
রনজি ট্রফিতে কাশ্মীরের দলটির সমগ্র জম্মু ও কাশ্মীর জুড়ে গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নাতীত। আই লিগে রিয়েল কাশ্মীরের মতো দলের উঠে আসার সময়েও কাশ্মীরের জনতার আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো। ‘দুধ মাঙ্গো তো ক্ষীর দেঙ্গে, কাশ্মীর মাঙ্গো তো চির দেঙ্গে’-এর মতো উগ্র জাতীয়তাবাদী স্লোগানকে বুকে আঁকড়ে, কাশ্মীরকে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ বলে দাবি করা রাষ্ট্রের নীতি-নির্ধারকরা কাশ্মীরের ভিন্নমতের মানুষদের শাপ-শাপান্ত ব্যতীত আর কী দিতে পেরেছেন? কাশ্মীরের বিপুল সংখ্যক জনতা তাই জাতীয়তাবাদী চেতনায় একাত্মবোধ করার চেয়ে ঢের বেশি আবেগ অনুভব করেন তাঁদের প্রাদেশিক সাফল্যে- বকলমে যা ভারতের ‘ইউনয়ন অফ স্টেটস’ ভাবনার সমান্তরাল এবং সাংবিধানিকভাবে ভারতের রাষ্ট্রচেতনার ভিত্তিও বটে, যা আজকের বহু রাষ্ট্রনেতার কাছেই বোধগম্য হয় না। এই কাশ্মীরের রনজি জয় ভারতকে নিশ্চিতভাবেই জাতীয় দলে একাধিক তারকা উপহার দেবে আগামী দিনে।
জম্মু ও কাশ্মীর রনজি ট্রফি জিতে গেল। কাশ্মীরের রনজি ইতিহাসে ৬৭ বছরে এই প্রথমবার। এর আগে সেমিফাইনালের গণ্ডিই পেরতে পারেনি তারা। এমন এক মুহূর্তে, আকিব নবি, সাহিল লোতরাদের উচ্ছ্বাস, খেলার পর মাঠে নেমে জম্মু-কাশ্মীর ক্রিকেটারদের সেলিব্রেশন দেখতে দেখতে বিশাল ভরদ্বাজের ‘হায়দার’ ছবির একটি দৃশ্যের কথা মনে পড়ছে। এক কাশ্মীরি যুবক নিজের ঘরের সামনে এসেও ঘরে ঢুকছে না। পাশ থেকে একজন এসে তার কাগজ দেখতে চাইল, তারপর সে ঢুকল। ভয়। ট্রমা। একজন মানুষ, যেন ধরেই নিয়েছেন জাতীয়তাবাদী আগুনে অগ্নিপরীক্ষা দেওয়াই তার নিয়তি। প্রতিনিয়ত ‘মানবাধিকার’ শব্দটিকে আঁস্তাকুড়ে ছুড়ে ফেলে জাতীয়তাবাদী আরক গেলানোর প্রয়াস চলছে। সেই আবহে, এই জয় কেবল তো জয় নয়, এক দীর্ঘ লড়াই শেষে, কোনও এক অদৃশ্য শেকল ভেঙে খুঁজে পাওয়া আলাদিনের প্রদীপ।

আসলে, লড়াইটা বহুমাত্রিক। বহুস্তরীয়। কাশ্মীর-আজাদি-আর্টিকেল ৩৭০-জেনোসাইড-এনকাউন্টার-টেরোরিজম– এইসব শব্দ জুড়ে জুড়ে যে গরম হলকা, তাতে রাজনৈতিক হাওয়াকলের চাকা ঘোরে বনবন করে। কিন্তু কাশ্মীরের জনতা কী চায়? নাকি চাওয়ার ক্ষমতাই হারিয়ে গিয়েছে একদল মানুষের? ‘হায়দার’ চলচ্চিত্রে হায়দার ফয়েজ আহমেদ ফয়েজের শায়েরির মধ্যে দিয়ে বলতে চেয়েছিল কাশ্মীরের স্বাভাবিক হতে চাওয়ার ইচ্ছের কথা– মানুষের স্বাভাবিক যাপনের পরিসরে যখন এসে পড়ে রাষ্ট্রের নিরন্তর সন্দেহের রক্তচক্ষু, তখন মানুষ ভুলে যায় তাঁর অধিকারটুকু। কাশ্মীরের ইতিহাস তাই বিক্ষিপ্ত উত্থানের গল্প হিসেবেই আসে আমাদের সামনে। যেমন ধরা যাক, আবিদ হুসেন ও মহসিন কামালের কথা। আবিদ ১৪ বছরেরও বেশি সময় ধরে শ্রীনগরে ক্রীড়া সাংবাদিকতা করে চলেছেন। মহসিন কামাল ছিলেন একজন সাংবাদিকতার ছাত্র। টিনেজার। দু’জন মিলে গত প্রায় এক দশক ধরে কাশ্মীরের মাটিতে, কাশ্মীরের আঞ্চলিক খেলাধূলার একটি মাসিক পত্রিকা চালান। ‘কাশ্মীর স্পোর্টস ওয়াচ’। আছে ওয়েবসাইটও। নিরন্তর লড়াই করে চলেছেন দু’জন অসমবয়সি বন্ধু– কেন? কাশ্মীরের খেলাধুলার গোড়ার সমস্যাটির দিকে তবে আমাদের তাকানো প্রয়োজন, তবেই আমাদের কাছে স্পষ্ট হবে এই রনজি জয়ের অসীম গুরুত্বটি। ক্রীড়া সাংবাদিক আবিদ বলছেন, কাশ্মীরে যে-ক্রিকেট ও অন্যান্য আঞ্চলিক টুর্নামেন্ট হয় তার আয়োজনের দায়িত্বে থাকে হয় পুলিশ ও সেনাবাহিনী, নতুবা হুরিয়াত ও বিচ্ছিন্নতাবাদী রাজনৈতিক শক্তিগুলি। কাশ্মীরে খুব অল্পবয়স থেকে যাঁরা খেলাধুলা করতে চান তাঁরা শুরুতেই পড়ে যায় এই রাজনৈতিক ডামাডোলে। সেনা আয়োজিত টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করলে তাঁদের দেগে দেওয়া হয় ‘উগ্র জাতীয়তাবাদী’ বলে। উগ্র বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তির হাতে তাঁদের পরিবার আক্রান্ত হয়; অন্যদিকে হুরিয়াত আয়োজিত ইভেন্টে অংশগ্রহণ করলে তাঁরা সেনার চোখে ‘প্রো-পাকিস্তানি’ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে যান। এই দড়ি টানাটানির মধ্যে প্রবল সংশয় নিয়ে মাঠকেই বিদায় জানিয়ে দেন এক বড় সংখ্যক কাশ্মীরি যুবক। আবিদ ও মহসিন– বলিউডি ছবির রঙিন কাশ্মীর কিংবা গোলা-বারুদের ধূসর কাশ্মীরের পরিবর্তে দেখতে চাইছেন ঝিলামের মতো স্রোতস্বিনী কাশ্মীরকে, দেশের অন্য কোনও রাজ্যেই সম্ভবত এমন অসম লড়াই লড়তে হয় না একজন ক্রীড়াবিদকে, একজন সাংবাদিককে কিংবা একজন সাধারণ জনতাকে। আজকের জয়ের কারিগর সামাদ, আকিব, পরশ, কানহাইয়া ওয়াধাবন, যুধবীর সিং– প্রত্যেককেই তো পেরতে হয়েছে দেশের ভেতরে থাকা এই অদৃশ্য পাঁচিলকে।

এই জয়ের নেপথ্যে আরেকটা জরুরি বিষয় হল আঞ্চলিক ক্রিকেটের উল্কাসম উত্থান ও জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি। কাশ্মীরে ক্রিকেট খেলাটা গত আধা দশকে আমূল বদলেছে। গত বছরে পহেলগাঁও ইস্যু, তার পরবর্তীতে মে মাসে সিজফায়ারের এক সপ্তাহ পর কূপওয়ারা প্রদেশের লোলাব ভ্যালিতে দেখা গিয়েছিল এক অপূর্ব দৃশ্য। ১৬ জন তরুণ জড়ো হয়েছেন ক্রিকেটের ব্যাট-বল হাতে। খেলবেন। এঁদের মধ্যে কেউ বিরাট কোহলি, কেউ বাবর আজমের সমর্থক, কিন্তু মজার বিষয় হল– এঁরা ক্রিকেটটা খেলতে চান কারণ এই আঞ্চলিক খেলাগুলির সঙ্গে জড়িয়ে আছে বেশ কিছু অর্থমূল্য। জয়ী দল পাবে ৩০ হাজার টাকা। কে দেবে? একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। গত ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে লেবার ফোর্স সার্ভে অনুযায়ী, কাশ্মীরে ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সি যুবকদের মধ্যে বেকারত্বের হার ৩৫ শতাংশ, যা দেশের মধ্যে সর্বাধিক। এই পরিস্থিতিতে যুদ্ধ আবহে ব্যাপক হারে কাশ্মীরি যুবক অর্থাভাবে জঙ্গিগোষ্ঠীতে চলে যান। ক্রিকেট দিয়ে সেই পথ বন্ধ করার লক্ষ্যেই এই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলি কাশ্মীরে আয়োজন করে চলেছে একের পর এক আঞ্চলিক ক্রিকেট টুর্নামেন্ট এবং যুবকদের অর্থের লোভে টেনে আনছে ময়দানে। বিখ্যাত ক্রিকেট সাংবাদিক শারদা উগ্রাও তাঁর লেখায় বলেছেন কাশ্মীরের আঞ্চলিক টুর্নামেন্টগুলির কথা, যার মাধ্যমে টাকার লোভে উগ্রধর্মীয় মৌলবাদী শক্তির বদলে ক্রিকেটকে বেছে নিচ্ছে তরুণরা।

এই যাত্রাটা অবশ্য শুরু হয়েছিল একযুগ আগে। ২০১৩ সাল। পারভেজ রসুল প্রথম কাশ্মীরি মুসলিম হিসেবে ভারতের জাতীয় দলে সুযোগ পেলেন। এরপর আইপিএলে মনজুর দার, আবদুল সামাদদের আগমন কাশ্মীরে আরও জনপ্রিয় করল ক্রিকেটকে। কিন্তু সরকারি অনুকূল্যের অভাব এখনও প্রবল। এই ধরনের ফান্ডিং বেসড টুর্নামেন্টগুলিতে ক্রিকেট টার্ফের বদলে ম্যাট পেতে খেলা হয়। এমনকী, গত বছর যখন লেজেন্ডস লিগ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের আসর বসল কাশ্মীরে, এলেন ক্রিস গেইল, ইয়ান বেল, ইরফান পাঠানের মতো তারকারা তখন শের-ই কাশ্মীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পরিকাঠামোর অভাবে খেলাই দেওয়া গেল না, শ্রীনগরের এক ফুটবল স্টেডিয়ামে হল খেলা। জম্মু-কাশ্মীরের ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের অভ্যন্তরে দুর্নীতির অভিযোগও তো কম না। ২০২২ সালের ইডির চার্জশিটের কথা সকলেরই জানা।
এই আঞ্চলিক টুর্নামেন্টগুলি যেমন প্রতিভা তুলে আনছে, তেমনই আরেকটি সমস্যাও তৈরি করছে। একেকজন তরুণ দিনে দু’-থেকে তিনটি করে ম্যাচ খেলছেন ম্যাচপিছু টাকার আশায়। এতে তাঁদের ফিটনেসের যেমন ক্ষতি হচ্ছে, তেমনই তাঁদের বৃহত্তর পরিসরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ইচ্ছা কমছে। ক্রিকেট কেবলই হয়ে উঠছে অর্থ উপার্জনের পথ। যে কারণে, জম্মু-কাশ্মীরের কোচ অজয় শর্মা যখন দলটির দায়িত্ব নেন, তিনি দীর্ঘ সময় নেন কাশ্মীরে গিয়ে সেখানকার ক্রীড়াসংস্কৃতিকে বুঝতে। তাঁর মতে কাশ্মীরের তরুণদের মধ্যে সাদা-বলের ছোট ফরম্যাটে খেলার ইচ্ছেই প্রবল, এখানে আইপিএলের জনপ্রিয়তা ব্যাপক। সেখান থেকে রনজির মতো লাল-বলের লম্বা ফরম্যাটে খেলাতেও যে তারা চ্যাম্পিয়ন হতে পারে, এই বিশ্বাসের বীজ বপন করতেই লেগে গিয়েছিল অনেকটা সময়। শারদা উগ্রা কাশ্মীরের এই সমস্যার নেপথ্যে দায়ী করছেন ক্রিকেটের প্রশাসন, পরিচালনা এবং বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিস্থিতিকেই। একজন খেলোয়াড়কে যে ব্যাপক মানসিক চাপের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়, তা বোঝাতে গিয়ে তিনি তুলে আনছেন পারভেজ রসুলের কথাই। অধুনা ভারতে রসুল জাতীয় দলে খেলার কারণে যে জাতীয়তাবাদী ছাপ পেয়েছেন, তা তাঁকে কাশ্মীরের সাধারণ জনতার দাবিগুলির বিপ্রতীপে দাঁড় করিয়ে দেয়। কাশ্মীরি হয়েও তিনি যেন দূরতর দ্বীপ। যদি কাশ্মীরের ৫০ শতাংশ জনতা কাশ্মীরের স্বাধীনতার পক্ষে হয়, রসুল তাঁদের সামনে কী অবয়ব হিসেবে থাকবে? এই চাপ প্রত্যেকটি কাশ্মীরি খেলোয়াড়কে বহন করতে হয় নিঃশব্দে।

ফিরে আসি কাশ্মীরের রনজি ট্রফির দলটির প্রসঙ্গে। এই খিড়কি থেকে সিংহদুয়ারে পৌঁছনোর গল্পটা কিন্তু একদিনের না। ২০১৩-’১৪, ২০১৯-’২০ এবং ২০২৪-’২৫ মরশুমে তারা পৌঁছেছিল কোয়ার্টার ফাইনালে, গত বছর অর্থাৎ ২০২৪-’২৫ সালে তো সকলকে প্রায় চমকে দিয়ে রনজি সেমিফাইনালের টিকিটও পাকা করে ফেলছিল তারা কিন্তু কেরালা প্রথম ইনিংসে এক রানের লিড নিয়ে জয় নিশ্চিত করে। গত এক দশকে এই নিয়ে চারবার তারা রনজি ট্রফির কোয়ার্টার ফাইনাল খেলল, ফলে একথা জোর দিয়েই বলা যায় জম্মু-কাশ্মীরের এই জয় ধারাবাহিক লড়াইয়ের ফসল। এবার তো নক আউট পর্বে পর পর তিন ম্যাচে মধ্যপ্রদেশ, বাংলা এবং কর্নাটকের মতো দলকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হল তারা।
ফাইনাল ম্যাচে কর্নাটকের দলে প্রায় ৬জন জাতীয় দলে খেলা খেলোয়াড়। কেএল রাহুল-প্রসিধ কৃষ্ণা-দেবদূত পাডিক্কাল-সহ পুরো কর্নাটক দলকে নিজেদের ঘরের মাঠে কার্যত দুরমুশ করে দিল জম্মু-কাশ্মীর।
আকিব নবি ১০টি ম্যাচ খেলে নিলেন ৬০ উইকেট। সামাদ প্রায় সাড়ে ৭০০ রান করলেন। সুনীল কুমার নিলেন ৩১টি উইকেট। সাহিল লোতরা মোক্ষম সময়ে কেরিয়ারের প্রথম ফার্স্টক্লাস সেঞ্চুরি হাঁকালেন। এই পারফরম্যান্সও কিন্তু বিক্ষিপ্ত ঘটনা নয়। আকিব নবি-সামাদদের রনজিতে এই পারফরম্যান্সের শুরুয়াতটা কিন্তু গত দু’-বছর আগেই হয়েছিল। এবারে রনজি ট্রফি শুরুর আগে কর্নাটকের মতো হেভিওয়েট না হলেও জম্মু-কাশ্মীর যে কালো ঘোড়া হতে পারে তা অনুমান করেছিলেন অনেক ক্রিকেট বিশেষজ্ঞই।

রনজি ট্রফিতে কাশ্মীরের দলটির সমগ্র জম্মু ও কাশ্মীর জুড়ে গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নাতীত। আই লিগে রিয়েল কাশ্মীরের মতো দলের উঠে আসার সময়েও কাশ্মীরের জনতার আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো।
‘দুধ মাঙ্গো তো ক্ষীর দেঙ্গে, কাশ্মীর মাঙ্গো তো চির দেঙ্গে’-এর মতো উগ্র জাতীয়তাবাদী স্লোগানকে বুকে আঁকড়ে, কাশ্মীরকে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ বলে দাবি করা রাষ্ট্রের নীতি-নির্ধারকরা কাশ্মীরের ভিন্নমতের মানুষদের শাপ-শাপান্ত ব্যতীত আর কী দিতে পেরেছেন? কাশ্মীরের বিপুল সংখ্যক জনতা তাই জাতীয়তাবাদী চেতনায় একাত্মবোধ করার চেয়ে ঢের বেশি আবেগ অনুভব করেন তাঁদের প্রাদেশিক সাফল্যে- বকলমে যা ভারতের ‘ইউনয়ন অফ স্টেটস’ ভাবনার সমান্তরাল এবং সাংবিধানিকভাবে ভারতের রাষ্ট্রচেতনার ভিত্তিও বটে, যা আজকের বহু রাষ্ট্রনেতার কাছেই বোধগম্য হয় না। এই কাশ্মীরের রনজি জয় ভারতকে নিশ্চিতভাবেই জাতীয় দলে একাধিক তারকা উপহার দেবে আগামী দিনে।
গতকাল জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ রনজি ফাইনাল দেখতে ছুটে গেলেন মাঠে। ঘোষণা করলেন দু’-কোটি টাকার পুরস্কার-মূল্য। বহুদিন পর গোলা-বারুদের বদলে আতশবাজি আর ঢোলের শব্দে গমগম করে উঠল জম্মুর পথঘাট। কান্নার বদলে হাসিমুখে ঘর থেকে রাস্তায় নামলেন মানুষ। আসলে রাষ্ট্র-রাজনীতি-জাতীয়তাবাদ যেখানে অর্ধ-শতাব্দী শিকলে বেঁধে ধরে রাখতে চাইছে ভূস্বর্গকে, আকিব নবি-পরশ-সামাদ কিংবা আবিদ-মহসিনদের মতো নির্ভীক সাংবাদিকেরা কাশ্মীরকে বেঁধে রাখছেন ভালোবাসায়। এ উদযাপন তাই স্বতঃস্ফূর্ত। আর কে না জানে, ভালোবাসা ছাড়া মানচিত্রে থাকা দেশের সীমানা মানুষকে বেঁধে রাখতে পারে না…
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved