


আধুনিক প্রযুক্তির ফসল মোবাইল ফোন এবং সোশাল নেটওয়ার্কিং যে আমাদের জীবনের একটা অপরিহার্য অঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে, সে-ই আবার হয়ে দাঁড়িয়েছে আমাদের শারীরিক ও বিশেষভাবে মানসিক অসুস্থতার উৎস। বিনোদন, হয়ে দাঁড়িয়েছে আমাদের বিনিদ্রার কারণ। ডুমস্ক্রোলিং মানুষকে দীর্ঘ সময় নেতিবাচক বিষয়বস্তুর মধ্যে আটকে রাখে, আর রেজ বেটিং, কাজ করে সেই নেতিবাচকতার অন্যতম প্রধান জ্বালানি হিসেবে।
৩৬.
অবধারিত ধ্বংস। নরকভোগ। সর্বনাশ। এই জাতীয় কিছু শব্দ এবং শব্দবন্ধ আজকের শত আনন্দে, প্রযুক্তির দৌলতে প্রাচুর্যের অংশীদার হয়েও মনের কোণে উঁকি দিচ্ছে কেন? না কি কেউ শব্দগুলো আমাদের গালে তুলে দিচ্ছে! ইংরেজিতে একটা শব্দ আছে ‘ডুম’ (Doom), তারই বাংলা অর্থের প্রতিশব্দ এগুলো। এই ‘ডুম’ ইংরেজি শব্দটার বাংলা প্রয়োগ, মানে কৌতুকে কিংবা তামাসাচ্ছলে আমাদের কৈশোর ও যৌবনে অনেকবার শুনেছি। ‘তোর মতো অকর্মণ্য আর এমন আড্ডাবাজের আর কী হবে?’, ‘তোর তো ফুটুর ডুম’, অর্থাৎ ‘ভবিষ্যৎ অন্ধকার’। ক্যারাম পেটানো, বাঘবন্দি খেলা, চায়ের দোকান, পাড়ার মোড়, পুকুর ঘাট, ক্লাব। অন্তহীন আড্ডা। এসবের মধ্যে একটা সমবেত বিনোদন বা সমষ্টিগত আনন্দের ইঙ্গিত। ঘণ্টার পর ঘণ্টা শুধু গল্পেই সময় কেটে যেত। রেডিও, টেলিভিশন। প্রিয় অনুষ্ঠান, ধারাবাহিক বা খেলা দেখার জন্য মানুষ কাজ ফেলে বসে থাকত। তাস, পাশা বা দাবা খেলায় এত ডুবে যাওয়া যে, সময়ের হিসেব থাকত না।

সেই ডুম থেকে আজকের একটা বিশেষ শব্দ, ‘ডুমস্ক্রোলিং’। যতদূর জানি, ‘ডুমস্ক্রোলিং’ (doom-scrolling) শব্দটির প্রচলন শুরু হয় ২০১৯ সালে এবং ২০২০ সালে তা অনেক বেশি ছড়িয়ে পড়ে অতিমারির সময়ে। দীর্ঘ ঘরবন্দি সময়ে এটা মানুষের অতি প্রয়োজনীয় মনে হয়েছিল। যোগাযোগের মাধ্যম। এরপর বেশ কয়েক বছর পেরিয়ে গেলেও শব্দটির প্রাসঙ্গিকতা এখনও খুব একটা কমেনি। বরং বলা যায় বেড়েছে। এখন এটা হয়ে উঠেছে মানসিক অস্থিরতা সৃষ্টিকারী এক ধরনের তীব্র তাড়না। একটা বাস্তব অভ্যেস বা আচরণ, যা আমাদের জীবনের অপরিহার্য অংশ হয়ে গিয়েছে। স্মার্টফোনের মায়াময় আলোয় আলোকিত, মন্ত্রমুগ্ধের মতো স্থির হয়ে থাকা আমাদের মুখ। সামনে জড়ানো পটের মতো ছবিতে গল্প। ডুমস্ক্রোলিং-এ নিচের দিকে, মানে নরকের দিকে নেমে যাচ্ছি। এমন অভিজ্ঞতা আমাদের সবারই। কেন আমরা ডিজিটাল আয়োজনের অতল গহ্বর থেকে নিজেদের ফেরাতে পারছি না? রাত দুটো, ঘর অন্ধকার, হয়তো আজকের আবহাওয়াটা দেখে নেওয়া, বা একটা মেসেজের উত্তর দেওয়ার উদ্দেশ্য ছিল আপনার। কিন্তু তার বদলে আপনি জলবায়ু বিপর্যয়, অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা বা রাজনৈতিক সংঘাত নিয়ে কোনও আলোচনার গভীরে ডুবে গেছেন। অজান্তে পার হয়ে গেছে আরও ঘণ্টাখানেক সময়।

ডুমস্ক্রোলিং-এর বিশেষত্ব হল এর বাধ্যবাধকতা। যার মানে হল, অন্য যা কিছুই ঘটুক না কেন, আমরা এটা উপভোগ করি। তা সে গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়ে হোক, বা স্বভাবের বিপরীতে কাজ করেও। এই উপভোগের ব্যাপারে প্রত্যেকেরই নিজস্ব ঢং আছে। শুধুমাত্র নিজের ইচ্ছেমতো কম সম্ভাবনাময় বা অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ফলেও জীবন কখনও অপ্রত্যাশিতভাবে আনন্দদায়ক হয়ে ওঠে। আপনার ব্যক্তিগত শক্তি প্রদর্শনের এটা যেন এক মজার উপায়! অন্ধকার-ভয়-ভাবনা। সংবাদের সত্যতা যাচাই না-করা তথ্য, গুজব বা রটনা মানুষকে শান্তিতে ঘুমতে দেয়নি সেই প্রাগৈতিহাসিক সময় থেকেই। আজও দেখি পারিপার্শ্বিক সংবাদ, মানুষের তৈরি ব্যথা-বিনোদন, বিনিদ্রার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ডুমস্ক্রোলিং, আমাদের তথ্যচালিত মানসিক যন্ত্রণার এক পৌরাণিক বা অলীক পরিপূরকের আধুনিক নাম। অর্থাৎ, খবর শুনে হতাশ হয়ে পড়া-র পরিবর্তে এক ডিস্টোপিয়ান দুঃস্বপ্নের বাড়াবাড়ি, যা আমাদের আজগুবি খবর এবং তা হজম করার পদ্ধতি, উভয়কে ভুলিয়ে অদ্ভুতভাবে মধুর করে তোলে! এ এক নতুন বিনোদন।

‘বিনোদন’ শব্দটার সঠিক অর্থ কী? শব্দটার আভিধানিক অর্থ যাই হোক, শুনলেই প্রথমে আনন্দ, তারপর ক্লান্তি দূর করার কথাই মনে আসে সবার। ‘চিত্ত বিনোদন’ শব্দটার মধ্যে যেমন একটা ব্যক্তিগত বা ব্যক্তিকেন্দ্রিকতার আভাস আছে, তেমনই এই ব্যক্তি আনন্দ বা ব্যক্তি বিনোদন বলতে আত্মদর্শন শব্দটাও এসে পড়তে পারে। মানে আনন্দ থেকে জ্ঞান আর জ্ঞানের ওপার-এপার। আবার জ্ঞান বিলোচ্ছি না সংগ্রহ করছি সেটারও স্পষ্টতা নেই। কিছু কিছু জিনিস, যেটা আমরা চাই কিন্তু পাওয়ার পরে মনে হয়, যাহা পাই তাহা চাই না। আধুনিক বিজ্ঞান বা প্রযুক্তির যে ফসল, বা ফলাফল আমরা এখন ভোগ করছি সেগুলো দীর্ঘদিন আগেই আমরা চেয়েছিলাম। খুব মনোযোগ দিয়েই চেয়েছিলাম। ১০০ লাইনের অঙ্কটার যোগফল এক্ষুনি কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে আমরাই চেয়েছিলাম। শত, সহস্র বা লক্ষ মাইল দূরে মুহূর্তে পৌঁছতে চাই। এইরকম আরও অনেক চাওয়া-পাওয়ার ব্যাপারে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগছি আমরা সবাই আজকাল।

প্রযুক্তি কতগুলো জিনিস ভীষণ দ্রুত করে দিল। কতগুলো জিনিস মানুষের মধ্যে একটা আবিষ্কারের তাড়না তৈরি করল। পারিবারিকভাবে, সাংসারিকভাবে এবং সামাজিকভাবে, রাষ্ট্র হিসেবে আমরা যেখানে বসবাস করি– প্রত্যেকের যে সমবেত একটা ইচ্ছা-অনিচ্ছা, জীবনযাপনের যে মানে, তার পরেও কোথাও যেন একটা একাকিত্বের আভাস। কিংবা একা হয়ে যাওয়ার বাসনাও তৈরি হল আমাদের। নিজস্ব সময়, নিজস্ব চাহিদা, নিজের মতো থাকার একটা অদ্ভুত ধরনের একাকিত্ব চাইছে যেন অনেকে আজকাল। যে মানুষ একদিন একা একা কিছুই করত না, করতে পারত না বলে ভীত ছিল, যে মানুষ সমষ্টিগত শক্তিতে বলীয়ান হয়ে চেষ্টা করছিল জীবনের অন্য মানে খোঁজার, সেই মানুষের আজ মা-বাবার সঙ্গে, সন্তানের সঙ্গে, বন্ধুদের সঙ্গে, প্রিয়জনের সঙ্গে সর্বক্ষণ একসঙ্গে থাকতে ভালো লাগে না। তারা এ সমস্ত মেনে নেওয়ার পরেও সামান্য হলেও নিজের জন্য একটা সময় চায়। জীবনের ব্যক্তিগত অংশ, পার্সোনাল স্পেস। নিজস্ব সময়ের নির্দিষ্ট একটা ঘেরাটোপ মানুষ চাইতে শুরু করেছে। সমকালীন মানুষের ইচ্ছার নিজস্ব গণ্ডি তৈরি মানে, তার কাছে নিজস্বতা তৈরি সেই অর্থে।
এটাকে কীভাবে ব্যাখ্যা করব আমি জানি না। তবে এটার একটা মানে হয়তো গোপন আত্ম-বিনোদন অথবা নিঃশব্দ বিনোদন। আধুনিক সময়ে যার অন্যান্য অনেক কাজ সহজ হয়ে গিয়েছে, হাতে কিছু সময় আছে, সে মানুষ একটা নতুন আনন্দ খুঁজে বেড়ায়। আজকের দিনে মোবাইলে অযথা সময় কাটানো, অন্তহীন স্ক্রোলিং, ছোট ভিডিও দেখা, বারবার নোটিফিকেশন চেক করা, অনেকের কাছেই এটা এক ধরনের নেশায় পরিণত হয়েছে। তবে আগেও বলেছি, মানুষের এই প্রবণতা নতুন নয়। নতুন হল এর মাধ্যম এবং তীব্রতা। আগের যুগেও মানুষের সময় নষ্ট করার বা বাস্তবতা থেকে সাময়িকভাবে দূরে থাকার নানা উপায় ছিল।

আগের বিনোদনের মাধ্যমগুলো সাধারণত একটা নির্দিষ্ট সময় ও স্থানের সঙ্গে যুক্ত ছিল। টিভির অনুষ্ঠান নির্দিষ্ট সময়ে হত, আড্ডার জন্য বাইরে যেতে হত, বই সঙ্গে না থাকলে পড়া যেত না। কিন্তু স্মার্টফোন সবসময় হাতের মুঠোয়। যখনই একঘেয়েমি, উদ্বেগ বা ফাঁকা সময় আসে, তখনই ফোন খুলে বসা যায়। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, আধুনিক অ্যাপগুলো কেবল বিনোদন দেয় না, তারা ব্যবহারকারীর মনোযোগ যত বেশি সম্ভব ধরে রাখার জন্য তৈরি। অনন্ত স্ক্রোল, অ্যালগরিদম-নির্ভর কনটেন্ট, নোটিফিকেশন, লাইক, ফলো, সাবস্ক্রাইব এইসব মিলিয়ে এমন এক অভিজ্ঞতা তৈরি হয়, যেখানে “আর মাত্র দু’ মিনিট” বলতে বলতে কেটে যায় অনেকটা সময়। তাহলে কি প্রযুক্তি আমাদের সহায়ক, নাকি আমাদের সময় ও মনোযোগের নিয়ন্ত্রক হয়ে উঠেছে? মনোবিজ্ঞানের আর একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, নেতিবাচকতা পক্ষপাত (Negativity Bias)। মানুষের মস্তিষ্ক স্বাভাবিকভাবেই নেতিবাচক ঘটনা, বিপদ বা খারাপ খবরের প্রতি বেশি মনোযোগ দেয়। এর পেছনে বিবর্তনগত একটি কারণ রয়েছে। আদিম যুগে মানুষের বেঁচে থাকার জন্য সম্ভাব্য বিপদ, যেমন হিংস্র প্রাণী, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা শত্রুর আক্রমণ দ্রুত শনাক্ত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। যারা এসব বিপদের প্রতি বেশি সতর্ক ছিল, তাদের টিকে থাকার সম্ভাবনাও বেশি ছিল। ফলে মানুষের মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে এমনভাবে গড়ে উঠেছে যে, এটি ইতিবাচক তথ্যের তুলনায় নেতিবাচক তথ্যকে বেশি গুরুত্ব দেয়।

বিবর্তনগত এই কারণেই বিপদের প্রতি অধিক মনোযোগী করে তোলা সেই জিনগুলো পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া মানুষের প্রবৃত্তি। এই প্রবণতা আজও আমাদের মধ্যে রয়ে গেছে। তাই দুর্ঘটনা, যুদ্ধ, অপরাধ, মহামারি বা অর্থনৈতিক সংকটের খবর আমাদের সহজেই দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এমনকী একটি ইতিবাচক খবরের চেয়ে একটি নেতিবাচক খবর আমাদের মনে বেশি সময় ধরে প্রভাব ফেলে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমের অ্যালগরিদমও এই মানবিক প্রবণতাকে সুচতুরভাবে কাজে লাগায়। যেহেতু মানুষ নেতিবাচক খবরের প্রতি বেশি আগ্রহ দেখায়, তাই এসব প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারকারীর সামনে আরও বেশি একই ধরনের সংবাদ বা পোস্ট তুলে ধরে। এর ফলে মানুষ একের পর এক উদ্বেগজনক খবর দেখতে থাকে এবং ধীরে ধীরে ডুমস্ক্রোলিংয়ের অভ্যাসে জড়িয়ে পড়ে।
ঠিক এর পরের ধাপে আসছে, ‘রেজ বেটিং’ (Rage baiting)। ক্ষোভ উসকে দেওয়ার কৌশল। প্রলোভন, ফুসলানো, টোপ। এমন ধরনের লেখা, শিরোনাম, ভিডিও, সামাজিক মাধ্যমের পোস্ট, যা ইচ্ছাকৃতভাবে মানুষের রাগ, ক্ষোভ বা অপমানবোধ উসকে দেওয়ার জন্য তৈরি করা হয়। এর লক্ষ্য সাধারণত সত্য বা যুক্তিসঙ্গত আলোচনা নয়, বরং বেশি মন্তব্য, শেয়ার, ভিউ এবং অ্যালগরিদমিক প্রচার পাওয়া। বর্তমান ডিজিটাল যুগে এটি একটি গুরুতর সামাজিক ও মানসিক সমস্যা। রেজ বেটিং, আমাদের রাগিয়ে তোলে। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে চাই, অন্যদের সঙ্গে নিজেদের মন্তব্য ভাগ করতে চাই এবং তর্কে জড়িয়ে পড়ি। ফলে একটি ক্ষোভ-উসকানিমূলক পোস্ট দ্রুত ভাইরাল হতে পারে। এর প্রধান সমস্যাগুলি হল, যেখানে যুক্তি, তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে আলোচনা হওয়ার কথা, সেখানে আবেগ, অপমান এবং চিৎকার-চেঁচামেচি প্রাধান্য পায়। ‘মতভেদ’ ধীরে ধীরে শত্রুতার রূপ নেয়।

এ ধরনের বিষয়বস্তু প্রায়ই রাজনৈতিক, ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক বা লিঙ্গভিত্তিক বিভাজন আরও গভীরে নিয়ে যায়। আংশিক সত্য, প্রসঙ্গহীন বা সম্পূর্ণ মিথ্যে তথ্য মানুষ রাগের বশে তা যাচাই না করেই শেয়ার করে। নিয়মিত ক্ষোভ-উদ্রেককারী কনটেন্ট দেখলে উদ্বেগ, মানসিক ক্লান্তি, বিরক্তি এবং হতাশা বাড়তে পারে। যার ফলে অজান্তেই সারাদিন উত্তেজিত মানসিক অবস্থায় থাকে অনেকেই। যখন দেখা যায় যে, রাগ সৃষ্টি করলে বেশি আয়, বেশি সমর্থন বা বেশি জনপ্রিয়তা পাওয়া যায়, তখন কিছু নির্মাতা ইচ্ছাকৃতভাবে আরও উসকানিমূলক বিষয়বস্তু তৈরি করতে শুরু করে। ফলে একটি নেতিবাচক চক্র তৈরি হয়। যেখানে ডুমস্ক্রোলিং তৈরি করে মনের আগুন, সেখানে উস্কানিমূলক তথ্যের সরবরাহ করে সেই আগুন জিইয়ে রাখার জন্য সদাব্যস্ত সরবরাহকারী। অর্থাৎ ডুমস্ক্রোলিং মানুষকে দীর্ঘ সময় নেতিবাচক বিষয়বস্তুর মধ্যে আটকে রাখে, আর রেজ বেটিং, কাজ করে সেই নেতিবাচকতার অন্যতম প্রধান জ্বালানি হিসেবে।
তথ্যগুলোর কিছু সাধারণ লক্ষণ হল, শিরোনাম অত্যন্ত উসকানিমূলক বা অপমানজনক, জটিল বিষয়কে ইচ্ছাকৃতভাবে অতিরিক্ত সরল করে উপস্থাপন করা আর তথ্যের বদলে ব্যক্তিগত আক্রমণ বেশি। এমন ভাষা ব্যবহার করা, যাতে পাঠক সঙ্গে সঙ্গে রেগে যান এবং অনিচ্ছাকৃতভাবে ঝগড়া লেগে থাকে। অতএব এসব থেকে নিস্তার পেতে আমাদের উচিত হবে, মস্তিষ্কের নতুনতর অনুশীলন খুঁজে বের করা। সঙ্গে সঙ্গে প্রতিক্রিয়া না-দেওয়া। কোনও পোস্ট দেখে রাগ হলে কয়েক মিনিট অপেক্ষা করুন। আবেগ কিছুটা কমলে বিষয়টি নতুনভাবে ভাবা সহজ হয়। পোস্টের দাবি সত্যি কি না, অন্য নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে মিলিয়ে দেখুন। নির্মাতাদের মূল উদ্দেশ্যই কিন্তু আপনার প্রতিক্রিয়া আদায় করা। সমকালীন নতুন কনসেপ্ট। আপনি মন্তব্য করলে বা তর্কে জড়ালে তাদের উদ্দেশ্য সফল হয়। কারণ ক্ষোভকে পণ্য হিসেবে ব্যবহার করাই নির্মাতাদের উদ্দেশ্য।

অতএব আধুনিক প্রযুক্তির ফসল মোবাইল ফোন এবং সোশাল নেটওয়ার্কিং যে আমাদের জীবনের একটা অপরিহার্য অঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে, সে-ই আবার হয়ে দাঁড়িয়েছে আমাদের শারীরিক ও বিশেষভাবে মানসিক অসুস্থতার উৎস। বিনোদন, হয়ে দাঁড়িয়েছে আমাদের বিনিদ্রার কারণ। সবশেষে প্রাসঙ্গিক খবর। এ বছরের ‘বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস’ (১০ অক্টোবর ২০২৬) উপলক্ষে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO), মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান থেকে সরে আসার বিষয়ে বিভিন্ন বাস্তবসম্মত নির্দেশাবলির ওপর জোর দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত বিচ্ছিন্নতার কারণ হয় এবং প্রায়শই নিম্নমানের সেবা, জবরদস্তি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত থাকে। বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসের থিম– ‘বাস্তব অভিজ্ঞতা শোনা হোক: প্রকৃত কণ্ঠস্বর, প্রকৃত পরিবর্তন’।
প্রায়শই বাস্তব অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের নিজস্ব গল্প বলতে বলা হয়, কিন্তু সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া থেকে তাদের বাদ দেওয়া হয়। এইখানে বাস্তব অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের সঙ্গে অর্থপূর্ণভাবে যুক্ত হওয়ার এবং তাদের জ্ঞানকে এক অপরিহার্য বিশেষজ্ঞতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার এটা একটা সুযোগ। এই বছরের প্রচার অভিযানে তাদের জীবনকে প্রভাবিত করে এমন নীতি, পরিষেবা এবং সিদ্ধান্তগুলোকে রূপ দেওয়ার জন্য তাদের কণ্ঠস্বরকে আহ্বান জানানো হয়েছে। বলা হয়েছে, এই বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসে, আসুন আমরা শুধু ‘শোনা’ থেকে ‘কাজ’-এ এগিয়ে যাই।
…………………..
পড়ুন অল্পবিজ্ঞান-এর অন্যান্য লেখা
…………………..
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved