

জানতে চেয়েছিলাম কীভাবে বহুরূপীর সঙ্গে জুড়ে গেলেন, সে-কথা। শোনালেন ১৯৪৮-এর এক রোমহর্ষক কিস্সা! ‘একদিন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের দরজা দিয়ে আমি ঢুকছি। ঋত্বিক ঘটক ছিল আমার সহপাঠী বন্ধু। কলেজ স্কোয়্যারের রেলিংয়ে দাঁড়িয়ে ঋত্বিক আমায় ডাকল। শম্ভু মিত্রের সঙ্গে আলাপ করিয়ে দিল।’ সেদিনই নতুন নাটকের দল– যা কালে কালে বহুরূপী– তাতে কুমারের ডাক পড়েছিল।
‘তখন কলকাতার বুদ্ধিজীবী সমাজে বহুরূপীর নাটক না দেখলে পিছিয়ে পড়তে হতো। তাই চলো নিউ এম্পায়ারে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত আভিজাত্যে।’ এই সেদিন লিখেছেন পবিত্র সরকার।
‘তখন’ মানে ১৯৬০-র দশকের শুরু। কলকাতায় গ্রুপ থিয়েটারের নিশান কাঁধে নিয়ে এগচ্ছে বহুরূপী। পাশে থিয়েটার সেন্টার, লিটল থিয়েটার গ্রুপ, অনামিকা প্রমুখ। নয়া দৌড়ের স্বরাজসাধনার স্বরলিপি লেখা হচ্ছে বৃহৎ শিল্পের কলকারখানায়, বিগ ড্যাম প্রোজেক্টে। প্রসেনিয়াম থিয়েটারেও। দেশবিদেশের অতিথি-অভ্যাগতদের খাতিরদারি করতে দেশের কালচারাল ক্যাপিট্যালকে সওদা করছে দিল্লি দরবার। বহুরূপীর ‘রক্তকরবী’ হয়ে উঠছে সেই প্রকল্পের মুখ।

কুমার রায় তাতে গোঁসাই সাজতেন। রঞ্জন সাজতেন। প্রায় পাঁচ দশক ধরে আরও অনেক নাটকে আরও অসংখ্য চরিত্র হয়ে ওঠার দাবি মিটিয়েছেন কুমার। দেহপট সনে নট সকলই হারায়। তাই ঐতিহাসিক স্বার্থে মনে করা যাক– ‘রাজা অয়দিপাউস’, ‘বাকি ইতিহাস’, ‘মৃচ্ছকটিক’, ‘রাজদর্শন’, এমনকী, ‘গালিলেও’-র নামভূমিকায়।
সেটা সত্য, কিন্তু একমাত্র সত্য নয়। বহুরূপী নাট্য সংস্থার সঙ্গে আমৃত্যু জড়িয়ে থাকা মানুষটি শুধু নাটকে অভিনয় করেননি। কয়েকটি নাটক লিখেছেন, আরও কয়েকটি সম্পাদনা করেছেন। মঞ্চস্থপতি হিসেবে খ্যাতি ছিল। আঁকাজোকায় দড় ছিলেন, রূপসজ্জাকার হিসেবেও নামডাক ছিল। এবং শম্ভু-তৃপ্তি মিত্রের প্রস্থানের পর সংগঠক কুমার রায় প্রায় তিন দশক ধরে বহুরূপীর নেতৃত্ব দিয়েছেন। নট হিসেবে, নির্দেশক হিসেবে, নাট্যপত্রের সম্পাদক হিসেবে। বহুরূপী নামক কিংবদন্তির যে রেশ আজও রয়ে গিয়েছে বাংলার সংস্কৃতিতে, তার জন্য যাঁর অবদান এককভাবে সর্বাগ্রগণ্য, তিনি কুমার রায়। তিনি চলে গেছেন পরিণত বয়সে, ২০১০ খ্রিস্টাব্দের ফেব্রুয়ারিতে, প্রায় ৮৪ বছর ছুঁয়ে। আজ শতবর্ষের দোরগোড়ায় তিনি।

বহুরূপীতে তাঁর উত্তরসাধকরা আজও টেনে নিয়ে চলেছেন সেই ‘রথের রশি’, যাঁর পুরোভাগে সকলের অগোচরে কুমারই আছেন।
‘রথের রশি’-র কথা যখন এসেই গেল, তখন এ-ও লেখা থাকুক যে, বহুরূপী আর রবীন্দ্রনাটক একাকার ছিল যে ৫০ বছর, তার প্রথমার্ধে মিত্র দম্পতির প্রাধান্য ছিল– ‘রক্তকরবী’, ‘ডাকঘর’, ‘রাজা’ যার উজ্জ্বলনীলমণি। দ্বিতীয়ার্ধ কুমারময়। ১৯২২ থেকে ১৯২৫ সময়সীমায় রচিত রবীন্দ্রনাটকে ওঁর আগ্রহ ছিল বেশি। শুধু বহুরূপী নয়, রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক দিন অধ্যাপনার সূত্রে ‘মুক্তধারা’ ও ‘রথের রশি’ মঞ্চস্থ করেছেন গভীর অনুধ্যানে। নর্মদা বাঁচাও আন্দোলনের সময় বহুরূপী ‘মুক্তধারা’ করছিল তাঁরই নেতৃত্বে। সেটিকে পোস্টার ড্রামা ভাবতে অসুবিধা ছিল তাঁর। মনে করতেন, এভাবে খণ্ডিত রবীন্দ্রনাথের উপস্থাপন অনিবার্য নয়। তাঁকে চিনতে হবে সমগ্রতায়। এ নিয়ে তর্ক উঠেছিল, আজও উঠতে পারে। কুমার কোনওদিন তর্ক এড়িয়ে যাননি। গেলে বহুরূপীর জন্য সার্থকভাবে ‘মালিনী’-র নবরূপায়ণও করতে পারতেন না।


শুধু রবীন্দ্রনাথ নয়, কলকাতার গ্রুপ থিয়েটারে বিদেশি নাটকের চর্চাতেও ওঁর বড় অবদান ছিল। ওঁর ‘শম্ভুদা’ যখন ফ্রিৎজ বেনেভিৎজের নির্দেশনায় ব্রেখশটের ‘গ্যালিলেওর জীবন’-এ মলাট চরিত্র করছিলেন, তখন ওঁর নির্দেশনায় ‘গালিলেও’ মঞ্চস্থ করছিল বহুরূপী। প্রতিস্পর্ধার এমন বয়ান আর কখনও দেখেনি কলকাতা। প্রথমটি আয়ু এক শরৎ পেরয়নি, পরেরটি চলেছিল কমসেকম ১৫ বছর! জাঁ আনুই-এর জোন অফ আর্ক কলকাতার মঞ্চে ‘আগুনের পাখি’ হয়েছিলেন তাঁর নির্দেশনায়। মারি চেজ-এর ‘হার্ভে’ থেকে অতীব মনোরম ‘মিস্টার কাকাতুয়া’-র নির্মাণ তাঁরই হাতযশ। বুদ্ধদেব বসু, বিজন ভট্টাচার্য, চিত্তরঞ্জন ঘোষ, মনোজ মিত্র, রুদ্রপ্রসাদ চক্রবর্তী, অসীম চট্টরাজ, তীর্থঙ্কর চন্দ– অন্তত তিনটি প্রজন্মের বাংলা নাটককারের হাত ধরেছেন। গিরীশ কারনাড-ও তাঁকে ভাবিয়েছেন। আর শূদ্রকের ‘মৃচ্ছকটিক’– যে প্রযোজনাটি ওঁর আবির্ভাব-মুহূর্ত এবং সম্ভবত শ্রেষ্ঠ নির্দেশনাকর্ম– সেটি তো কিংবদন্তি এতদিনে! ‘পিরীতি পরম নিধি’-র মতো রম্য মিউজিক্যাল, ‘কিনু কাহারের থেটার’ বা ‘ফুল্লকেতুর পালা’-র মতো থিয়েটার অফ রুটস– এসবই কুমারের সৌজন্যে পেয়েছি আমরা! ভাবলে বিস্ময় জাগে! এ-ও বুঝি, কেন একাডেমি ফাইন আর্টসে প্রতি রবিবারের সন্ধে বাঁধা থাকত বহুরূপীর জন্য। কেন ‘দ্য স্টেটসম্যান’-এর দ্বিতীয় পাতার কোণে একটি দলেরই নাটকের খবর বেরত নিয়ম করে।

ক্ল্যাসিক আর ক্লাসকে বিনি সুতোয় বেঁধে ফেলার কারিগর ছিলেন যে বহুরূপী নাট্যসংস্থা, অন্তত তিন দশক– তৃপ্তি মিত্রের প্রস্থান থেকে স্বীয় প্রস্থান অবধি– তার করিৎকর্মা সঞ্চালক ছিলেন কুমার রায়। সাদা ধপধপে ধুতি-পাঞ্জাবির ওই নিরঙ্কুশ আভিজাত্য তাঁকে স্বতন্ত্র করেছিল দৃশ্যত। একই ধারাবাহিকতায় বাঁধা ছিল তাঁর অনায়াস আচরণ, অনাবিল বিচরণ।
১৯৮০-‘৯০-র দশকে মানুষের বিনোদনের চাহিদা যখন হু হু করে পাল্টাচ্ছে, চৌকো বাক্সে ঢুকে যাচ্ছে কমিউনিটি এন্টারটেনমেন্টের সাবেক আন্দাজ, তখন বহুরূপীর মতো দল চালানো এবং সৌমিত্র বসু, অনসূয়া ঘোষ (পরে মজুমদার), দেবেশ রায়চৌধুরী, দীপা ঘোষ (পরে দাসমুন্সী), রজত গঙ্গোপাধ্যায়, আভেরী দত্ত (পরে চৌরে), গার্গী রায়চৌধুরী প্রমুখ সমন্বিত অভিনেতৃ সঙ্ঘকে লালন করা কী যে অসাধ্যসাধন আমরা কল্পনাই করতে পারব না!
এমন মানুষের মূল্যায়ন অত সহজ নয়।
দু’টি ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ করে এ-লেখার ইতি টানব।
২০০৮-এর কথা। কুমার রায় তখন বাংলা প্রসেনিয়াম থিয়েটারের অবিসংবাদিত অভিভাবক। যুগপৎ বহুরূপীর সভাপতি ও পশ্চিমবঙ্গ নাট্য আকাদেমির সভাপতি। মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের কাছের মানুষ। সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম পর্বে এ বাংলার পরিচিত নাট্যজনের একটি প্রভাবশালী অংশ সরকারের প্রতি অনাস্থায় নাট্য আকাদেমি ছেড়ে গিয়েছিলেন। সেই সংকট মুহূর্তে শক্ত হাতে হাল ধরে ছিলেন কুমার। মধ্যস্থতা করে অনেককে ফিরিয়ে এনেছিলেন। সরকারের অধিগ্রহণে থাকা মিনার্ভা থিয়েটারে নাট্যসংস্কৃতি উৎকর্ষকেন্দ্রের স্থাপনায় তাঁর দিগদর্শকের ভূমিকা ছিল।

এপ্রিলের শেষাশেষি ওঁর বেলগাছিয়ার ফ্ল্যাটের ল্যান্ডলাইনে ফোন করলাম। ‘ইন্ডিয়া টুডে বাংলা’-র জন্য ওঁকে ইন্টারভিউ করব বলে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিলাম। দু’টি কারণ ছিল। এক, পয়লা মে ৬০ পেরচ্ছে বহুরূপী। সেই উপলক্ষে চারদিনের মহতী আয়োজন হচ্ছে একাডেমি অফ ফাইন আর্টসে। মঞ্চস্থ হতে চলেছে ‘মিস্টার কাকাতুয়া’, ‘ছাঁচভাঙা মূর্তি’, ‘ফুল্লকেতুর পালা’ এবং দু’টি নতুন প্রযোজনা– ‘কালসন্ধ্যা’ ও ‘বীর্যশুল্কা’। একই উৎসবে নিজেদের তিন-তিনটে চালু নাটক করার পাশাপাশি দু’-দু’টি নতুন নাটক নামানোর এলেম সে আমলে কলকাতার আর কোনও দলের না-থাকুক, বহুরূপীর ছিল। দুই, ওঁর নির্দেশনায় বুদ্ধদেব বসুর ‘কালসন্ধ্যা’ নামছে। আবার ওঁর হাতে গড়া তুলিকা দাসের নির্দেশনায় ‘বীর্যশুল্কা’-ও দেখতে চলেছে কলকাতা। এমন গুরু-শিষ্যা সংবাদ যে-কোনও সাংস্কৃতিক ভাষ্যকারের অবশ্য লক্ষণীয়। তাই ঘড়ির কাঁটা ধরে ৭ নং লোয়ার রেঞ্জে পৌঁছনো এবং সন্ধ্যার রিহার্সাল শুরু হওয়ার ঘণ্টাখানেক আগে ওঁর সঙ্গে লাগাতার কথোপকথন।
সেদিন পরনে সাদা ধুতি, গেরুয়া পাঞ্জাবি। আমার যাবতীয় জিজ্ঞাসা শুনে নিলেন। তারপর বলতে শুরু করলেন। এত গুছিয়ে বলতেন কুমার যে, সাক্ষাৎকার শুরুর কয়েক মিনিটের মধ্যে বুঝে গেলাম প্রশ্ন-উত্তর হিসেবে না-ছেপে এটাকে অনুলিখন করাই শ্রেয় হবে। জানতে চেয়েছিলাম কীভাবে বহুরূপীর সঙ্গে জুড়ে গেলেন, সে-কথা। শোনালেন ১৯৪৮-এর এক রোমহর্ষক কিসসা। ‘একদিন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের দরজা দিয়ে আমি ঢুকছি। ঋত্বিক ঘটক ছিল আমার সহপাঠী বন্ধু। কলেজ স্কোয়্যারের রেলিংয়ে দাঁড়িয়ে ঋত্বিক আমায় ডাকল। শম্ভু মিত্রের সঙ্গে আলাপ করিয়ে দিল।’ সেদিনই নতুন নাটকের দল– যা কালে কালে বহুরূপী– তাতে কুমারের ডাক পড়েছিল। ক’মাস বাদে ১৯৪৯-এর ফেব্রুয়ারিতে বহুরূপীতে যোগ দিয়েছিলেন কুমার। ‘সেই থেকে আছি।’ এই ‘আছি’ উচ্চারণের মধ্যে কত কিছু প্রচ্ছন্ন ছিল এখন ভাবি! এমন ঐশ্বর্যবান ইতিহাসের অংশ হওয়া, সেই ইতিহাসকে বয়ে নিয়ে চলা কি চাট্টিখানি কথা? ৮৩ বছরের কুমার সেই দায়িত্ব সুচারুভাবে পালন করে চলছিলেন। কথা ফুরনোর আগে বলেছিলেন, ‘‘বহুরূপীতে এই শিক্ষাটুকু পেয়েছি– ‘বিশ্বাস করে কাজটা করো, তা হলে বিশ্বাসের মর্যাদা রক্ষা হবে’। সেই বিশ্বাসের মর্যাদা রাখতে গিয়েই আমাকে ‘কালসন্ধ্যা’ করতে হবে। ‘কালসন্ধ্যা’ করে আমার কাজ যদি শেষ হয়, তাহলে নিজের ভাগ্য মনে করব।’’

যথা সময়ে সেই অনুলিখন বেরল, ‘আমাদের কাজ ইতিহাসে থাক’ হেডলাইন দিয়ে। সেই-সঙ্গে আমার বাইলাইনে একটি স্পেশাল রিপোর্ট। তাতে বিভাস চক্রবর্তী– যিনি বহুরূপীতে এসে আধুনিক নাট্যকলার অ-আ-ক-খ শিখেছিলেন– বলেছিলেন, ‘বহুরূপীর নাটক বলে আলাদা করে আর কিছু নেই। শম্ভু মিত্রের শূন্যস্থান অপূরণীয়।’ তবে অশীতিপর কুমার রায় যে দলটিকে চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন– ‘সেটা তো কম বড় কথা নয়’– বলেছিলেন বিভাস। পরের প্রজন্মের কৌশিক সেনের মনে হয়েছিল, ‘থিয়্যাট্রিকালি বহুরূপীর কাছ থেকে কোনও প্রত্যাশা নেই।’ তবে ‘কুমার রায় জীবিত থাকাকালীন তাঁর তত্ত্বাবধানে নতুন কেউ বহুরূপীর দায়িত্ব নিচ্ছেন, এটা ভালো পদক্ষেপ।’

পত্রিকা বেরতে না-বেরতে সৌজন্য সংখ্যা পৌঁছে দিয়েছিলাম কুমারকে। বহুরূপীর ঘরে। সাগ্রহে পত্রিকা হাতে নিয়ে মন দিয়ে লেখা পড়লেন। নিজের কথা নয়, অন্যদের কথা। বিভাস ও কৌশিক ছাড়াও শাঁওলী মিত্র, সৌমিত্র বসুর মুখে বসানো প্রাসঙ্গিক নানা মন্তব্য ছিল তাতে। অম্ল আর তিক্তের ভাগ বেশি, মধুরতার ভাগে কম। লিখতে গিয়ে অত ভাবিনি। সামনে বসে ওঁর নিঃশব্দ অভিব্যক্তি পড়তে গিয়ে বুঝতে পারছিলাম, ওঁকে যন্ত্রণা পেতে হচ্ছে। একসময় মুখ তুললেন। থমথমে সেই মুখটি আজও মনে পড়ে। শরবিদ্ধ ভীষ্মের মুখ।
পত্রিকা নামিয়ে রেখে বলেছিলেন, ‘আপনি লিখেছেন?’ গলায় যেন অবিশ্বাসের সুর। মাথা নাড়লাম। তারপর আরও কয়েক লহমা চেয়েছিলেন আমার দিকে। কী পড়তে চেয়েছিলেন, জানি না। নির্বিকার থাকতে চেয়েছিলাম– এইমাত্র মনে পড়ে।
এর কয়েকমাস পর পশ্চিমবঙ্গ নাট্য আকাদেমির প্রেস কনফারেন্সে দেখা হল কুমার রায়ের সঙ্গে। একগাল হেসে স্বাগত জানালেন সভাপতি মহোদয়। বুঝলাম, সেদিনের সেই মলিনতার কোনও রেশ নেই এই অভ্যর্থনায়।
বড় মাপের মানুষজন এমনই হতেন। সেই সময়।
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved