

উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী ১৩১২ বঙ্গাব্দে অর্থাৎ ১৯০৫-এ ‘মুকুল’ পত্রিকার কয়েকটি সংখ্যা জুড়ে পুরী ভ্রমণের বর্ণনা লিখেছিলেন। সেই বর্ণনার শুরুতেই উপেন্দ্রকিশোরকে বলতে শোনা যায়: ‘আজকাল রেল হইয়া পুরী যাইবার বেশ সুবিধা হইয়াছে, তাই এখন অনেকেই শখ করিয়া সেখানে গিয়া থাকেন।’
গত শতাব্দীর তিনের দশক পর্যন্ত সন্দেশের পাতায় নিয়মিত দেখা যেত তাঁর ছবি। নিজের প্রত্যেকটি লেখার সচিত্রকরণ শুধু নয়, অন্য লেখকদের লেখার সঙ্গেও তাঁর করা অলংকরণ সন্দেশকে সমৃদ্ধ করেছে। এমনকী স্বর্ণকুমারী দেবীর একটি ইংরেজি বইয়ের অলংকরণের জন্য প্রয়োজনীয় ছবিও তিনি এঁকে দিয়েছিলেন লেখিকার অনুরোধে।
প্রকাশক এলেন এক রাত্রে, বইটি নিতে। জানা গেল, কল্যাণ রায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি ওরা, যিনি অনুবাদক। শঙ্খ-র কথা হল যে এ বই তো কল্যাণের। ওকে তো জানাতেই হবে। শঙ্খকে করতে হল যোগাযোগ অপর্ণা সেনের সহায়তায়, কল্যাণ এত অল্প সময়ে আর কি করবে এতদূর থেকে, অন্তত ‘নতুন’ সংস্করণের ভূমিকা লিখবে।
নিমগাছের মতো ছোট ফুল, টুনটুনির মতো ছোট পাখি আর এমনই কিছু মানুষের কথা লিখতে চাই, যারা প্রচলিত অর্থে তেমন ‘বড়’ নয়। তবু তাদেরও নিজস্ব ভাব আছে। ভাষা আছে। কথা আছে। সাত মণ তেল না-পুড়লেও আছে উৎসবও। তাদের নিয়েই ‘মুখুজ্যের লিটফেস্ট’। আজ প্রথম পর্ব।
ঈশপের গ্রিক সরল উপকথা হোক বা ভারতের জটিল কাহিনির পঞ্চতন্ত্র– শিয়াল বারবার ফিরে আসে। কখনও চাতুর্যের মুখোশ পরে, কখনও রাজনীতির মঞ্চে উপদেষ্টার আসনে বসে। দুটোতেই শিয়াল আমাদের শেখায় এক চিরন্তন সত্য: শক্তি সবসময় জিততে পারে না, বুদ্ধিই শেষ পর্যন্ত টিকে থাকে।
হরেকরকম নোট, স্কেচ, ছবির লোগো– যখন যা মাথায় আসছে, লিখে রাখতেন মানিকদা। কখনও শিল্পনির্দেশনা নিয়ে, কখনও-বা পোশাক। সেই ‘খেরোর খাতা’ হাতে পেলাম। দেখতে দেখতে ‘খেরোর খাতা’টাই আমার কাছে হয়ে উঠল আস্ত মানিকদা! থাকল রহস্যও। ‘আমি জানি না’ খেরোর খাতায় কেন ফিরে ফিরে আসে ধ্রুবপদের মতো?
‘বাংলা শিশু সাহিত্য’ যাঁদের হাতে সৃষ্টি, তাঁদের সবাইকে এক ফ্রেমে এই বনাকীর্ণ জলাভূমির যাত্রাপথে দেখতে পাওয়া যায়। রায় পরিবারের সবার মধ্যে ভাষার যে আশ্চর্য সরলতা বা প্রসাদগুণ, তার শিকড় ময়মনসিংহের মসূয়ার মাটিতে পোঁতা রয়েছে।
জীবনে প্রথম প্রবন্ধ লিখেছিলাম। সাহিত্যে সুকুমার রায়ের ইলাস্ট্রেশন নিয়ে। বিশেষ করে জোর দিয়েছিলাম হাইব্রিড জন্তু-জানোয়ার বানানোর দিকটায়। সেই লেখায় রায়সাহেব আমার হাতে লেখা পাণ্ডুলিপির মার্জিনে কিছু কিছু সংশোধনী নির্দেশ দিয়েছিলেন, শিক্ষকের মতো হাতের লেখায়। বারবার ছুঁয়ে দেখেছি মার্জিনে সে হাতের লেখা।
বাংলা সাহিত্যে কি দেবীর মতো নারীর উপস্থিতি নেই? তাঁরা কেমন? খেয়াল করে দেখবেন– সবর্ত্রই তারা দুঃখিনী। রূপকথার গল্পের দুয়োরানিরাই শ্রেষ্ঠ নারী। কারণ? কারণ তাঁদের ছিন্ন বস্ত্র, ভাঙা ঘর এবং চোখের জল তাদের পাঠকপ্রিয়তার কারণ।
লীলা মজুমদারের দুটো গল্প নিয়ে ছবি করতে চেয়েছিলেন ঋতুপর্ণ ঘোষ। ভাবলে বড় কৌতূহল হয়, এই অসামান্য গল্পদু’টির চলচ্চিত্ররূপ তিনি কেমন দিতেন! শেষঅবধি ছবি হয়নি, রয়ে গিয়েছে চিত্রস্বত্বর চিঠিখানা।
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved