Human Efforts in Achieving Freedom by Sanmatrananda। Robbar
Robbar
  • ৮ ভাদ্র ১৪৩৩
  • বুধবার
  • ২৬ আগস্ট ২০২৬

ডানায় মুক্তির গন্ধ

মুক্তিপিপাসাই জ্ঞান, বিজ্ঞান, কলাবিদ্যা, বিপ্লবের পথে মানুষকে অনাদিকাল থেকে প্রণোদনা জুগিয়ে এসেছে। এই মুক্তিপিপাসাই সমাজ-সংসার-দেশ-কালের বাঁধন ছাড়িয়ে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেছে নিজের স্বরূপজ্ঞান-লাভের প্রয়াসে চিরায়ত ত্যাগবৈরাগ্যপূত পথে চলতে। পৃথিবীর অগণিত মুক্তিতৃষ্ণ মানুষের দলে হয়তো এই সতী ভৈরবীও আছেন, এই ছোট্ট গ্রাম ছেড়ে নিতান্ত কিশোরীবেলায় যিনি কোনও তন্ত্রসাধকের সঙ্গে কামাখ্যা চলে যান।

Published by: Robbar Digital

Posted:May 15, 2026 5:39 pm | Updated:August 18, 2026 4:49 am  
Facebook WhatsApp Messenger
Human Efforts in Achieving Freedom by Sanmatrananda। Robbar

৫.

পাখিদের ওড়া দেখে সেই কবে থেকে, বোধহয় যবে থেকে মানুষ ঘাড় উঁচু করে চোখ তুলে আকাশ দেখতে আরম্ভ করেছিল, সেই তখন থেকেই আকাশে ওড়ার স্বপ্ন দেখেছিল মানুষ।

সেই স্বপ্নের কথা লেখা আছে গ্রিক পুরাণে। সেটা একটা কাল্পনিক উপকথা, তবু উপকথাতেও মিশে থাকে দর্শনের নির্যাস।

ক্রিট দ্বীপের নামকরা স্থপতি ডেডেলাস ছিলেন সুদক্ষ প্রযুক্তিবিদ। তাঁর পুত্রের নাম ইকারুস। নিজস্ব উদ্ভাবনী-শক্তির প্রসাদে স্থপতি ডেডেলাস নির্মাণ করেছিলেন এক জটিল গোলকধাঁধাময় প্রাসাদ।

দেশের রাজা ছিলেন মিনোস। ডেডেলাসের ওপরে একদা কোনও কারণে ভীষণ রুষ্ট হন রাজা মিনোস। রেগে গিয়ে ডেডেলাস ও তাঁর পুত্র ইকারুসকে ওই গোলকধাঁধা-ভরা প্রাসাদটাতেই বন্দি করে রাখেন রাজা। এমনভাবে বন্দি রাখেন, যাতে ডেডেলাস আর ইকারুস হাজার চেষ্টা করেও প্রাসাদ থেকে আর বেরিয়ে আসতে না-পারেন কোনওমতেই। কিন্তু ডেডেলাস মহাবুদ্ধিমান, অচিরেই তিনি মুক্তি পাওয়ার এক বিচিত্র পন্থা আবিষ্কার করে ফেলেন।

zoom
স্থপতি ডেডেলাস ও তাঁর পুত্র ইকারুস

আকাশে পাখিদের উড়তে দেখে তাদের ওড়ার কৌশলকে কাজে লাগানোর ফন্দি আসে বন্দি ডেডেলাসের উর্বর মস্তিষ্কে। পাখির পালকগুলোকে মোম আর সুতো দিয়ে জুড়ে জুড়ে দু’-জোড়া ডানা নির্মাণ করেন ডেডেলাস। একজোড়া ডানা নিজের জন্য। আরেক-জোড়া তাঁর ছেলে ইকারুসের জন্য।

নিজেদের শরীরের দু’পাশে ডানা জুড়ে নিয়ে টাওয়ারের ওপর থেকে উড়ে পালিয়ে যাওয়ার তোড়জোড় করতে লাগলেন বাপ-ছেলে। তবে ওড়ার আগে ডেডেলাস বলেছিলেন পুত্র ইকারুসকে, ‘খুব নিচু দিয়ে উড়ো না, বাছা! তাহলে জলীয় বাষ্পের প্রভাবে ডানার পালকগুলো হয়ে যাবে ভারী। তখন আর উড়তে পারবে না। গোত্তা খেয়ে পড়বে নিচে। আবার খুব উপরেও উঠে যেও না তুমি, তাহলে সূর্যের প্রখর তাপে মোম যাবে গলে। তখনই ঘটবে অধঃপতন। অতএব মাঝামাঝি উচ্চতা দিয়ে ওড়াই নিরাপদ!’

এই বলে দু’জনে টাওয়ারের ওপর থেকে সেই বানানো ডানায় ভর করে পাখির মতো ঊর্ধ্বাকাশে উড়লেন পিতা-পুত্র। ডেডেলাস সাবধানেই উড়ছেন। কিন্তু মতিভ্রম হল যুবক ইকারুসের!

এমন পাখির মতো অবাধ স্বাধীনতা, নিঃসীম নীলাকাশের আশ্চর্য মুক্তি পেয়ে উল্লাসে ইকারুস তখন বিভোর। বিহগ-জাতীয়দের মতো উড়তে তার দারুণ লাগছে। আর সেই আনন্দের বিহ্বলতায় পিতা ডেডেলাসের সতর্কবাণী ভুলে গেল পুত্র ইকারুস। কৃত্রিম ডানা ঝাপটে ঝাপটে নভোচারী পাখির মতো উপরে উঠে গিয়ে আকাশের নীল রং চেটে খেতে চাইল সে। উঠতে লাগল উপরে। আরও উপরে। ফলে বিপদ যা হওয়ার, ঠিক তাই-ই হল। সূর্যের প্রচণ্ড উত্তাপে গলে যেতে লাগল ডানার মোম। শেষে সব মোম গলে গিয়ে খসে পড়ল ডানা। ওই অত উপর থেকে একেবারে সোজা মাটির টানে নেমে এসে সমুদ্রে আছড়ে পড়ে জলে ডুবে গেল ইকারুস। সে আর বাঁচল না!

ততক্ষণে ডেডেলাস উড়তে উড়তে এসে নেমেছেন একটা নির্জন দ্বীপে। অনেক অপেক্ষা করার পরেও যখন ইকারুসের দেখা মিলল না, তখন ডেডেলাস বুঝতে পারলেন, যে-বিপত্তির কথা তিনি ভেবেছিলেন, তাই-ই ঘটেছে।

সমুদ্র কিছুই জমিয়ে রাখে না। সমস্তই ফিরিয়ে দেয়। অনেক খোঁজাখুঁজির পরে সমুদ্রতীরে এক স্থানে ডেডেলাস খুঁজে পেলেন পুত্র ইকারুসের মৃতদেহ। বিষণ্ণ ডেডেলাস পুত্রের মৃতদেহ সমাধিস্থ করলেন। পুত্রের স্মৃতিতে সেই দ্বীপের নাম দিলেন– ‘ইকারিয়া’।

zoom
ডেডেলাস-ইকারুস। শিল্পী: জিওভানি ডেভিড

এই কল্পকথা থেকে যে-কথাটা ছেঁকে তুলে নেওয়া দরকার, তা হল, মানুষ তার ইতিহাসের জন্মলগ্ন থেকেই কখনও নিজের সীমাবদ্ধতা মানতে পারেনি। সব সীমা অতিক্রম করে সে স্বাধীনতার মুক্ত আকাশে অবাধে উড়তে চেয়েছে। চিরকাল। কারণ, সেটাই তার প্রকৃত স্বভাব। ওই মুক্তির আকাশ।

এই স্বাধীনতার জন্যই নিজেকে বারবার বিপন্ন করেছে মানুষ। বহুবার তার সেই সীমা-অতিক্রমী প্রয়াস সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। কিন্তু সেই ব্যর্থতা তাকে কিছুকাল বিষণ্ণ করে রাখলেও, শেষ পর্যন্ত সে আবার মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে। আবার সে করতে চেয়েছে সীমা-লঙ্ঘন। যতক্ষণ না সে অসীমের সঙ্গে একাকার হয়, ততক্ষণ তার মুক্তি নেই। সে মাটি-পৃথিবীর বাঁধন থেকেই হোক, আর সমাজ-সংসারের বাঁধন থেকে– সর্বত্রই মানুষের এই মুক্তিপিপাসা চির-অব্যাহত।

এই মুক্তিপিপাসাই জ্ঞান, বিজ্ঞান, কলাবিদ্যা, বিপ্লবের পথে মানুষকে অনাদিকাল থেকে প্রণোদনা জুগিয়ে এসেছে। এই মুক্তিপিপাসাই সমাজ-সংসার-দেশ-কালের বাঁধন ছাড়িয়ে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেছে নিজের স্বরূপজ্ঞান-লাভের প্রয়াসে চিরায়ত ত্যাগবৈরাগ্যপূত পথে চলতে। পৃথিবীর অগণিত মুক্তিতৃষ্ণ মানুষের দলে হয়তো এই সতী ভৈরবীও আছেন, এই ছোট্ট গ্রাম ছেড়ে নিতান্ত কিশোরীবেলায় যিনি কোনও তন্ত্রসাধকের সঙ্গে কামাখ্যা চলে যান।

স্বাভাবিকভাবেই সতী ভৈরবীর কথা জানতে ইচ্ছে হল আমার। বিশেষত তিনি যখন এই মুকুরটিলায় এমন কিছু দেখেছিলেন, যার সঙ্গে আমার দেখার মিল রয়েছে। আমার ঘরের দাওয়ার চারপাশে যে গ্রাম্য বৃদ্ধা সুগন্ধি ফুলের গুল্ম রোপণ করেছিলেন, তাঁরই কাছে তো শুনলাম সেদিন, কোন এক কাঁকরভাঙা গাঁয়ে না কি সতী ভৈরবীর আশ্রম। কিন্তু কোথায় যে সেই কাঁকরভাঙা গাঁ!

খোঁজখবর করে যা জানতে পারলাম, কাঁকরভাঙা এখান থেকে ১০-১২ ঘণ্টার পথ। বেশ কয়েকবার যানবাহন পালটে তবেই পৌঁছনো যায় সেখানে। হাইওয়ের ওপর যে-বাসস্ট্যান্ড আছে, সেখানে দাঁড়ালে রাত্রি আটটার দিকে একটা বাস পাব।

আমার সেই কুঠিয়ার দরজায় তালা দিয়ে সন্ধেবেলায় বেরিয়ে পড়লাম। সমস্ত রাত্রি ধরে ক্রমাগত বাস, নৌকো, ভ্যানরিকশা পালটে পালটে একেবারে শেষরাতে গিয়ে নামলাম অপরিচিত কোনও বাজারতলিতে। বন্ধ দোকানের এক বারান্দায় শুয়ে শুয়ে প্রভূত মশার কামড় খেয়ে, তারপর উঠে, বসে, পায়চারি করে ভোরপূর্ব কয়েক ঘণ্টা নিঃশব্দে হজম করে নিতে হল। অতঃপর হাঁটতে হাঁটতে এসে পৌঁছলাম কাঁকরভাঙায়… ভোরের আলো তখন সবেমাত্র ফুটেছে।

কাঁকরভাঙা গ্রামটি বেশ ছোট্ট। উঁচুনিচু অসমতল লাল পাথুরে জমির ওপর এই গ্রাম। লঘুবসতি অঞ্চল। আম, বকুল, মহানিম, হিজলের ছায়ায় ঢাকা এখানে ওখানে কয়েকটি মাত্র খোড়ো ঘর দাঁড়িয়ে রয়েছে। মাঝখান দিয়ে চলে গিয়েছে লাল মোরাম-ছড়ানো রাস্তা। রাস্তার দু’পাশে আকন্দ, বৈঁচি, ঘেঁটুর ঘন ঝোপ। ভোর-আকাশের কুয়াশা-ভেজা নক্ষত্রের মতো সাদা সাদা ঘেঁটুফুল ঝোপের মাথায় নিভৃতির দীপ্তি নিয়ে জ্বলছে। মাঝেমাঝে পুরাপ্রাচীন বাঁশবন শতযুগের অন্ধকারাবৃত কী এক বিষাদমেদুর রহস্যকে বুকের গভীরে নিয়ে চাপাচোখে চেয়ে আছে আমার দিকে। মনে হল, কাল রাত্রে বৃষ্টি হয়েছিল খুব এদিকে; সম্ভবত বাজারতলিতে আমি এসে নামার কিছু আগে। রাস্তার মোরাম জলে ভেজা, দু’পাশের ঝোপজঙ্গলের সবুজ পাতাগুলোতে বিন্দু বিন্দু জল ভোরের বাতাসে কাঁপছে। বাঁশবনের উপরে আকাশ স্বল্প মেঘাবৃত। আলোছায়া ইতস্তত খেলা করছে বনভূমির কপালের ওপর মৃদু।

মাঝে খাল পড়ল একটা। খালে তেমন জল নেই। খালের ওপর অপরিসর বাঁশের সাঁকো। সন্তর্পণে সাঁকোর ওপর পা রেখে রেখে পার হলাম। সাঁকোর নিচে ফার্ন, শ্যাওলা, বুনোলতা সমস্ত দলা পাকিয়ে আছে। সাঁকো পেরিয়ে সামান্য এগতেই সেই আশ্রমটির দেখা মিলল।

zoom
শিল্পী: স্যমন্তক চট্টোপাধ্যায়

তেমন কোনও বেড়াঘেরা আশ্রম নয়। দু’-তিনটি মাত্র খড়ে ছাওয়া মাটির ঘর। বেশ পরিষ্কার, পরিচ্ছন্ন। এ-আশ্রমেও চারিদিকে শুধু সবুজ আর সবুজের সমারোহ। একদিকে ফুলের বাগান। আরেকদিকে মেটে লাল পাথরে নির্মিত একটি ক্ষুদ্রাকার মন্দির। মন্দিরের সামনের মাটিতে সিঁদুরমাখা একখানা ত্রিশূল প্রোথিত আছে দেখলাম।

একটা গুলঞ্চ গাছের নিচে গিয়ে নিশ্চুপে দাঁড়িয়ে আছি, জনৈক প্রৌঢ় ব্যক্তি আমার কাছে এলেন। কে আমি, কোথা থেকে এসেছি, কেন এসেছি এখানে, কী অভিপ্রায় ইত্যাকার স্বাভাবিক আন্তরিক প্রশ্ন। বললাম, ‘অনেক দূর থেকে আসছি। সতী ভৈরবীর দর্শন পেতে আগ্রহী।’

তিনি আমাকে একবার আপাদমস্তক খুঁটিয়ে দেখে নিয়ে বললেন, ‘সতী-মা এখন পুজোয় বসেছেন। পুজো সারতে মায়ের দেরি হবে। আশ্রমের পিছনে গোশালা আছে। পুজোর পরে সতী-মা গোরুগুলির সেবা করতে যান। তারপর দেখা হতে পারে।’

‘তাহলেও কত দেরি হতে পারে?’

“এই ন’-টা দশটা তো বাজবেই।”

‘অসুবিধে নেই। আমি এখানেই অপেক্ষা করব।’

‘না, না, তা কেন?’ প্রৌঢ় বলে উঠলেন, ‘আপনি আমার সঙ্গে আসুন না, ভাই! অত দূর থেকে সারা রাত ধরে এখানে এসেছেন, হাতমুখ ধুয়ে নিন, রান্নাঘরে এসে দুটো কিছু মুখে দিন।’

আমি সেই প্রৌঢ়ের সঙ্গে চললাম। যেদিকে মন্দির, তারই উত্তর-পশ্চিম কোণে, আকারে অপেক্ষাকৃত বড়, খানিকটা লম্বামতো একটা মাটির ঘর। উঠানের একপাশে একটি পাথরের কুয়ো। কুয়ো থেকে জল তুলে এক ঘটি হিমজল মুখে, মাথায় দিতেই সারা শরীর যেন জুড়িয়ে এল। প্রৌঢ় মানুষটি আমাকে সেই লম্বা ঘরটার মাটির দাওয়ায় সুতির আসন পেতে বসালেন। বুঝলাম, এটিই আশ্রমের রান্নাঘর। আশ্রমিকরা এই লম্বা বারান্দাতে বসেই আহারাদি করেন। ঘরের ভিতর রান্নাবান্নার ব্যবস্থা, একপাশে ছাইমাখা উনুনও একটা কপাটের ফাঁক দিয়ে চোখে পড়ল।

একবাটি মুড়ি, ভেজানো মুগ আর গত কালকের প্রসাদী পায়েস। সারা রাতের দৌড়ঝাঁপে এত খিদে পেয়েছিল তখন যে, শুধু মুড়ি দিলেও হাউমাউ করে খেয়ে ফেলতাম। খিদের মুখে মুড়ি-পায়েস যেন অমৃতের মতো সুস্বাদু লাগছিল। খাওয়া শেষে আধঘটি জল পেটে থুয়ে কিছুটা সুস্থ বোধ করলাম।

zoom
শিল্পী: স্যমন্তক চট্টোপাধ্যায়

খাওয়ার পরে আমাকে সেই প্রৌঢ় আশ্রমের প্রান্তসীমায় ছোট একটা চালাঘরে নিয়ে গেলেন। মাটির মেঝেতে মাদুর পেতে বিশ্রাম করতে বলে কোথায় যেন চলে গেলেন। ঘরটার বাখারিঘেরা জানালা দিয়ে ঝুরু ঝুরু বৃষ্টিভেজা বাতাস এসে গায়ে লাগছিল। আধশোয়া হয়ে বসেছি মাদুরের ওপর। সতর্ক হয়ে রয়েছি, যাতে ঘুমিয়ে না-পড়ি। কিন্তু শত চেষ্টা সত্ত্বেও পথশ্রমক্লান্ত শরীরে কখন অজান্তেই এসে নামল অতলান্ত ঘুম।

কে জানে, কী একটা স্বপ্ন দেখছি… কোথায় যেন বসে আছি চেয়ারে… যেন একটা অপরিসর বারান্দা… মুখোমুখি ছায়ার মতো কে একজন নারী বিপরীত দিকের চেয়ারে এসে বসলেন… তাঁর হাতে একটা চায়ের ফ্লাস্ক… ফ্লাস্ক থেকে দুটো কাগজের কাপে সোনালি রঙের চা ঢাললেন… আমার হাতে চা-ভর্তি একটা কাপ ধরিয়ে দিয়ে অন্যটা নিজে পান করতে লাগলেন… কোনও কথা হচ্ছে না… শুধু আমরা দু’জন পরস্পরের দিকে নীরবে শান্ত দৃষ্টি মেলে চেয়ে আছি… কোথা থেকে অজানা কী একটা পাখি একটু থেমে থেমে অবিশ্রান্ত স্বরে ডেকে চলেছে, ‘ইকা রুস্‌, ইকা রুস্‌, ইকা রুস্‌!’

তারপর হঠাৎ কখন দেখি, বিপরীত দিকে সেই ভদ্রমহিলা আর বসে নেই… অন্য কে একজন এসে আমার দিকে ঝুঁকে পড়ে বলছে, ‘মাতাজি এসেছেন, আপনাকে ডাকছেন… আপনাকে ডাকছেন… উঠুন, এখান থেকে উঠুন!’

ধড়মড় করে মাদুরের উপর ঘুম ভেঙে উঠে বসলাম। দেখলাম, সত্যি সত্যিই আগে দেখা সেই প্রৌঢ় ব্যক্তিটি আমারই দিকে ঝুঁকে গম্ভীর গলায় ডেকে চলেছেন, ‘ও ভাই, উঠুন, উঠুন! সতী-মা আপনাকে ডাকছেন যে! দাওয়ায় এসে বসে আছেন তিনি অনেকক্ষণ। তাড়াতাড়ি বাইরে আসুন এক্ষুনি!’

……………. আয়নার ওধারে-র অন্যান্য পর্ব …………….

১। ওধারে এক আগন্তুক

২। অন্ধকারে, মৃতদেহ কাঁধে 

৩। ধুলামলিন লাইব্রেরি

৪। সতীর সন্ধানে

Daedalus Freedom Human Efforts Human Struggle Icarus king minos Sangbad Pratidin Sangbad Pratidin Robbar

Share this article on