Robbar

অন্ধকারে, মৃতদেহ কাঁধে

Published by: Robbar Digital
  • Posted:April 25, 2026 5:57 pm
  • Updated:April 25, 2026 7:17 pm  

যখন কেউ কাউকে খুন করে লাশ গায়েব করে, তখন সে কি লাশ ঘাড়ে করে এমন আরামদায়ক দুলকিচালে নিশ্চিন্তে হেঁটে যেতে পারে? তার তো তাড়াতাড়ি করার কথা। অথচ মৃতদেহবহনকারী এই লোকটার পায়ে কোনও দ্রুততা, চেহারায় কোনও সতর্কতা কিংবা হাবভাবে কোনওরকম অনিশ্চয়তার ছাপটুকুও নেই। যেন সে মৃতদেহ কাঁধে হাতে একটা ধাতব অস্ত্র নিয়ে আজ রাতে জ্যোৎস্নাধোয়া গামারবনের পথে বেড়াতে বেরিয়েছে! 

সন্মাত্রানন্দ

২.

সেই রাত্রে অনতিস্ফুট জ্যোৎস্নার ভিতর গামার গাছের জঙ্গলে আমি ঠিক কী দেখেছিলাম, আজও তা আমার কাছে স্পষ্ট হয়নি। সে কি স্বপ্ন, না কি আমার কল্পনা, অথবা শুধুই জাগরতন্দ্রার মধ্যবিন্দুতে দাঁড়িয়ে অবলোকিত কোনও ঘটনার অবয়ব, সে-সব কথা ভেবে চলি আজও; যখনই আমি একা হতে পারি, যখনই নিজনিবিড় হওয়ার অবকাশ পাই। 

গাছেদের ঘেরাটোপে কুয়াশা আটকে ছিল। বনের অন্ধকারের মধ্যে চাঁদের খণ্ড খণ্ড প্রতিভাস চিতাবাঘিনীর রক্তিম লালসার মতো মাটিতে ছড়িয়ে পড়েছিল এখানে ওখানে। স্তম্ভের মতো একটা গামারের আড়ালে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখলাম, একটা লোক টিলা পেরিয়ে বনের সরু পথ বেয়ে এইদিকেই আসছে। লোকটার মুখ আমি দেখতে পাচ্ছিলাম না, যদিও ঠাহর করতে পারছিলাম, লোকটার চেহারা যথেষ্ট বলিষ্ঠ, চওড়া কাঁধ, পেশল শরীর, দীর্ঘ বাহু। লোকটার হাতে কোনও একটা ধাতব অস্ত্র; চাঁদের আলো ঠিকরে মাঝে মাঝে তা ঝকঝক করে উঠছে। 

এমন একটা গাঁট্টাগোট্টা লোক, সে সামনের দিকে সামান্য ঝুঁকে চলছে কেন? পিঠে কি কোনও ভারী বোঝা আছে তাহলে? ভালো করে লক্ষ করলাম, যেটাকে আমি বোঝা বলে ভুল করছিলাম প্রথমে, সেটা বোঝা নয়, সে একটা মানুষের শরীর। এই শক্তপোক্ত লোকটা পিঠের উপর আরেকটা মানুষকে নিয়ে কোথায় যাচ্ছে? কিছুক্ষণ লোকটাকে অনুসরণ করে বুঝতে পারলাম, পিঠের মানুষটা বেঁচে নেই। সেটা একটা মৃতদেহ। 

আমি প্রত্যন্ত গ্রামে মানুষ হয়েছি, কিছুটা সময় কেটেছে দূরবর্তী মফস্‌সল শহরে। চোখের সামনে কাউকে গুমখুন হতে দেখিনি বটে, তবে এভাবে মানুষ মেরে রাতের অন্ধকারে লাশ গায়েব করে দেওয়ার ঘটনা শুনেছি কত! তাহলে কি এখানেও তেমনই কিছু ঘটছে? আমার মুখ, বুক, সারা শরীর ভয়ে ও উত্তেজনায় ঘেমে উঠল। টিলার ওপারে কাউকে খুন করে নিথর লাশটা টেনে নিয়ে যাচ্ছে গামারবন পেরিয়ে খাদের দিকে? খাদে গড়িয়ে দেবে লাশটা? মুশকিল হল, এখনই যদি আমাকে লোকটা দেখে ফ্যালে, তাহলে আমিও আর বেঁচে ফিরব না। শ্বাস প্রায় বন্ধ করে গাছের আড়ালে যেন আরেকটা গাছ হয়ে অন্ধকারে স্থির দাঁড়িয়ে রইলাম। 

দেখতে দেখতে একটা খটকা লাগল। যখন কেউ কাউকে খুন করে লাশ গায়েব করে, তখন সে কি লাশ ঘাড়ে করে এমন আরামদায়ক দুলকিচালে নিশ্চিন্তে হেঁটে যেতে পারে? তার তো তাড়াতাড়ি করার কথা। অথচ মৃতদেহবহনকারী এই লোকটার পায়ে কোনও দ্রুততা, চেহারায় কোনও সতর্কতা কিংবা হাবভাবে কোনওরকম অনিশ্চয়তার ছাপটুকুও নেই। যেন সে মৃতদেহ কাঁধে হাতে একটা ধাতব অস্ত্র নিয়ে আজ রাতে জ্যোৎস্নাধোয়া গামারবনের পথে বেড়াতে বেরিয়েছে! 

আমি যেখানটায় গাছের আড়ালে অন্ধকারে ভূতের মতো লুকিয়ে আছি, তারই সামনে একটু নিচে পায়ে-চলা ধুলামলিন চেরা পথ। পথের ওধারে আবার গামারগাছের জঙ্গল টিলার উপরের দিকে উঠেছে। সমস্ত জায়গাটাই শুকনো গামারপাতায় ভরা, শুধু মাঝখানের পথটুকু মানুষের যাতায়াতের কারণে কুমারীর শীর্ণ সাদা সিঁথির মতো আলো-অন্ধকারের মধ্যে অস্পষ্টভাবে পড়ে আছে। 

লোকটা আস্তে আস্তে ওই পথ দিয়ে প্রায় আমার কাছাকাছি চলে এল। এখন আমার থেকে হাত আট-দশেক মাত্র ব্যবধান। নিজেই নিজের হৃৎকম্পন শুনতে পাচ্ছিলাম। 

এবার অন্য একটা ব্যাপারে অবাক হওয়ার পালা। কী যেন একটা অস্ফুট গুঞ্জনের শব্দ! যেন এক ঝাঁক মৌমাছি একত্রে গুনগুন করছে। ভালো করে কান পাততেই বিস্ময়ের মাত্রা আকাশচুম্বী হয়ে উঠল। যাকে মৌমাছির গুঞ্জন বলে আমার মনে হচ্ছিল প্রথমে, তা আসলে মৌ-গুঞ্জরণ নয়। বরং মনে হল, কেউ যেন ক্ষীণ, অশ্রুতপ্রায় চাপাস্বরে কথা বলে চলেছে। কী যেন বলছে বিনবিন করে। চোখ রগড়ে ভালো করে লোকটাকে চেয়ে দেখলাম। কী আশ্চর্য! লোকটার তো মুখ নড়ছে না! তাহলে কথাগুলো বলছে কে? 

‘…চিরঞ্জীবের মুখে সব কথা শুনে রাজা গুণাধিপ বললেন, আমি নিজের চোখেই সব দেখতে চাই। তখন চিরঞ্জীব আর গুণাধিপ আয়নার মতন সেই মন্দিরটার ভিতরে ঢুকলেন। আর আয়নাতে ঢোকামাত্রই তাঁরা সুন্দরী মেয়েটিকে একেবারে চোখের সামনে এগিয়ে আসতে দেখে…’ 

লোকটাকে দেখে মনে হল, সে মন দিয়ে শুনে চলেছে সেই বিনবিন করে বলা কথাগুলো। যেন একটা প্রাচীন কাহিনি বা কিংবদন্তি কোনও। কান খাড়া করে সজাগ হয়েও দু’-তিনটে বাক্যের বেশি শুনতে পেলাম না আমি। কেননা ততক্ষণে লোকটা সেই জায়গা ছেড়ে আরও অনেকটা এগিয়ে গিয়েছে সামনে। এগিয়ে গিয়েছে সেই অসমাপ্ত শব্দের স্রোতও। 

কে বলছে আর কে শুনছে? কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। 

ভয়ের চেয়েও কৌতূহল এবার প্রবলতর হয়ে উঠল। ভাবলাম, আমি এর শেষ না-দেখে ছাড়ব না। কে এই লাশ বয়ে নিয়ে যাওয়া লোক? গল্পটাই বা কী? কে-ই বা বলছে? 

গামারবনের মধ্য দিয়ে লোকটাকে অনুসরণ করে নিঃসাড়ে এগতে লাগলাম। কিছুটা এগনোর পরে দেখি পায়ে-চলা পথটার পাশে আরেকটা লম্বা দাড়িওয়ালা লোক দাঁড়িয়ে রয়েছে। এই দ্বিতীয় লোকটা লম্বা গাউনমতো একটা বেঢপগোছের পোশাক পরে আছে। পথের পাশে গামারগাছের একটা কাটা গুঁড়ি। কর্তিত সেই কাণ্ডটার গায়ে ঠেস দিয়ে এই দ্বিতীয় লোকটা আয়েশ করে চুরুটে টান দিচ্ছে, দপদপ করে জ্বলে উঠছে চুরুটের আগুন। 

দ্বিতীয় লোকটার দিকে প্রথম লোকটা যেন ভ্রুক্ষেপমাত্র করল না। সে যেমন লাশ ঘাড়ে করে হাঁটছিল, তেমনই সুমুখপানে হেঁটে যেতে লাগল। কিন্তু জায়গাটা সে পেরিয়ে গিয়েছে কি যায়নি, এমন সময় দ্বিতীয় ব্যক্তি কর্কশ স্বরে হেঁকে উঠল, ‘ও মশাই! বলি, ও মশাই, আমি আপনাকে ডাকছি, শুনতে পাচ্ছেন না? রোজই তো এইভাবে লাশ ঘাড়ে করে চলে যান কথা কানে না-নিয়ে…’ 

প্রথম ব্যক্তি অমনি ঠোঁটে আঙুল দিয়ে হিসহিসিয়ে উঠল, ‘চুপ, চুপ! একটাও কথা বলবেন না। আমি গল্প শুনছি। কথা বলতে গেলেই গল্প থেমে যাবে!’ 

গাউন-পরা দ্বিতীয় ব্যক্তিটি তখন হাত থেকে চুরুটটা তাচ্ছিল্য-সহকারে ছুড়ে ফেলে দিয়ে ‘হা-হা’ শব্দে হেসে উঠে বলল, ‘ধ্যাত্তেরি, যত্তোসব ঘোড়ার ডিম! গল্প শুনছেন, না গল্প বলছেন আপনি? মৃত ব্যক্তি কখনও কথা বলতে পারে না। আপনি স্বপ্নচালিত হয়ে হাঁটছেন, নিজেই নিজের সঙ্গে কথা বলছেন, নিজেই নিজেকে গল্প শোনাচ্ছেন, স্যর। এ এক সবিশেষ সোমন্যামবুলিজম্‌! রাখুন, রাখুন, ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন, লাশটা ঘাড়ের থেকে এই কাটা গুঁড়িটার উপর নামিয়ে রাখুন। এমনিতেই লাশফাস আমি আর এখন পাচ্ছি না। কবর খুঁড়ে বারবার লুকিয়ে তুলে নিয়ে আসা, সে কি কম হ্যাপা? ধরা পড়লেই চার্চের নির্দেশে আমার ভবলীলা খতম হয়ে যাবে। আপনার পিঠের এই লাশটা দেখছি এখনও বেশ টাটকা আছে। এটাকে এখানে ফেলুন দেখি সটান! একবার কেটেকুটে দেখি, গ্যালেন ঠিক বলেছেন, না কি আমি ঠিক বলছি? মানুষের যকৃৎ কি ঠিক গবাদি পশুর মতন? নাকি তার গঠনতন্ত্র স্বতন্ত্র?’ 

প্রথম ব্যক্তি জবাব দিল, ‘না-না-না, ওসব ইউরোপীয় ঝামেলায় আমি মোটেই যাব না। ওসব আপনাদের উদ্ভট অন্তর্দ্বন্দ্ব।’ 

তখন প্রথম লোকটা কিছুতেই ঘাড় থেকে লাশ নামাচ্ছে না, আর দ্বিতীয় লোকটাও তাকে কিছুতেই ছাড়ছে না। কিছুক্ষণের মধ্যেই বিবাদ-বিসম্বাদ, তার থেকে বচসা, হাতাহাতি, প্রায় যেন একটা খণ্ডযুদ্ধ বেঁধে গেল! 

…সে-রাত্রে আমি কীভাবে ঘরে ফিরে এসেছিলাম, আজও জানি না। ঘুম যখন ভাঙল, দেখলাম, বেশ বেলা হয়ে গিয়েছে। খোলা জানালা দিয়ে সকালের রোদ তেরছাভাবে ঘরে এসে ঢুকছে। 

ঘুম থেকে উঠে তখন-তখনই রাতের অভিজ্ঞতাটা মনে ছিল না। মনে পড়ল যখন দাঁত মাজছিলাম। হঠাৎ করেই মনে এল গোটাটা। কোনওমতে মুখ ধুয়ে গামারবনের পথে বেরিয়ে পড়লাম তাড়াতাড়ি। এপথে ওপথে ঘুরে ঠিক সেই জায়গাটায় গিয়ে পৌঁছলাম, যেখানে দাঁড়িয়ে কাল রাতে সেই অবিশ্বাস্য ঘটনাটা দেখেছি। 

দিনের আলোয় এখন ছবিটা পাল্টে গিয়েছে একেবারে। স্পষ্ট রোদ উঠেছে। রোদের তীব্র আলো এসে পড়েছে ধুলামলিন পথটার উপর। গামারগাছের জঙ্গলে স্তূপাকৃতি পাতা সরাতে কিছু কিছু সরকারি লোক ঝাঁটা আর বস্তা নিয়ে রোজ আসে, আগেই দেখেছিলাম। আজও তেমনই একজন লোক শুকনো পাতা জড়ো করে বস্তায় ভরছে। অজস্র পাখির এলোমেলো ডাকে ভরে আছে বনস্থলী। রাত্রির সেই জাদু, সেই মায়া– কিছুই আর নেই। কিছুটা দূরে সেই কাটা গুঁড়িটার কাছেও এগিয়ে গেলাম। নিতান্তই নিরীহ আটপৌরে একটা গাছের কাটা গুঁড়ি, যার উপর বংশবৃদ্ধি করেছে কতগুলো অনিয়ত ছত্রাক। 

ওইখানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ভাবছিলাম, তাহলে কী দেখেছি আমি কাল রাত্রে? সবটাই আমার অলস মনের কল্পনা? না কি, প্রকৃতপক্ষে আমি আদৌ আসিইনি এখানে রাতের বেলায়? ঘরেই ছিলাম, বিছানায় পড়ে পড়ে ঘুমতে ঘুমতে এইসব আনকুট-ভানকুট স্বপ্ন দেখেছি? বাস্তবে এসব কিছুই ঘটেনি? 

হ্যাঁ। এইভাবেই তো ভাবা ভালো। এভাবে ভাবাই তো সুস্থতা, নয় কি? 

বেশ, যদি স্বপ্নও হয়, তাহলেও স্বপ্নের এলিমেন্টগুলো আমাকে বেশ হন্ট করছিল। যে-লোকটা পিঠে মৃতদেহ নিয়ে এগচ্ছিল, তাকে অনেকটাই আমি আবিষ্কার করতে পেরেছিলাম ওখানেই দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে। আরও নিশ্চিত হলাম তাড়াতাড়ি ঘরে ফিরে সোমদেব ভট্ট, গুণাঢ্য প্রভৃতি প্রাচীন লেখকদের রচনার অনুবাদ খুলে। একেবারে সংশয়মুক্ত হলাম বিদ্যাসাগর মশাইয়ের বেতাল-পঞ্চবিংশতির পৃষ্ঠায়। এই তো, এই তো সেই রাজা গুণাধিপ আর চিরঞ্জীবের কাহিনি! অষ্টম আখ্যান। এই গল্পটাই তো গুঞ্জরিত হচ্ছিল লোকটা আমার কাছাকাছি আসতে। তার মানে আমি আগেই পড়েছিলাম কাহিনিটি– যেখানে বনপথে মৃতদেহ বহন করে নিয়ে যেতেন বিক্রমাদিত্য, আর সেই শবের মধ্য থেকে বেতাল গল্প বলত বিক্রমাদিত্যকে, গল্প শেষ করে কঠিন কঠিন প্রশ্ন করত। পূর্বপঠিত সেই গল্পটা আমার মনের মধ্যে জমা ছিল, পরে স্বপ্নে সেটাই সাকার হয়েছে, তা ছাড়া আর কী? 

মানে, এইভাবেই তো ভাবা ভালো, এইভাবে ভাবাই তো বাস্তব, নয় কি? 

তা নইলে যদি বলি, সত্যি সত্যিই আমি বনের মধ্যে গিয়ে এসব স্বচক্ষে দেখেছি, আপনারা বলবেন আমি পাগল, কিংবা মানসিকভাবে অসুস্থ। কেননা বেশির ভাগ লোক তো এমন দেখে না। অর্থাৎ বেশিরভাগ লোক ‘সুস্থ’ বলেই আপনারা ধরে নিচ্ছেন। 

আচ্ছা, বেশিরভাগ লোক তো সক্রেটিস কিংবা রামকৃষ্ণকে উন্মাদ বলত, বেশিরভাগ লোক গ্যালিলিওর উপর অত্যাচার করেছিল, বেশিরভাগ লোক হাইপাশিয়া, জর্দানো ব্রুনো বা জোয়ান অব আর্ক-কে খুন করেছিল, বেশিরভাগ লোক সতীদাহ সমর্থন করত, বিধবা-বিবাহের বিরোধিতা করেছিল, বেশিরভাগ লোক ভোট দিয়ে কাউকে নেতা বানায়, দু’-তিন বছর পরে সেই বেশিরভাগ লোকই আবার সেই নেতার বিরুদ্ধে অশ্রাব্য গালিগালাজ আর নিন্দেমন্দ করতে থাকে… তা সত্ত্বেও এই বেশিরভাগ মানুষকেই আপনারা ‘সুস্থ’ বলেন! কেন বলেন? 

আমি ঠিক জানি না, কেন বলেন এমন! বেশিরভাগ লোক আমার এ প্রশ্নের নিশ্চয়ই কিছু একটা জবাব দেবেন। বেশিরভাগের সেই জবাব যুক্তিসঙ্গত কারণেই আমার যে মনঃপুত হবে না, সে বলাই বাহুল্য। 

থাক ওকথা। আপাতত, তর্কের খাতিরে মেনেই নিলাম, আমি স্বপ্ন দেখছিলাম আর স্বপ্নের মধ্যে পূর্বাধীত বেতাল-পঞ্চবিংশতির গল্পটাই ঘুরে ফিরে এসেছিল। 

কিন্তু সেই ইউরোপীয় পোশাকপরা লোকটা? কাটা গুঁড়ির পাশে দাঁড়িয়ে যে বলেছিল, লাশটা নামান। টাটকা আছে। কেটেকুটে দেখি, গ্যালেন ঠিক বলেছেন, না কি আমি ঠিক বলছি? মানুষের শরীরের গঠনতন্ত্র কি গবাদি পশুর অনুরূপ নাকি তা অনেকাংশে পৃথক? 

সেই লোকটা তবে কে? গ্যালেন লোকটাই বা কে আসলে? 

কিছুদিনের মধ্যেই উত্তর পেলাম। খুব কঠিন কোনও প্রশ্ন নয়। কিন্তু নির্দিষ্ট উত্তর পাওয়ার পরেও একটি অদ্ভুত ঘটনায় সব যুক্তিবোধ, সমস্ত বাস্তববোধ কেমন যেন এলোমেলো হয়ে গেল…

… পড়ুন আয়নার ওধারে-র অন্যান্য লেখা …

১. ওধারে এক আগন্তুক