এই বইয়ের সূচনাবিন্দু যদি হয় আদিপর্বের সিনেমা, তারপর ক্রমে শহর ও পঞ্চাশের জনপ্রিয় ছবি, মধ্যপর্বে সে পৌঁছে যায় ক্রম-প্রসরমান ইমেজ কালচারে, টেলিভিশন আর গণপরিসরের অস্বস্তিকর নানা প্রশ্নে। কিন্তু শেষে গিয়ে সে আবার বেরিয়ে যায় আপাত-সময়পঞ্জী অনুসারী চলন থেকে।
স্টুডিও যেন এক মুহূর্তে কলকাতার পার্ক স্ট্রিটের নাইট ক্লাব হয়ে গেল। তালে তালে নেচে উঠল সুচিত্রা সেনের ভ্রূ যুগল। সুচিত্রা সেন যেন হয়ে উঠলেন সত্যিকারের রিনা ব্রাউন। গানটা নিজেই হয়ে উঠল কোরিওগ্রাফার। সুজি মিলার যেন হয়ে গিয়েছেন সুচিত্রার পুরু ঠোঁট। পারফেক্ট ‘মেরি গো রাউন্ড’।
তাঁর গ্ল্যামারাস ব্যক্তিত্ব, ভারী গলার স্বর, অত্যাশ্চর্য মেকআপ, বুফোঁ চুল, স্লিভলেস ব্লাউজ ছিল অতুলনীয়। এমনকী, ‘সূচিত্রা’র সঙ্গেও তুলনা চলে না– বলা যায়, সুচিত্রা সেন ছিলেন বাঙালি ভদ্রলোকের ফ্যান্টাসি, আদর্শিক নারী; কিন্তু সুপ্রিয়া দেবী ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে, আগুনের শিখার মতো।
আজ ৩ সেপ্টেম্বর। উত্তমকুমারের জন্মদিন। বাংলা ও বাঙালির মহানায়ক পা দিলেন জন্মশতবর্ষে। সেই উপলক্ষে এই অলীক-আড্ডা, ওপেন সিক্রেটে।
সুচিত্রা সেনের আদি বাড়ি যশোর। পাবনা– তাঁর শৈশবের শহর। প্রথম যৌবনের শহর। প্রথম সিনেমা দেখার শহর। পাবনা শহরের গোপালপুর মহল্লার হেমসাগর লেনে সুচিত্রাদের বাড়ি। বাবা করুণাময় দাশগুপ্ত ছিলেন পাবনা পৌরসভার স্যানিটারি ইন্সপেক্টর, পরবর্তী সময়ে পদোন্নতি পেয়ে হেডক্লার্ক হয়েছিলেন।
অমিতাভ চৌধুরী তখনকার দিনে খুবই নামকরা সাংবাদিক ছিলেন। প্রথমজীবনে কিছুদিন শান্তিনিকেতনে পড়িয়েছেন, তারপর ১০ বছর ছিলেন ‘আনন্দবাজার পত্রিকা’র বার্তা সম্পাদক। লেখক এবং ছড়াকার হিসেবেও তিনি সেসময় রীতিমতো খ্যাতিমান। রবীন্দ্রনাথ আর শান্তিনিকেতন ছিল তাঁর প্রাণ।
চিরকালের যৌবনের রহস্যময়তার প্রতীক হয়ে থাকতে চেয়ে নায়িকা যদি তাঁর রূপযৌবন সম্মান প্রতিপত্তি থাকতে থাকতেই সব মোহ ত্যাগ করে স্বেচ্ছায় অসামাজিক, অন্তরালবর্তিনী হয়ে যান, সেটা তো অসামান্য সংযমের, সুবিবেচনার এবং ইচ্ছাশক্তির কাজ।
রুপোলি পর্দার মোহিনী আড়াল থেকে দর্শকদের পুজো পাওয়ার লোভ এবং মোহ অনায়াসে ছেড়ে দিয়ে প্রচণ্ড ভাবে সুরক্ষিত প্রিভেসির আড়ালে সমাজ-বিচ্ছিন্ন সাধারণীর জীবন কাটানোর মতো মনের জোর তো গ্রেটা গার্বো আর সুচিত্রা সেন ছাড়া কারুর দেখিনি।
সুচিত্রা সেনের জন্মদিন উপলক্ষে বিশেষ লেখা।
কোনও কোনও মুহূর্ত মনের মধ্যে অনন্তের ফ্রেমে স্টিল হয়ে যায়। এই সেই মুহূর্ত, ফ্রোজেন ইন বিউটি! শুধু কলকাতার বইমেলায় কেন, পৃথিবীর যে-কোনও কালের যে-কোনও বইমেলার সেরা সুন্দরীকে আমার দেখা হল, এখনও ভাবি একই কথা।
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved