শিবরামের সঙ্গে প্রেমেন্দ্র মিত্রের বন্ধুত্ব কিন্তু তাতে নষ্ট হয়নি। বন্ধু ‘শিব্রাম’কে নিয়ে একাধিক লেখা লিখেছেন প্রেমেনদা। আবার ‘পাতালে পাঁচ বছর’ প্রথমবার প্রকাশের পরে শিবরাম লিখেছিলেন– ‘পাতালে বছর পাঁচেক’ নামে একটি গল্প।
প্রেমেন্দ্র মিত্র ছিলেন আধুনিক বাঙালি সাহিত্যিকদের সর্বজনীন প্রেমেনদা আর তাঁর স্ত্রী বীণা মিত্র ছিলেন সকলের বৌদি। তাঁদের বাড়িটা ছিল কতকটা ধর্মশালার মতো। সারাক্ষণ দরজা খোলা, ভেতরে কাঠের তক্তপোশ, টিনের চেয়ার, বেতের মোড়া। কিছু জোড়া আছে, কিছু পাতা আছে। সারাক্ষণ চা-ভর্তি কাপ আসছে আর খালি কাপ ফেরত যাচ্ছে আর অবিরাম হাজার বিষয় নিয়ে কথা হচ্ছে।
হাঁটতে হাঁটতে অন্নদাশঙ্কর প্রায় সারাক্ষণই গান্ধীজির অর্থনীতি ও নীতিতত্ত্ব নিয়ে একাই বলে গেলেন। যেন তিনি মুখে মুখে কথা বলে গান্ধীকে নিয়ে কোনও লেখার জন্য মনে মনে খসড়া তৈরি করছিলেন। এক ফাঁকে তাঁকে আমাদের সাহিত্য-সংস্কৃতির পত্রিকা প্রকাশের পরিকল্পনা জানাই ও সেই সঙ্গে তাঁর কাছে আধুনিক শিল্পের উপর লেখা চাই।
১৯৮৮ সালে ‘ভাবনার ভাস্কর্য’ দিয়ে দে'জ পাবলিশিং থেকে কেতকীদির বই-প্রকাশ শুরু। সংখ্যায় খুব বেশি না হলেও ২০০৫ সাল পর্যন্ত তাঁর বই এখান থেকে প্রকাশিত হয়েছে। বাঙালীর সংস্কৃতি-জগতে এরকম দু'-একজনকে পাওয়া গিয়েছে ব’লেই এ যাবৎ উৎকৃষ্ট যা-কিছু পাঠকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া গিয়েছে।
শিবনারায়ণ রায় রবীন্দ্রনাথকে কোন আসনে বসাতেন তা ‘গণতন্ত্র, সংস্কৃতি ও অবক্ষয়’-এর পাতায় স্পষ্ট। তবে রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে তাঁর কম বয়সে লেখা প্রবন্ধ নিয়ে কিন্তু একসময় বেশ তোলপাড় হয়ে গিয়েছিল। বিশেষ করে শান্তিনিকেতনে।
১৯৭৫ সালে দেশে জাতীয় জরুরি অবস্থার সময় গৌরকিশোর ঘোষের লেখার অংশ বাদ দেওয়া, লেখা বাতিল হওয়া শুরু হয়। এই রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গৌরদা মাথা ন্যাড়া করেছিলেন। সেইসঙ্গে এটাও জানিয়ে রেখেছিলেন, এতে কাজ না হলে তিনি গলায় কুকুরের বকলস পরে ঘুরবেন!
সমরেশদা ‘স্বীকারোক্তি’ নামে ছোটগল্পটি লেখেন– সেই সময় থেকেই তাঁকে নিয়ে বিপুল বিতর্ক তৈরি হয়। ‘স্বীকারোক্তি’ গল্পটি কলকাতার কোনও পত্রিকায় ছাপা হয়নি। কী ঘটেছিল ‘স্বীকারোক্তি’ নিয়ে?
‘উত্তরঙ্গ’ পড়ে উচ্ছ্বসিত ডি কে বলেছিলেন, এই উপন্যাসের লেখককে সোনার কলম দেওয়া উচিত। এবং সত্যিই তিনি সমরেশ বসুকে বাড়িতে ডেকে একটি দামি কলম উপহার দেন। সমরেশদার জীবনের প্রথম পুরস্কার⎯ একটা ফাউন্টেন পেন পাওয়া তখন তাঁর কাছে প্রায় স্বপ্ন সত্যি হওয়ার মতোই ছিল।
‘উপন্যাসসমগ্র’ প্রকাশের বছর দুয়েক পর একদিন বিকেলে নবারুণদা অপুকে ফোনে মজার সুরে বলেন, দে’জের ক্যাটালগে এত কবির ‘শ্রেষ্ঠ কবিতা’ আছে অথচ তাঁর নেই কেন? অপু পালটা জানায় তিনি পাণ্ডুলিপি দিলেই তাঁর ‘শ্রেষ্ঠ কবিতা’ ছাপা হবে।
‘চলচ্চিত্র মানুষ এবং আরো কিছু’ বইটি প্রকাশের পরে পাঠকমহলে যথেষ্ট সাড়া পড়ে যায়। দু’-মলাটের মধ্যে ঋত্বিকের এতগুলো লেখা এর আগে কখনও আসেনি। তবে এ-কাজটিও সুরমা বউদি এবং ঋতবান ঘটকের সাগ্রহ অনুমোদন ছাড়া করা সম্ভব হত না।
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved