Annie Dillard and Her Philosophy of Nature and Life। Robbar
Robbar
  • ১ আশ্বিন ১৪৩৩
  • শুক্রবার
  • ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

একটি পাতা ব্রহ্মাণ্ডের সমতুল্য

অ্যানি ডিলার্ডের সাহিত্য হয়ে উঠেছে বহুমাত্রিক। নিজের জীবনের রাফ এজেসের মতো করেই নিজের লেখার মধ্যেও তিনি বারবার নিয়ে এসেছেন প্রকৃতির নির্মম রূপ, মানবসত্তার নেতিবাচক দিক, ঈশ্বরের অস্তিত্বের দিকে ছুড়ে দেওয়া প্রশ্নচিহ্ন। তিনি প্রকৃতিকে স্বর্গোদ্যান  হিসেবে পাঠকদের সামনে উপস্থিত করেননি, বরং এই সদা ক্রিয়াশীল প্রকৃতির ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র পরিবর্তনকে নিবিড় পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে অ্যানি করে তুলেছেন দর্শনশাস্ত্রের এক বিরাট গবেষণাগার।

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬, ১৭:১৫   
Facebook WhatsApp Messenger

‘I think, that beauty and grace are performed whether or not we will or sense them. The least we can do is try to be there.’

(Pilgrim at Tinker Creek)

অ্যানি ডিলার্ড। এই মার্কিন প্রাবন্ধিকের বিশ্বজোড়া খ্যাতি, প্রধানত তাঁর প্রকৃতি বিষয়ক লেখালেখির কারণে। কিন্তু ডিলার্ডকে কি সেই অর্থে ‘প্যান্থেইস্ট’ বলা যায়? তাঁর লেখায় বিজ্ঞান, প্রকৃতি, সৌন্দর্য, মৃত্যু, মানবতা এবং আধ্যাত্মিকতা বিষয়ে যে উচ্চমার্গের দর্শন বারবার পাঠকমনকে মুগ্ধ করেছে, সেই দর্শন কি সত্যিই প্রকৃতিকে ঈশ্বররূপে দেখতে পেয়েছে? বা দেখানোর চেষ্টা করেছে? না কি প্রকৃতি তাঁর চোখে ধরা দিয়েছে আরও জটিল এবং বাস্তব রূপ নিয়ে। এই প্রশ্নের উত্তর দেবে তাঁরই লেখা।

zoom
অ্যানি ডিলার্ড

পেন্সিলভেনিয়ার পিটসবার্গের এক স্বচ্ছল পরিবারে জ্যেষ্ঠ কন্যা হিসেবে ১৯৪৫ সালে জন্ম নেন অ্যানি ডিলার্ড। পিতা ফ্র‍্যান্ক ডোক ব্যবসার কাজে নিযুক্ত ছিলেন, ছিলেন সাহিত্যানুরাগীও। পছন্দ করতেন দুঃসাহসিক রোমাঞ্চকর অভিযানে শামিল হতে। জানা যায়, অ্যানির যখন মাত্র ১০ বছর বয়স তখন ফ্র‍্যান্ক পারিবারিক ব্যবসা ছেড়ে দিয়ে মিসিসিপি নদীবক্ষে নৌকো ভাসিয়ে দিয়ে বেরিয়ে পড়েন এক রোমাঞ্চকর অভিযানে। মার্ক টোয়েন লিখিত ‘লাইফ অন দ্য মিসিসিপি’ ফ্র‍্যান্ককে এতখানি প্রভাবিত করেছিল যে, তিনি বাস্তবজীবনকে ঠিক সেইভাবে উপভোগ করতে চেয়েছিলেন।

zoom

অ্যানি নিজের জীবনেও ছিলেন রোমাঞ্চপ্রিয় এবং স্বতঃস্ফূর্ততায় ভরপুর। শৈশব থেকেই তাঁর পাঠ-পরিধি ছিল অত্যন্ত বিস্তীর্ণ। শুধুমাত্র সাহিত্য নয়, অ্যানির চর্চার বিষয় ছিল প্রকৃতি, ধর্ম, মনস্তত্ত্ব, বিজ্ঞান, সমাজ। তাঁর ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা ছিল মারাত্মক। জানা যায়, কিশোরী বয়সে কয়েকজন কিশোরের সঙ্গে ড্র‍্যাগ রেসিং দেখতে গিয়ে তিনি একটি পথ দুর্ঘটনার শিকার হন। সেই দুর্ঘটনা অ্যানির মধ্যে ভয়ের সঞ্চার না-ঘটিয়ে উল্টে তাঁর মনে তৈরি করে এক গভীর জীবনবোধ। মৃত্যুচেতনার মধ্যে তিনি খুঁজে পান আধ্যাত্মিকতা। ধূমপান করার অপরাধে কৈশোরে তাঁকে একবার বিদ্যালয় থেকে সাসপেন্ড করা হয়। খেলাধুলোর প্রতি তাঁর ছিল অগাধ আগ্রহ। ফিল্ড হকি এবং বাস্কেটবল খেলতেন  নিয়মিত। গতানুগতিক সামাজিক রীতিনীতি মেনে নিয়ে সুখকর এবং নিস্তরঙ্গ জীবনযাপন করতে প্রস্তুত ছিলেন না তিনি। তাঁর ব্যক্তিত্বের সমালোচিত দিকগুলি যাকে তিনি বলতেন ‘রাফ এজেস’– জীবনের সেই অমসৃণ বাঁকগুলিকে সযত্নে সংরক্ষণ করেছিলেন অ্যানি। তাই তাঁর সাহিত্য হয়ে উঠেছে বহুমাত্রিক। নিজের জীবনের রাফ এজেসের মতো করেই নিজের লেখার মধ্যেও তিনি বারবার নিয়ে এসেছেন প্রকৃতির নির্মম রূপ, মানবসত্তার নেতিবাচক দিক, ঈশ্বরের অস্তিত্বের দিকে ছুড়ে দেওয়া প্রশ্নচিহ্ন। তিনি প্রকৃতিকে স্বর্গোদ্যান  হিসেবে পাঠকদের সামনে উপস্থিত করেননি, বরং এই সদা ক্রিয়াশীল প্রকৃতির ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র পরিবর্তনকে নিবিড় পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে অ্যানি করে তুলেছেন দর্শনশাস্ত্রের এক বিরাট গবেষণাগার। হলিন্স কলেজে পড়াকালীন তিনি হেনরি ডেভিড থোরাওয়ের চিন্তাজগৎ দ্বারা বিপুলভাবে প্রভাবিত হয়েছিলেন। থোরাওয়ের ‘ওয়াল্ডেন’ পড়ে তিনি সৃষ্টিতত্ত্ব এবং ঈশ্বরকে প্রশ্ন করতে শিখেছিলেন।

zoom

কলেজে তিনি পাঠরতা ছিলেন প্রফেসর রিচার্ড ডিলার্ডের অধীনে এবং তাঁকেই বিয়ে করেছিলেন অ্যানি। এই বিয়ে ১০ বছর টিকেছিল। ১৯৭৪ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর সবথেকে জনপ্রিয় বই ‘পিলগ্রিম অ্যাট টিন্কার ক্রিক’। এজন্যই ১৯৭৫ সালে, মাত্র ২৯ বছর বয়সে অ্যানি পুলিৎজার পুরস্কার পান। এই বইয়ের প্রতিটি পাতা প্রমাণ করে পর্যবেক্ষণ আসলে এক ধ্যান, সাধনা। ভার্জিনিয়ার টিন্কার ক্রিক অর্থাৎ একটি খালের আশেপাশের কীটপতঙ্গ, উদ্ভিদ, পাখি, জীবজন্তু, বছরের বিভিন্ন সময়ে ওই খালে জলস্তরের তারতম্য, সূর্যরশ্মি বিকিরণের মাত্রা, আবহাওয়ার পরিবর্তন– এই সমস্ত কিছু গোটা এক বছর ধরে অ্যানি পর্যবেক্ষণ করেন। তাঁর এই নিবিড় দেখাই এই বইয়ের পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠায় এক অপূর্ব কাব্যময়তায় তিনি ধরে রেখেছেন। তাঁর দেখার মধ্যে দিয়ে সাধারণ লাভ করেছে অসাধারণত্ব, ক্ষুদ্র হয়ে উঠেছে ব্রহ্মাণ্ড-সমান। অ্যানির কলম স্পর্শ করেছে এমন এক আধ্যাত্মিক উচ্চতা যেখানে দ্বৈততা এবং বৈপরীত্য অর্থাৎ সৃষ্টি-ধ্বংস, জীবন-মৃত্যু, উদযাপন-যন্ত্রণা, সৌন্দর্য-কদর্যতা হয়ে উঠেছে সৃষ্টিতত্ত্বের রহস্যময় সংকেতসমষ্টি। ‘পিলগ্রিম অ্যাট টিন্কার ক্রিক’ বইটি বিষয়ে ‘স্যাটারডে ইভিনিং পোস্ট’ তাদের মূল্যবান মতামত প্রকাশ করেছিল–

‘the poet in her is everywhere evident in the prose-poem’

পুলিৎজার পুরস্কার কমিটির বিচারকমণ্ডলী বইটি সম্পর্কে মতামত দেয়–

‘a blend of observation and introspection, mystery and knowledge.’

zoom

এই বই পাঠ করার সুখানুভূতি ব্যক্তিগতভাবে অনুভব করেছি বলে বলতে পারছি, অ্যানি তাঁর দীর্ঘ পর্যবেক্ষণকুশলতাকে সত্যিই দিতে পেরেছেন এক অলৌকিক কবিতাসুলভ সুরমূর্ছনা। নিচের বাক্যগুলি পড়লে আপনি কি সহমত না হয়ে পারবেন?

“I am a frayed and nibbled survivor in a fallen world, and I am getting along. I am aging and eaten and have done my share of eating too. I am not washed and beautiful, in control of a shining world in which everything fits, but instead am wondering awed about on a splintered wreck I’ve come to care for, whose gnawed trees breathe a delicate air, whose bloodied and scarred creatures are my dearest companions, and whose beauty bats and shines not in its imperfections but overwhelmingly in spite of them…”

পাঠক নিশ্চয়ই খেয়াল করছেন, অনুচ্ছেদ জুড়ে কেমন মেজর এবং মাইনর কর্ডগুলি ওঠানামা করছে! যেন ঘন জঙ্গলের মাঝে বসে পিয়ানোতে কেউ বাজাচ্ছেন কোনও জটিল কিন্তু মধুর সিম্ফনি।

zoom

‘পিলগ্রিম অ্যাট টিন্কার ক্রিক’ পুলিৎজার সম্মান পাওয়ার পর ১৯৭৭ সালে প্রকাশিত হয় অ্যানির আলোচনাধর্মী বই ‘হোলি দ্য ফার্ম’। ১৯৮২ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর সাহিত্যতত্ত্ব বিষয়ক বই ‘লিভিং বাই ফিকশন’। ওই একই বছরে প্রকাশ পায় প্রবন্ধের বই ‘টিচিং আ স্টোন টু টক’। ১৯৮৭ সালে নিজের জীবনস্মৃতি বিষয়ক বই ‘অ্যান আমেরিকান চাইল্ডহুড’ প্রকাশিত হয়। ১৯৮৯ সালে প্রকাশিত হয় ‘দ্য রাইটিং লাইফ’। অ্যানির কাব্যগ্রন্থ ‘মর্নিংস লাইক দিস’ প্রকাশ পায় ১৯৯৫-তে। এবং ২০০৭-এ প্রকাশিত হয় তাঁর উপন্যাস ‘দ্য মে-ট্রিস’। এই সমস্ত লেখার মধ্যেই উপস্থিত অ্যানির উজ্জ্বল কবিসত্তা। লেখা তাঁর কাছে এক আধ্যাত্মিক ক্রিয়া। অ্যানি এমনভাবে লিখেছেন যে-লেখা না-লিখলে তাঁর চলবে না। যদি হঠাৎ জানতে পারি, আগামিকাল আমার মৃত্যুদিন, তাহলে আজকের দিনটা যেভাবে বাঁচব ঠিক সেই ভাবেই অ্যানি নিজের লেখা লিখে গিয়েছেন। ‘দ্য রাইটিং লাইফ’ বইতে  তিনি লিখছেন–

‘Write as if you were dying. At the same time, assume you write for an audience consisting solely of terminal patients. That is, after all, the case. What would you begin writing if you knew you would die soon? What could you say to a dying person that would not enrage by its triviality?’

zoom

অ্যানি প্রকৃতপক্ষে একজন পর্যবেক্ষক। তিনি যেভাবে প্রকৃতিকে পর্যবেক্ষণ করেছেন সেভাবেই করেছেন জীবনকে এবং মানব অস্তিত্বকে। তিনি প্রকৃতির ছোট ছোট পরিবর্তন লক্ষ করেছেন দীর্ঘ সময় ধরে, নিবিষ্ট মনে। আসলে তিনি সাধনা করেছেন– বুঝতে চেষ্টা করেছেন একটি পাতার জীবন, পতঙ্গের জীবন, পাখির জীবন। ঋতু পরিবর্তন, সূর্য এবং চাঁদের অবস্থান, উদ্ভিদের বেড়ে ওঠা, একটি জলবিন্দুর পতন– এই সবকিছুই তিনি পড়েছেন গভীর মনোযোগ দিয়ে। তাই তাঁর প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ শুধুমাত্র বৈজ্ঞানিক তথ্য সংগ্রহ করার কাজ নয়, হয়ে উঠেছে কবিতা জন্ম দেওয়ার আনন্দময় প্রসবক্রিয়া। যত গভীরে পর্যবেক্ষণ করেছেন, তত বেশি করে তিনি উপলব্ধি করেছেন যে, প্রকৃতি আসলে মানুষের বোধশক্তির অতীত। প্রকৃতি অত্যন্ত রহস্যময়, জটিল। তিনি বুঝতে পেরেছেন জীবন এক কঠিন সংগ্রাম। এই পৃথিবী মানুষের ধ্যানধারণার বাইরে বিছিয়ে থাকা যেমন এক বিপজ্জনক ও ভয়ংকর প্রান্তর, তেমনই এক উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত বসতি।

‘The world is wilder than that in all directions, more dangerous and bitter, more extravagant and bright.’

অ্যানির প্রকৃতিকে আত্মস্থ করার চোখ একাধারে কতখানি আণুবীক্ষণিক এবং দার্শনিক তা বোঝা যায় নিচের উদ্ধৃত অংশ পড়ে দেখলে–

“Go up into the gaps. If you can find them; they shift and vanish too. Stalk the gaps. Squeak into a gap in the soil, turn, and unlock-more than a maple- a universe. This is how you spend this afternoon, and tomorrow morning, and tomorrow afternoon. Spend the afternoon. You can’t take it with you.”

zoom

কীভাবে প্রকৃতিকে দেখতে হবে, তা যেন তিনি শিখিয়ে দিচ্ছেন। শুধুমাত্র জীব শরীর বা অস্তিত্ব দেখব না। পড়ব অনুপস্থিতিকে। দেখব সেই শূন্যতাকে– যা আপাতদৃষ্টিতে শূন্য, কিন্তু নিঃশব্দে পরিপূর্ণ। মাটির ভিতরে সেই শূন্যতার মধ্যে মাটির নিচে সুরঙ্গ খুঁড়ে চলা প্রাণী হয়ে বেঁচে উঠব। তবেই একটি ম্যাপেল পাতা আমার কাছে ব্রহ্মাণ্ড হয়ে উঠতে পারে। তবেই সেই পাতার শিরা-উপশিরা দিয়ে বয়ে চলা উদ্ভিদরস আমার কাছে খাদ্য হয়ে উঠতে পারে। এইভাবে আজকের দুপুর, কালকের সকাল, কালকের দুপুর, আরও অনেক অনেক দুপুর কাটাতে হবে। পতঙ্গ হয়ে, জলবিন্দু হয়ে, ম্যাপেল পাতা হয়ে। তবে হয়তো সৃষ্টিরহস্যের কণামাত্র উপলব্ধি করা যেতে পারে মনুষ্য বোধশক্তি দিয়ে। এই দুপুরগুলো কাটাতে হবে আনন্দের মধ্যে, কারণ এরকম একটি দুপুরও মানুষ মৃত্যুর সময় সঙ্গে করে নিয়ে যেতে পারবে না।

তিনি প্রকৃতির মধ্যেই দেখেছেন ধ্বংস, যন্ত্রণা এবং ক্ষয়ের ধারাবাহিক চলন। বিভিন্ন জীবের জীবন পর্যবেক্ষণ করতে গিয়ে অ্যানি মুখোমুখি হয়েছেন রক্ত, হত্যা এবং মৃত্যুর। মৃত্যু অ্যানির কাছে পরিবেশগত ধারাবাহিকতার একটি অংশ। তিনি উপলব্ধি করেছেন, একটি মৃত্যু থেকেই জন্ম হয় অন্য একটি প্রাণীর। মরদেহের পচন ঘটায় যে সমস্ত পোকা তারাই সাহায্য করে দেহাবশেষকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে প্রকৃতির ছন্দ বজায় রাখতে।

zoom

মৃত্যু অ্যানির কাছে অবশ্যই রহস্যময়। এই বিষয়ে তার আধ্যাত্মিক ধ্যান-ধারণা প্রচলিত ধর্মীয় বিশ্বাসের ওপর নির্ভরশীল নয়। ঈশ্বর প্রকৃতি সৃষ্টি করেছেন, তাই প্রকৃতি স্বর্গের উদ্যানের মতো সুন্দর এই তত্ত্বে তিনি কোনও দিনই বিশ্বাস করেননি। উল্টে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন ঈশ্বর যদি এই প্রকৃতি সৃষ্টি করে থাকেন, এবং যদি সত্যিই তিনি দয়াময় হন তাহলে প্রকৃতির সন্তানরা কেন এত যন্ত্রণার মধ্যে জীবন অতিবাহিত করে? তিনি প্রশ্ন রাখেন করুণাময় ঈশ্বর কেন এমন একটি ব্যবস্থা করলেন, যেখানে উদ্ভিদ-প্রাণী-মানুষ– প্রত্যেকের জীবনেই ঘুরে ফিরে আসে বেঁচে থাকার যন্ত্রণা। ঈশ্বরসৃষ্ট প্রাণীদের যন্ত্রণায় কেন সমব্যথী ঈশ্বরের কোনও সাড়া পাওয়া যায় না? তিনি অন্ধ ধর্মবিশ্বাসকে প্রশ্ন করেছেন, চার্চের কার্যকলাপ এবং খ্রিস্টধর্মের ধ্বজাধারীদের একনিষ্ঠ রীতি রেওয়াজকে তিনি মনে করেছেন শিশুদের অবুঝ খেলাধুলো। এই প্রসঙ্গে অ্যানি দুর্দান্ত কিছু কথা লিখেছেন, যা পাঠকের চিন্তাকে আলোড়িত করেছে যথাযথভাবেই–

‘On the whole, I do not find Christians, outside of the catacombs, sufficiently sensible of conditions. Does anyone have the foggiest idea what sort of power we so blithely invoke? Or, as I suspect, does no one believe a word of it? The churches are children playing on the floor with their chemistry sets, mixing up a batch of TNT to kill a Sunday morning. It is madness to wear ladies’ straw hats and velvet hats to church; we should all be wearing crash helmets. Ushers should issue life preservers and signal flares; they should lash us to our pews. For the sleeping god may wake someday and take offense, or the waking god may draw us out to where we can never return.’

zoom

অ্যানির পর্যবেক্ষণশৈলীর সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, যে-কোনও কিছুকে– তা জীবনই হোক বা প্রকৃতি অথবা ঈশ্বর– তিনি দেখেছেন দু’রকম লেন্সের মাধ্যমে। একবার দেখেছেন পাখির চোখ দিয়ে, যে দেখা বৃহত্তর দেখা। সেই একই জিনিসকে অ্যানি আবার দেখেছেন আণুবীক্ষণিক দৃষ্টি দিয়ে, যে দেখা অনুপুঙ্খ দেখা। তাই অ্যানির পর্যবেক্ষণ দিয়েছে প্রকৃতি এবং জীবনের এক সামগ্রিক ক্যানভাস। তাঁর জীবনদর্শনে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে ইকোক্রিটিসিজম তত্ত্ব, যা প্রকৃতিকে মনুষ্য প্রজাতির ব্যবহারযোগ্যতার বাইরে বৃহত্তর মূল্য প্রদান করে। প্রকৃতি মানুষের উপলব্ধিক্ষমতার অতীত একটি অত্যন্ত জটিল সিস্টেম যার মধ্যে একমাত্র প্রবেশ করা সম্ভব একনিষ্ঠ মনোযোগের সঙ্গে প্রাকৃতিক সমস্ত কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে এই কথাই অ্যানি বারবার বলতে চেয়েছেন। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে ‘সাবলাইম’-এর অভিজ্ঞতাও। ‘সাবলাইম’-এর আবির্ভাব  হয় তখনই যখন মানুষ তার বুদ্ধিমত্তা এবং বোধশক্তির বৃত্তের বাইরের কোনও অতি-শক্তিশালী অস্তিত্ব বা ক্ষমতার মুখোমুখি হয়। প্রকৃতি মানুষের কাছে তাই। এই কারণেই সৃষ্টি রহস্যের সীমানাহীন প্রান্তরে ছোট ছোট অথচ দৃঢ় পদক্ষেপ ফেলে নিঃশব্দে সেই জাদুময়তার অন্তরে প্রবেশ করেছেন অ্যানি। তাড়াহুড়ো করেননি। ধৈর্য ধরেছেন। দিনের পর দিন পর্যবেক্ষণ করেছেন। নিজের ভিতরে অনুভব করেছেন উদ্ভিদ-সত্তা, পতঙ্গ-সত্তা, পাখির অস্তিত্ব, বিভিন্ন প্রাণীর হৃৎস্পন্দন। দুপুরের পর দুপুর কখনও চোখ মেলেছেন পাখির দৃষ্টি দিয়ে, কখনও পিঁপড়ের, কখনও ব্যাঙ বা কখনও একটি ম্যাপেল পাতার  দৃষ্টি দিয়ে এবং তারপরই লিখতে পেরেছেন তাঁর মানবচেতনা এবং অবচেতনের গভীর জলগর্ভ থেকে তুলে আনা কিছু মণিমাণিক্যসম বাক্য–

‘Our life is a faint tracing on the surface of mystery, like the idle curved tunnels of leaf miners on the face of a leaf. We must somehow take a wider view, look at the whole landscape, really see it, and describe what’s going on here. Then we can at least wail the right question into the swaddling band of darkness, or, if it comes to that, choir the proper praise.’

……………………….

রোববার.ইন-এ পড়ুন রবীনা মিত্র-র অন্যান্য লেখা

……………………….

An American Childhood annie dillard Holy the Firm Life on the Mississippi Living by Fiction Mark Twain Mornings Like This Nature and Spirituality Pulitzer prize Sangbad Pratidin Sangbad Pratidin Robbar Teaching a Stone to Talk The Maytrees The Writing Life

Share this article on