

বিশ্ব-ব্যাংকের সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধ ও সংঘাতকবলিত (যেমন: রাজনৈতিক সহিংসতা বা অভ্যন্তরীণ গৃহযুদ্ধ) এলাকার প্রতি তিনজনের মধ্যে একজন মানুষ এখন প্রাতিষ্ঠানিক খাদ্য নজরদারির বাইরে। একইভাবে ‘গ্লোবাল রিপোর্ট অন ফুড ক্রাইসিস’-এর পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে, সংঘাতকবলিত ১৮টি দেশের অন্তত ১২টিতেই ত্রাণ বণ্টন ও তথ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক নজরদারিতে এই পরিকল্পিত পক্ষপাতের কারণে বিশ্ব জুড়ে মানবিক সহায়তার বরাদ্দ প্রায় ৪৫ শতাংশ কমে গেছে।
বিশ্ব জুড়ে যখন যুদ্ধ, চরম রাজনৈতিক অস্থিরতা আর জলবায়ু সংকটের ধাক্কায় খাদ্যসংকট চরমে, ঠিক তখনই বিশ্বমঞ্চে ঘটে চলেছে এক নীরব ও পরিকল্পিত অপরাধ। গাজা থেকে আফগানিস্তান, সোমালিয়া থেকে ইয়েমেন– অগণিত ক্ষুধার্ত মানুষের করুণ হাহাকার চতুরতার সঙ্গে বাদ দেওয়া হচ্ছে আন্তর্জাতিক খাদ্য নজরদারির অফিশিয়াল রিপোর্ট থেকে। সাম্প্রতিক এই প্রাতিষ্ঠানিক উদাসীনতা ও তথ্যের রাজনীতিই আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, আজ বুভুক্ষু মানুষের জীবন বাঁচানোর চেয়ে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করাই আন্তর্জাতিক রাজনীতির প্রধান অ্যাজেন্ডা হয়ে উঠেছে।
দুর্ভিক্ষ ঢাকঢোল পিটিয়ে আসে না। তা আসে নিঃশব্দে, কেড়ে নেয় মানুষের মুখের গ্রাস, আর রেখে যায় হাড়-জিরজিরে কিছু শৈশব। কিন্তু আকালের এই মর্মান্তিক ছবি যদি আন্তর্জাতিক মানচিত্রে জায়গা না পায় কিংবা নীতি-নির্ধারকদের কাছে সেই তথ্যই না থাকে, তবে সমাধানের রাস্তা বের হবে কী করে? এই সত্যটা জানা সত্ত্বেও নথিপত্রের কারসাজিতে আজ পৃথিবীর বুক থেকে মুছে দেওয়া হচ্ছে কয়েক কোটি ক্ষুধার্ত মানুষের নাম– যা একদিকে যেমন চরম অমানবিক, অন্যদিকে তেমনই বিশ্ব রাজনীতির এক গভীর নৈতিক সংকট।

১৯৮৪-’৮৫ সালে ইথিওপিয়া ও সুদান ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের মুখোমুখি হয়। দুর্ভিক্ষের আগাম কোনও পূর্বাভাস না থাকায় তা মোকাবিলার কোনও পরিকল্পনাও ছিল না। ফলে সেদিন এই অঞ্চলগুলোতে ত্রাণ পাঠাতে চরম দেরি হয়েছিল, যার মাশুল গুণে প্রাণ হারাতে হয়েছিল ১০ লাখেরও বেশি ক্ষুধার্ত মানুষকে। সেই মর্মান্তিক ব্যর্থতা থেকেই শিক্ষা নিয়ে ১৯৮৫ সালে মার্কিন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (ইউনাইটেড স্টেটস এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট বা ইউএসএআইডি) ‘ফ্যামিন আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেমস নেটওয়ার্ক’ বা ‘FEWS NET’ গড়ে তোলে। যার মূল উদ্দেশ্য ছিল– খরা, যুদ্ধ অভ্যন্তরীণ অশান্তি বা অর্থনৈতিক ধসের কারণে কোথায় এবং কতটা ভয়াবহ খাদ্যসংকট তৈরি হতে পারে, তার আগাম তথ্য সংগ্রহ করে ৬ থেকে ১২ মাস আগেই পূর্বাভাস দেওয়া, যাতে সময়মতো ত্রাণ ও অর্থ পৌঁছে দিয়ে বিপন্ন মানুষের জীবন বাঁচানো যায়। বিশ্ব জুড়ে খাদ্যসংকট মোকাবিলার আগাম প্রস্তুতিতে চার দশক ধরে এটিই ছিল সবচেয়ে প্রচলিত ও নির্ভরযোগ্য হাতিয়ার।
কিন্তু এই আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেমের প্রকাশিত শেষ রিপোর্টে অদ্ভুত এক ছবি ধরা পড়েছে। সেই প্রতিবেদনের পাতা ওল্টালে দেখা যাবে, সেখান থেকে সযত্নে বাদ দেওয়া হয়েছে আফগানিস্তান, সোমালিয়া এবং ইয়েমেনের তথ্য। অথচ এই তিনটি দেশে অন্তত ২ কোটি ৭৫ লাখ মানুষের অবিলম্বে খাদ্য সহায়তা প্রয়োজন। ফুড সিকিউরিটি ইনফরমেশন নেটওয়ার্ক (FSIN)-এর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভোগা প্রায় ২৮ কোটি মানুষের এক-দশমাংশই বাস করেন এই বাদ-পড়া অঞ্চলগুলোতে। একইসঙ্গে সম্পূর্ণ অনুপস্থিত রাখা হয়েছে গাজাকেও, যেখানে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর নজরদারি ও হিসাব-নিকাশ বন্ধ রেখে আসল তথ্য আড়াল করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে তথ্যের এই ভয়ংকর কারচুপি এবং মনিটরিং ব্যবস্থার এমন চরম ব্যর্থতা নিয়ে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রখ্যাত আন্তর্জাতিক দুর্ভিক্ষ-বিশেষজ্ঞ অ্যালেক্স ডি ওয়াল সতর্ক করে বলেছেন, ‘ভূ-রাজনৈতিক কারণে আপনি যখন দুর্ভিক্ষের তথ্যে কারচুপি করেন, তখন কেবল কিছু সংখ্যাকেই আড়াল করেন না– বরং যারা এই অনাহারের জন্য দায়ী, তাদের জন্য এক ধরনের আইনি ও নৈতিক রক্ষাকবচ তৈরি করে দেন।’ অন্যদিকে আন্তর্জাতিক ত্রাণ-বিশেষজ্ঞ ডাস্টিন বার্টার-এর মতে, ‘তীব্র খাদ্যসংকটে থাকা এলাকাগুলোকে সরকারি পূর্বাভাস থেকে বাদ দিলে বিশ্বব্যাপী খাদ্য নিরাপত্তার মূল্যায়নটাই বিকৃত হয়ে যায়, ঝাপসা হয়ে যায় সামগ্রিক খাদ্য নিরাপত্তার ছবিটা। আর এই পরিসংখ্যানগত বিভ্রান্তির কারণে নিরন্ন মানুষের কাছে সঠিক সময়ে সাহায্য পৌঁছয় না, ফলে নিঃস্ব মানুষগুলোকেই এর মাশুল গুনতে হয়।’

তবে এই দেশগুলোকে সমীক্ষার তালিকা থেকে কেন বাদ দেওয়া হল, তার কারণ খুঁজতে গিয়ে নানা যুক্তি-পাল্টা যুক্তি চোখে পড়েছে। যদিও সেই কারণগুলো একমাত্রিক নয়, বরং বলা ভালো বহুমাত্রিক। যেমন মার্কিন সরকার অর্থনৈতিক কারণকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছে। তাদের আর্থিক নীতি অনুযায়ী বিশ্ব জুড়ে সাহায্য ও নজরদারির বাজেট অনেকটা কাটছাঁট করা হয়েছে। ফলে ইউএসএআইডি তাদের খাদ্য নিরাপত্তা মনিটরিং সংক্রান্ত প্রকল্পের অর্থায়ন ব্যাপকভাবে কমিয়ে দেয়। যেহেতু মাঠপর্যায়ে সমীক্ষা চালানো, তথ্যসংগ্রাহকদের বেতন দেওয়া এবং তথ্যের স্যাটেলাইটভিত্তিক জটিল বিশ্লেষণ অত্যন্ত ব্যয়বহুল, তাই ওয়াশিংটন সিদ্ধান্ত নেয় যে সীমিত ফান্ড দিয়ে ভূ-রাজনৈতিক অগ্রাধিকার পাওয়া অঞ্চলগুলোতেই (যেমন ইউক্রেন) তারা তাদের সাহায্য ও নজরদারি বজায় রাখবে। ফলে ইয়েমেন বা আফগানিস্তানের মতো এলাকাগুলোতে সরাসরি মনিটরিং বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আইনি ও নিরাপত্তাজনিত জটিলতা। আফগানিস্তানে তালেবান, ইয়েমেনে হুথি এবং সোমালিয়ায় আল-শাবাব মার্কিন প্রশাসনের খাতায় সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত। মার্কিন আইন অনুযায়ী এই জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় কোনও লাইসেন্স ফি বা লজিস্টিক লেনদেন করা সরাসরি অপরাধ। এই আইনি ঝুঁকির পাশাপাশি এই দেশগুলোর সশস্ত্র বিদ্রোহী বা শাসক দলগুলোর ক্রমাগত হুমকি, বিশেষজ্ঞদের ভিসা বাতিল কিংবা স্থানীয় তথ্যসংগ্রাহকদের গ্রেপ্তারের ভয়– ক্ষেত্রবিশেষে ক্ষেত্রসমীক্ষার কাজ চালানোকে বিপজ্জনক করে তোলে।
নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে– মার্কিন সরকারের এই যুক্তিকে একেবারে হয়তো নাকচ করা যাবে না, তবে বিশেষজ্ঞরা একে দায়িত্ব এড়ানোর একটি সুচতুর চাল হিসেবেই দেখছেন। কেননা, মার্কিন এই পূর্বাভাস ব্যবস্থার সমীক্ষা শুধুই সরাসরি সাক্ষাৎকার-নির্ভর ছিল না। তারা মূলত কৃত্রিম উপগ্রহের ছবি, আবহাওয়া সূচক ও বাজারদর বিশ্লেষণ করে আধুনিক প্রযুক্তি ও গণিতের সাহায্যে নির্ভুল পূর্বাভাস করত। তাই দুর্গম অঞ্চলে ক্ষেত্রসমীক্ষার কাজ কঠিন হলেও রিমোট সেন্সিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে নজরদারি চালিয়ে যাওয়া পুরোপুরি সম্ভব ছিল, কিন্তু রাজনৈতিক কৌশলগত কারণে তা বন্ধ রাখা হয়েছে।

এই কৌশলের নেপথ্যে মূলত কাজ করছে তথ্যের রাজনীতি (Politics of Data)। বিশ্ব মানচিত্রে যখন কোনও অঞ্চলকে আনুষ্ঠানিকভাবে দুর্ভিক্ষপীড়িত বা ‘পঞ্চম ধাপের আকালে (IPC Phase 5)’ পড়া এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, তখন আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামোর আওতায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ওপর এক ধরনের নৈতিক ও রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা এসে পড়ে– সেখানে সামরিক বা রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থামিয়ে অবিলম্বে মানবিক ত্রাণ পৌঁছনো নিশ্চিত করাই প্রধান হয়ে ওঠে।
মূলত এমন নৈতিক চাপ এড়াতেই মার্কিন প্রশাসন পররাষ্ট্রনীতির এক চতুর দ্বিমুখী কৌশল ব্যবহার করছে। জাতিসংঘ ও ইনটিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেজ ক্লাসিফিকেশন (IPC)-এর যৌথ তথ্য অনুযায়ী গাজার মোট জনসংখ্যার ৯৬ শতাংশ– অর্থাৎ প্রায় ২১ লাখ মানুষ চরম খাদ্যসংকটে রয়েছেন, যার মধ্যে সাড়ে চার লাখেরও বেশি মানুষ সরাসরি বিপর্যয়কর দুর্ভিক্ষের মুখোমুখি। আন্তর্জাতিক এই নজরদারি কাঠামো যদি এই আকালকে সরকারিভাবে ‘দুর্ভিক্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করে, তবে মার্কিন প্রশাসনের দেওয়া সামরিক সাহায্য ও কূটনৈতিক সুরক্ষা সরাসরি কাঠগড়ায় দাঁড়ায়। তাই গাজাকে প্রাতিষ্ঠানিক রিপোর্টের বাইরে রাখা আসলে মিত্রপক্ষের রাষ্ট্রীয় অপরাধ আড়াল করারই এক পরিকল্পিত চক্রান্ত। আবার আফগানিস্তান বা ইয়েমেনের মতো শত্রু-দেশের ক্ষুধা সংকটকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করে নিলে এই দেশগুলোতে নিজেদের চাপিয়ে দেওয়া অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার বৈধতাই প্রশ্নের মুখে পড়ে, পাশাপাশি সেই অঞ্চলগুলোতে ত্রাণ দেওয়ার আন্তর্জাতিক চাপ এসে পড়ে।
বাজেট কাটছাঁটের অজুহাতে খাদ্য নজরদারি গুটিয়ে নেওয়ার এই পদক্ষেপটি আসলে মার্কিন প্রশাসনের এক সুচতুর রাজস্ব-কৌশল। আন্তর্জাতিক সাহায্য কমানোর সহজতম উপায় হল সাহায্যের ‘দাবিদার’দেরই পরিসংখ্যান থেকে মুছে ফেলা। নথিতে চাহিদা না থাকলে, বাজেটে বরাদ্দের নৈতিক চাপও থাকে না। কাগজে-কলমে সমস্যা না থাকলে, তার দায় নেওয়ার ভারও কারও ওপরে পড়ে না। অথচ ‘মেডসিঁ সঁ ফ্রঁতিয়ের’-এর মতো আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও চিকিৎসা সংস্থাগুলোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী– আফগানিস্তানে আজ প্রতি তিনজনের মধ্যে একজন তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন। সোমালিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে স্বাস্থ্য ক্লিনিকে আসা প্রতি চারজন শিশুর একজন মারাত্মক অপুষ্টির শিকার। এই পরিসংখ্যানগুলোই প্রাতিষ্ঠানিক অবহেলার বিপরীতের আসল ও ভয়াবহ বাস্তব পরিস্থিতি স্পষ্ট করে দিচ্ছে।

বিশ্ব-ব্যাংকের সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধ ও সংঘাতকবলিত (যেমন: রাজনৈতিক সহিংসতা বা অভ্যন্তরীণ গৃহযুদ্ধ) এলাকার প্রতি তিনজনের মধ্যে একজন মানুষ এখন প্রাতিষ্ঠানিক খাদ্য নজরদারির বাইরে। একইভাবে ‘গ্লোবাল রিপোর্ট অন ফুড ক্রাইসিস’-এর পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে, সংঘাতকবলিত ১৮টি দেশের অন্তত ১২টিতেই ত্রাণ বণ্টন ও তথ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক নজরদারিতে এই পরিকল্পিত পক্ষপাতের কারণে বিশ্ব জুড়ে মানবিক সহায়তার বরাদ্দ প্রায় ৪৫ শতাংশ কমে গেছে। জাতিসংঘের প্রতিবেদনও স্বীকার করেছে মানবিক সহায়তার অন্যান্য খাতের (যেমন: চিকিৎসা, পানীয় জল কিংবা বাসস্থান) তুলনায় খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রেই তথ্যের অভাব সবচেয়ে বেশি।
মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ১৯৮৫ সালে ‘ফ্যামিন আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেমস নেটওয়ার্ক’-এর জন্ম হলেও, চার দশক পর রাজনৈতিক স্বার্থে সেই সংস্থাকেই এক অমানবিক ব্যবস্থার দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। আজ খাতায়-কলমে যে ক্ষুধার্তদের ‘অদৃশ্য’ করে দেওয়া হল, অভুক্ত অবস্থায় রাতে ঘুমোতে যাওয়া সেই রক্ত-মাংসের মানুষগুলোর অস্তিত্বকে কিন্তু বাস্তবে মুছে ফেলা গেল না। ভূ-রাজনৈতিক কারণে সাম্রাজ্যবাদীরা জোর করে এদের পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিতে চাইলেও, বুভুক্ষু এই মুখগুলো একদিন মানবজাতির বিবেককে কাঠগড়ায় দাঁড় করাবেই।
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved