characters satyajit ray sketched in his short stories | Robbar
Robbar
  • ২০ ভাদ্র ১৪৩৩
  • সোমবার
  • ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিঃসঙ্গ ও রুচিমান সত্যজিতের ছোটগল্পের চরিত্ররা

সত্যজিতের যে-যে চরিত্রগুলোর দেখা পেলাম এখানে, ‘সেপ্টোপাসের খিদে’ ছাড়া সব গল্পের মূল চরিত্ররা সমাজের নীচুতলার খেটে খাওয়া লোক– যারা কি না একটা জায়গা অবধি উঠে আর উঠতে পারেনি। বিত্তবান এদের কাউকেই বলা যায় না। তা সত্ত্বেও তারা নিজের একটা ভালো লাগার জায়গা খুঁজে নিয়েছে, নিজেকে দেওয়ার জন্য। কারও সেটা অভিনয়, কারও প্রকৃতির সঙ্গে থেকে নিজেকে উন্মুক্ত করা। শত সমস্যাতেও এর ব্যত্যয় হয় না এই যে এতকিছুর পরেও এই সামান্য সখগুলোকে ধরে রাখা– এটা রুচিমান মানুষই পারে।

শেষ আপডেট: মে ২, ২০২৬, ১৪:৫১   
Facebook WhatsApp Messenger

সচেতন মানুষের কাজের পেছনে যা যা থাকে, তার সবকটাই তার চরিত্রের পরিচায়ক। ওরই মধ্যে একটা তার রুচি। ‘রুচি’ কথাটার পেছনে সময় আমাদের ব্যয় হয় না খুব একটা। অথচ রুচিই গড়ে দেয় দুটো লোকের মধ্যে ভেদাভেদ। বাংলা সাহিত্যে আমাদের পড়া গল্পগুলোয় কত যে চরিত্র তার ইয়ত্তা নেই! ধর্মভেদে, বর্ণভেদে এবং চিরকালীন বেতনভেদে মানুষ চেনা, আমাদের ভাবার অবকাশ হয় না রুচিভেদে মানুষ চেনার, কেননা সেভাবে চিনতে শেখানো হয় না আমাদের। ব্যক্তিভেদে রুচি এমন এক বস্তু, যাতে মানুষের পারগতা বোঝা যায়, বোঝা যায় অপারগতাও। কেন কমা দিয়ে বোঝা যায় অপারগতাও– কথাটা লিখলাম এক নিশ্বাসে। মানুষ সক্ষমতায় কী না করতে পারে, মানুষ অক্ষমতায় কী করতে পারে না– তা-ও বিপুল।

সত্যজিৎ রায়ের ছোটগল্পে এমন বেশ কিছু চরিত্র রয়েছে, যাদের দেখলে কথাগুলো বারবার মনে হয় যে, সত্যজিতের গল্পের চরিত্রদের রুচিবোধের দিকে আমাদের ফিরে তাকানো দরকার। সমস্ত পারা আর না-পারা নিয়ে সত্যজিতের চরিত্রেরা এমন স্বতন্ত্র যে, না তাকিয়ে থাকা যায় না। ‘বঙ্কুবাবুর বন্ধু’ গল্পটাই যদি প্রথমে দেখি, দেখব, শুরুই হচ্ছে বঙ্কুবাবুর ওপর ছাত্রদের জ্বালাতনের মাত্রা বোঝাতে বোঝাতে। কেমন সেটা– ব্ল্যাকবোর্ডে তাঁর ছবি আঁকা, বসার চেয়ারে গাবের আঠা লাগানো ছাত্রদের, কালীপুজোর রাতে ছুঁচোবাজি ছেড়ে দেওয়া। এই লাস্ট আইটেমটার পর সত্যজিৎ একটা ড্যাশ দেন, যার অর্থ দাঁড়ায়– এই শেষ না, আরও আছে। দিয়ে বলেন– ‘এ-সবই এই বাইশ বছর ধরে ছাত্র পরম্পরায় চলে আসছে।’

আশ্চর্যের কথা, ২২ বছর ধরে চলা এই ধারাবাহিক অত্যাচারের প্রত্যুত্তর সত্যজিৎ বঙ্কুবাবুকে দিয়ে দেন– একটু গলা খাঁকারি আর ‘ছিঃ’! এরপরের অনুচ্ছেদেই পাচ্ছি– রেগে ছেড়েছুড়ে দিলে এই বয়েসে চাকরি পাওয়া দুষ্কর বলে তিনি রাগ করেননি। কিন্তু রামকৃষ্ণ পরমহংসের থিয়োরি মতো একটু ফোঁস করে উঠতে তো সমস্যা ছিল না।

বঙ্কুবাবু তা করেন না। তিনি ভীতু, নির্বিবাদী লোক বলেই কি তা করেন না? এ-ও যেমন ঠিক, কে বলতে পারে, দশবার রাগের অভিঘাতের থেকে একবার ‘ছিঃ’-এর অভিঘাত হাজার গুণ বেশি, এইটা দুষ্টু ছেলেপিলে না-বুঝুক, পাঠক বিলক্ষণ জানেন– এই ভেবেই সত্যজিৎ বঙ্কুবাবুকে দিয়ে ওর বেশি কিছু ‘বকান না।’

আর একবার যদি ভেবে দেখি, একজন মুখচোরা সহজ সঙ্গপ্রিয় মানুষের আক্ষেপের কী এমন আর অস্ত্র থাকতে পারে, যা ‘ছিঃ’-এর থেকে অমোঘ! আমরা ভাবছি দিলেই হয় ঘা-কতক, তার বদলে ‘ছিঃ’! আসলে আপাত নির্বিষ একটা ‘ছিঃ’-তে আছে আত্মগ্লানি, যেটা বিরক্তির থেকে, উৎপাতের থেকেও সাংঘাতিক। ‘ছিঃ’ একটা রুচির দ্যোতক। এই ‘ছিঃ’ কথাটা বঙ্কুবাবুর রন্ধ্রে রন্ধ্রে মিলে যায়। ছাত্রদের উৎপাতকে একের পর এক গিলে দু’-একজন ভালো ছাত্রের সঙ্গে ‘ভাব’ করে সারাবছর কাটান তিনি। যেখানে মানুষের সবথেকে বেশি আশা, সেখানে আঘাত পেলে একা মানুষ বলে ওঠে ‘ছিঃ’।

zoom
সত্যজিৎ রায়ের করা ‘বঙ্কুবাবুর বন্ধু’ গল্পের অলংকরণ

আড্ডা সম্পর্কে আমাদের বিশেষ কিছু প্রত্যাশার থাকে না। থাকে একরাশ হুল্লোড়, চূড়ান্ত আমোদ, চা-সিগারেট। আজকে আড্ডা ভালো লাগেনি বলে আমরা কেউ চোখের জল ফেলি না। স্যাটেলাইট নিয়ে আলোচনার দিনে শ্রীপতি মজুমদারের আড্ডায় কথায় কথায় বঙ্কুবাবুকে যখন তাচ্ছিল্য করছে বাকি সবাই, তাঁর চোখে জল আসে, তিনি উঠে পড়েন।

‘আজ অন্তত আড্ডাটা ভালো লাগবে ভেবেছিলেন।’ মানুষ নিঃসঙ্গ না-হলে আড্ডা ভালো লাগেনি বলে চোখের জল ফেলে না। পরে আড্ডা সম্পর্কে বলতে গিয়ে এই সত্যজিৎই উৎপল দত্তকে দিয়ে আগন্তুকে বলাবেন, পরনিন্দা নয়, পরচর্চা নয়, মুখেন মারিতং জগত নয়– ইত্যাদি। এইরকম একজন একা মানুষের রুচি, যা কি না তাঁর জীবনধারার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে, তিনি যে মাঝারির বড় দলে পড়বেন না– এতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই।

‘সেপ্টোপাসের খিদে’-র মতো গল্পে সত্যজিৎ এমন একটা জায়গা রাখছেন, যেটা গল্পটাকে একটা অন্য মাত্রা এনে দেয়। সেপ্টোপাস গাছটাকে যেকোনও সময় মেরে দেওয়া যায়। গাছটা নরখাদক। কিন্তু গাছটা বিশ্রামরত বলে সেটাকে মারতে উদ্যত হলে, অভিকে থামিয়ে কান্তিবাবু বললেন, ‘শিকার যদি ঘুমিয়ে থাকে, তখন কি তাকে মারা চলে?’ এ-প্রশ্ন ধর্ম-অধর্মের, এ প্রশ্ন ন্যায়-অন্যায়ের। এ-প্রশ্ন রুচিরও।

zoom
সত্যজিৎ রায়ের করা ‘সেপ্টোপাসের খিদে’ গল্পের অলংকরণ

সত্যজিতের গল্প পড়তে পড়তে একটা কথা মনে হয়– গল্পগুলোর চরিত্র, তাদের পারিপার্শ্ব, তাদের উঠে আসা– এ-নিয়ে বিস্তারে যাওয়ার দরকার আছে।

‘টেরোড্যাকটিলের ডিম’ গল্পটায় চোরাস্রোতের মতো একটা অসহায়তা আছে। একজন লোক তার পঙ্গু শিশুসন্তানকে ভাতের গ্রাসের মতো করে গল্প তুলে দেয় রোজ রাতে অফিস ফিরে।

এ-ও একা লোক, দিনের মধ্যে অফিসের পর একটা ঘণ্টা খোলামেলা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য না-উপভোগ করলে ‘বদনবাবুর যেন জীবনই বৃথা’। গল্পে পাচ্ছি, বদনবাবু কেরানি হলেও কল্পনাপ্রবণ। গল্প বানান, লেখার সময় নেই, লেখার সুযোগ পেলে নাম করতেন– এমন বিশ্বাস তাঁর আছে। সত্যজিৎ লেখেন, ‘অবিশ্যি গল্পগুলো যে মাঠে মারা গেছে তা নয়’। কেননা তাঁর পঙ্গুছেলে বিল্টুর বয়েস সাত, তাকে গল্পগুলো শোনান তিনি। ঘোলের সাধ দুধে মেটানোর এরকম উদাহরণ বিরল। দুঃখের এই যে, প্রকৃতিপ্রেমিক কল্পনাপ্রবণ মনে মনে গল্প বানানোর পন্থা যার আয়ত্তে, ঘরে যার পঙ্গু ছেলে, অসহায় স্ত্রী সেই মানুষকে কার্জনপার্ক থেকে লালদীঘি ধার থেকে গঙ্গার ধারে এসে একটু অফিস-ফেরতা নিরিবিলির খোঁজ করতে হয়। সেখান থেকে গল্পটা শেষ হয় যেখানে, এক ধাপ্পাবাজের পাল্লায় পড়ে, ৫০ টাকা ৩২ নয়া পয়সা খোয়াতে হয়, লাভ হয়, তারই সুবাদে গাঁজাখুরি ক’টা গল্প, যা কি না পঙ্গুছেলের রাতের রসদ। যা কি না একদিনে ফুরবে না। গল্পটা ছাপা হচ্ছে ১৯৬১ সালে, সে-সময়ে ৫৫ টাকা ৩২ নয়া পয়সা খুব একটা কম টাকা ছিল না। সেটা একেবারে চুরি যাওয়া, শুধু চুরি নয়, পাশে বসে যে লোকটা আলাপ করে গল্প করে টাকাটা ফাঁকতালে মানিব্যাগ সমেত নিয়ে উধাও হয়ে গেল, বোকা বানিয়ে– এটা সাধারণ মানুষের পক্ষে হজম করা কঠিন। কিন্তু দেওয়ালে যে মানুষের পিঠ ঠেকে যায়– যে মানুষ তার ছোট ছেলেকে গল্প বলে আর আনন্দ দিতে পারছে না, সে মানুষের কাছে ওই ৫৫ টাকা ছোট-ছোট যন্ত্রণার সূচ মাত্র, দুঃখ যে আরও বড়– যা নিয়ে সে ঘর করছে। এইখানেই আছে রুচির প্রশ্ন। যদি বদনবাবুর কোনও দুঃখই না থাকত, তখন তার টাকা হারালে তিনি কীভাবে দুঃখ পেতেন– তা আমাদের জানা, কিন্তু এই অবস্থায় তিনি টাকার বিপ্রতীপে যেটা পেলেন বলে টাকা চুরিটা গৌণ বলে মনে হল– এইখানে রুচি এসে দাঁড়ায়।

zoom
অলংকরণ: সত্যজিৎ রায়

এখান থেকে যদি সরাসরি ‘পটলবাবু ফিল্মস্টার’ গল্পটায় চলে আসি, দেখব যে পয়সার নিরিখেই সবের ফয়সালা হচ্ছে না। পটলবাবুর ব্যাকগ্রাউন্ড কী– রেলে চাকরি, সেখান থেকে বেশি মাইনেয় আরেকটা চাকরি, সেটা থেকে ছাঁটাই। আবার একটা চাকরি, সেখানেও টিকতে না-পেরে ছেড়ে দেওয়া, সেখান থেকে ইনসিওরেন্সের দালালি। রোজগার থিতু না, গল্পে শুরুতেই দেখা যাচ্ছে একটা লোহালক্কড়ের দোকানে পটলবাবু কাজের ধান্দায় আছেন। এখন এই যার সংসারের অবস্থা– সেই লোক যখন সামান্য কয়েক সেকেন্ডের পার্ট করে চট করে কেটে পড়ে, টাকাকড়ির তোয়াক্কা না-করে, তখন বুঝতে হবে– অর্থ নয়, কীর্তি নয়, স্বচ্ছলতা নয়, আরও এক বিপন্ন বিস্ময় পঞ্চাশোর্ধ্ব লোকটার মাথায় খেলা করে। যার জেরে অভিনয়ের ভাবি সাফল্যে তিড়িং করে লাফ দিয়ে ওঠেন ঘরে বউয়ের সামনে।

তিনি বলেন তাঁর গিন্নিকে, ‘যা বুঝছি, বুঝলে গিন্নি– এ পার্টটা হয়তো তেমন একটা বড় কিছু নয়; অর্থপ্রাপ্তি অবিশ্যি আছে সামান্য, কিন্তু সেটাও বড় কথা নয়। আসল কথা হচ্ছে, থিয়েটারে আমার প্রথম পার্ট কী ছিল মনে আছে তো? মৃত সৈনিকের পার্ট। স্রেফ হাঁ করে চোখ বুজে হাত-পা ছড়িয়ে পড়ে থাকা; আর তার থেকেই কোথায় উঠেছিলাম মনে আছে তো? ওয়াটস সাহেবের হ্যান্ডশেক মনে আছে? আর আমাদের মিউনিসিপ্যালিটির চারু বিশ্বাসের দেওয়া সেই মেডেল? অ্যাঁ? এ তো সবে সিঁড়ির ধাপ! কী বলো অ্যাঁ? মান যশ প্রতিপত্তি খ্যাতি, যদি বেঁচে থাকি ভবে, হে মোর গৃহিণী, এ সবই লভিব আমি!…’

zoom
‘পটলবাবু ফিল্মস্টার’ গল্পের হেডপিস

গল্পের শেষে দেখা যায়, এই খ্যাতি-প্রতিপত্তি সবগুলো এক লহমায় তুচ্ছ হয়ে যায়। সামান্য কয়েক সেকেন্ডের একটা পার্ট সঙ্গে বিরক্তিপ্রকাশ, আঃ– এটুকু নিখুঁতভাবে করে, ওই তৃপ্তিটুকুই সঙ্গে করে কাউকে কিছু না-বলে, টাকা না-নিয়েই পটলবাবু ফিরে যান।

সত্যজিতের যে-যে চরিত্রগুলোর দেখা পেলাম এখানে, ‘সেপ্টোপাসের খিদে’ ছাড়া সব গল্পের মূল চরিত্ররা সমাজের নীচুতলার খেটে খাওয়া লোক– যারা কি না একটা জায়গা অবধি উঠে আর উঠতে পারেনি। বিত্তবান এদের কাউকেই বলা যায় না। তা সত্ত্বেও তারা নিজের একটা ভালো লাগার জায়গা খুঁজে নিয়েছে, নিজেকে দেওয়ার জন্য। কারও সেটা অভিনয়, কারও প্রকৃতির সঙ্গে থেকে নিজেকে উন্মুক্ত করা। শত সমস্যাতেও এর ব্যত্যয় হয় না এই যে এতকিছুর পরেও, এই সামান্য সখগুলোকে ধরে রাখা– এটা রুচিমান মানুষই পারে।

সত্যজিৎ রায়ের গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্রের প্যাটার্ন একটা জায়গায় অদ্ভুতভাবে প্রায়ক্ষেত্রেই এক যে, তারা একা মানুষ, এবং তাদের নিঃসঙ্গতায় তাদের গ্লানি নেই। তারা নিজেদের, নিজেদের মতো করে আবিষ্কার করে নিতে পারে। এই যে নিজেকে নিজের মতো করে গুছিয়ে নিতে পারা– এ-ও একটা নিজস্ব রুচির পরিচয় দেয়। ‘রতনবাবু আর সেই লোকটা’-র মতো গল্পে, যেখানে সবাই ছুটি কাটাতে নিজের আত্মীয়ের বাড়ি যায়, বা বিখ্যাত দেখার জায়গায় যায়, রতনবাবু যান, উদ্ভট নাম-না-জানা জায়গায়। রতনবাবুর দরকার রেলের স্টেশনের ধারে একটা ছোট শহর। রতনবাবু জানেন, তাঁর মনের সঙ্গে মন মিলিয়ে বন্ধু পাওয়া যাবে না। ‘তাঁর পছন্দ-অপছন্দ ব্যাপারটা সাধারণ লোকের সঙ্গে একেবারেই মেলে না। কাজেই বন্ধু পাওয়ার আশাটা পরিত্যাগ করাই ভালো।’

zoom
অলংকরণ: সত্যজিৎ রায়

এই যে– ‘কাজেই বন্ধু পাওয়ার আশাটা পরিত্যাগ করাই ভালো’– এটা রুচির প্রশ্ন। এটা ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যের প্রশ্ন। খুব ছোট্ট একটা জায়গা, ‘ভুতো’ গল্পে, নবীন অক্রূর চৌধুরীর কাছে ভেনট্রিলোকুইজম শিখতে চায়, তার কাকার প্লাইউডের ব্যবসা।

আমরা এগুলোকে বলছি ‘রুচি’। কেউ কেউ এগুলোকে সাদা চোখে মূল্যবোধ বলতে চাইলে বলুন। মূল্যবোধের সঙ্গে রুচির দ্বন্দ্ব নেই। কিন্তু এগুলোকে ‘রুচি’ বলতে চাইছি কেন-না, সত্যজিতের গল্পে কোথাও মূল্যবোধ বলে এগুলো গোদাভাবে দাগিয়ে দেওয়া নেই। ঘটনাক্রমের পারম্পর্যে এগুলো এত স্বাভাবিকভাবে ঘটে যে, এগুলো রুচিরই পরিচয় দেয়। রুচি অনেক সূক্ষ্ম। এই সূক্ষ্মতার দৌলতেই ‘সদানন্দের খুদেজগত’-এর মতো গল্পে প্রথমেই হাসির মাত্রাভেদ সম্পর্কে একটা বর্ণনা আছে। সত্যজিৎ রায় তাঁর কাজে চড়াভাগে স্লোগানের মতো করে কিছু বলেন না, তাই সত্যজিৎ-বর্ণিত চরিত্রের প্রকৃতি তার রুচিরই দ্যোতক।

………………………….

রোববার.ইন-এ পড়ুন সোমনাথ শর্মা-র অন্যান্য লেখা

………………………….

bengali writer Sangbad Pratidin Sangbad Pratidin Robbar Satyajit Ray Short stories সত্যজিৎ রায়

Share this article on