


ভারতের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৪ অনুসারে আইনের চোখে সমতা বা সমান আইনি সুরক্ষা প্রত্যেক ভারতীয়ের মৌলিক অধিকার। তাহলে ধর্ষণের ক্ষেত্রে বিবাহিত ও অবিবাহিত মহিলাদের মধ্যে এবং বিবাহিত মহিলাদের মধ্যে বয়স অনুসারে বৈষম্য কি যুক্তিযুক্ত? ঔপনিবেশিক আমলে রচিত ভারতীয় দণ্ডবিধি একজন বিবাহিত মহিলাকে একটি পৃথক সত্তা হিসেবে বিবেচনা না করে, তাঁর যৌনতাকে স্বামীর ‘সম্পত্তি’ হিসেবে বিবেচনা করেছিল। কিন্তু, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভারতে প্রচলিত আইনি ব্যবস্থা তো বিবাহিত নারীকেও একজন স্বাধীন ও পৃথক মানুষ হিসেবেই দেখে।
২০২২ সালে নির্মিত হয়েছিল একটি বাংলা সিরিজ ‘সম্পূর্ণা’। তা অবলম্বনে এ বছরই তৈরি হয়েছে হিন্দি ভাষার ওয়েব সিরিজ ‘চিরাইয়া’ (২০২৬)। এর কাহিনি মূলত আবর্তিত হয়েছে বাড়ির বড়বউ কমলেশ (দিব্যা দত্ত) এবং সদ্য-বিবাহিতা পূজাকে (প্রসন্ন বিশ্ত) কেন্দ্র করে– যিনি অরুণকে (সিদ্ধার্থ শ) বিয়ে করেছেন। অরুণ হল আপাতদৃষ্টিতে সেই নিরীহ ‘চকলেট বয়’ বা ‘মিষ্টি’ স্বভাবের ছেলে, যাকে কমলেশই পরম স্নেহ-মমতায় বড় করে তুলেছে। পূজা– এক শিক্ষিত স্পষ্টভাষী তরুণী, যে নিজের পছন্দমতো পোশাক পরে, ‘প্রাইড প্যারেড’-এ হাঁটে। যখন কমলেশকে তাদের বাসররাতে অরুণের জোরপূর্বক যৌন-আক্রমণের কথা জানায়, তখন কমলেশ অবিশ্বাস-ভরে তাকেই চড় মারে। বস্তুত, কমলেশের মতো নারীদের জন্য বৈবাহিক সম্পর্কে স্ত্রীর ইচ্ছা, সম্মতি, অথবা ‘বৈবাহিক ধর্ষণ’-এর মতো ধারণার কোনও অস্তিত্বই ছিল না। তবে ‘বৈবাহিক ধর্ষণ’ নিয়ে চিন্তার এই আকাল সমাজের মানসিকতার বাস্তবিক উপস্থাপনা মাত্র। এর প্রতিফলন দেখা যায় আমাদের আশপাশে ঘটে যাওয়া অগুনতি ঘটনায়।

২০১৭ সালের ১১ ডিসেম্বর ছত্তিশগড়ের জগদলপুরের এক মহিলা ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে মৃত্যুকালীন ঘোষণাপত্রে জানান যে, তাঁর স্বামী তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর করে তাঁর সঙ্গে অস্বাভাবিক যৌনসম্পর্ক স্থাপন করেছেন, যা তাঁর যন্ত্রণা ও অসুস্থতার কারণ। ২০১৯ সালে জগদলপুরের নিম্ন আদালত তাঁর স্বামীকে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৭, ৩৭৬, এবং ৩০৪ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের সাজা দেয়। এই রায়ের বিরুদ্ধে অভিযুক্ত বিলাসপুর হাইকোর্টে আবেদন করলে সম্প্রতি বিচারক নরেন্দ্রকুমার ব্যাস রায় দিয়েছেন যে, ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৫ ধারার সংশোধিত সংজ্ঞা অনুসারে স্ত্রী-র বয়স ১৫ বছরের কম না-হলে, স্বামী, স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে, এমনকী, কোনও অস্বাভাবিক যৌনসম্পর্ক স্থাপন করলেও তাকে ‘ধর্ষণ’ হিসাবে গণ্য করা যায় না। অভিযুক্তকে সমস্ত অপরাধ থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
বৈবাহিক ধর্ষণ সম্পর্কে ভারতীয় আইনের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বিতর্ক বহুদিনের। দিল্লির ‘নির্ভয়া’ ধর্ষণকাণ্ডের পর, ফৌজদারি আইনে পরিবর্তন আনার পরামর্শ দেওয়ার জন্য গঠিত বিচারপতি জে এস ভার্মা কমিটি, ভারতীয় দণ্ডবিধি থেকে বৈবাহিক ধর্ষণের ব্যতিক্রম বাদ দেওয়ার সুপারিশ করে বলে যে, ধর্ষক ও ধর্ষিতার মধ্যে বৈবাহিক বা অন্য কোনও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ধর্ষণের অপরাধকে লঘু করে দেয় না। কিন্তু সরকার সেই সুপারিশ গ্রহণ করেনি। ২০১৫ সালে আরআইটি ফাউন্ডেশন দিল্লি হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করে। সংবিধানের একাধিক মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৫ ধারায় বৈবাহিক ধর্ষণকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানায়। ২০১৫ সালেই জাতিসংঘের নারীর প্রতি বৈষম্য দূরীকরণ কমিটি ভারতে বৈবাহিক ধর্ষণকে ফৌজদারি অপরাধ সাব্যস্ত করার সুপারিশ করে। এই প্রসঙ্গে ডিএমকে সাংসদ কানিমোঝি বৈবাহিক ধর্ষণকে ধর্ষণের আওতায় কেন আনা হবে না– সংসদে এই প্রশ্ন করলে, তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হরিভাই পারাথিভাই চৌধুরী বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে বৈবাহিক ধর্ষণকে যেভাবে দেখা হয় ভারতে তা প্রযোজ্য নয়– শিক্ষার হার, দারিদ্র, সামাজিক ধ্যানধারণা, প্রথা, ধর্মীয় বিশ্বাস এবং বিবাহকে একটি ‘সংস্কার’ হিসাবে দেখার সামাজিক মনোবৃত্তি প্রভৃতি কারণে। বিবাহ যে মূলত হিন্দুধর্মেই একটা সংস্কার যেখানে কন্যাকে ‘দান’ করা হয়, ইসলাম-সহ অন্যান্য বহু ধর্মে বিবাহ পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে একটি চুক্তি– সেকথা গুরুত্ব পায়নি। ২০১৭ সালে নিমেষভাই ভারত দেশাই বনাম গুজরাত রাজ্য মামলাতে এক চিকিৎসক স্ত্রী তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে ধর্ষণ এবং ইচ্ছার বিরুদ্ধে নানারকম যৌনক্রিয়ায় বাধ্য করার অভিযোগ আনলে, গুজরাত হাইকোর্ট বৈবাহিক ধর্ষণের বাস্তবতা মেনে নিয়ে বলে যে, ‘বিবাহ’ মানেই সবরকম যৌনসম্পর্কে সম্মতি– এই ধারণা বদলানো প্রয়োজন, কারণ আইনের কর্তব্য বিবাহিত বা অবিবাহিত প্রত্যেক মহিলার শারীরিক স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা রক্ষা।

খ্রিস্টপূর্ব আঠারো শতকে ব্যাবিলনের রাজা হামুরাবি পৃথিবীর প্রথম আইনবিধি প্রণয়ন করেন। সেখানে ধর্ষণের অর্থ ছিল জোর করে নারীর কুমারীত্ব হরণ। বিবাহিত নারী ধর্ষিত হলে কিন্তু ধর্ষক ও ধর্ষিতা– উভয়কেই ব্যভিচারের শাস্তি দেওয়া হত। প্রায় চার হাজার বছর পরেও বৈবাহিক সম্পর্কের মধ্যে ধর্ষণের বিরুদ্ধে ন্যায়বিচার চাওয়ার উপায় ভারতীয় নারীর সামনে খোলা নেই। ১৮৬০ সালের ভারতীয় দণ্ডবিধিতে নারীর যৌনতায় সম্মতিদানের ন্যূনতম বয়স ছিল ১০ বছর। ১৮৯১-তে বিবাহিত-অবিবাহিত সমস্ত মেয়েদের জন্য তা বাড়িয়ে ১২ করার সিদ্ধান্তও প্রবল প্রতিরোধের সম্মুখীন হয়েছিল– হিন্দু বিবাহের ধর্মীয় প্রকৃতিতে আইনি হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করে। ১৯৪০-এর দশকে সম্মতির বয়স নির্ধারিত হয় ১৬ এবং ২০১২ সালে তা করা হয় ১৮। ২০১৩ সালে অবশ্য ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৫ ধারা সংশোধনীতে ‘ব্যতিক্রম’ হিসাবে বলা হয় যে, একজন পুরুষের তার নিজের স্ত্রী-র সঙ্গে যৌন কার্যকলাপ ধর্ষণ নয়।
অতএব, ৩৭৭ ধারার অধীনে সংজ্ঞায়িত কোনও অস্বাভাবিক যৌনসম্পর্ক যদি স্বামী তার স্ত্রীর সঙ্গে করে, তাহলে তাও অপরাধ নয়। ২০১৭ সালের ১১ অক্টোবর ভারতের সুপ্রিমকোর্ট শিশুদের অধিকার সংক্রান্ত একটি মামলায় ঘোষণা করে, ধারা ৩৭৫-এর এই ব্যতিক্রম একটি স্বেচ্ছাচারী নিয়ম এবং তা সংবিধানের বর্ণিত একাধিক মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করে। কোনও স্বামী তার নাবালিকা স্ত্রীর সঙ্গে তার সম্মতিতেও যৌনমিলন করতে পারবে না। কিন্তু প্রাপ্তবয়স্ক মহিলাদের স্বামীর যৌন হিংসার থেকে কোনও আইনি সুরক্ষা নেই। বৈবাহিক সম্পর্কে যৌনসম্পর্ক স্থাপনের জন্য স্ত্রীর সম্মতি অপ্রয়োজনীয় মনে করা হয়েছে, কারণ বিবাহকেই যৌনসম্পর্ক স্থাপনের একটি চিরকালীন সম্মতি বলে ধরে নেওয়া হয়েছে। ফলে, যে-সমস্ত আইন গার্হস্থ্য হিংসা থেকে মেয়েদের সুরক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করে (যেমন– ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৯৮এ), সেগুলিও কি স্ত্রীর ওপর স্বামীর যৌন নির্যাতনের ক্ষেত্রে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছে? বিচারপতি ব্যাস ধর্ষণ ও অস্বাভাবিক যৌনসম্পর্ক স্থাপনের ধারাগুলির পাশাপাশি অনিচ্ছাকৃত হত্যার ধারাটি থেকেও (ধারা ৩০৪) ছত্তিশগড়ের অভিযুক্তকে মুক্তি দিয়েছেন!

ফ্লাভিয়া অ্যাগনেসের মতে, বৈবাহিক ধর্ষণ গার্হস্থ্য হিংসারই একটা নিরবচ্ছিন্ন অংশ। ভারতে বহু নারী দাম্পত্যের মধ্যে যৌন হিংসার শিকার। ‘ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর রিসার্চ অন উইমেন’-এর এক সমীক্ষায় (২০১১) অংশগ্রহণকারী ভারতীয় পুরুষদের ২০% তাদের স্ত্রীদের যৌনসম্পর্কে বাধ্য করার কথা স্বীকার করেছে। জাতীয় পরিবার স্বাস্থ্য সমীক্ষা-৫ (২০১৯-২১) অনুসারে, ১৮-৪৯ বছর বয়সি প্রতি তিনজন ভারতীয় মহিলার মধ্যে প্রায় একজন স্বামীর দ্বারা নির্যাতনের শিকার, প্রায় ৬%-র ক্ষেত্রে তা যৌনহিংসা। এই সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারী মহিলাদের ৫%-এর স্বামীরা তাদের ইচ্ছা না-করলেও শারীরিক বলপ্রয়োগ করে যৌন মিলন করেছে, ৪%-এর স্বামীরা তাদের হুমকি দিয়ে বা অন্যভাবে এমন যৌন কার্যকলাপে বাধ্য করেছে, যা তারা চায়নি। কিন্তু বিবাহিত নারীর অসম্মতিতে যৌনসম্পর্ক স্থাপন তার অবসাদ, শারীরিক ক্ষতি, এমনকী, মৃত্যুর কারণ হলেও তা ‘অপরাধ’ বলে পরিগণিত হয় না। ভারতীয় দণ্ডবিধির বদলে সম্প্রতি বলবৎ হওয়া দণ্ডসংহিতাতেও অবস্থা বদলায়নি।
ভারতের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৪ অনুসারে আইনের চোখে সমতা বা সমান আইনি সুরক্ষা প্রত্যেক ভারতীয়ের মৌলিক অধিকার। তাহলে ধর্ষণের ক্ষেত্রে বিবাহিত ও অবিবাহিত মহিলাদের মধ্যে এবং বিবাহিত মহিলাদের মধ্যে বয়স অনুসারে বৈষম্য কি যুক্তিযুক্ত? ঔপনিবেশিক আমলে রচিত ভারতীয় দণ্ডবিধি একজন বিবাহিত মহিলাকে একটি পৃথক সত্তা হিসেবে বিবেচনা না করে, তাঁর যৌনতাকে স্বামীর ‘সম্পত্তি’ হিসেবে বিবেচনা করেছিল। কিন্তু, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভারতে প্রচলিত আইনি ব্যবস্থা তো বিবাহিত নারীকেও একজন স্বাধীন ও পৃথক মানুষ হিসেবেই দেখে। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২১ অনুসারে, আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত পদ্ধতি ছাড়া কোনও ব্যক্তিকে তার জীবন এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করা যায় না। সুপ্রিমকোর্ট বিভিন্ন রায়ে এই জীবন এবং স্বাধীনতার অধিকারকে আক্ষরিক অর্থে সীমাবদ্ধ না-রেখে জানিয়েছে– সেই সমস্ত অধিকারই এই মৌলিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত, যা ভালো জীবনযাপনের জন্য অপরিহার্য, যেমন– স্বাস্থ্য, মর্যাদা, নিরাপত্তা প্রভৃতি। অবাঞ্ছিত যৌন কার্যকলাপ থেকে মুক্তির অধিকারও জীবন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অধিকারের অন্তর্ভুক্ত নয় কি? প্রসঙ্গত, বিচারপতি কে. এস. পুত্তাস্বামী (অবসরপ্রাপ্ত) বনাম ভারত ইউনিয়ন মামলায়, সুপ্রিম কোর্ট ‘গোপনীয়তার অধিকার’-কেও অনুচ্ছেদ ২১-এর আওতায় মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এই রায় অনুসারে গোপনীয়তার অধিকার মানুষের যৌনতা, প্রজনন, এবং ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপনের সিদ্ধান্তগ্রহণের অধিকারকেও বোঝায়। প্রত্যেক নাগরিকের এই মৌলিক অধিকার কেবলমাত্র প্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের বৈবাহিক সম্পর্কে হারিয়ে যাবে কেন?

২০২২ সালে, যখন দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি রাজীব শাকধর ও সি হরি শঙ্কর সমন্বিত দুই বিচারপতির একটি বেঞ্চ– স্ত্রীর অমতে যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়ার ক্ষেত্রে পুরুষদের প্রাপ্ত আইনি দায়মুক্তিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দায়ের করা পিটিশনগুলোর শুনানি করছিল– ঠিক সেই সময়েই টুইটারে (বর্তমানে ‘এক্স’) ‘#ম্যারেজস্ট্রাইক’ হ্যাশট্যাগের অধীনে পুরুষদের হাজার হাজার টুইট করতে দেখা যায়। তাঁরা দাবি করেন যে, বৈবাহিক সম্পর্কে নারীদের হাতে যদি আরও বেশি ক্ষমতা তুলে দেওয়া হয়– যা শেষমেশ পুরুষদের ‘দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক’-এ পরিণত করবে– তবে তাঁরা আর বিয়েই করবেন না। স্বামীর জোর করে করা যৌনসম্পর্কে বাধ্য হওয়া কি মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের অধিকারের পরিপন্থী নয়? যৌনসম্মতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা ও বিবাহিত-অবিবাহিত, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবার যৌনসম্মতির সমান অধিকারকে স্বীকৃতি দেওয়া তাই ভীষণ জরুরি। ভারতের অন্যতম বলিষ্ঠ আইনজীবী ও মানবাধিকার-কর্মী করুণা নন্দী যেমনটি বলেছেন: “বিবাহ নামক প্রতিষ্ঠানটির মধ্যে ‘ধর্ষণের লাইসেন্স’ অন্তর্ভুক্ত থাকা উচিত নয়।” বিবাহকে একটি ধর্মীয় সংস্কার হিসাবে দেখে, তাকে মেয়েদের স্বামীর সঙ্গে যৌনমিলন স্থাপনের চিরন্তন নিঃশর্ত সম্মতি বলে ধরে নেওয়া অযৌক্তিক। সংবিধানে নারী-পুরুষের সমানাধিকারের স্বীকৃতির ৭৫ বছর পরেও, একজন নারীর শুধুমাত্র বিবাহিত বলেই যৌনসম্পর্কে ‘না’ বলার স্বাভাবিক অধিকারটুকুও না-থাকা, একটি ‘আধুনিক’ ধর্মনিরপেক্ষ গণতন্ত্রে মানায় না।
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved