিক সাফল্যে এভারেস্ট-জয়ী। ভারতের পিকাসো!

১৯৩০ সালে ১৫ বছর বয়সে তিনি বোম্বেতে হিন্দি ছবির বিলবোর্ড এঁকে তাক লাগাচ্ছেন। এবং না খেতে পাওয়া গরিব। ১৯৩৪ সালে ১৯ বছর বয়সে ফুটপাতে ১০ টাকা দামে তাঁর একটি ছবি তিনি বিক্রি করছেন। সেই শুরু ছবি বিক্রি করে বেঁচে থাকা। কেউ তাঁকে উপদেশ দিচ্ছেন ল্যান্ডস্কেপ আঁকতে চাও তো গুজরাতে যাও। গুজরাতে হুসেন পাচ্ছেন রূপকথার তেপান্তর। ‘এই প্রথম আমার যোগাযোগ হল অনন্তের সঙ্গে। আমি বারবার গুজরাত গিয়েছি সেই টানে। এবং অনন্তকে ক্যানভাসে কী করে ধরে রাখা যায়, সেই চেষ্টা করতে লাগলাম। বলতে পারো, গুজরাতের ল্যান্ডস্কেপ আমার টিচার’, একথাগুলো হুসেন বলেছিলেন আমাকে। পাশে আমি পেয়েছিলাম তথ্যচিত্রের পরিচালক শান্তি চৌধুরীকে শ্রোতা হিসেবে। ‘গুজরাতের ভূমিচিত্র আমাকে রাতারাতি পৌঁছে দিল প্রাথমিক সাফল্যে।’, বললেন হুসেন।

১৯৫২ সাল। মকবুল ফিদা হুসেন ৩৭। এক অসম্ভব স্বপ্ন সম্ভব হল। প্রথম একক প্রদর্শনী। জুরিখে। ছবির পর ছবিতে হুসেন নিজেকে উজাড় করে দিলেন। এবং পেলেন ইউরোপের স্বীকৃতি।
‘এরপর আমাকে ফিরে তাকাতে হয়নি’, বললেন হুসেন, বিড়বিড় করে, যেন এমনকিছু নয় ঘটনাটা। ১৯৬৪। হুসেন তখন ৪৯। নিউ ইয়র্ক দেখল তাঁর সোলো প্রদর্শনী। ভুবন জয় করলেন শিল্পী হুসেন, যাঁর শিক্ষা বোম্বের মাদ্রাসায়, যাঁর দীক্ষা বোম্বের বিলবোর্ডে! হুসেনের কোনও ছবির, এমনকী কোনও কোনও স্কেচের দামও পৌঁছল লক্ষ টাকায়। হুসেনের অন্য নাম হল, মিরাকেল হুসেন!

তখন আমি সবে বেরিয়েছি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। এবং লেখালিখি শুরু করেছি ইংরেজি কাগজে। স্বপ্ন দেখি হুসেনকে ইন্টারভিউ করার। আর যেখানে দেখি হুসেনের আঁকা ছবির ছবি, শুষে নিই চোখ আর মন দিয়ে। কী বলিষ্ঠ তুলির টান! রঙের কী দ্বিধাহীন প্রয়োগ! বিষয়ের কী সাবলীল প্রাণপ্রতিষ্ঠা! এবং প্রতিটি ক্যানভাসের সঙ্গে কী উত্তাল প্রাণ ও কল্পনার সংযোগ! এবং কী উদ্দাম তোয়াক্কাহীন যৌনতার প্রকাশ! আমি একইসঙ্গে ভেসে গেলাম মুগ্ধতায় এবং আতঙ্কে! কেমন যেন ভয় করল আমার। আমাদের সমাজ, পরিবেশ, সংস্কৃতি, সংস্কার, রাজনীতি নিতে পারবে তো এই মাপের পরোয়াহীন আত্মপ্রকাশ?
শুধু তো ছবি আঁকা নয়। সিনেমা পরিচালনায় হুসেন নিয়ে এলেন নতুন দেখার দেখা। নতুন উপক্রমণিকা। নতুন ব্যাকরণ। নতুন বিনির্মাণ, নির্মাণ। আর নতুন অবসেশন। ঘোড়ার সঙ্গে নারীর সম্পর্ক ও সঙ্গম। হুসেনের একের পর এক ক্যানভাসে এই বিষয় আগুনের মতো জ্বলে উঠল। এবং সেই সব ছবি শুধুমাত্র শৈল্পিক গুণে এবং বিষয়ের অভিঘাতে গেঁথে গেল মনের পাতালে। অবচেতনে।

আমার সঙ্গে হুসেনের যখন প্রথম দেখা ‘জে. এস.’ পত্রিকায় ইন্টারভিউয়ের জন্য, সেই সময়ে তিনি ডুবে আছেন অশ্ব ও নারীর সঙ্গম আচ্ছন্নতায়। শুধু যে আমাকে ইন্টারভিউ দিলেন, তাই নয়, কলমের একটানে একটি সাদা কাগজের ওপর এঁকে দিলেন এক নারীর সঙ্গে অশ্বর মিলন। এবং নিচে তাঁর স্বাক্ষর। লেখাটা ছাপা হল ‘জে. এস.’ পত্রিকায়। কারণ, এমন ছবি তরুণদের পত্রিকায় বেরতে পারে না। আর ছবিটাও আমি ফেরত পেলাম না। হয়তো তখনও বয়সে কিছুটা কাঁচা থাকার অপরাধেই।

দ্বিতীয়বার যখন আমার দেখা হল হুসেনের সঙ্গে তখন তিনি মাধুরী-আচ্ছন্ন! সবে তৈরি করেছেন তাঁরা ‘গজগামিনী’ ছবিটা। যে ছবিতে যুগে যুগে যেন মাধুরী দীক্ষিতের ফিরে ফিরে আসা শিল্পীর মিউজ হয়ে। মাধুরীর আঁখি, মাধুরীর হাসি, মাধুরীর মুখ, মাধুরীর শরীরস্রোত, মাধুরীর যুগযুগান্তরের বহতা, মাধুরীর কোমর, মাধুরীর নাভি, মাধুরীর ঐশী মহিমা, মাধুরীর পার্থিব আবেদন আর মাধুরীর শ্লথ ছান্দিক চলন– সবকিছুর উৎসব এই ছবি, যা শেষ পর্যন্ত আটকে থাকে একান্ত ব্যক্তিগত নাছোড় নেশায়। ছবিটা চলেনি! তবু আমার ভালো লেগেছিল এই মাধুরী-মোহ ও মায়ামহল।

আমার সঙ্গে হুসেনের তৃতীয় ও শেষ দেখা কলকাতার ‘সিমা’ (cima) আর্ট গ্যালারিতে। এবং কলকাতার একটি হোটেলঘরে, যেখানে উন্মত্ত প্রণোদনায় তিনি এঁকে চলেছেন সুচিত্রা সেনের একের পর এক মুখ আর তাঁর আঁখিপাত। সেই দৃশ্য আমি চুপ করে বসে দেখেছি। কিংবা বলা যায়, গিলেছি। তখন তিনি সম্পূর্ণ সুচিত্রা-আচ্ছন্ন। যেন একটা ট্রান্সের মধ্যে আছেন। এই রকম শৈল্পিক ট্রান্স, আমার চোখে দৈব। হাউ বিউটিফুল ইট ইজ!

সিমায় এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম। কী সৌভাগ্য আমার, হুসেন তাঁর ছবির একটি প্রিন্ট সই করে উপহার দিয়েছিলেন। ছবিটা আজও আমার খাবার টেবিলের সামনে। প্রতি রাত্রে আমার পানসঙ্গী। এত জিনিস বাসি হয়ে গেল। ওটা এখনও টাটকা।
এবার একটা ভয়ংকর ঘটনা ঘটল। হুসেন কিছু দেবদেবীর নগ্ন ছবি আঁকলেন। গর্জে উঠল কট্টর হিন্দুত্ববাদীরা। ক্রিমিনাল কেস হল তাঁর নামে। তিনি দেশ ছাড়তে বাধ্য হলেন। লন্ডনে আশ্রয় পেলেন। মারা গেলেন সেখানেই ২০১১ -র ৭ জুন। বয়স তখন ৯৫। ২০০৬ থেকে ২০১১, তিনি ছিলেন নির্বাসনে। পরবাসে।
এই হুসেনের একটি ছবি, বিষয় ভারতের গ্রাম, নিউ ইয়র্কে ক্রিস্টিস নিলামে সর্বকালের রেকর্ড ভেঙে বিক্রি হয়েছিল ১১৯ কোটি টাকায়! ১৯৫৪ সালে!
……………………
রোববার.ইন-এ পড়ুন কাঠখোদাই-এর অন্যান্য লেখা
……………………
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved