The Florsheim Shoes Behind Trump’s Power Style। Robbar
Robbar
  • ২০ ভাদ্র ১৪৩৩
  • সোমবার
  • ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুদ্ধের পৃথিবীতে জুতোমুগ্ধ ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর পেয়ারের লোকেদের ডেকে ডেকে জুতো উপহার দিচ্ছেন! ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ (মাগা) টিমের হর্তাকর্তাদের প্রেসিডেন্টের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শনের চিহ্নই হয়ে দাঁড়িয়েছে এখন ওই ‘ট্রাম্প শ্যু’। হোয়াইট হাউস স্টাফ, বিভিন্ন দফতরের সেক্রেটারি, মার্কিন কংগ্রেস সদস্য বা প্রশাসনের কোনও কর্তার সঙ্গে দেখা হলেই ট্রাম্প জিজ্ঞেস করছেন, ‘পায়ের মাপ কত?’ আর নির্দিষ্ট মাপ অনুযায়ী সঙ্গে সঙ্গে তাঁর জন্য জুতোর ফরমায়েশ চলে যাচ্ছে। অনেকে আবার ওভাল অফিসেই জুতোয় পা গলিয়ে দেখছেন। সবার জন্যই ট্রাম্প জুতোর অর্ডার দিচ্ছেন শতবর্ষ প্রাচীন মার্কিন ব্র্যান্ড ‘ফ্লোরশেইম’ থেকে।

প্রচ্ছদ অলংকরণ: দীপঙ্কর ভৌমিক

শেষ আপডেট: মার্চ ১২, ২০২৬, ১৮:১৬   
Facebook WhatsApp Messenger

ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইজরায়েল আক্রমণের পরিণতি কি অবশেষে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূচনা করবে? এই আশঙ্কা যখন গোটা দুনিয়ার ওপরে ক্রমেই চেপে বসছে, তেল-গ্যাসের সংকটে যখন নানা দেশ খাবি খাওয়ার পথে, খোদ আমেরিকায় যখন নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বেড়ে চলায় সাধারণ মানুষের পকেটে টান, তখন কী আশ্চর্য– মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর পেয়ারের লোকেদের ডেকে ডেকে জুতো উপহার দিচ্ছেন!

মার্কিন সংবাদপত্র ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর প্রথম পাতায় ফলাও করে এই খবর প্রকাশিত হয়েছে। ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ (মাগা) টিমের হর্তাকর্তাদের প্রেসিডেন্টের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শনের চিহ্নই হয়ে দাঁড়িয়েছে এখন ওই ‘ট্রাম্প শ্যু’। হোয়াইট হাউস স্টাফ, বিভিন্ন দফতরের সেক্রেটারি, মার্কিন কংগ্রেস সদস্য বা প্রশাসনের কোনও কর্তার সঙ্গে দেখা হলেই ট্রাম্প জিজ্ঞেস করছেন, ‘পায়ের মাপ কত?’ আর নির্দিষ্ট মাপ অনুযায়ী সঙ্গে সঙ্গে তাঁর জন্য জুতোর ফরমায়েশ চলে যাচ্ছে। অনেকে আবার ওভাল অফিসেই জুতোয় পা গলিয়ে দেখছেন। সবার জন্যই ট্রাম্প জুতোর অর্ডার দিচ্ছেন শতবর্ষ প্রাচীন মার্কিন ব্র্যান্ড ‘ফ্লোরশেইম’ থেকে। উন্নত মানের চামড়ায় তৈরি ওদের অক্সফোর্ড শ্যু-র স্টাইলিশ ডিজাইন ট্রাম্পের খুব পছন্দ আর সেই জুতো বেশ আরামদায়ক। এক জোড়া জুতোর দাম ১৪৫ ডলার– ভারতীয় মুদ্রায় ১৩ হাজার টাকার বেশি। বিলিয়নেয়ার ট্রাম্প বা তাঁর বিত্তবান সব কর্মী বা বন্ধুর কাছে এ আর এমন কী দাম! তবু এর মূল্যই যে আলাদা। স্বয়ং প্রেসিডেন্টের উপহার বলে কথা! মজার ব্যাপার হল, যে ব্র্যান্ডের জুতো ট্রাম্পকে মুগ্ধ করেছে, তার মূল মালিকানাধীন কোম্পানি ওয়েকো বাড়তি শুল্ক ফেরত চেয়ে ফেডারেল সরকারের বিরুদ্ধে অন্য আরও অনেক কোম্পানির মতো মামলা করেছে। ‘ইন্টারন্যাশনাল এমারজেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট’ অনুযায়ী, ট্রাম্পের আরোপ করা আমদানি শুল্কের আদেশ সুপ্রিম কোর্টে খারিজ হওয়ার পরেই আন্তর্জাতিক বাণিজ্য-সংক্রান্ত মার্কিন আদালতে এই মামলাগুলি দায়ের হয়েছে। বিষয়টি ইতিমধ্যে ট্রাম্পের কানে গিয়ে থাকলে সেটি তাঁর কাছে রীতিমতো অস্বস্তিকর।

zoom
এই ব্র্যান্ডের জুতোর প্রতিই মোহগ্রস্ত ট্রাম্প

অবশ্য সেইসব প্রসঙ্গের বাইরে হোয়াইট হাউসের জনৈকা মহিলা কর্মী বলেছেন, সব পুরুষ কর্মী নতুন জুতো পরে আসছেন। আর একজন তো বলেই ফেললেন, উপায় কী, ওই জুতো না-পরলে তিনি চিহ্নিত হয়ে যাবেন! ট্রাম্প সকলের পায়ের দিকে কড়া নজর রাখছেন! কাজেই ট্রাম্প শ্যু না-পরলে রক্ষা নেই! ট্রাম্পের সঙ্গে মিটিং থাকলে বিশেষত প্রত্যেকে ওই জুতো পরে হাজির হচ্ছেন। এক দফতরের সচিব তাঁর অন্তরঙ্গ মহলে খেদের সঙ্গে বলেছেন, নিজের পছন্দের বিলাসবহুল ফরাসি ব্র্যান্ড ‘লুই ভিটন’ ছেড়ে তাঁকে এখন ট্রাম্পের দেওয়া জুতো পরে অফিসে আসতে হচ্ছে।

zoom
টাকার কার্লসন এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প

কিছুদিন আগে মাগা-র প্রতি সহানুভূতিশীল রক্ষণশীল রাজনৈতিক কর্মী ও ভাষ্যকার টাকার কার্লসনের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজের আলোচনার মাঝে হঠাৎই ট্রাম্প প্রসঙ্গ বদলে নিজের জুতোজোড়া নিয়ে সুখ্যাতি করতে শুরু করেন। আর কার্লসনকে এক জোড়া ব্রাউন শ্যু উপহার দেন। নতুন জুতো কার্লসনের পায়ে দিব্যি হল। সেই থেকে ট্রাম্প জুতো উপহার দেওয়ার একটা রেওয়াজই শুরু করে দিলেন। কারও সঙ্গে দেখা হলে অনেক সময় তাঁর পায়ের মাপ নিজেই আন্দাজ করে ব্যক্তিগত সহকারীকে বলছেন জুতোর অর্ডার দিতে। আর তাতে বিপত্তিও যে ঘটছে না, তা একেবারেই নয়। প্রেসিডেন্টের দেওয়া বলে এক সাইজ বড় জুতোতেও কেউ পা গলিয়েছেন। আর সেই পা আর জুতোর অস্বস্তিকর ঢলঢলে ছবি মার্কিন সোশ্যাল মিডিয়ার খোরাক হচ্ছে। সে যাই হোক, হোয়াইট হাউসে সবার জন্য নতুন জুতোর বাক্স স্ট্যাক করে রাখা হচ্ছে। কোনও বাক্সের ওপরে স্কট স্টিকার সাঁটা– অর্থাৎ, ওটা ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টের জন্য বরাদ্দ। মর্জিমতো জুতোর বাক্সে ট্রাম্প কখনও সই করছেন, কারও জন্য আবার শুভেচ্ছা জানিয়ে একটা চিরকুট গুঁজে দিচ্ছেন। জুতোর দাম ট্রাম্প সব নিজেই মেটাচ্ছেন বলে হোয়াইট হাউসের ‘খবর’। এ পর্যন্ত তিনি খরচ করেছেন ১৭৪০ ডলার বা দেড় লাখ টাকারও বেশি।

zoom
‘জুতো’সই ব্যাপার!

ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভান্স এবং বিদেশ সচিব মার্কো রুবিয়ো তো আগেভাগেই ট্রাম্পের কাছ থেকে জুতো উপহার পেয়েছেন। ওভাল অফিসে একদিন বৈঠকের সময় গুরুত্বপূর্ণ কথাবার্তার মধ্যেই ট্রাম্প বলে ওঠেন, জে ডি, মার্কো তোমাদের জুতোর এই দশা কেন! তারপর তিনি প্রত্যেকের পায়ের মাপ জানতে চান। রুবিয়ো জানান ১১.৫, জে ডি ১৩ আর সেখানে উপস্থিত তৃতীয় এক রাজনীতিক বলেন ৭। নিজের চেয়ারে আয়েশ করে হেলান দিয়ে ট্রাম্প বলেন, জুতোর মাপ দেখে কিন্তু ব্যক্তিবিশেষের অনেক কিছু বলে দেওয়া যায়। ফ্লোরশেইম ব্র্যান্ডের সঙ্গে রুবিয়োর বিলক্ষণ পরিচিতি ছিল আগে থেকেই। ২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে রিপাবলিকান পার্টির মনোনয়ন পাওয়ার জন্য ট্রাম্পের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন রুবিয়ো। প্রাইমারির প্রচারপর্বে নিউ হ্যাম্পশায়ারে সামান্য হিল-সহ ব্ল্যাক শ্যুতে ৫ ফিট ১০ ইঞ্চি লম্বা ফ্লোরিডার বাসিন্দা রুবিয়ো তাঁর দুর্দান্ত স্মার্ট উপস্থিতিতে সাড়া ফেলে দিয়েছিলেন। ইংরেজ গায়ক, গীতিকার ও অভিনেতা হ্যারি স্টাইলসের সঙ্গে তুলনা করে রুবিয়োর জুতোর ছবি তখন ফ্যাশন দুনিয়ায় ‘ভাইরাল’। সেই ‘বুটগেট’ নিয়ে মিডিয়ায় জল্পনা, জুতোটা নিশ্চয়ই ১৯৯০ ডলারের টম ফোর্ডস! অবশেষে রুবিয়োর টিম জানাতে বাধ্য হয়, সেটা নেহাতই অনেক কম দামের ১৩৫ ডলারের ফ্লোরশেইম! প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের কাছে কিছুটা আওয়াজ খেয়ে রুবিয়ো ওই হিল দেওয়া জুতো পরা ছেড়ে দেন। ৬ ফিট ৩ ইঞ্চি ট্রাম্প তখন মজা করে বলেছিলেন, একটু লম্বা দেখালে তো ভালোই।

zoom
হিল জুতোয় মার্ক রুবিয়ো

জে ডি এবং রুবিয়ো ছাড়াও ট্রাম্পের জুতো উপহার পেয়েছেন যুদ্ধ সচিব পিট হেগসেথ, পরিবহন সচিব সিন ডাফি, বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিক, ট্রাম্পের কমিউনিকেশনস ডিরেক্টর স্টিভেন চেয়ুঙ, স্পিচ রাইটার রস ওয়ারদিংটন এবং সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম সহ আরও অনেকে। ফক্স নিউজের পরিচিত হোস্ট সিন হ্যানিটিও পেয়েছেন এক জোড়া। ফ্লোরশেইমের মতো এক ঐতিহাসিক ব্র্যান্ডের জুতো উপহার দেওয়ার মধ্যে বিশেষ বৈশিষ্ট রয়েছে।

zoom
ফ্লোরশেইম জুতোর বিজ্ঞাপন। ১৯২৬

ট্রাম্প তো অভিবাসীদের বিরুদ্ধে খড়্গহস্ত। তবে তাঁর পছন্দের ব্র্যান্ড ফ্লোরশেইম কিন্তু একদা তৈরি হয়েছিল জার্মান অভিবাসীর হাতে। জার্মান চর্মকার সিগমুন্ড ফ্লোরশেইম আর তাঁর ছেলে মিলটন ১৮৯২ সালে শিকাগো শহরে জুতো তৈরি করে তাতে ‘ফ্লোরশেইম’ নামটি সেলাই করে দেন। ট্রাম্প এখন সব কিছুতেই নিজের নাম খোদাই করতে চান– আগামী জুলাইতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বাম্পার স্টিকার, টোটি ব্যাগ, টি-শার্ট ও গল্ফ বল-সহ বিভিন্ন স্মারকে ‘ট্রাম্প ২৫০’ লোগো ব্যবহার করার জন্য পেটেন্ট ও ট্রেডমার্ক অফিসে ইতিমধ্যে নানা আবেদন পেশ করা হয়েছে। আর আধুনিক লোগোর এমন সব ধারণার সূচনার আরও কত যুগ আগে সেই জার্মান অভিবাসী নিজের তৈরি জুতোর পরিচিতি ছড়িয়ে দিতে ফ্লোরশেইম ব্র্যান্ড গড়ে তোলেন। দু’টি বিশ্বযুদ্ধেই মার্কিন সেনাদের পায়ে ছিল ফ্লোরশেইম জুতো। পরবর্তীকালে শপিং মলের জনপ্রিয়তায় সওয়ার হয়ে ফ্লোরশেইম আমেরিকার বিভিন্ন শহরে ব্র্যান্ডেড স্টোর খোলে। প্রেসিডেন্ট হ্যারি ট্রুম্যান থেকে শুরু করে পপ সম্রাট মাইকেল জ্যাকসনের পায়ে শোভা পেত ফ্লোরশেইম। দুনিয়ার যুব সম্প্রদায়ের মধ্যে কাঁপন তোলা বিখ্যাত মুনওয়াকে জ্যাকসনের পায়ে ছিল ফ্লোরশেইম লোফার। বর্তমানে উইসকনসিন শহরের ওয়েকো কোম্পানির অন্তর্গত গ্লেনডেলের সহযোগী সংস্থা ফ্লোরশেইম। ওয়েকো বিরাট এক জুতো কোম্পানি। ফ্লোরশেইম ছাড়াও সংস্থাটি নান বুশ, স্টেসি অ্যাডামস, বগস-সহ আরও বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের বিপণনের দায়িত্বে।

zoom
পপ সম্রাট মাইকেল জ্যাকসনের পায়ে শোভা পেত ‘ফ্লোরশেইম’

মার্কিন প্রেসিডেন্টদের উপহার দেওয়ার এই প্রবণতা বেশ দেখা গিয়েছে ১৮৮০-র যুগে। ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট তাঁর প্রিয় পোষ্য স্কটিশ টেরিয়ার ফালার ছবিতে অলংকৃত ‘কী-চেইন’ দিতেন অতিথিদের। লিন্ডন জনসন দিতেন প্রেসিডেন্টের সিল-সহ ইলেকট্রিক টুথব্রাশ। জর্জ ডব্লিউ বুশের পছন্দের ছিল ‘কাফলিঙ্কস’। ট্রাম্প এর আগে দিয়েছেন মাগা লোগো-সহ টুপি, প্রেসিডেনশিয়াল কয়েন, ওভাল অফিসের স্টাফের সঙ্গে তোলা নিজের ছবি কিংবা সরকারি নথিপত্রে তিনি যে-সই করেন সেই বিশেষ ডিজাইনের কালো কলম।

zoom
ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট-এর উপহারের তালিকায় পছন্দ ছিল এই কি-চেন

এই জুতো না-হয় ট্রাম্প তাঁর নিজের খরচে উপহার দিচ্ছেন, ওদিকে দেখা যাচ্ছে পেন্টাগনে বিপুল অর্থের নয়ছয় হয়েছে। গত সেপ্টেম্বরে, ২০২৫ অর্থ বছরের শেষ পাঁচদিনে ‘ডিপার্টমেন্ট অব ওয়ার’ খরচ করেছে পাঁচ হাজার কোটি ডলার। কেনার জিনিসের তালিকা দেখে চোখ কপালে ওঠাই স্বাভাবিক! এক সেনা জেনারেলের বাড়ির জন্য দুর্দান্ত দামি গ্র্যান্ড পিয়ানো যেমন আছে, তেমনই রয়েছে বিলাসবহুল হার্মান মিলার রিক্লাইনার, ভায়োলিন, জাপানের হাতে তৈরি মহার্ঘ বাঁশি, ফলের ঝুড়ি, গলদা চিংড়ি, কিং ক্র্যাব ইত্যাদি। আবার রয়েছে এক লাখ ৩০ হাজার ডলারের ডোনাট। ‘ওপেন দ্য বুকস’ রিপোর্টে এই ফিরিস্তি দিয়ে বলা হয়েছে, কংগ্রেসে বাজেট অনুমোদনের অভাবে সরকারি শাটডাউনের প্রেক্ষিতে দফতরের ৬০ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম যখন সামরিক বাহিনীর পরিবারের জন্য খাদ্য সহায়তা প্রকল্প মুলতবি রাখা হয়েছে, ঠিক সেই সময় হয়েছে এমন বিপুল অপচয়! আর এই মুহূর্তে ইরান যুদ্ধ বাবদ প্রতিদিন খরচ হচ্ছে মার্কিন করদাতাদের প্রায় ৯০ কোটি ডলার।

ইরানের যুদ্ধের আবহে প্রচুর প্রাণহানি, ক্ষয়ক্ষতি, জ্বালানি তেল, রান্নার গ্যাস ও উপসাগরীয় অঞ্চলে পানীয় জলের সংকট ঘিরে দুনিয়া যখন উত্তাল, চারিদিকে যখন অর্থনৈতিক সমস্যা গভীর হয়ে ঘনিয়ে উঠছে সেই সময় বিনা প্ররোচনায় যুদ্ধ লাগিয়ে দেওয়া আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রশাসনের হর্তাকর্তাদের মধ্যে জুতো বিলোচ্ছেন– বিষয়টি স্বাভাবিক ভাবেই নানা প্রান্তে খুব দৃষ্টিকটু ও কুরুচিকর। মাগা-র কর্তারা গাঢ় রংয়ের স্যুট আর কালো জুতোয় একটা আলাদা পরিচিতি পেয়েছেন বটে, তবে সমালোচকদের বক্তব্য পৃথিবীর এই দুঃসময়ে ওয়াশিংটনের এই ফ্যাশন চর্চা রাষ্ট্র পরিচালনার মর্যাদা ও গাম্ভীর্যকে ম্লান করে দিচ্ছে।

zoom
ঢলঢলে জুতোর এই ছবি এখন ‘ভাইরাল’

বিরোধী রাজনীতিকরা ‘মাগা-দুনিয়া’-কে এই মুহূর্তে দেখছেন ঠিক এই ভাবে– নিজেদের কুৎসিত আত্মার ভিতরের পচনশীল অন্ধকারকে আড়াল করার জন্য এরা কেবল বাহ্যিক জাঁকজমক নিয়েই মত্ত থাকে। এটা আসলে তাদের করা অপরাধ এবং বহু মানুষের জীবন ধ্বংসের নৈতিক দুর্গন্ধকে সুগন্ধি দিয়ে চাপা দেওয়ার এক মরিয়া চেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়। গোটা দুনিয়া ট্রাম্প ও তাঁর সাঙ্গপাঙ্গদের হীনম্মন্যতায় ভরা এবং চরম ন্যাক্কারজনক এই চেহারাকে চিনে নিক। ভেবে নেওয়া আশ্চর্য নয়, ইরানের যুদ্ধ পাকিয়ে আদতে ট্রাম্প এবং তাঁর সৃষ্ট ক্ষমতার বলয়ের কি এবার শেষের সময় ঘনিয়ে এল? ট্রাম্প নিশ্চয়ই ভারতীয় পুরাণ ও লোকাচারের সঙ্গে পরিচিত নন। তাহলে বুঝতেন, এই জুতো দানের অনুষঙ্গ আখেরে শুভ না-ও হতে পারে। শ্রাদ্ধ-শান্তিতে পাদুকা নিবেদনের প্রথা রয়েছে। যমের দুয়ারে পৌঁছনোর জন্য বিদেহী আত্মার উদ্দেশে জুতো দেওয়ার প্রথাও স্বীকৃত। তাহলে বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির আবহে ট্রাম্পের মনে কি নিজের অজান্তে কু গেয়েছে?

ClassicShoes DonaldTrump FashionHistory Florsheim PoliticalStyle PowerDressing Sangbad Pratidin Sangbad Pratidin Robbar TrumpStyle VintageMenswear

Share this article on