Theatre Practice for Mental Health and Well-being | Robbar
Robbar
  • ৯ কার্তিক ১৪৩৩
  • মঙ্গলবার
  • ২৭ অক্টোবর ২০২৬

অসুখের থিয়েটার

‘প্লেব্যাক থিয়েটার’-এ কোনও পূর্ব নির্ধারিত স্ক্রিপ্ট থাকে না। এখানে উপস্থিত দর্শকের কথিত কাহিনি বা ঘটনার ওপর নির্ভর করে অভিনয় করা হয়। দর্শকের চোখের সামনেই ‘প্লেব্যাক’ শিল্পীরা অভিনয় করতে শুরু করেন। অনেকটা একজন মনোবিদের মতো উপস্থিত দর্শকদের সঙ্গে কথোপকথনের মাধ্যমে একটি নাটক উপস্থাপন করেন। মানুষের জীবনের দৈনন্দিন উত্তেজনা, ক্লান্তি, দুশ্চিন্তা ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণে প্লেব্যাক থিয়েটার সহায়তা করে।

শেষ আপডেট: অক্টোবর ২৬, ২০২৬, ২১:০২   
Facebook WhatsApp Messenger

মনখারাপ! অবসাদ, অনিদ্রা, একাকিত্ব– এই সমস্ত শব্দবন্ধের সঙ্গে অল্পবিস্তর সকলেই পরিচিত। কিন্তু মনের অবস্থা বা মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে কি? পাঠক দেখবেন, মনের ‘স্বাস্থ্য’ কথাটা কী অদ্ভুত না! আর যে স্বাস্থ্য চোখে দেখা যায় না, কানে শোনা যায় না, স্পর্শও করা যায় না– বাস্তবে তার অস্তিত্ব রয়েছে কি? ব্যক্তিবিশেষে কেউ কেউ তা অনুভব করতে পারেন, আবার কেউ পারেন না। এখানেও সমস্যা। তাহলে এই যে পৃথিবী জুড়ে এখন ‘মেন্টাল হেলথ’ বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে– এর কারণ কী? একটু ভেবে দেখলে বোঝা যায়, এর উদ্দেশ্য সম্পর্কে সচেতন না-হলে বিষয়ের গভীরে গিয়ে সমস্যা অন্বেষণ করা আরও শক্ত। এই কারণেই বোধহয় বিভিন্ন অ্যাকাডেমিক ক্ষেত্রে বা আর্টের চর্চার মধ্যেও ব্যবহারিক বা প্রয়োগিক নির্ভরযোগ্যতার বিস্তার পেয়েছে। যেমন অ্যাপ্লায়েড সায়েন্স, অ্যাপ্লায়েড সাইকোলজি এবং অ্যাপ্লায়েড থিয়েটার ইত্যাদি। আমি নিজে যেহেতু অ্যাপ্লায়েড থিয়েটার নিয়ে একটা দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করে চলেছি, সেই জায়গা থেকে বলতে পারি– ‘মেন্টাল হেলথ’ প্রসঙ্গে অ্যাপ্লায়েড থিয়েটার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। অর্থাৎ এই আলোচনায় এখনও পর্যন্ত দু’টি দিক উঠে এল, এক ‘মেন্টাল হেলথ’ এবং দুই ‘অ্যাপ্লায়েড থিয়েটার’। দু’টি বিষয়ের মধ্যে বৈচিত্র থাকলেও উদ্দেশ্যগতভাবে এদের মধ্যে ঐক্যের সুর রয়েছে। কারণ, দু’টি ক্ষেত্রই জীবনের জটিল সমস্যাকে শনাক্ত করে। যদিও অ্যাপ্লায়েড থিয়েটারের মধ্যে রয়েছে একাধিক বিষয়। যেমন প্লেব্যাক থিয়েটার, ড্রামা থেরাপি, সাইকো ড্রামা, ড্রামা-ইন-এডুকেশন, থিয়েটার অফ দ্য অপ্রেসড এবং থিয়েটার-ইন-এডুকেশন ইত্যাদি। এর মধ্যে ‘মেন্টাল হেলথ’-এর সঙ্গে ভীষণভাবে সম্পৃক্ত ড্রামা থেরাপি ও সাইকো ড্রামা।

zoom
বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস পালিত হয় ১০ অক্টোবর

১৯৯২ সালে ১০ অক্টোবর, প্রথম বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস পালন করে ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন ফর মেন্টাল হেলথ। এর উদ্দেশ্য ছিল পৃথিবী জুড়ে মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে সকলের সচেতনতা ও শিক্ষার প্রসার ঘটানো। ঠিক এই সময় নয়ের দশকের গোড়ার দিকে ভারতে অর্থনৈতিক উদারীকরণের জন্ম হয়। অর্থাৎ, মুক্ত বাজার ব্যবস্থা। মানুষের হাতের কাছে সব থেকেও চাহিদা কিছুতেই পূরণ হচ্ছে না। ফলে মানসিক অবসাদ, অসম প্রতিদ্বন্দ্বিতা, ভোগবাদ মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনে প্রত্যাশার পারদ ক্রমশ বাড়িয়ে দিয়েছে। মনের এই অস্থিরতার জন্যই হয়তো মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। মঞ্চের থিয়েটারও তাই নেমে এসেছে বাড়ির আঙিনায়, মাঠে-ঘাটে ইত্যাদি স্থানে। যেখানে দর্শক শুধুই অভিনয় দেখতে আসেনি, সেও অভিনয়ে অংশ নিতে এসেছে। দর্শকের সমস্যাই হয়ে ওঠে নাটকের বিষয়বস্তু। যেমন কিছুদিন আগেই কলকাতার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সাইকো ড্রামার ক্লাস করাতে গিয়েছিলাম এবং সেখানকার আন্ডার গ্র্যাজুয়েট ছাত্রীদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার সময় উপলব্ধি করি যে, মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি খুব সহজভাবে থিয়েটারের মাধ্যমে উপস্থাপন করা যায়। আসলে বিজ্ঞানসম্মতভাবে যখন আমরা কোনও কেস স্টাডি করি, নাটকের বিভিন্ন পদ্ধতির মাধ্যমে তখন তা সত্যিই রোমাঞ্চকর হয়ে ওঠে। কিন্তু নাটকের একজন শিক্ষক হিসেবে এই কাজের সময় ভীষণ সতর্ক থাকা উচিত। কারণ, আমরা কোনও ডাক্তার বা মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নই। শুধুমাত্র মনস্তাত্ত্বিক জটিলতার বিষয়বস্তুগুলিকে শনাক্ত করার চেষ্টা করি এবং সেই সম্বন্ধীয় কিছু প্রশ্নের উত্থাপন করি। কখনওই সমস্যার সমাধান করা একজন থিয়েটার শিক্ষকের কাজ নয়। তার জন্য সাইকোলজিস্ট অথবা সাইকায়াট্রিস্ট রয়েছেন। এইজন্য ড্রামা থেরাপির কাজের সময় একজন থিয়েটার শিক্ষকের সঙ্গে একজন মনোবিদ বিশেষজ্ঞ থাকলে বিষয়ের গভীরে বিজ্ঞানসম্মতভাবে পৌঁছনো যায়। বিশ শতকের শেষের দিকে পশ্চিমের বিভিন্ন দেশে এই অ্যাপ্লায়েড থিয়েটারের প্রয়োজনীয়তা এবং গুরুত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে। কারণ যন্ত্র সভ্যতার অগ্রগতি এবং প্রযুক্তিগতভাবে সময়ের নিয়মেই মানুষ যত উন্নতি করেছে, মনস্তাত্ত্বিক জটিলতাও তত বেশি করে দৈনন্দিন জীবনে প্রবেশ করেছে। সম্ভবত এই কারণেই মনের রোগ, একাকিত্ব মানুষকে চেপে ধরেছে।

zoom
থিয়েটার সহায়ক হয়ে ওঠে মানুষের জন্য

বিষয়টি একটি উদাহরণ দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করছি। পাঠক মনে করুন, আপনি একটি ড্রামা থেরাপির ক্লাসে গিয়েছেন এবং সেখানে গ্রুপে সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে পরিবেশ দূষণের কারণ অনুসন্ধান করছেন। এবার ড্রামা থেরাপিস্ট আপনাকে জমাদারের চরিত্রে ‘রোল-প্লে’ করতে বলল এবং আপনিও সচেতনভাবে তা করলেন। এই যে অন্যের চরিত্রে গিয়ে তাঁর সমস্যাকে নিজের করে দেখা এবং বিশ্লেষণ করা– এই এর মূল উদ্দেশ্য। তবে এখানে অভিনয় বা পারফরমেন্স গৌণ বিষয়, মুখ্য উদ্দেশ্য হল সমস্যার প্রতি সংবেদনশীল হয়ে ওঠা। একজন প্রকৃত ড্রামা থেরাপিস্ট কখনওই নিজের জ্ঞান অন্যের উপরে চাপিয়ে দেবে না। বরঞ্চ বিভিন্ন কথোপকথনের মাধ্যমে তিনি এমন একটি পরিসর তৈরি করবেন, যেখানে সহজেই শিক্ষার্থীরা নিজেদের মনের কথা প্রকাশ করতে পারবেন। এইরকম আইডিয়াল পরিস্থিতিতে ছাত্র এবং শিক্ষক উভয়ই নতুন কিছু শেখার উদ্দেশ্যে সমস্যার পুনর্মূল্যায়ন করে। পক্ষান্তরে এ প্রশ্ন উঠতেই পারে যে, মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য শুধুমাত্র অ্যাপ্লায়েড থিয়েটার কেন? হ্যাঁ, একথা সত্যি মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য চিকিৎসাশাস্ত্রে একাধিক পন্থায় রয়েছে। এটা ব্যক্তিবিশেষে নির্ভর করে যে, আপনি কোন ধরনের চিকিৎসা অবলম্বন করতে চাইছেন এবং এর মধ্যে কোনও ভুল নেই। কারণ এমন অনেক মনস্তাত্ত্বিক জটিলতা রয়েছে, যার জন্য কাউন্সেলিংয়ের প্রয়োজন হয়। আবার কোনও মাদকদ্রব্যের প্রতি আসক্ত ব্যক্তিকে ক্ষেত্রবিশেষে রিহ্যাবে সেন্টারেও পাঠানো হয়। সব ক্ষেত্রেই যেমন ড্রামা থেরাপি প্রযোজ্য নয়, আবার কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য যদি কোনও ব্যক্তি মনোবিদ বা চিকিৎসকের সহায়তা নেয়, তার মানে এই নয় যে, ওই ব্যক্তির মাথার গন্ডগোল হয়েছে! মানে ধরেই নেওয়া হল, ওই ব্যক্তি পাগল হয়ে গিয়েছে! এই ধরনের চিন্তাভাবনাও কিন্তু খুব একটা সুস্থতার লক্ষণ নয়। কারণ আজকের জীবনযাত্রা, ব্যস্ততা এবং পারিপার্শ্বিক ঘটনার কথা মাথায় রেখেই মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি সচেতন হওয়া প্রয়োজন।

zoom
ন্যাশনাল স্কুল অফ ড্রামা

২০১৪-‘১৫ সালে ন্যাশনাল স্কুল অফ ড্রামার ‘থিয়েটার-ইন-এডুকেশন’ শাখাতে অধ্যয়নের সৌভাগ্য হয়েছিল। ভারত সরকারের একমাত্র কেন্দ্র যেখানে পরীক্ষামূলক থিয়েটার নিয়ে চর্চা করা হয়। তবে অ্যাপ্লায়েড থিয়েটার সম্পর্কে অনেকের মনেই ছুঁৎমার্গ রয়েছে। এও কিন্তু মনের এক ধরনের ব্যামো। অর্থাৎ নতুন কোনও কিছু গ্রহণ করতে না পারা এবং বিনা কারণে অপরের সমালোচনা করা। আসলে প্রসেনিয়াম থিয়েটারের সঙ্গে অ্যাপ্লায়েড থিয়েটারের কোনও সংঘাত নেই। কারণ উদ্দেশ্য ও পদ্ধতিগতভাবে অ্যাপ্লায়েড থিয়েটার নিজস্ব পরিচয় বহন করে। যার উদ্দেশ্যই হচ্ছে, মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি করা এবং মানুষের জীবনের বিভিন্ন সমস্যাকে চিহ্নিত করা। দিল্লি, মুম্বই এবং কলকাতা-সহ মেট্রো সিটিগুলিতে আমি ছোটদের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে দেখেছি, তাদের কাছে প্রচুর বিকল্প বা বাছাই করার সুযোগ রয়েছে। যেমন ইন্টারন্যাশনাল স্কুলগুলিতে পড়াশোনার পাশাপাশি একাধারে নাচ-গান, আঁকা, সাঁতার, মার্শাল আর্ট এবং নাটকও শেখানো হয়। ফলে, ছোট থেকে তারা কোনও একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর মনোনিবেশ করতে পারে না। সব শেখাগুলোই বিক্ষিপ্তভাবে তাদের জীবনে এসে পড়ছে। ইচ্ছের বিরুদ্ধে গিয়ে ছোটবেলা থেকেই তাদের সবই শিখতে হচ্ছে। ছোটদের নিজস্ব পছন্দ এবং কল্পনার জগৎ সঠিক পথে বিকশিত হতে পারছে না। যা শিশু-মনস্তত্ত্বের বিকাশের পথে বাধার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তবে কিছু অতি উৎসাহিত অভিভাবকও রয়েছেন, যাঁরা সন্তানের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে অত্যধিক চিন্তাগ্রস্ত! এর ফলেও কিন্তু মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটে।

zoom
লন্ডনের প্লেব্যাক থিয়েটার

একথা সত্যিই যে, মনকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা সকলের থাকে না। কিন্তু, মনের বিভিন্ন স্তর সম্পর্কে অবগত হওয়া যেতেই পারে। আমাদের চেতন, অবচেতন এবং সচেতন মন সম্পর্কে অবগত হওয়া, বা মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য আপনি কোনও মনোবিদের পরামর্শ নিতেই পারেন। অর্থাৎ পরামর্শ বা কথোপকথনের মাধ্যমে মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া সম্ভব। যেমন ‘প্লেব্যাক থিয়েটার’-এ কোনও পূর্ব নির্ধারিত স্ক্রিপ্ট থাকে না। এখানে উপস্থিত দর্শকের কথিত কাহিনি বা ঘটনার ওপর নির্ভর করে অভিনয় করা হয়। দর্শকের চোখের সামনেই ‘প্লেব্যাক’ শিল্পীরা অভিনয় করতে শুরু করেন। অনেকটা একজন মনোবিদের মতো ‘প্লেব্যাক’ শিল্পীরা উপস্থিত দর্শকদের সঙ্গে কথোপকথনের মাধ্যমে একটি নাটক উপস্থাপন করেন। ফলে উপস্থিত দর্শক নাটকে দেখানো সমস্যার সঙ্গে খুব সহজেই যুক্ত হতে পারে। মানুষের জীবনের দৈনন্দিন উত্তেজনা, ক্লান্তি, দুশ্চিন্তা ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণে প্লেব্যাক থিয়েটার সহায়তা করে। ১৯৭৫ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এই প্লেব্যাক থিয়েটার শুরু করেন জনাথন ফক্স ও জো সালাস। এরপর ধীরে ধীরে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এই থিয়েটার শুরু হয়। অ্যাপ্লায়েড থিয়েটারের বিভিন্ন ধারাগুলির মধ্যে প্লেব্যাক থিয়েটার অন্যতম।

zoom
সাইকোলজিস্ট এবং ড্রামা থেরাপিস্ট ইত্যাদি পেশার গুরুত্ব বর্তমানে বৃদ্ধি পেয়েছে

২০২৬ সালের বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসের থিম হল, ‘জীবিত অভিজ্ঞতার কথা শোনা: প্রকৃত কণ্ঠস্বর, প্রকৃত পরিবর্তন’। গত ১০ অক্টোবর যা পালিত হয়েছে। এবছর ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা’ কোনও নীতি নির্ধারণ, পরিষেবা প্রদান এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাস্তব অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করার ওপর জোর দিয়েছে। যেখানে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার বিলোপ এবং সম্প্রদায়-ভিত্তিক সেবাকার্যের রূপান্তরে সহায়তা করার উল্লেখ রয়েছে। সকলকে সাধারণ সহানুভূতির ঊর্ধ্বে উঠে বাস্তব ঘটনাকে প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে চালিকাশক্তি হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। মানসিক স্বাস্থ্যের এই উদ্দেশ্যগুলির ভিতর লুকিয়ে রয়েছে আজকের মানুষের মনস্তাত্ত্বিক জটিলতা, ব্যথা-বেদনা, দৈনন্দিন জীবনে প্রত্যাশার পাহাড়প্রমাণ চাপ এবং একাকিত্ব। তাই মানুষই পারে মানুষকে মুক্তি দিতে। যেখানে মানুষ একা নয়, সম্প্রদায়-ভিত্তিকভাবে একে অন্যের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবে। কথায় আছে, ‘স্বাস্থ্যই সম্পদ’। তাও যদি আবার মানসিক স্বাস্থ্য হয়– তার তো যত্ন নিতেই হবে। আপাতদৃষ্টিতে রহস্যময় মনকে বোঝা গেলেও, এর বহুমাত্রিক স্তর কিন্তু বৈচিত্রময়। আজকের সমাজে বিষণ্ণতা, উদ্বেগ, হতাশা, আত্মহত্যা, বিচ্ছিন্নতা বিষয়গুলিকে বড় করে দেখা হলেও মানুষের জীবনে চিরাচরিত ভাবে এই সমস্যা রয়েছে। শুধুমাত্র সমস্যার রূপ পরিবর্তিত হয়েছে। এইজন্য সাইকায়াট্রিস্ট, সাইকোলজিস্ট এবং ড্রামা থেরাপিস্ট ইত্যাদি পেশার গুরুত্ব এবং চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে অ্যাপ্লায়েড থিয়েটারও সাবালক হয়ে উঠেছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের থিয়েটার আরও বেশি করে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠবে। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মতো তাই বলতে ইচ্ছা করে– ‘কেন প্রেম আপনার নাহি পায় পথ’

প্রেমের মতো ‘মন’ও কিন্তু নিজের পথ খুঁজে পেতে চায়। সদাই চঞ্চল মনকে আদপেও বাধা যায় কি? না কি মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য মনকে কোনও এক নিরুদ্দেশ-যাত্রায় জীবনদেবতার উদ্দেশ্যে রওনা দিতে হবে।

Applioed Theatre Drama Therapist human psychology Mental Health Playback Theatre psychiatrist Sangbad Pratidin Sangbad Pratidin Robbar

Share this article on