

যে-শিল্পী শিল্পের স্বার্থে দেশের মাটি ছাড়ে না, আর্মি ব্রিগেডিয়ারের মেয়ে হয়েও দেশদ্রোহী তকমা পায়; সে বিপ্লবী না-হয়ে যায় না। সে রাষ্ট্রের রক্তচক্ষু অবজ্ঞা করে রাষ্ট্রের জন্য প্রাণপাত করে রাষ্ট্রযন্ত্রের হাতে গ্রেফতার হবে– এটাই তার নিয়তি। যেমনটা হল গত ৫ মে। সীমা কিরমানির ক্ষেত্রে।
যে সম্পর্ক প্রেমের, প্যাশনের, প্রতীক্ষার, তার তো বৈবাহিক স্ট্যাম্প লাগে না; তা সদাই নিত্য, নিত্যই সত্য। তাই এই যৌথ সম্পর্কের পোশাকি নাম যাই হোক না কেন, এদেশের যুগলদের ভালোবাসার, ভালো-থাকার সুখানুভূতির ঘাটতি যে হচ্ছে, সেটাই বড় কথা।
নীতি আয়োগের ২০১৮ সালের রিপোর্ট বলছে, অনিরাপদ পানীয় জলের কারণে এ দেশে প্রতি বছর গড়ে দুই লক্ষ মানুষের মৃত্যু হয়। ডায়রিয়া, কলেরা ও টাইফয়েডের মতো জলবাহিত রোগই এর প্রধান কারণ। প্রতিবেদনটির কম্পোজিট ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট ইনডেক্স-এ বলা হয়েছে যে, দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ জলের উৎসই কোনও না কোনওভাবে দূষিত, ৭৫ শতাংশ পরিবারেই নিরাপদ পানীয় জলের ব্যবস্থা নেই এবং প্রায় ৬০ কোটি মানুষ তীব্র জল সংকটে ভুগছেন।
নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে কর্মবিরতি এবং কর্মক্ষেত্র ও পারিবারিক জীবনের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষাও যে কর্মক্ষেত্রের নিতান্ত প্রয়োজনীয় শর্তাবলি, বেশি কাজ মানেই যে ভালো কাজ নয়, তা আমরা মানতে চাই না।
যুক্তিপূর্ণ এবং সুনির্দিষ্ট প্রশ্নের কিছু অযৌক্তিক এবং বস্তাপচা উত্তর হয়, যা মূলত ট্র্যাডিশন ও পরম্পরাধর্মী। যেমন, এত বছর ধরে চলে আসা এই সাবেকি নিয়মই এদেশের ঐতিহ্য, ইত্যাদি ও ইত্যাদি। এক্ষেত্রেও তাই হয়েছে।
ডেস্টিনেশন ম্যারেজের পর, নতুন প্রজন্মের পছন্দের পার্টি ডেস্টিনেশন হল ফেক ম্যারেজ পার্টি। ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থাগুলো আজকাল দেশের নানা প্রান্তে এই ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে। ‘বিয়ে’ নয়, ব্যাপারটার নাম আসলে হওয়া উচিত– ‘ইয়ে’। অর্থাৎ, আনডিফাইন্ড কিছু একটা।
আমরা যারা নিজের কথা, নিজের গৌরবের কথা, অ্যাচিভমেন্টের কথা নিজের মুখে বলতে শিখিনি কোনও দিন, ‘ব্লো ইয়োর ওন ট্রাম্পেট’ শুনে পশ্চিমি দেখনদারি বলে নাক সিঁটকিয়ে হরিশচন্দ্র মিত্র আওড়ে বলেছি– ‘আপনারে বড় বলে বড় সে তো নয়/ লোকে যারে বড় বলে বড় সেই হয়’; এই কল্পনাহীন, ফেক স্মার্টওয়ার্ল্ডে তাদের জায়গা নেই।
দক্ষিণ ভারতে হিন্দুধর্মের দেবদাসী প্রথা, ইসলাম ধর্মের খানকা ব্যবস্থা কিংবা হিব্রু বাইবেলে মোজেসের ভোগের উদ্দেশ্যে কুমারী মেয়ে ছাড়া বাকি সকল নারী-পুরুষদের হত্যা করার বিধান কি একই ধর্মীয় সুতোয় বাঁধা নয়?
মৃত্যু প্রতিরোধের পথটি কি অতি সহজ ছিল না? সহমর্মিতার প্রয়োজন নেই, ইউনিভার্সিটির ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনস অফিস যদি শুধু তাদের ন্যূনতম দায়িত্বটুকু পালন করত; যদি অন্তত একবার অভিযুক্ত ছেলেটিকে ডেকে পাঠিয়ে তার সঙ্গে কথা বলত, তাকে শাসন করত কিংবা কাউন্সেলিং, তাহলেই কি অনেকখানি উপকার হত না?
অস্বীকার করার উপায় নেই যে, এতে অবশ্যই ‘সম্পদ’ তৈরি হচ্ছে। কিন্তু ভয় হয় যে তা নিতান্তই বিনামূল্যের ঘরোয়া শ্রম হয়ে থেকে যাবে না তো? উৎপাদিত সম্পদের মূল্যভাগ, পাবেন তো মেয়েরা? তা না-হলে দেশীয় সম্পদ হয়তো সৃষ্টি হবে, কিন্তু নারীউন্নয়নের পথটি অধরাই থেকে যাবে।
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved