Robbar

Bengali Culture

গাজনের ‘সং’ কি নিছক অশ্লীলতার সংস্কৃতি?

‘ভদ্রলোকি’ সমাজসংস্কারকদের চেষ্টায় এই ‘ছোটলোকি’ সংযাত্রার ওপর বারবার নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। অশ্লীল সঙের অভিযোগে কলকাতায় গাজন-সন্ন্যাসীরা গ্রেফতার হয়েছেন। কিন্তু সত্যিই কি তাঁরা অশ্লীল? এবং ভদ্রলোকরা সত্যিই শ্লীল?

→

গর্জন থেকেই গাজন

প্রাচীনকালে শিবকে কেন্দ্র করে যে বাৎসরিক উৎসব হত, তার নাম ‘মহ’ বা ‘যাত্রা’। ভক্তদের সমস্বরে শিবের নাম-ডাকের গর্জন থেকে পরে ‘গাজন’ শব্দটি আসতে পারে। অনেকে লোকনিরুক্তি করে লিখেছেন, গাঁ-জনের উৎসব বলেই এর নাম ‘গাজন’। কিন্তু শহর মফস্সলেও গাজন উৎসব আজও পালিত হয় জাঁকজমকের সঙ্গে।

→

অসুরদের ফসল বলেই কি আখ বলিপ্রদত্ত?

আখের সঙ্গে জড়িয়ে আছে অসুর সংস্কৃতির প্রসঙ্গ। অনেকেই বলেন, আখ প্রথম লাগায় অসুররা। অসুররাজ বলির পাঁচ পুত্র– অঙ্গ, বঙ্গ, কলিঙ্গ, সুহ্ম, পুণ্ড্র। তাদের নাম অনুসারে পাঁচটি দেশের মধ্যে অন্যতম হল পুণ্ড্র বা উত্তরবঙ্গ। পণ্ডিতদের মতে ‘পুণ্ড্র’ শব্দের অর্থ এক জাতের আখ। যেমন দেশি আখের নাম ‘পুঁড়ি’।

→

প্রেমের পাহারাদাররা আজ দিকশূন্যপুরে

হারিয়ে গিয়েছে প্রেমের পাহারাদাররা। একটা ভালোবাসা পরিপূর্ণ হতে অনেক মানুষের অবদান থাকে, যাদের পাশে থাকা বৃত্তকে পূর্ণ করে। প্রেমের মতো একটা বৃহৎ বৃত্ত থেকে এখন সেই মানুষগুলো ক্রমশ সরে যাচ্ছে। ছোট হয়ে আসছে বৃত্ত। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রেম এখন একটা কনটেন্ট হয়ে উঠেছে।

→

মায়া মমতায় গড়া বাংলা বিয়ের ছড়া

বিয়ের পদ্য বর ও কনে দুই পক্ষেই ছাপাত। বরের বন্ধুরা আবার আলাদা করে বিয়ের পদ্য পাঠ করে বিলি করত বিবাহসভায়। পদ্য পাঠের সাধারণ নিয়ম ছিল– কনেকে সিঁদুর দান করার পরে অথবা বাসরঘরে যাওয়ার পূর্বে নাপিত ঘোষণা করতেন বিয়ের পদ্য পড়ার পালা।

→

বাঙালির মিষ্টিমস্তানি এখনও কর্পোরেট হয়ে যায়নি

পয়লা বৈশাখের সূর্যের অন্তর্ভেদী লেজার ক্ষীণ কার্ডবোর্ডের বাক্সকে নাস্তানাবুদ করে চলে ক্রমাগত। বাক্সের সবকিছু গরম থাকে শেষ পর্যন্ত। দেখি, ভাবি আর অবাক হই। এই যে পৃথিবী পুড়ছে। আমরাও পুড়ছি। আমাদের ওই বাক্স-সম সহনশীলতার কথা সুকুমার সেন লেখেননি।

→

না-দেখা সেই একটি শিশিরবিন্দু

দিলজিৎ-এর মতো কোনও পরিযায়ী এসে আবেগের সুতো ধরে টান দিলে আমাদের অন্তরাত্মা জাগে, নচেৎ শীতঘুমে ডুবে যায়। দিলজিৎ সেই ফারাকটাই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে গেলেন। বুঝিয়ে গেলেন বাঙালির আত্মদর্শনের প্রয়োজন।

→