

বাগেশ্বর-বাবা বাংলায় এসে ঘোষণা করেছেন যে, নবরাত্রি প্যান্ডেলের কাছে কেউ যেন মাংস বা মাছ না খায়, এবং যারা তা করবে তাদের তিনি ‘পাখণ্ডি’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। অবশ্যই, তিনি দুর্গাপুজোর প্যান্ডেলের কথাই বলছিলেন। এতে স্বাভাবিকভাবেই অনেক বাঙালি হতবাক হয়েছেন। ঐতিহ্যবাহী বৈষ্ণব পারিবারিক পুজো ছাড়াও, বাংলায় দুর্গাপুজো দীর্ঘকাল ধরেই মাংস ও মাছের এক উৎসব। বাংলার অধিকাংশ ব্রাহ্মণই শাক্ত এবং সেই পুজোর সময় মাছ-মাংসের অবাধ ব্যবহার একটি গভীরভাবে প্রোথিত আঞ্চলিক ঐতিহ্য। সেই ঐতিহ্যকে কেন ভাঙতে চাইছেন এই ধরনের স্বঘোষিত বাবারা?
সম্প্রতি বাংলায় এসেছিলেন ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী ওরফে বাগেশ্বর-বাবা। এসে তিনি দুর্গাপুজোর সময় আমিষ না খাওয়ার ফরমান জারি করেন। একা একা বলেছেন, এমনটা নয়। একটি সমাবেশে বহু মানুষের উপস্থিতিতে এই কথাটা বলেছেন। দেখা গিয়েছে, মোবাইলের আলো জ্বালিয়ে তাঁকে সমর্থনও করেছেন ওই সমাবেশে থাকা মানুষজন। এই বাগেশ্বর-বাবা কোনও ব্যক্তিগত উদ্যোগে সভায় আসেননি; তাঁকে সরকারিভাবেই আনা হয়েছে। শাসক দলের জনপ্রতিনিধিরা তাঁর সমর্থনে তাঁর পাশে বসে একসঙ্গে রাতের খাবার খেয়েছে, এই দৃশ্যও আমরা দেখেছি। শুধু তাই নয়, রাজ্যের মুখ্যসচিব এবং কেন্দ্রীয় স্তরের নেতাদের দেখা গিয়েছে গড় হয়ে তাঁকে প্রণাম করতে।

এইসব দৃশ্য দেখে অনেকের মনে প্রশ্ন উঠেছে– কে এই বাগেশ্বর-বাবা? তাঁর কী এমন প্রভাব যে, তাঁকে সরকারিভাবে এরকমভাবে অভ্যর্থনা জানানো হচ্ছে? এই বাগেশ্বর-বাবা, মধ্যপ্রদেশের বাগেশ্বর ধামের প্রধান পুরোহিত। ওই বাগেশ্বর ধামের যে নিজস্ব ওয়েবসাইট আছে, তাতে লেখা আছে প্রায় ৩০০ বছর আগে মধ্যপ্রদেশের ছতরপুর জেলায় গারহা গ্রামে এই মন্দির স্থাপিত হয়। হিন্দিতে ‘ধাম’ শব্দটি এসেছে পবিত্র তীর্থস্থান বোঝাতে। বর্তমানে যে মন্দিরটি আছে, সেখানে বাগেশ্বর-বাবার পিতামহ সেতুলাল গর্গ সন্ন্যাসী-বাবার সমাধি স্থাপিত আছে বলে শোনা যায়। ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ মানুষ না কি দৈনন্দিন সমস্যা সমাধানের জন্য ওই বাগেশ্বর ধামে যায়। ওখানে হনুমানের মন্দির আছে। বলা হয়ে থাকে, ভগবান না কি ভক্তদের প্রার্থনা শোনেন, অসুবিধাগুলো শোনার চেষ্টা করেন, তারপর ওই ধামের যিনি ‘পিঠাধেশ্বর’, অর্থাৎ, আজকের এই বাগেশ্বর-বাবা, তাঁর মাধ্যমে ওই সব সমস্যার সমাধানের চেষ্টা হয়। বেশ কিছু সামাজিক কাজকর্মও ওই ধাম থেকে চালানো হয়। গণবিবাহ থেকে শুরু করে, বৈদিক শাস্ত্র পড়ানোর জন্য গুরুকুল, অন্নপূর্ণা রান্নাঘর, পরিবেশের দেখভাল করার জন্য বাগেশ্বর-বাগান ইত্যাদি নিয়মিত চলে। গোরক্ষা এবং গরিব-শিশুদের জন্য খাদ্য এবং পড়াশোনার ভারও না কি এই বাগেশ্বর ধাম নিয়ে থাকে।
এই কাজকর্ম দেখে অনেকে মনে করতে পারেন, এগুলো তো ভালো কাজ, তাহলে অসুবিধা কোথায়?
এখান থেকেই শুরু হয় সমস্যা। বিভিন্ন সময়ে এই বাগেশ্বর-বাবা অর্থাৎ ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী নানা বিতর্কে জড়িয়েছেন। তিনি বলে থাকেন, তাঁর না কি অলৌকিক ক্ষমতা আছে! তিনি মানুষের মন পড়তে পারেন, তিনি মানুষের রোগ সারিয়ে দিতে পারেন এবং শুধু তাই নয়, ক্যানসারের মতো রোগ না কি তিনি সারিয়ে দিতে পারেন। দেখা গিয়েছে, তিনি ভক্তদের নিয়ে সমাবেশ করছেন এবং সেখানে বিভিন্ন ভক্ত তাকে প্রশ্ন করেন এবং তিনি তাঁর উত্তর দেন। অবাক করার মতো ঘটনা বেশকিছু উঠে এসেছে, তাতে লোকেদের আরও দৃঢ়বিশ্বাস হয়েছে এই বাগেশ্বর-বাবার অসীম ক্ষমতা সম্পর্কে।

দেখা গিয়েছে, সমাবেশে উপস্থিত যেকোনও একজন মানুষকে তিনি ডেকে নিচ্ছেন, এবং তাঁকে বলছেন: আপনার মা তিনবছর ধরে ক্যানসারে ভুগছেন এবং তার এটা ফোর্থ স্টেজ ক্যানসার এবং তিনি যথেষ্ট খারাপ আছেন। নানা ওষুধপত্র নিয়েছেন, কিন্তু কাজ হয়নি, তাকে বাড়িতে একটা প্রদীপ প্রজ্বলন করতে হবে ১১ দিন ধরে, তার নাম হচ্ছে অখণ্ড জ্যোতি। শুধু তাই নয়, এর সঙ্গে নিতে হবে ৫০ গ্রাম গোমূত্র, কাঁচা হলুদের শিকড়– সেগুলো মিশিয়ে যদি রোগীকে খাওয়ানো যায়, তাহলে তিনি সেরে উঠবেন। এই বাণী দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চারিদিক থেকে আওয়াজ ওঠে– ‘বাগেশ্বর-বাবার জয়’।
এখানেই বিষয়টা থামে না, ক্যানসার নিরাময় করা থেকে শুরু করে কোভিড সংক্রমণ অবধি না কি গোমূত্র-তে সারানো সম্ভব– এই কথা বাগেশ্বর-বাবা বলে থাকেন। ২০২২ সালের ওই ক্যানসার নিরাময়ের ভিডিও প্রচণ্ডভাবে মানুষের মধ্যে প্রভাব ফেলে। তারপরে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের ২৩ তারিখ স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী ওই বাগেশ্বর ধামে একটি ক্যানসার হাসপাতালের শিলান্যাস করেন। ২০০ কোটি টাকা ব্যয় করে ওই ক্যানসার হাসপাতাল না কি গরিব মানুষের ক্যানসার চিকিৎসায় সহায়তা করবে। ওই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বাগেশ্বর-বাবাকে না কি তাঁর ‘ছোট ভাই’ বলেও উল্লেখ করেন এবং আরও বলেন, তিনি যে হিন্দুদের ঐক্যবদ্ধ করার কাজ করছেন সেটা একটা দৃষ্টান্তমূলক কাজ। ওই হাসপাতালে না কি ভজন হবে, খাবার পাওয়া যাবে এবং সুস্থ হয়ে মানুষ ওখান থেকে বেরিয়ে যাবে।
২০২২ সালে এই বাগেশ্বর-বাবা সমস্ত হিন্দুদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে বুলডোজার নিয়ে মুসলমানদের আক্রমণের কথা বলেছিলেন। শুধু তাই নয়, যখন কুম্ভমেলায় অসংখ্য মানুষ অব্যবস্থার কারণে মারা যাচ্ছেন, তখন এই বাগেশ্বর-বাবা বলেছিলেন, যাঁরা মারা যাচ্ছেন, তাঁরা না কি মোক্ষলাভ করছেন! না, দেশের শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্বকে এ নিয়ে কোনও ক্ষোভপ্রকাশ করতে দেখা যায়নি। সবচেয়ে দুঃখের বিষয়, রাজনৈতিক মহলের বিভিন্ন নেতাদের নানা সময়ে এই বাগেশ্বর-বাবার আশপাশে দেখা গিয়েছে। শুধুমাত্র শাসকদলের নেতা-মন্ত্রীরা এই বাগেশ্বর বাবার সঙ্গে সংস্রব রাখেন, এমনটা নয়; কংগ্রেসের অজিত সিং ২০২২ সালে সাত দিনের একটি কর্মসূচি রেখেছিলেন বাগেশ্বর-বাবাকে নিয়ে। ছতরপুর বিধানসভার প্রাক্তন বিধায়ক অলোক চতুর্বেদীর দৌলতেই এই বাগেশ্বর-বাবার প্রথম আত্মপ্রকাশ।

তবে এই বাগেশ্বর-বাবাকেও কিন্তু নানা সময়, নানা প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে। একটা ঘটনার কথা উল্লেখ করতে হয়।
দেখা গিয়েছে, ওই রকম একটি দিব্য-দরবারে (বাগেশ্বর-বাবার সমাবেশ) একটি ছোট বাচ্চাকে আনা হয়েছে, সে অসুস্থ। বাগেশ্বর-বাবা মাইকে তিনবার ফুঁ দিয়ে বলছেন, এই ছেলেটি এবার সেরে গেল, আর চিন্তা নেই। এই সমস্ত অলৌকিক অতিমানবীয় কৃতিত্ব কিন্তু বহু প্রশ্নের সম্মুখীনও হয়েছে। কুসংস্কার-বিরোধী সংগঠন ‘অন্ধ্র শ্রদ্ধা নির্মলন সমিতি’র তরফে তাঁকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে যে, তাঁর যে অলৌকিক ক্ষমতা, সেটা সবার সামনে প্রমাণ করে দেখাতে হবে। শ্যাম মানব নামের ওই সংগঠনের একজন ব্যক্তি তাঁকে বলেছেন যে, তিনি ১০ জন মানুষকে নিয়ে যাবেন বাগেশ্বর-বাবার দিব্য-দরবারে, তাঁকে সেই ১০ জন মানুষের নাম, ফোন নম্বর এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য বলতে হবে, যা তিনি অন্যান্য সময়ে দেখিয়ে থাকেন। বলতে পারলে তাঁকে ৩০ লক্ষ টাকা অবধি দেওয়া হবে। বলা বাহুল্য, নাগপুরে ওই সমাবেশে কিন্তু বাগেশ্বর-বাবা উপস্থিত হননি। লোকে বলে থাকে চ্যালেঞ্জ না নিতে পেরে তিনি না কি পালিয়ে গিয়েছিলেন! তারপরে নানা সময় ওই শ্যাম মানবকে খুন করার হুমকি দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনার পরে আরও একটি অনুষ্ঠানে একজন সাংবাদিককে হঠাৎ করে তিনি স্টেজে ডেকে নেন। তারপরে তার ব্যক্তিগত তথ্য, তাঁর নাম তিনি সম্প্রতি না কি বাড়ি করেছেন– সেই সব কিছু সমাবেশে উপস্থিত মানুষের সামনে বলতে থাকেন। বাবার এই ‘অসীম ক্ষমতা’ দেখে মানুষ তো খুব উত্তেজিত হয়ে পড়ে সত্যিই। সামাজিক মাধ্যমে এই নিয়ে প্রচুর হইচই হয় তারপরে দেখা যায়, ওই সাংবাদিকের ফেসবুক প্রোফাইলে সমস্ত কিছুই ছিল সমাবেশ থেকে সাংবাদিককে চিহ্নিত করে, তাঁকে ডেকে নেওয়াটাও ওই বাগেশ্বর-বাবার একটা কারসাজি ছাড়া কিছুই নয়।

কিন্তু তা-ও প্রশ্ন থেকে যায়, এই দুর্গাপুজোর ঠিক প্রাক্কালে কেন বাগেশ্বর-বাবারা কিংবা বিশ্ব হিন্দু পরিষদের মানুষজন বাংলায় আমিষ-নিরামিষের বিতর্কটাকে আবার সামনে নিয়ে আসছেন? বাগেশ্বর-বাবা বাংলায় এসে ঘোষণা করেছেন যে, নবরাত্রি প্যান্ডেলের কাছে কেউ যেন মাংস বা মাছ না খায়, এবং যারা তা করবে তাদের তিনি ‘পাখণ্ডি’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। অবশ্যই, তিনি দুর্গাপুজোর প্যান্ডেলের কথাই বলছিলেন। এতে স্বাভাবিকভাবেই অনেক বাঙালি হতবাক হয়েছেন। ঐতিহ্যবাহী বৈষ্ণব পারিবারিক পুজো ছাড়াও, বাংলায় দুর্গাপুজো দীর্ঘকাল ধরেই মাংস ও মাছের এক উৎসব। বাংলার অধিকাংশ ব্রাহ্মণই শাক্ত এবং সেই পুজোর সময় মাছ-মাংসের অবাধ ব্যবহার একটি গভীরভাবে প্রোথিত আঞ্চলিক ঐতিহ্য। সেই ঐতিহ্যকে কেন ভাঙতে চাইছেন এই ধরনের স্বঘোষিত বাবারা?
বাংলা উত্তর ভারতের অনেক অংশের থেকে ভিন্ন, যেখানে ব্রাহ্মণরা মূলত নিরামিষভোজী হয়েছেন, যার একটি কারণ বলে মনে হয়, বণিক সম্প্রদায়ের পৃষ্ঠপোষকতা ধরে রাখা, যাঁরা নিজেরা জৈন ও বৌদ্ধ প্রভাবে নিরামিষভোজী হয়েছিলেন। এই দীর্ঘ ইতিহাসের পরিপ্রেক্ষিতে, বাংলায় দুর্গাপুজো কখনও সম্পূর্ণরূপে নিরামিষ উৎসবে পরিণত হবে, তা কল্পনা করা কঠিন, যদিও কিছু বহিরাগত বেশ কিছু মানুষ তা কামনা করে।
কিন্তু ‘পাখণ্ডি’ শব্দটি শুনে বরং বেশি মজা লেগেছে। সম্রাট অশোকের শিলালিপিতে, ‘পসন্দ’ শব্দটি জৈন, বৈদিক, বৌদ্ধ, আজীবিক এবং অন্যান্য সকল সংগঠিত ধর্মীয় গোষ্ঠীর জন্য নিরপেক্ষভাবে ব্যবহৃত হত। এই সম্প্রদায়গুলোর প্রত্যেকেই একে অপরকে ‘পসন্দ’ বলে ডাকত। এই প্রথা এতটাই ব্যাপক ছিল যে, অশোক শব্দটি অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবে, প্রায় সাধারণ জ্ঞানসম্মতভাবে ব্যবহার করতে পেরেছিলেন।

কেউ কেউ যুক্তি দেন যে, সংঘ পরিবার একবার ভারতকে মুসলিম ও খ্রিস্টানমুক্ত করতে সফল হলে, এরপর তারা দলিতদের দিকে মনোযোগ দেবে এবং বর্তমানে একটি সম্মিলিত ইসলাম-ভীতি অন্তর্নিহিত জাতিগত উত্তেজনাকে আড়াল করে রেখেছে। বাগেশ্বর-বাবাও সেটাই করে থাকেন এবং তা তাঁর অতীতের কিছু ভিডিও দেখেও পাওয়া যায়। কিন্তু এই উপমহাদেশের ইতিহাস কেবল জাতিগত দ্বন্দ্ব দ্বারাই চিহ্নিত নয়, বরং বর্তমানে যা হিন্দুধর্ম নামে পরিচিত, তার অভ্যন্তরে গভীর মতাদর্শগত সংঘাত দ্বারাও চিহ্নিত। বিভিন্ন সম্প্রদায় দীর্ঘকাল ধরে একে অপরের বিরোধিতা করেছে, প্রতিদ্বন্দ্বীদের ‘পাখণ্ডি’ বলে আখ্যায়িত করেছে, রাজকীয় ও আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতার জন্য তীব্রভাবে প্রতিযোগিতা করেছে এবং কখনও কখনও সহিংসতার আশ্রয়ও নিয়েছে।
আজ সংঘ পরিবার হিন্দুধর্মের একমাত্র বৈধ রূপ হিসেবে একটি স্বতন্ত্র উত্তর ও পশ্চিম ভারতীয় বানিয়া-বৈষ্ণব মডেল চাপিয়ে দিতে বদ্ধপরিকর বলে মনে হচ্ছে; যা উত্তর ও পশ্চিম ভারতীয় ধারার জৈনধর্মের পবিত্রতা ও সঠিক আচরণের চিরাচরিত ধারণার সঙ্গে মিশ্রিত। সম্ভবত এর কারণ হল, যদিও সবাই মনে করত যে, মহারাষ্ট্রে দলিত মৌলবাদের ক্রমবর্ধমান জোয়ারে ভীত চিৎপাবন ব্রাহ্মণদের দ্বারা সংগঠিত হয়েছিল, কিন্তু এর অর্থায়ন সবসময় বৈষ্ণব বা জৈন বানিয়া সম্প্রদায়ই করত, যারা পরবর্তীকালে ভারতের বেশিরভাগ অংশে এর বৃহত্তম সমর্থক গোষ্ঠীতে পরিণত হয়।

কিন্তু অন্যান্য ধর্মের মতো হিন্দুধর্ম কখনও-ই একজাতীয় ছিল না। সমসত্ত্বের ধারণা তার কখনও-ই ছিল না। একটি আঞ্চলিক, মূলত নিরামিষাশী, বৈষ্ণব-প্রভাবিত সংস্করণ চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা বহু সম্প্রদায়ের মধ্যে নিপুণভাবে লুকানো ফাটলগুলোকে উন্মোচিত করবে এবং বাংলাও এর ব্যতিক্রম হবে না।
১৯২০ সালে রাজশেখর বসু পরশুরাম ছদ্মনামে ‘বিরিঞ্চি বাবা’ নামে একটি উপন্যাস লিখেছিলেন। সেই উপন্যাসের ওউপর ভিত্তি করে ১৯৬৫ সালে সত্যজিৎ রায় ছবি বানিয়েছিলেন ‘মহাপুরুষ’। আজকের সময় অবশ্য উনি এই ছবি বানাতে পারতেন কি না, কিংবা ওই উপন্যাস লেখা হত কি না, লেখা হলেও প্রকাশিত হত কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে।

কিন্তু বাঙালি এবং বাংলা এই লড়াই আগেই করে উঠেছে। অন্ধ কুসংস্কার ও অপবিজ্ঞানের বিরুদ্ধে বাঙালি একটা সময়ে বিভিন্নভাবে তার প্রতিবাদ ধ্বনিত করেছে। আজকেও যখন বাগেশ্বর-বাবার মতো কেউ কেউ এই নিরামিষবাদ চাপিয়ে দিতে চাইছেন বাংলার বহু মানুষ কিন্তু তার প্রতিবাদ করছেন, করবেন। এই লড়াই কিন্তু আকর্ষণীয় হতে চলেছে।
…………………..
রোববার.ইন-এ পড়ুন সুমন সেনগুপ্ত-র অন্যান্য লেখা
…………………..
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved