
জামশেদপুরে টাটাদের ইস্পাত কারখানা ও প্রযুক্তি প্রশিক্ষণকেন্দ্র সহ পূর্ণাঙ্গ শিল্প উপনিবেশ গড়ে ওঠার কাহিনি মনে রাখলে বোঝা যায়, ভারতে এরকম শিল্পনগরী গড়ে ওঠার স্বপ্ন বিবেকানন্দের মনেও টাটার সঙ্গে যোগাযোগ বা আলোচনা ব্যতিরেকেই জন্ম নিয়েছিল। জনকল্যাণব্রতী ও বিজ্ঞাননির্ভর এক আধুনিক ভারতবর্ষ নির্মাণের দূরকল্পনা এই দু’জন স্বদেশপ্রেমিকই নিয়েছিলেন। ইতিহাস-বিধাতার বিচিত্র অভিপ্রায়ে এঁরা পরস্পরের অভীষ্টপূরণের নিমিত্ত হয়েছিলেন।
উনিশ শতকের শেষভাগে স্বামী বিবেকানন্দ যখন শিকাগোতে ধর্মপ্রচারের সূত্রে ভারত ও পশ্চিমি দুনিয়ায় সুপরিচিত হয়েছেন, তখন প্রতিষ্ঠিত শিল্পপতি জামশেদজি টাটাও পশ্চিম ভারতে শুরু করেছেন স্বদেশি কাপড়ের মিল আর হোটেল-ব্যবসা, কাজ করছেন জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ও ইস্পাত শিল্প নিয়ে। কিন্তু এর নেপথ্যেও ছিল সেই প্রদীপ জ্বালানোর আগে সলতে পাকানোর গল্প– ভারতের ধর্মীয় জাগরণের আর শিল্প-উন্নয়নের এই দুই নায়কের জীবনেই!

সেই সলতে পাকানোর পর্বে ১৮৯৩ সালে আমেরিকার ধর্ম মহাসভায় যোগদানের জন্য বিবেকানন্দ যখন জাপানের পথ ধরে আমেরিকা যাত্রা করেন, তখন ইয়োকোহামা থেকে ভাঙ্কুভারের যাওয়ার জাহাজে তাঁর সঙ্গে আলোচনা হয়েছিল সহযাত্রী অভিজ্ঞ ব্যবসায়ী জামশেদজি টাটার। এই ঘটনাটি অনেকের জানা থাকলেও সেই যাত্রায় দু’জনের আলাপের বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিত বা সুনির্দিষ্ট কোনও বিবরণ পাওয়া যায় না। তাই পরিষ্কার ধারণার অভাবে কেউ কেউ লিখেছেন যে, সেই কথাবার্তার সময় বিবেকানন্দই নাকি টাটাকে ইস্পাত কারখানা স্থাপনের বুদ্ধি দেন।

এ-বিষয়ে যেসব সংক্ষিপ্ত ও টুকরো টুকরো খবর পাওয়া যায়, তার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ১৮৯৮ সালে স্বামীজিকে লেখা জামশেদজির একটি চিঠি, যা থেকে জানা যায় যে, স্বামীজি টাটাকে প্রাচীন ভারতের আধ্যাত্মিকতার আদর্শের বিকাশ ও তাকে উপযোগী খাতে প্রবাহিত করার কথা বলেছিলেন। উল্লেখ্য যে, বিবেকানন্দের ছোট ভাই মহেন্দ্রনাথ দত্তের একটি বইয়ে (‘স্বামী বিবেকানন্দের জীবনের ঘটনাবলী’, তৃতীয় খণ্ড) স্বামীজি নাকি তাঁর কোনও চিঠিতে দু’জনের ওই আলোচনা সম্পর্কে লিখেছিলেন বলে জানা যায়। স্বামীজির তেমন কোনও চিঠির খোঁজ অবশ্য পাওয়া না গেলেও মহেন্দ্রনাথের প্রাসঙ্গিক বক্তব্যটি এখানে দেখা যেতে পারে। তাঁর বিবরণ অনুযায়ী, ৩০ বছরের তরুণ সন্ন্যাসী ৫৪ বছরের বয়স্ক শিল্পপতিকে সোজাসুজি প্রশ্ন করেছিলেন, ‘জাপান থেকে দেশলাই নিয়ে গিয়ে দেশে বিক্রি করে জাপানকে টাকা দিচ্ছেন কেন? আপনি তো সামান্য কিছু দস্তুরী পান মাত্র। এর চেয়ে ভারতে নিজে দেশলাইয়ের কারখানা করলে আপনারও লাভ হবে, দশটা লোকেরও প্রতিপালন হবে ও দেশের টাকা দেশে থাকবে।’ (টাটার অবশ্য এই পরামর্শ গ্রহণযোগ্য মনে হয়নি।) স্বামীজি যে টাটাকে বিশেষভাবে ইস্পাত শিল্প স্থাপন নিয়ে কিছু বলেছিলেন, এমন কথা তাঁরা কিন্তু কেউই উল্লেখ করেননি।

পরবর্তীকালে ভারতে স্বামীজি যখন তাঁর সন্ন্যাসী সংঘ রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন স্থাপন করেছেন আর টাটাও শিল্পপতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছেন, তখন তিনি ভারতীয় ছাত্রদের জন্য এক বিজ্ঞান গবেষণাগার স্থাপনের ভাবনাচিন্তা শুরু করেন। তাদের স্নাতকোত্তর শিক্ষা ও গবেষণার উপযোগী এক প্রতিষ্ঠান স্থাপনার জন্য তিনি আনুমানিক ৩০ লক্ষ টাকার সম্পত্তি দানের এক পরিকল্পনা ঘোষণা করেন, যা ১৮৯৮ সালের সেপ্টেম্বরে দেশের সংবাদপত্রগুলিতে প্রকাশিত হয়। ‘টাটা পরিকল্পনা’ (টাটা স্কিম) নামে পরিচিত এই প্রস্তাব দেশীয় মহলে বিপুলভাবে অভিনন্দিত হয়। এই পরিকল্পনা রচনার সময় টাটা যে স্বামী বিবেকানন্দের সঙ্গে তাঁর পাঁচ বছর আগের আলোচনার কথা মনে রেখেছিলেন, তার প্রমাণ মেলে আরও কয়েক মাস পরে বিবেকানন্দকে লেখা তাঁর এক ঐতিহাসিক চিঠিতে।
২৩ নভেম্বরের এই চিঠিটির প্রাসঙ্গিক কিছু অংশ এ-রকম:
‘প্রিয় স্বামী বিবেকানন্দ, আমার বিশ্বাস, জাপান থেকে শিকাগো যাত্রার পথে আপনার সহযাত্রীরূপে আপনি আমাকে মনে রেখেছেন। এই মুহূর্তে ভারতে সন্ন্যাসের ভাবধারার বিকাশ ও তাকে ধ্বংস না করে উপযোগী পথে চালিত করার ব্যাপারে আপনার মতামতের কথা আমার খুবই মনে পড়ছে।’

পূর্বোক্ত গবেষণাগার প্রকল্পের সূত্রেই তাঁর একথা মনে পড়েছে জানিয়ে টাটা এরপর বৈরাগ্যের আদর্শে উদ্বুদ্ধ মানুষদের পরিচালিত একটি মঠ বা আশ্রম স্থাপনের প্রয়োজনীয়তার কথা লিখেছিলেন, যেখানে বস্তবিজ্ঞান ও মানবিকবিদ্যা শিক্ষা দেওয়া হবে। এই প্রসঙ্গে তিনি আরও লেখেন, ‘…কোনও সুযোগ্য নেতা যদি এরকম সন্ন্যাসের আদর্শে চালিত ধর্মযুদ্ধের দায়িত্ব নেন, তাহলে তা বৈরাগ্য-চেতনা, বিজ্ঞান ও সাধারণভাবে আমাদের স্বদেশের সুনামের সহায়ক হবে এবং আমি জানি না, এই অভিযানে বিবেকানন্দের চেয়ে যোগ্যতর নায়ক আর কে হবেন! আপনি কি মনে করেন, আমাদের প্রাচীন ঐতিহ্যকে জীবনে প্রোথিত করার এই মহদুদ্দেশ্যে আপনি আত্মনিয়োগ করবেন?’
এই চিঠিতেই টাটা বিবেকানন্দকে প্রস্তাব দেন যে, ওই উদ্দেশ্যে দেশের মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার জন্য স্বামীজি একটি পুস্তিকা রচনা করতে চাইলে, তিনি সানন্দে তার ব্যয়ভার বহন করবেন।
এই চিঠিটি পড়লে প্রশ্ন জাগে, তাঁর ঈপ্সিত এরকম একটি সন্ন্যাসী সংঘের বীজ যে স্বামীজি এক বছর আগেই বপন করে ফেলেছেন, টাটা কি তা জানতেন না? আর নিজের গবেষণাগার-প্রকল্প প্রসঙ্গে টাটার যে প্রথমেই স্বামীজির প্রেরণার কথা মনে পড়েছিল, এই চিঠিতে তার স্পষ্ট স্বীকৃতি ছিল। পাশাপাশি ওই পরিকল্পনার ফসল হিসেবে ভবিষ্যতে বেঙ্গালুরুতে ‘ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স’ স্থাপনার নেপথ্যে যে স্বামীজির পরোক্ষ অনুপ্রেরণা ছিল, একথা বলা যেতেই পারে। সেই কারণেই ওই বিজ্ঞান-সংস্থার শতবর্ষে প্রকাশিত ভারত সরকারের ডাকটিকিটে অনেকের সঙ্গে বিবেকানন্দের প্রতিকৃতিকে স্থান দিয়ে তাঁর ওই অনুপ্রেরণাকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। টাটা কোম্পানির কর্তৃপক্ষও তাঁদের নানা প্রচারপত্র ও ওয়েবসাইটে এ-ব্যাপারটি স্বীকার করেছেন।

জনজীবনে ত্যাগ-বৈরাগ্যের আদর্শকে (টাটার নিজের ভাষায় ‘ascetism’) যুক্ত করার কথা বলে টাটা তাঁকে যে গুরুত্বপূর্ণ চিঠিটি লেখেন, বিবেকানন্দ তার উত্তর দিয়েছিলেন কি না, বা শেষ পর্যন্ত ওইরকম কোনও পুস্তিকা রচনা করেছিলেন কি না, তা জানা না-গেলেও এটুকু জানা যায় যে, টাটা স্কিমের জন্য প্রাথমিক অর্থসংস্থানের ঘোষণা করেই জামশেদজি প্রথমে বিবেকানন্দকে ওই চিঠিটি লেখেন। পরের বছরই (১৮৯৯) তাঁর কাছে এক ব্যক্তিগত দূতও পাঠান। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনার জন্য তাঁর শিক্ষাবিষয়ক প্রকল্পের সংগঠক বারজোরজি পাদশা বাংলায় এসে স্বামীজির সঙ্গে দেখা করেছিলেন।
এই সাক্ষাৎকারের কাছাকাছি সময়ে স্বামীজির প্রতিষ্ঠিত ‘প্রবুদ্ধ ভারত’ পত্রিকায় টাটা-পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রথম মন্তব্য করা হয়। ওই পত্রিকার এপ্রিল ১৮৯৯ সংখ্যায় এ বিষয়ে সহৃদয় ও উৎসাহপূর্ণ সম্পাদকীয় মন্তব্যের অংশবিশেষ ছিল এরকম:
‘ভারতবর্ষের মঙ্গলের জন্য আজ অবধি যত পরিকল্পনা হয়েছে, তার মধ্যে শ্রীযুক্ত টাটার স্নাতকোত্তর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্পটির চেয়ে বেশি সময়োচিত আর সুদূরপ্রসারী ফলদায়ী অন্য কিছু হয়েছে কিনা, সন্দেহ। … তাই সমগ্র জাতি ক্ষুদ্র সম্প্রদায়-স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে যেন প্রকল্পটিকে সার্থক করার ব্যাপারে আত্মনিয়োগ করে।’ অবশ্য বিবেকানন্দ বা টাটা কারও জীবনকালেই ওই বিজ্ঞান শিক্ষায়তন বাস্তব রূপ পরিগ্রহ করেনি। বহু বছরের প্রয়াসের পর, শেষ পর্যন্ত ১৯১১ সালে ‘ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউড অব সায়েন্স’-এর ভিত্তিস্থাপন হয়েছিল।

সমুদ্রযাত্রার সময় টাটা-বিবেকানন্দ আলোচনায় প্রত্যক্ষভাবে বিজ্ঞান-সংক্রান্ত কিছু থাক বা না থাক, আমরা দেখেছি, ওই কথাবার্তার মধ্যে জনকল্যাণ ও স্বদেশি বাণিজ্যের প্রসঙ্গগুলি জড়িত ছিল। ভারতের মানুষের জীবন-মানের উৎকর্ষসাধনে বিজ্ঞানের ব্যবহারের ভাবনাও এই দুই মনীষীর মনকেই অধিকার করেছিল। টাটার বিজ্ঞান-প্রকল্পের কথা তো আগেই বলেছি, বিবেকানন্দের দিক থেকেও এর যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায় আমেরিকায় তাঁর ভারতের জন্য শিল্প ও বিজ্ঞানের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কিত উক্তিগুলি থেকে। সেসময় একটি সংবাদপত্রকে তিনি বলেন, ‘দেশের উন্নয়নের জন্য সন্ন্যাসীদের সংগঠন তৈরি করতে চাই, যাতে এঁরা জনগণকে তাঁদের শিল্পজ্ঞানের ফল দিতে পারেন, এতে ভারতের অর্থনৈতিক উন্নতি ঘটবে।’ (ডেইলি গেজেট, ২৯ আগস্ট, ১৮৯৩)
পশ্চিমি দুনিয়ার কাছ থেকে ভারতীয়দের বিজ্ঞান ও শিল্পশিক্ষা নেওয়ার সপক্ষে বিবেকানন্দের বহু উক্তির কয়েকটি উদাহরণ– ‘তোরা একটা ছুঁচ পর্যন্ত তৈরি করতে পারিস না, তবু ইংরেজদের সমালোচনা করিস! ওরে নির্বোধ, আগে তাদের পায়ের কাছে বসে ব্যবসা-বাণিজ্য, কার্যকরী বুদ্ধি শিখে নে, যাতে জীবনযুদ্ধে জিততে পারিস।’ কিংবা, ‘পাশ্চাত্ত্যের কাছ থেকে বস্তুবিজ্ঞান শিখতে হবে, যাতে আমরা জীবনসংগ্রামে বেশি উপযুক্ত হয়ে উঠতে পারি।’

১৮৯৭ সালে যখন স্বামীজি রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন প্রতিষ্ঠা করেন, তখনও তার অভীষ্ট কর্মধারার খসড়ায় স্থান পেয়েছিল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগণ্য ভূমিকা– ‘এই মঠটিকে ধীরে ধীরে একটি সর্বাঙ্গসুন্দর বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করিতে হইবে। তাহার মধ্যে দার্শনিক চর্চা ও ধর্মচর্চার সঙ্গে সঙ্গে একটি পূর্ণ টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট করিতে হইবে। এইটি প্রথম কর্তব্য, অন্য সব অবয়ব ক্রমে-ক্রমে যুক্ত হইবে।’ প্রসঙ্গত, এর এক বছর পরে লেখা টাটার চিঠিটিতে ঠিক এরকম একটি মঠ প্রতিষ্ঠার ভাবনার প্রতিফলন আমাদের বিস্মিত না-করে পারে না!
শিল্প ও বিজ্ঞানচর্চার অভীষ্ট লক্ষ্যের ঘোষণাই শুধু নয়, স্বামীজি তাঁর স্বপ্নের প্রকল্পের বাস্তবায়নের জন্য স্থাননির্দেশও করেছিলেন ওই খসড়াতেই– ‘মধ্যভারতে হাজারিবাগ প্রভৃতি জেলার নিকট উর্বর, সজল, স্বাস্থ্যকর অনেক ভূমি এখনও অনায়াসে পাওয়া যাইতে পারে। ঐ প্রদেশে এক বৃহৎ ভূমিখণ্ড লইয়া তাহার উপর একটি বৃহৎ শিল্প-বিদ্যালয়, ধীরে-ধীরে কারখানা ইত্যাদি খুলিতে হইবে। অন্নাগমের নূতন পথ যেমনই আবিষ্কৃত হইতে থাকিবে, লোক তেমনই উক্ত উপনিবেশে আসিতে থাকিবে।’

ভারতে আধুনিক বৃহৎ শিল্প পত্তনের ইতিহাস সম্পর্কে যাঁরা ওয়াকিবহাল, তাঁদের কাছে এই উল্লেখগুলিকে বিস্ময়কর ভবিষ্যৎ দর্শন বা নির্ভুল পূর্বাভাস বলে মনে হতে পারে। জামশেদপুরে টাটাদের ইস্পাত কারখানা ও প্রযুক্তি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র-সহ পূর্ণাঙ্গ শিল্প উপনিবেশ গড়ে ওঠার কাহিনি মনে রাখলে বোঝা যায়, ভারতে এরকম শিল্পনগরী গড়ে ওঠার স্বপ্ন বিবেকানন্দের মনেও টাটার সঙ্গে যোগাযোগ বা আলোচনা ব্যতিরেকেই জন্ম নিয়েছিল। এই ব্যাপারটি বিশেষভাবে মনে না-হয়ে পারে না যে, জনকল্যাণব্রতী ও বিজ্ঞাননির্ভর এক আধুনিক ভারতবর্ষ নির্মাণের দূরকল্পনা এই দু’জন স্বদেশপ্রেমিকেরই স্বপ্ন ছিল। ইতিহাস-বিধাতার বিচিত্র অভিপ্রায়ে এঁরা পরস্পরের অভীষ্টপূরণের নিমিত্ত হয়েছিলেন। এঁদের মরজীবনের সমাপ্তির এক দশকের মধ্যেই যখন জামশেদজির উত্তরাধিকারীরা স্বামীজির কল্পনার হাজারিবাগের অনতিদূরেই জামশেদপুরে ইস্পাত কারখানা ও টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট ইত্যাদি গড়ে তোলার কর্মযজ্ঞের ভিত্তিস্থাপন করেছিলেন, তখন প্রকৃতপক্ষে তাঁরা ওই দুই মনীষীর বিজ্ঞান-স্বপ্নকেই সাকার করে তুলেছিলেন।
তথ্যসূত্র
বিবেকানন্দ ও সমকালীন ভারতবর্ষ, পঞ্চম খণ্ড, শঙ্করীপ্রসাদ বসু
জামশেদপুরে টাটা স্টিল আর্কাইভসে সংরক্ষিত বিভিন্ন প্রচারপত্র
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved