


ভালোবাসা মানে, পরিণতিকাঙ্ক্ষাহীন অনুরাগ; যা এসেছে শুধু আমাকে সুছন্দিত করতে… অথবা কেন সে এসেছে, কী উদ্দেশ্যেই বা এসেছে, কেউ-ই কিছু জানে না… এমন অকাজের অপার্থিব সুন্দরতা, নেই তার কোনও উদ্দেশ্য বা বিধেয়… শুধু অনুরাগের জন্যই যেন অনুরাগ… এমনকী কোনও কবিতা লেখার জন্যও নয়… তাতে স্থিত থাকাকেই আমি ‘ভালোবাসা’ বা ‘প্রেম’ বলতে চাই।
১৩.
সেদিন সতী-ভৈরবীর মুখে যা যা শুনেছিলাম, তাঁর দুঃখার্ত জীবনে ক্রমাগত আঘাত-সংঘাতের কথা, কেমন করে কত অভাবিত বিপদ ও যন্ত্রণার দিন অতিক্রম করে, তিনি তাঁর অভীষ্ট জীবনের দিকে এগিয়ে এসেছিলেন… অথবা বলা ভালো, অজ্ঞাত কোনও এক রহস্যময় শক্তি কীভাবে গ্রামের সেই অসহায়া মেয়েটিকে কণ্টকাকীর্ণ আবর্তসংকুল পথ দিয়ে আলোকিত এক ভুবনের দিকে নিয়ে এসেছিল, সেসব কথা দিনের পর দিন ভেবে চলেছি সেই দিনটির পর থেকে আজও অবধি। এখন আমার মনে হয়, এ শুধু যে সতীর জীবনেই ঘটেছে, তা তো নয়। আমাদের প্রত্যেকের জীবনেরই স্পষ্ট সুপরিচিত রূপটির আড়ালে এমন অকথিত কত ঘটনা ঘুমিয়ে আছে। সেসব ঘটনা লোকলোচনের সামনে আসে না সচরাচর, এই মাত্র। যদিও প্রত্যেকেরই গল্প আলাদা আলাদা, তবুও জীবন কখনও কাউকে কুসুমপেলব পথ ধরে যে হাঁটতে দেয় না, সেটা কিন্তু জীবনের অমোঘ সত্য। সামনে বাধা আসতেই পারে, যে-কোনও মুহূর্তে বিপদ আসতে পারে, ভেঙে চুরমার হয়ে যেতেই পারে স্বপ্ন, আবার দেখা দিতে পারে নতুন আকাশের আলো, তারপর আবার সম্ভাব্য অন্ধকার– জীবনের অস্থিরতা সম্পর্কে এমন একটা স্থির বোধে সতত জাগ্রত না-হয়ে থাকলে চলেই না।
‘ইটারনাল ভিজিলেন্স ইজ দ্য প্রাইস অফ লিবার্টি’– চির-সতর্কতাই স্বাধীনতার প্রকৃত মূল্য… এই যে-কথাটা সামাজিক স্বাধীনতা বিষয়ে ১৮৫২-তে উচ্চারণ করেছিলেন সংস্কারক নেতা ওয়েন্ডেল ফিলিপ্স, সেটি তাঁর নিজস্ব প্রয়োগের ক্ষেত্র ছাড়িয়ে সমস্ত জীবনের জন্যেই প্রাসঙ্গিক বলে মনে হয় আজ। স্বাধীনতা পাওয়া কঠিন, পাওয়ার পরে তাকে সুরক্ষিত রাখা আরও কঠিন। আর সেই সুরক্ষার কাজে যা নিতান্ত প্রয়োজন, তা হচ্ছে একটি সদাসতর্ক জাগ্রত মন– এ-কথা শুধু সামাজিক বা রাজনৈতিক জীবনের জন্যেই সত্য নয়; বৌদ্ধিক, সাংস্কৃতিক ও আত্মিক স্বাধীনতার ক্ষেত্রেও তা সমভাবে প্রযোজ্য।

সেই আশ্রমেই পড়ে রয়েছি। টুকটাক যা কাজ পারি, করি। দিনগুলো কেটে যাচ্ছে সহজ ছন্দে। সতী-ভৈরবীর প্রতি আমার মনোভাব গাঢ়তর হয়েছে সেই আখ্যানশ্রুতির দিনটি থেকেই। সেই মনোভাব অপরিমেয় শ্রদ্ধার, অনুভব-রাতুল ভালোবাসার। হ্যাঁ, ‘ভালোবাসা’ শব্দটাই আমি ব্যবহার করছি এখানে, বহু অপব্যবহারে ওই শব্দ শতদীর্ণ হয়েছে জেনেও। আমার দৃষ্টিতে, ‘ভালোবাসা’ মানে কী? আজ এত দিন পর এই সুপ্রাচীন প্রশ্নের চোখে চোখ রেখে এর উত্তর দিতে আমি বাধ্য হচ্ছি।
পরিণতিকাঙ্ক্ষাহীন অনুরাগই ভালোবাসা। এই আমার সুবিনীত মত। আমরা সকল কাজেরই পরিণতি চিন্তা করি। কল্পিত পরিণতিতে আসক্ত হয়েই আমরা সারাদিন কাজ করি। ওই জন্যই কোনও কাজ থেকেই আমাদের আনন্দ আসে না। আমাদের মনের এই প্রবণতাকে আমি আপাতত ‘পরিণতিকামিতা’ নাম দিলাম। এই পরিণতিকামিতা থেকেই আমাদের এত দেহবোধ, এত লালসা, এত লাভ-ক্ষতির হিসেব। যে কোনও সম্পর্ককে আমরা একটা পরিণতির দিকে টেনে নিয়ে গিয়ে তার একটা নামকরণ করতে চাই– মা-ছেলে, বর-বউ, ভাই-বোন, বন্ধু-বন্ধুনি, প্রভু-ভৃত্য, প্রেমিক-প্রেমিকা, লেখক-পাঠক, ঈশ্বর-ভক্ত। এই অন্ধ নামকরণের পিছনে ওই এক পরিণতিকামিতার ইশারা। শেষে সমস্তই যান্ত্রিক হয়ে দাঁড়ায়। তখন হয়তো বা কোনও কোনও সৌভাগ্যবান বা সৌভাগ্যবতীর জীবনে ভালোবাসা আসে আধফোটা চাঁপার মতো। অনুরাগ আসে। কিন্তু সেই অনুরাগ-কুসুমের সুগন্ধ ততক্ষণই থাকে, যতক্ষণ না আমরা তা দিয়ে আমার কী লাভ হবে, ওর কী লাভ হবে, কীভাবে হবে–ইত্যাকার পরামর্শ করতে বসি। ফুল অকাজের জিনিস, ভালোবাসা অকাজেরই জিনিস। তাকে যে-ই আমরা কাজে লাগাতে চাই, যে-ই আমরা তাকে দিয়ে মিথ্যে কথা বলাই, যে-ই আমরা তাকে কোনও একটা সুস্থির সংজ্ঞায় সংজ্ঞায়িত করে নামকরণ করে ফেলি– এ টগরমণি, এ জুঁইসুন্দরী, এ কমলিনী, ও গোলাপবালা… এ আমার বোন, ইনি আমার মা, উনি আমার বান্ধবী… কিংবা এরা সমকামী, ওরা বিষমকামী, এ রূপান্তরকামী… আরও কত কী… তখনই সেই ফুলের সুরভি ফুরয়, ভালোবাসাও শেষ রাতের তারার মতো জীবনের আকাশ থেকে নিঃশব্দে মিলিয়ে যায়!
ভালোবাসা মানে, এই পরিণতিকাঙ্ক্ষাহীন অনুরাগ; যা এসেছে শুধু আমাকে সুছন্দিত করতে… অথবা কেন সে এসেছে, কী উদ্দেশ্যেই বা এসেছে, কেউ-ই কিছু জানে না… এমন অকাজের অপার্থিব সুন্দরতা, নেই তার কোনও উদ্দেশ্য বা বিধেয়… শুধু অনুরাগের জন্যই যেন অনুরাগ… এমনকী কোনও কবিতা লেখার জন্যও নয়… তাতে স্থিত থাকাকেই আমি ‘ভালোবাসা’ বা ‘প্রেম’ বলতে চাই। বলতে চাই, কেননা ওই অর্থেই প্রথম ওই শব্দটি মানুষ ব্যবহার করেছিল। তারপর অগণ্য বাজে লোকের বাজে কথায় ওই শব্দ শতদীর্ণ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু শতদীর্ণ হয়েছে বলেই তো তার মেরামত প্রয়োজন, ‘ভালোবাসা’ বলতে আদিতে যা বোঝাত, আজও ‘ভালোবাসা’ এলে মানুষ ঠিক প্রথমেই যা অনুভব করে, সেই অনুভবার্থের কাছেই এই ভুলভাবে বহুল-ব্যবহৃত শব্দটিকে ফিরিয়ে দেওয়া দরকার। না ফিরিয়ে দিলে মানুষের জীবনে আর থাকবে কী? কী নিয়ে মানুষ বাঁচবে? একমুঠো সম্পর্কের ছাই নিয়ে?
হ্যাঁ গো, তা বলে কি কেউ সামাজিক সম্পর্কে আবদ্ধ হবে না? দায়-দায়িত্ব করবে না? তা না-হলে সমাজ টিকবে কী করে? সর্বোপরি ‘বিয়ে’ কব্বে না কেউ? বিয়ে না-করলে ছিষ্টি টিকবে কী করে? এ আমার কেমন ধারা জগৎ-ছাড়া ফিলোজফি?
করুন, করুন। নিখুঁতভাবে দায়িত্বপালন করুন। চুটিয়ে সংসার করুন। সমাজ রক্ষা করুন, সৃষ্টি বজায় রাখুন নিখুঁতভাবে। মোটের ওপর যা ভালো লাগে, যা উচিত মনে হয় আপনার, করুন। কিন্তু ওসব নিয়ে অত হাউচাউ করার কিছু নেই। তার কারণ, হাউচাউ-এর পরেই সেই হাঁউমাঁউ করে কান্না!
যাকগে। ঘটনা কী, সেই দিকে ফিরি। আমি তখন ঠিক করেছিলাম, সতী-ভৈরবীকে আমি আমার মনোভাব কোনওদিনই কিছু বলব না। অবশ্য বলার মতো ছিলই বা কী? আমি তাঁকে ভালোবাসি। এইখানে এই আশ্রমে একধারে পড়ে থাকতে চেয়েছিলাম তাঁর কাছাকাছি। হয়তো তখন আমার মনে ওই ‘কাছাকাছি থাকা’-র এষার মধ্য দিয়ে পরিণতিকামিতার শেষ অবলেশটুকু লুকিয়ে ছিল। কিন্তু সে-ও কেটে যেতে দেরি হল না বেশি।
প্রবল বর্ষাপীড়িত সেই গ্রাম সেদিন, মুষ্টিভিক্ষার্জিত চালে মাটি ও কাঁকর বেজায়। সারা সকালটি ধরে বৃষ্টি হয়ে ১০টার দিকে আকাশ একটু থমথমে হয়েছে। আলো কম, যেহেতু আকাশে মেঘ। রান্নাঘরের দাওয়ায় বসে একটা কলাই-করা পাত্রে ভিক্ষালব্ধ চাল থেকে কাঁকর বাছতে বসেছি। খানিকটা দূরে সতী ভৈরবীও অনুরূপ একখানি পাত্র নিয়ে বসেছেন। চাল বাছছেন। দু’জনের মুখেই কোনও কথা নেই।

চাল বাছতে বাছতে হঠাৎ তিনি বলে উঠলেন, ‘তুমি আর কতদিন এখানে থাকবে?’
কথাটা শুনে আমি যার-পর-নাই আহত হলাম। এ যে স্পষ্ট চলে যেতে বলা! কিন্তু এমনটা বললেন কেন? সেসব না-ভেবেই নিতান্ত অভিমানী বালকের মতো বলে ফেললাম, ‘কেন, আমি কি এখানে কারও কোনও অসুবিধে সৃষ্টি করছি?’
আমার কথা শুনে তিনি হেসে উঠলেন। কোল থেকে চালের পাত্রটি মাটিতে নামিয়ে রেখে উজ্জ্বল চোখে আমার দিকে চেয়ে হাসতে হাসতে বললেন, ‘বাপ রে, বাপ! অমনি ঠোঁট ফুলোনো? এত অভিমান? কতটুকু মানুষ আমরা যে, এ ওর অসুবিধে তৈরি করব?’
আমি বললাম, ‘জানি না। ও আপনাদের সাধুদের ব্যাপার। আমি তো সাধুমাদু নই। কোনও অসুবিধে হলে বলবেন, চলে যাব।’
তিনি এবার একটু গম্ভীর হয়ে গেলেন। বললেন, ‘অসুবিধে তো আমার বা আমাদের নয়। অসুবিধে তোমার।’
‘কী রকম?’
তিনি আবার হাসিতে ফিরে গিয়ে বললেন, ‘তুমি কী বলতে চাও, বলো দেখি? তুমি তো শিশু নও। সমর্থ যুবক। তোমার সামনে জীবনের অনেক পথ। এই নিরালা আশ্রমে পড়ে থাকলে সেসব পথ খুলবে কী করে? আর আমিই বা কেন স্বার্থপরের মতো সেই পথ আগলে ভাঙা মন্দিরের মূর্তিটি হয়ে বসে থাকব?’
আমি বললাম, ‘কেন? আশ্রমে পড়ে থাকলেই বা কী ক্ষতি?’ তারপরই পূর্বসংকল্প সম্পূর্ণ ভুলে গিয়ে মুখ ফসকে নিচু স্বরে বলে উঠলাম, ‘ভালোবাসার মানুষের কাছে কি কেউ আজীবন পড়ে থাকে না?’
কিন্তু আমার সে-কথা শুনে তিনি ‘হা-হা’ করে হাসতে লাগলেন। এত হাসছেন, সারা শরীর দুলে উঠছে তাঁর। তারপর কোনও মতে হাসি চেপে বললেন, ‘শোনো। তুমি যে-অর্থে এক্খুনি ভালোবাসার মানুষের কথা বললে, আমি সেই অর্থে তোমার ভালোবাসার মানুষ নই। মনে রেখো, শুধু সেই অর্থেই নই।’ এই পর্যন্ত বলেই হঠাৎ মুহূর্তে সমস্ত হাসি মুছে ফেলে মেঘছেঁড়া রোদে মাথার চুলগুলোকে হাত দিয়ে মন্থর বেগে প্রসারিত করে শুকোতে শুকোতে আপনমনে আত্মগত স্বরে বলতে লাগলেন, ‘কিন্তু অন্যান্য সমস্ত দিক থেকে… হ্যাঁ, নিশ্চয়ই… ভালোবাসা বই-কী! ভালোবাসাই তো! ভালোবাসা ছাড়া কী? আর ভালোবাসা বলেই তো আমি তোমাকে তার থেকে মুক্তি দিতে চাই!’
কী বলব উত্তরে, কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। কিছু পরে বললাম, ‘আমি যে-অর্থে বলেছি, সেই অর্থে আমার ভালোবাসার মানুষ কি কেউ আছে ভুবনে? আপনার কাছে থাকতে চেয়েছিলাম।’
‘আছে। সে আসবে।’
‘কে?’
‘সে একটি নদী।’
আমি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম, ‘নদী?’
তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ, নদী। সে তোমার ভিতরেই বইছে এতদিন। তোমার মনের ওধারে। এবার সে এধারে আসবে। আত্মপ্রকাশ করবে। সে-ই তোমার আসল ভালোবাসার জন।’
‘কে?’
‘বললাম না, একটা নদী?’
আমি জিজ্ঞেস করলাম, ‘নদী বলতে কি কোনও রূপক অর্থে বলছেন? বা কোনও আধ্যাত্মিক অর্থে?’
তিনি সহজ সুরে বললেন, ‘না গো, না। নদী মানে নদীই। পাহাড় থেকে নেমে এসে যা সাগরে যায়। খালি খালি সব সোজা কথার এত ব্যাঁকাট্যারা অর্থ বের করো কেন তুমি?’
আমি তাঁর কথার মাথামুন্ডু কিছুই বুঝতে পারলাম না। চুপ করে গেলাম। সেদিন আর কোনও কথাই হল না।
যেমন আশ্রমে ছিলাম, তেমনই থাকতে লাগলাম চুপচাপ। সতী-ভৈরবীর ওসব হেঁয়ালি-কথা নিয়ে ভাবা বন্ধ করে দিলাম। সরাসরি চলে তো যেতে বলেননি। আমি থাকব। যা হয়, হোক।
কিন্তু কী যে হল আমার, কিছুদিন পরেই দেখি, আমার মনে আর যা যা অনুভূতি সবই যেমন ছিল, তেমনই আছে। অথচ আশ্রমে পড়ে থাকার চাড়টাই আমি আর আমার মনে কোথাও খুঁজেই পাচ্ছি না। চিন্তাটা ধরে হ্যাঁচকা টান মেরেছি কি মারিনি, অমনই শিকড়সুদ্ধু সেটা ওপরে উঠে এল। দেখি, তার গা-থেকে ঝুরঝুর করে ঝরে পড়ছে আশ্রমের আলগা ধুলো, বালি, মাটি!
মনে হল, কতদিন চলে এসেছি, কে জানে, মুকুরটিলার সেই ঘরটি আমার কেমন আছে?
আমার মনের সেই অবস্থার কথা সতী-ভৈরবীকে বললাম পরের দিন। তিনি স্মিত হেসে বললেন, ‘আমি জানতাম, তোমার এমন হবে। তোমাকে যে যেতে হবে অনেক দূর… বহু দূরের সেই পথ…’
কিছু বললাম না তখনই। খানিক পরে বললাম, ‘আচ্ছা। কাল সকালে চলে যাব।’
তিনি আমার চিবুকে হাত দিয়ে আদর করে বললেন, ‘কালই নয়। দিন সাতেক পরে। সকালে নয়, দুপুরে। প্রসাদ পাওয়ার পর। আমি বলে দেব, কবে, কখন। আশ্রম তো রইলই এই। চলে এস, যখন ইচ্ছে হবে তোমার!’

তাঁর নির্দেশানুসারে সত্যিই হপ্তাখানেক পরে এক দুপুরবেলায় খাওয়ার পরে বেরিয়ে পড়লাম। সকলের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে শেষে একবার তাঁর কাছে গেলাম। তিনি তাঁর ঘরের দাওয়ায় বাঁশের খুঁটিটি ধরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। বললেন, ‘এখন বেরবে না কি?’
আমি বললাম, ‘হ্যাঁ।’
এই প্রথম এবং এই শেষ আমি তাঁর পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করলাম। তিনি বললেন, ‘এসো!’
তিনি শূন্য দৃষ্টি মেলে চেয়ে রইলেন আমার দিকে। সে বড় অদ্ভুত দৃষ্টি। অমন স্থির অথচ অমন আমর্ম অনুভবী দৃষ্টি আমি কখনও কারও চোখে দেখিনি।
কিন্তু আমি আর সেখানে দাঁড়ালাম না। পিছন ফিরেও চাইতে পারলাম না আমি আর। মনে হল, খুব আপনজন কারও কাছ থেকে চলে যাচ্ছি চিরদিনের মতো। এমন এক সম্পর্ক, যার সত্যিই কোনও নাম নেই।
……………………………..
রোববার.ইন-এ পড়ুন আয়নার ওধারে-র অন্যান্য পর্ব
……………………………..
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved