
বিবিসিতে ২০২৪ সালে একটি অভূতপূর্ব প্রতিবেদন বেরয়, যার শিরোনাম ‘The midwives who stopped murdering girls and started saving them’। এখানে বলা হচ্ছে যে বিহারে কন্যাভ্রুণ হত্যা ছিল নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। দাই মায়েরা যাতে মেয়ে হলেই চরম অপরাধটি সম্পন্ন করে আঁতুড়ের ভেতরেই, সেই জন্য পরিবারের লোকেরা লাঠি নিয়ে অপেক্ষা করত বাইরে। পুলিশের কাছে যাওয়ার পথ ছিল বন্ধ, এমতাবস্থায় অনিলা কুমারী (সোশ্যাল অ্যাক্টিভিস্ট) আর শিরো দেবী নামে এক দাইমা, নিজেদের তত্ত্বাবধানে সদ্যজাত মেয়েদের এক আস্তানায় রাখতে শুরু করেন।
ডক্টর ফারাহ উসমানি, ভারতের প্রথম মুসলিম মহিলা যিনি UN বা রাষ্ট্রপুঞ্জের ডাইরেক্টোরিয়াল পদে উন্নীত হয়েছেন অতি সম্প্রতি (ইন্টারন্যাশনাল সিভিল সার্ভিস কমিশনের কার্যনির্বাহী পদে)। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এই প্রতিনিধিত্বের কথা বাদ দিয়ে যদি ভারতীয় সংসদে নজর রাখি, সেখানেও চোখে পড়ে নবীন সদস্য ইকরা হাসান। কিছুদিন আগেই মহিলা ক্রিকেট দল যেভাবে জয়ের ধ্বজা ওড়াল, এক পলকে মনে হয় এমন লিঙ্গসাম্য আর সমানাধিকারের স্বপ্নই তো আমরা দেখেছিলাম। ক্রীড়াবিদ থেকে মহাকাশচারী, লেখক, গায়ক, এমন বিবিধ ক্ষেত্রে ভারতীয় মহিলাদের প্রতিনিধিত্ব উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেতে দেখলে সুসময় আসছে বলে মনে হয়। কিন্তু যদি প্রশ্ন করি, কোনটা আসলে আমার ভারত? আমার দেশ কি ফারাহ উসমানি, যিনি আলিগড়ে পড়াশোনা করে এখন রাষ্ট্রপুঞ্জে প্রতিনিধিত্ব করছেন, না কি আমার ভারত গত সপ্তাহে তেলেঙ্গানায় ঘটে যাওয়া বীভৎস হত্যার শিকার ফারহাত? ফারাহ আর ফারহাতে দূরত্ব কতটা? এর উত্তর খুঁজতে আগে একটু বিশদে বলা যাক কী ঘটেছিল তেলেঙ্গানায়!

২৬ বছরের ফারহাত ছিলেন দুই মেয়ের মা এবং তৃতীয়বার সন্তানসম্ভবা। স্বামী আজহারউদ্দিনের সাথে প্রেম করে বিয়ে; ঘরসংসার নিয়ে সুখী গৃহকোণের গাথা যদিও থেমে যায় খুব শিগগিরি। নিজেদের সুইমিং পুলের সামনেই শেষবারের মতো দেখা যায় দুই মেয়ে-সহ মাকে। অচেতন অবস্থায় জল থেকে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে মৃত বলে ঘোষণা করা হয় তিনজনকেই। স্বামী আজহারউদ্দিন দাবি করেন, পা পিছলে পড়ে গিয়েছিলেন তারা, এমন কল্পনাতীত দুর্ঘটনায় শেষ হয়ে গেল তাঁর গোটা পরিবার। গত বুধবার এই ঘটনার পর ধারাবাহিক জিজ্ঞাসাবাদে যদিও সত্য উদ্ঘাটিত হয়। স্বামীর জবানবন্দিতে অসংলগ্নতা, পা পিছলে পড়ে যাওয়ার আগেই সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ এবং আরও নানা তথ্যের সমাহারে পুলিশের বুঝতে অসুবিধা হয়নি যে, এটি পরিকল্পিত এক হত্যাকাণ্ড। ফারহাতের বাবা-মা জানান, আজহারউদ্দিন দুই মেয়েকে নিয়ে সন্তুষ্ট ছিলেন না। তৃতীয়বার পুত্র-সন্তানের কামনায় জেদ ধরলে, প্রসবের আগে নিশ্চয়ই লিঙ্গ নির্ধারণ করান। মেয়ে সন্তানই হবে এমন খবরে মা-সহ ছয় এবং আট বছরের শিশুদের জলে ডুবিয়ে হত্যা করতে দ্বিধা বোধ করেনি সে। এমন শিরোনাম পড়ে আমরা সাধারণত খবরের কাগজ ভাঁজ করে রেখে দিই, অনুযোগ করি কেন পয়সা দিয়ে এমন জিনিস পড়তে হয় সাতসকালে! কিংবা নিজেকেই প্রশ্ন করি, আচ্ছা এমন ঘটনা তো ব্যতিক্রমও হতে পারে, আকছার কি ঘটছে না কি আশেপাশে? মানে আবার ঘুরে ফিরে সেই একই প্রশ্নের সম্মুখীন হওয়া, ফারাহ না ফারহাত? দেশ বলতে কাকে আমরা বুঝি? কর্নেল সোফিয়া কুরেশি বা কমান্ডার ভ্যোমিকা সিং-এর ভারতে ফারহাতের নৃশংস হত্যা আমাদের বিস্মিত করে? না কি এমন বৈপরীত্যের সমাজকে বাস্তব বলে মেনে নিতে হবে আজ?
এই জটিল প্রশ্নকে অত্যন্ত সহজ করে দেয় পরিসংখ্যান। যেমন ধরুন, ২০২৫ সালে হরিয়ানা হেলথ ডিপার্টমেন্ট জানতে পারে যে, গত তিন মাসে ৮২৪-টি গর্ভপাতের দরখাস্তে যারা নাম লিখিয়েছেন, তাঁদের বেশিরভাগ একজন বা দু’জন কন্যা সন্তানের অভিভাবক। এটা কি সম্পূর্ণ কাকতলীয়, না কি প্রসবের আগে লিঙ্গ বেআইনিভাবে জেনে তারপর গর্ভপাত করাতে আসা? এই তথ্য সংগ্রহের কিছুদিনের মধেই ৭৭-টি FIR জমা পড়ে পু্লিশের কাছে। অর্থাৎ ৮২৪-টি abortion-এর ঘটনায় অবৈধ লিঙ্গ নির্ধারণের চেষ্টা এবং মেয়ে সন্তান আসন্ন জানতে পেরে ভ্রূণ বিনষ্টের চেষ্টা, এমন অকাট্য প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ এবং সেই হেতুই FIR দায়ের। একটি রাজ্যে কন্যাভ্রুণহত্যা হচ্ছে কি না সেটা জানার আরও এক পদ্ধতি হল, লিঙ্গ অনুপাত বা সেক্স রেশিও নির্ধারণ করা। হরিয়ানায় যেমন প্রতি হাজার পুরুষে ৯০২ জন মহিলা (২০২৩-এর বয়ান)। এই সব পরিসংখ্যান আসলে প্রমাণ করে যে ফারহাতের ঘটনার প্রেক্ষিত কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। হত্যার পরিকল্পনা হয়তো অহরহ দেখা যায় না, কিন্তু পুত্র-সন্তান কামনায় গৃহ-হিংসা, অসম্মান, শারীরিক প্রহার ভারতের মতো দেশে ব্যতিক্রমী নয়। তাই এখানে জেন্ডার জাস্টিস বা সার্বিক লিঙ্গসাম্যের নিরিখে আমরা ঠিক কোথায় দাঁড়িয়ে, এই প্রশ্নে কুমিরছানার মতো একটি বা দু’টি জ্বলেজ্বলে ‘নারী প্রগতির’ উদাহরণ দেখানো যথেষ্ট নয়।

এই প্রেক্ষিতে মনে পড়ে যাচ্ছে ভারতের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের ২০২৪ সালের এক সাক্ষাৎকার। ইন্টারভিউতে তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয় যে এই দেশে পিতৃতন্ত্র আছে কি না, বা আগে তার রূপ কেমন ছিল? এর উত্তরে পুরো পিতৃতান্ত্রিক কাঠামোকে নস্যাৎ করে মন্ত্রী বলেন যে, পিতৃতন্ত্র যদি ভারতবর্ষে সত্যিই মেয়েদের জীবনে বাঁধা হয়ে দাঁড়াত, তাহলে কি ইন্দিরা গান্ধী প্রধানমন্ত্রী হতেন? এমন যুক্তি শুনে উত্তর দেওয়াই যেত যে রাজস্থানে যখন রূপ কানওয়ারকে জীবন্ত জ্বালিয়ে দেওয়া হয় তখন অধিষ্ঠিত মন্ত্রীদের মধ্যে ছিলেন কামলা বেনিওয়াল, যিনি পরবর্তীকালে রাজস্থানের ডেপুটি মুখ্যমন্ত্রীও হন। তাহলে আমরা কীভাবে, কোন মাপকাঠিতে লিঙ্গসাম্য খতিয়ে দেখছি, তা ভাবা দরকার। ব্যক্তিগতভাবে মনে হয়, টোকেনিজম বা উচ্চস্তরে গুটিকতক উদাহরণকে বারবার ঝালিয়ে কোথাও যেন মূল সমস্যা এড়িয়ে যাওয়া হয়। ফারহাতের বীভৎস মৃত্যুকে কেন্দ্র করে যদি প্রশ্ন করা যায় তাহলে প্রথমেই বলতে হয় যে প্রসব-পূর্ববর্তী লিঙ্গ নির্ধারণ বেআইনি ঘোষণা করা হয়েছে ঠিকই, কিন্তু এমন অপরাধের কারণটি সমূলে উৎপাটন করা গেছে কি? অর্থাৎ যে যে কারণে ভারতে কন্যা-সন্তানকে অবাঞ্ছিত বলে ভাবা হয়, সেই কারণগুলির কোনও সুরাহা হয়েছে? ফারহাত এবং তার নাবালিকাদের মৃত্যু অত্যন্ত ভয়ংকর, কিন্তু এই চূড়ান্ত পরিণতিতে না গিয়েও মেয়ে-সন্তান ত্যাজ্য করা হিন্দু-মুসলিম, ধ্বনি-গরিব সকল সম্প্রদায়ের মধ্যেই নতুন কিছু নয়। আমাদের দেশে শিক্ষাব্যবস্থা কতটা পিতৃতন্ত্রের কথা বলে, স্কুলপাঠ্যে বা বইতে এমন বিষয় নিয়ে অবতারণা থাকে কি না, সেই কথা আমরা সকলেই কম-বেশি জানি। তাই ১৬ বছরের মেয়েটি বুঝতেই পারে না কেন তার বাবা ভাইয়ের জন্য কলেজের টাকা জমালেও, তার বেলা বিয়ের পণের টাকা সংগ্রহে ব্যস্ত থাকে। কন্যা-ভ্রুণ হত্যার মতোই যদি পণপ্রথা নিয়ে কথা বলি; বিবাহ, শুচিতা বা ধর্মের দোহাই দিয়ে পণকে একপ্রকার ন্যায্যতা দিয়ে দেওয়া হয়েছে আমাদের সমাজে। সুশিক্ষিত, বিলেত ফেরত বাড়িতেও বোঝানো সম্ভব হয় না যে খাট, ড্রেসিং টেবিলটাও পণের মধ্যেই পড়ে। কোথাও কোনও আলোচনা নেই যে পণপ্রথা আসলে patrilineal kinship বা পিতৃগোত্রজ সমাজব্যবস্থার অংশ। মেয়েদের পণ দেওয়া হয়, কারণ তারা বাবার সম্পত্তির উত্তরাধিকারী নয়। সম্প্রতি আইন সেই ব্যবস্থা করলেও তা বলবৎ হয় না বেশিরভাগ বাড়িতেই। তাই পণ বন্ধ করতে হলে আগে পিতৃ সম্পত্তির সুষম বণ্টন নিয়ে নিঃসংকোচে কথা বলা প্রয়োজন। কন্যাসন্তান ত্যাজ্য করা বা কন্যাভ্রুণ হত্যার সাথে যে কারণগুলি জড়িয়ে আছে (মেয়ে মানেই গোত্রান্তর, অর্থাৎ সম্পত্তি বা লেগাসি বয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব না) সেগুলি কি সমাজ থেকে ছুঁড়ে ফেলা গেছে? ফারহাতের মর্মান্তিক মৃত্যুতে আমরা বিহ্বল হয়ে পড়ি, কিন্তু এমন ঘটনা যাতে আগামীতে না ঘটে, সেই চেষ্টা করি না। Dowry death বা পণপ্রথাজনিত মৃত্যুতে সমবেদনা জানাই, কিন্তু নিজের বাড়ির মেয়ের সাথেও আলমারি-খাট পাঠাতে ভুলি না। ফারহাত ও তার শিশুদের মৃত্যুতে যদি কেউ ধর্মের রং খোঁজেন তাহলে বলে রাখা ভালো যে হরিয়ানার ৭৭-টি FIR কোনও দেগে দেওয়া সংখ্যালঘু মানুষের বিরুদ্ধে ছিল না।

বিবিসিতে ২০২৪ সালে একটি অভূতপূর্ব প্রতিবেদন বেরয়, যার শিরোনাম ‘The midwives who stopped murdering girls and started saving them’। এখানে বলা হচ্ছে যে বিহারে কন্যাভ্রুণ হত্যা ছিল নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। দাই মায়েরা যাতে মেয়ে হলেই চরম অপরাধটি সম্পন্ন করে আঁতুড়ের ভেতরেই, সেই জন্য পরিবারের লোকেরা লাঠি নিয়ে অপেক্ষা করত বাইরে। পুলিশের কাছে যাওয়ার পথ ছিল বন্ধ, এমতাবস্থায় অনিলা কুমারী (সোশ্যাল অ্যাক্টিভিস্ট) আর শিরো দেবী নামে এক দাইমা, নিজেদের তত্ত্বাবধানে সদ্যজাত মেয়েদের এক আস্তানায় রাখতে শুরু করেন। বিহারের কাটিহার জেলার আশেপাশে মেয়েদের উদ্ধার করে পাটনায় NGO-তে পাঠানো হয়। বিবিসির এই রিপোর্টেই বলা হচ্ছে যে আজকের দিনে আঁতুড়ে কন্যাহত্যা হয়তো কমেছে; কিন্তু প্রযুক্তি ব্যবহার করে আগে থেকে লিঙ্গ পরিচয় জেনে নিয়ে গর্ভপাত করানো বেড়ে গিয়েছে। ঠিক যেমন ফারহাতকে abortion-এ বাধ্য করতে চেয়েছিল তার স্বামী, সেই পথে বিশেষ কিছু সুবিধা করতে না পেরে হত্যার ষড়যন্ত্র। সহজেই বোঝা যায় যে, কন্যা-সন্তান বিসর্জনের পন্থা বদলে বদলে গেছে গত কয়েক শতকে; কিন্তু এই প্রবণতা একেবারেই কমেনি। এমন নৃশংস মনস্তত্ত্ব বোঝার জন্য শুধু আইন-কানুন তৈরি করে ক্ষান্ত থাকা যায়? মেয়েরা কেন অবাঞ্ছিত আজকের আধুনিক পরিবারেও– এই কথা বুঝতে গেলে অকপটে পণ, পণজনিত গৃহহিংসা কিংবা পিতার সম্পত্তির সুষ্ঠ বন্টন নিয়ে কথা বলা জরুরি। যাঁরা ফারহাতের নির্মম হত্যার জবানবন্দি সংবাদপত্রে পড়তে ভয় পান, কুণ্ঠা বোধ করেন সুইমিং পুল বা দমবন্ধ করা সব বিবরণে, তাঁরা কি মেয়েদের সম্পত্তির অধিকার নিয়ে কথা বলতে আগ্রহী? কোথাও গিয়ে মনে হয়, পিতৃতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে কথা না বলে (মেয়েদের জমির অধিকার না দেওয়া, বাড়ির অংশ না পাওয়ার ফলে তাদের স্ত্রীধন বা এককালীন পণ দিয়ে দেওয়া, যা পরে হিংসার নজির স্বাভাবিক করে দেয়) শুধু উপর উপর কিছু ঘটনার নিন্দা করা আসলে এমন অপরাধগুলিকে বাঁচিয়ে রাখে।

মুসলিম সম্প্রদায় পণ একপ্রকার নিষিদ্ধ হলেও ‘মেহের’ নামক ট্রেডিশনের মাধ্যমে নব্য বিবাহিতাদের শ্বশুরবাড়িতে দামি উপহার বা টাকা পাঠানোকে ন্যায্যতা দেওয়া হয়। হিন্দুদের মধ্যে তো স্ত্রীধন প্রথা সেই কবে থেকেই প্রচলিত। ২০২৬ সালের মার্চ মাসে সুপ্রিম কোর্টে চিফ জাস্টিস সূর্যকান্ত, জাস্টিস মহাদেবান ও জয়মাল্য বাগচীর তত্ত্বাবধানে মুসলিম মহিলাদের সম্পত্তির উত্তরাধিকার প্রসঙ্গে আলোচনা চলেছে। কীভাবে ১৯৩৭-এর অসম আইনকে (Muslim personal law) সংস্কার করে মহিলাদের উত্তরাধিকার প্রসঙ্গে সাম্য আনা যায়, সেই নিয়ে কথা বলা জরুরি। ১৯৫৬ সালের কালা আইন বাতিল করে যখন ২০০৫ সালে অভূতপূর্বভাবে হিন্দু সাকসেশন অ্যাক্ট আনা হল, বলা হল বাড়ির মেয়েরাও তার বাবার সম্পত্তি পাওয়ার সম্পূর্ণ অধিকার রাখেন, প্রাথমিকভাবে এর প্রভাব ততটা আঁচ করা যায়নি। কিন্তু পণপ্রথা নিষিদ্ধ ঘোষণার মতোই এই আইনও শুধু খাতায়-কলমে রয়ে গেল। হিন্দু মহিলারা পিতার সম্পত্তির অংশীদার বটে কিন্তু patrilineal সমাজব্যবস্থায় নিজের prenuptial পরিবারের সদস্যপদ ত্যাগে বাধ্য (বিয়ের পর)। এই দু’টি একসঙ্গে কীভাবে প্রযোজ্য হয়? তার সঙ্গে আবার সামাজিক কলঙ্কের বিষয় আছে, যেখানে মহিলারা সম্পত্তির অংশ চাইলে গোল্ড ডিগার বা অর্থলোভী বলে দেগে দেওয়া হয় (পুরুষ/ ভাই/ পুত্রের ক্ষেত্রে সেই দাবি ন্যায্য বলে ভাবা হয়)। এই সবই হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে ভারতবর্ষের বেশিরভাগ পরিবারে লক্ষ্যণীয়। আর ফারহাতের মৃত্যুর কারণ তলিয়ে ভাবলে ইনহেরিটেন্স, মেহের বা পণ এগুলি বাদ দিয়ে কথা বললে একপেশে আলোচনা হয়। ফারহাতের মর্মান্তিক কাহিনি পড়তে পড়তে মনে পড়ে যায় বানু মুশ্তাকের ছোটগল্পগুলি। ভারতে মুসলিম মহিলাদের দৈনন্দিন জীবন যেভাবে ধরা পড়েছে বুকার পুরস্কার প্রাপ্ত মুশ্তাকের গল্পে, সেখানে ফারহাতের ঘটনা যে বিচ্ছিন্ন কিছু নয়, বরং এক কাঠামোগত সমস্যার নিকৃষ্ট ফলাফল, তা স্পষ্ট। শেষে মনে হয় যে রোকেয়া থেকে ইসমাত চুগতাই বা আজকের বানু মুশ্তাকের গল্প থেকে যদি আমরা কিছু শিক্ষা নিতে পারি, তাহলে আগামিদিনে অন্তত প্রশ্ন করার সাহস পাওয়া যায়। প্রশ্ন করা যায় যে তেলেঙ্গানা পুলিশ হয়তো ফারহাতের মৃত্যুর তদন্ত সুষ্ঠভাবে করবে, কিন্তু এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না হয় তার জন্য আমাদের কী করণীয়?
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved