Women’s Liberation in India: Sarojini Naidu to Bella Abzug | Robbar
Robbar
  • ৮ ভাদ্র ১৪৩৩
  • বুধবার
  • ২৬ আগস্ট ২০২৬

নারীসমতার একাল সেকাল

এই দেশেই যোনিতে টাটকা বুলেট-চিহ্ন নিয়ে ভূমিশয্যায় শুয়ে থাকেন মণিপুর-কন্যা মনোরমা। পাশে পড়ে থাকা ফানেকে তাঁর ধর্ষক-পুরুষদের বীর্য-চিহ্ন– যে চিহ্ন ধারণ করে ক্ষমতার দম্ভ-অহংকার। এদেশে লড়াইয়ের ময়দানই তাই মেয়েদের ভবিতব্য। মধ্যবয়সী মণিপুরি মাতৃকার দল মনোরমার জন্য প্রতিবাদে নগ্ন মিছিল করেন। কলকাতা রাত-দখলের লড়াইয়ের কথা বলে। এই বহমান প্রতিবাদই কি নারী-অস্তিত্বের ভবিতব্য!

Published by: Robbar Digital

Posted:August 26, 2026 6:17 pm | Updated:August 26, 2026 6:17 pm  
Facebook WhatsApp Messenger

‘উওম্যান উইল চেঞ্জ দ্য নেচার অফ পাওয়ার, র‍্যাদার দ্যান পাওয়ার চেঞ্জিং দ্য নেচার অফ উওম্যান।’ মেয়েরাই পারে ক্ষমতার প্রকৃতি বদলে দিতে। ক্ষমতা কি আর মেয়েদের প্রকৃতি পালটাতে পারে? এই বিশ্বাস থেকেই লড়াইয়ের ময়দানে নেমেছিলেন তিনি। যে লড়াই তাঁকে স্বীকৃতি দেবে ‘কংগ্রেস উওম্যান ফর এভরি উওম্যান ইন দ্য ওয়ার্ল্ড’।

তিনি বেলা আবজুগ। আপসহীন। প্রথম আপসই হাজারো আপসের জড়, অতএব প্রথম সুযোগেই একে উপড়ে ফেলা ভালো এই যাঁর বিশ্বাস, তাঁর নামের আগে যে ‘ব্যাটলিং’ শব্দটি জুড়ে যাবে, সে আর আশ্চর্য কী! আদম-শাসিত পৃথিবীতে ইভদের অস্তিত্ব প্রতিষ্ঠাই ছিল বেলার আজন্মের লড়াই। অতএব পরিচিতি তাঁর ‘ব্যাটলিং বেলা’ নামে বিরুদ্ধ-শক্তি যাঁর সম্মুখে আনত। এহেন বেলা ২৬ আগস্ট দিনটিকে “উওমেন’স্‌ ইকোয়ালিটি ডে” নারী সমতা দিবস হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন।

zoom
আপসহীন বেলা আবজুগ

কেন এই বিশেষ দিনটিকেই বেছে নেওয়া? ১৯২০-এর এই ২৬ আগস্ট দিনটিতেই সর্বজনীনভাবে মার্কিন মেয়েদের ভোটাধিকারের দাবি মেনে নিয়েছিল আমেরিকার সরকার। এমন নয় যে সেই প্রথম! এর আগেই নিউজিল্যান্ড কিংবা অস্ট্রেলিয়ার মেয়েরা দীর্ঘ, সুসংবদ্ধ লড়াইয়ের মাধ্যমে সেই অধিকার আদায় করে নিয়েছিলেন। মার্কিন দেশে এই লড়াই ছিল আরও তীব্র, বলিষ্ঠ। ‘নারী-স্বাধীনতা’ শব্দটি তখনও সে দেশে সোনার পাথরবাটির মতোই। ফলত দিনটি নারীমুক্তি আন্দোলনের ক্ষেত্রে এক মাইলস্টোন তো বটেই। তাছাড়া ভোটাধিকার আদায়ের এই যে আন্দোলন, সে প্রায় পৃথিবীর সব দেশের ক্ষেত্রেই প্রথম নারীমুক্তি আন্দোলন! ভারতে যেমন, তেমনই সাগরপারের দেশগুলিতেও। তাই ২৬ আগস্টকে চিহ্নিত করা। নিজেদের অস্তিত্ব প্রতিষ্ঠার এই প্রাথমিক চেষ্টা সিদ্ধ হওয়ার পাঁচটি দশক পর ১৯৭১-এ বেলা আবজুগ দিনটিকে নারীজন্ম-উদযাপনের দিন হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। খাতায়-কলমে হয়তো দিনটি মার্কিনি মেয়েদের, তবুও কি তা আমাদের নয়! লড়াই সে তো সব দেশেই এক। অতএব তৃপ্ত-সুখবোধে আমরাও মানসিকভাবে সেই উদযাপনে সামিল হই।

প্রসঙ্গত বলি, ভারতের আমজনতা সে নারীপুরুষ নির্বিশেষে প্রত্যেকেই ভোটাধিকার লাভ করেছিল একসঙ্গে, ১৯৫০-এ। আর মার্কিন দেশে? শ্বেতাঙ্গ পুরুষরা ভোটাধিকার লাভ করার প্রায় ৬৪ বছর পর মার্কিনি মেয়েদের এই অধিকার লাভ।ব্রিটিশ মহিলাদেরও অপেক্ষা করতে হয়েছিল। দশ-দশটি বছর তাঁরা অপেক্ষা করেছেন। এর জন্য কম লড়তে হয়েছে তাঁদের!

zoom
দেশে দেশে নারীমুক্তি আন্দোলন

লড়াই করেছি আমরাও। সেই লড়াই ছিল দীর্ঘ, সংহত এবং সুশৃঙ্খল। তবে আলাদাভাবে নয় স্বাধীনতার জন্য যে লড়াই, এরই একটা অংশ হয়ে উঠেছিল তা। পশ্চিমি দেশগুলোতে আবার এর প্রক্রিয়া ছিল ভিন্ন। শ্রেণি-সংগ্রাম, সম্পত্তির মালিকানা, নারী-পুরুষের সমতা গণতান্ত্রিক কাঠামোর সংস্কার-ধারায় ধাপে ধাপে এগিয়েছে সেই লড়াই। আর আমাদের দেশে, পরাধীন ভারতে এই সমস্ত চাহিদা এবং দাবি জুড়ে গিয়েছিল স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে। তখনই রাজনৈতিক অধিকার আদায়ের সূচনা এদেশে। সেই লড়াই সহজ ছিল না। শুরুতে পুরুষ সহযাত্রীরাই ছিলেন মেয়েদের বিপক্ষে। তা বিরুদ্ধ-শক্তির অবস্থান যতই প্রবল হোক, আমাদের পূর্বজারাও ছিলেন বেপরোয়া। নিজেদের অস্তিত্ব প্রতিষ্ঠায় তাঁদের তখন জান-কবুল। তবে এ-ও সত্য, প্রশ্রয়ের ছায়া এবং উষ্ণতাও ছিল। এর একটি মিষ্টি উদাহরণ দেওয়া যাক।

zoom
এক অধিবেশনে কমলাদেবী ও সরোজিনী নাইডু

কমলাদেবী চট্টোপাধ্যায়। দক্ষিণী-কন্যা। ছিলেন বাংলার বধূ। সরোজিনী নাইডুর ভাই হরীন্দ্রনাথের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল তাঁর। সত্যজিতের ছবিতে আমরা হরীন্দ্রনাথকে দেখেছি সিধুজ্যাঠার চরিত্রে অভিনয় করতে। এদেশের মেয়েদের নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য যে লড়াই, সেই ইতিহাস এই হরীন্দ্র-জায়া কমলাদেবীকে বাদ দিয়ে লেখা সম্ভব নয়। সেকালের বাঘা-বাঘা সব ব্যক্তিত্বরা কমলাদেবীকে শ্রদ্ধা করতেন। বয়সে তাঁদের হাঁটুর বয়সি হলেও। মতিলাল নেহেরু যেমন। তাঁর সঙ্গে প্রথম আলাপের বর্ণনা কমলাদেবী তাঁর স্মৃতিকথায় উল্লেখ করেছেন। তখন সারদা বিলের পক্ষে সমর্থন আদায়ের জন্য ছুটোছুটি করছেন তিনি। সেই উদ্দেশ্যেই গিয়েছিলেন মতিলাল নেহরুর কাছে। বিরক্ত হয়েছিলেন মতিলাল। বলেছিলেন, ‘আর ইউ ট্রায়িং টু ইনস্ট্রাক্ট মি অ্যান্ড মাই কলিগ্‌স হাউ টু ভোট, ইউ চিট অফ আ গার্ল?’ দমেননি কমলাদেবী। সপাট জবাব তাঁর, ‘আমার বয়স যদি আপনার আপত্তির কারণ হয়, তাহলে বয়ঃবৃদ্ধাদের একটি দল নিয়ে আপনার ভোট চাইতে আসব আমি।’

zoom
কমলাদেবী চট্টোপাধ্যায়

শুনে হেসেছিলেন মতিলাল। পরবর্তীতে তাঁর প্রশ্রয় পেয়েছেন কমলা। তা প্রশ্রয় কি আর ছোঁয়াচে হয়? হয় না বলেই এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত তৈরির চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যায় আমাদের এই বঙ্গদেশেই। বাঙালি পুরুষদের সংস্কার আর অহম্‌ যদি সেদিন প্রতিবন্ধকতার দেওয়াল না তুলত, তাহলে এক গর্বের মুহূর্ত তৈরি হতে পারত আমাদের এই প্রিয় শহর কলকাতাতেই। তা যে হয়নি, এর জন্য দায়ী বঙ্গীয় বীরপুরুষরা। মেয়েদের সমস্ত প্রস্তুতি পণ্ড করে দিয়েছিলেন তাঁরা। তাই বলে লড়াই বন্ধ হয়নি। মেয়েরা ঘন-ঘন নিজেদের দাবি নিয়ে ব্রিটিশ শাসকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন। দাবি ছিল ভোটাধিকারেরও। ভারতসচিব তখন মন্টেগু। তাঁর সঙ্গে আলোচনায় বসার আর্জি জানালে এককথায় নাকচ হয়ে গিয়েছিল সেই আবেদন। তবে একেবারে নিরাশ করা হয়নি। মন্টেগুর সচিব মারফত বলা হয়, যদি রাজনৈতিক আলোচনাতে বৈঠক সীমাবদ্ধ থাকে, তবে মহিলা প্রতিনিধি দলের মুখোমুখি হতে আপত্তি নেই তাঁর।

zoom
অবলা বসু

মেয়েরা মেনে নিয়েছিলেন। আলোচনায় বসাটা জরুরি ছিল বলেই। মেয়েদের সেই প্রতিনিধি দলে ছিলেন অবলা বসুও। মন্টেগুর সামনে মেয়েদের ভোটাধিকারের প্রস্তাবটি সেদিন তিনিই প্রথম তুলেছিলেন। ততদিনে ব্রিটেনে মেয়েদের ভোটাধিকারের দাবি আইনি স্বীকৃতি পেয়েছে। মন্টেগু তাই সরাসরি প্রস্তাবটি খারিজ করতে পারেননি।

১৩ আগস্ট, ১৯২১। শনিবার। কলকাতায় সেদিন লড়াকু মেয়েরা এক সভা ডেকেছিলেন। উদ্দেশ্য, ভোটাধিকারের স্বপক্ষে লড়াই আরও জোরদার করে তোলা। সেই সভায় তৈরি হয় এক নতুন সংগঠন ‘বঙ্গীয় নারী সমাজ’। সভাপতি নির্বাচিত হন অবলা বসু। সহ-সভাপতি মৃণালিনী সেন আর কুমুদিনী বসু। শুধু কলকাতা নয়, বঙ্গীয় নারী সমাজের নেতৃত্বে আন্দোলনে সামিল তখন পাবনা, রংপুর, বগুড়া, টাঙ্গাইল, চট্টগ্রাম, কিশোরগঞ্জ, বীরভূমের পর্দানশীন মেয়েরাও। সভা-সমিতিতে সেই সময় তাঁদের ভিড় উপচে পড়ত। সহমর্মী কিছু পুরুষও পাশে ছিলেন। থিওসফিকাল সোসাইটি হলে আয়োজিত সেদিনের নারী সমাজের সভায় নিজেদের সমর্থন জানাতে হাজির ছিলেন রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়, হীরেন্দ্রনাথ দত্তদের মতো ব্যক্তিত্বরা। পাশে ছিলেন আমাদের রবি ঠাকুর। শুভেচ্ছা জানিয়ে চিঠি লিখেছিলেন তিনি আন্দোলনকারীদের। সভায় সেদিন কুমুদিনী বসু পাঠ করেছিলেন সেই শুভেচ্ছাবার্তা।

zoom
রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়ও ছিলেন সমর্থকদের মধ্যে অন্যতম

এরপর ২২ দিনের অপেক্ষা। ৫ সেপ্টেম্বর, ১৯২১। বঙ্গীয় ব্যবস্থাপক সভার অধিবেশনের তারিখ। সেই সভাতেই সেদিন ৫৬-৩৭ ভোটে মেয়েদের ভোটাধিকারের প্রস্তাব খারিজ হয়ে যায়। আর মাত্র ১৯টি ভোট এদিক-ওদিক হলেই সেদিন তৈরি হতে পারত এক নতুন ইতিহাস। পুরুষতন্ত্র চায়নি। সেই সভার অন্যতম সদস্য শহিদ সোহরাওয়ার্দিও প্রশ্ন তুলেছিলেন, ‘বাংলার মেয়েরা কী এমন করেছে যে দেশ পুনর্গঠনে অংশ নেওয়ার দাবি তুলছে তাঁরা?’

zoom
‘উওমেন্স ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন’-এর একটি অধিবেশনে তোলা ছবি

বাংলা পারেনি, বোম্বাই এবং মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সিতে কিন্তু ইতিহাস তৈরি হয়েছিল। মেয়েরা সেখানে ভোট দেওয়ার অধিকার আদায় করে নিয়েছিলেন। সেই বছরই। অবশ্য এর দু’ বছর আগেই, ১৯১৯-এ, মাদ্রাজ মিউনিসিপ্যালিটির মেয়েরা ভোট দেওয়ার অধিকার অর্জন করেছিলেন। ভারতে সেই প্রথম। এর পরের বছর ত্রিভাঙ্কুর আর ঝালওয়ারের মেয়েরা। এই সাফল্যের দাবিদার একজনই মার্গারেট কাজিন্স। জাতিতে আইরিশ ছিলেন। ছিলেন সাফ্রাজিস্ট আন্দোলনের নেতৃত্বে। কবি, সাহিত্য সমালোচক জেমস কাজিন্স ছিলেন তাঁর স্বামী। ১৯১৫-তে কাজিন্স দম্পতির এদেশে চলে আসা। নতুন পারিবারিক জীবন তাঁদের শুরু হয় মাদ্রাজে। না, শুধু দু’জনের নয় এদেশীয় মেয়েরাও ছিলেন কাজিন্স পরিবারের সদস্য। তাঁদের জন্যই মার্গারেটের যত লড়াই। এই মেয়েদের কথা ভেবেই মাদ্রাজে পা রাখার দু’ বছরের মধ্যেই গঠন করেন তিনি ‘উওমেন্স ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন’ সর্বভারতীয় মহিলা পরিষদ।

zoom
মার্গারেট কাজিন্স

এসব ১৯১৭ সনের কথা। অ্যানি বেসান্ত, ডরোথি জিনরাজদাসরা ছিলেন মার্গারেটের সতীর্থ। এই ডব্লিউআইএ-ই সম্ভবত প্রথম নারীবাদী সংগঠন, যে সংগঠন ভারতীয় মেয়েদের উন্নতি-অধিকার আদায়ের জন্য বিবিধ প্রকল্প গ্রহণ করেছিল। রাজনৈতিক অধিকার সম্বন্ধে মেয়েদের সচেতন করে তোলার চেষ্টাও প্রবল ছিল তাঁদের। সরোজিনী নাইডু, হীরাবাই টাটার মতো ব্যক্তিত্বরা ছিলেন তাঁদের পাশে। সরোজিনী, হীরাবাই আর অ্যানি বেসান্ত ভোটাধিকারের দাবি নিয়ে এমনকী হাজির হয়েছিলেন লন্ডনে, জয়েন্ট পার্লামেন্টারি কমিটির সামনে। ফল, মেয়েদের ভোট দেওয়ার অধিকার লাভ। ১৯২৫-এ বাংলার মেয়েরাও ভোটাধিকারের অধিকার আদায় করে ছাড়লেন। কিছুদিনের মধ্যেই অন্যান্য রাজ্যেও চালু হয়ে যায় এই আইন। বাদ যায় শুধু কয়েকটি দেশীয় রাজ্য।

zoom
অ্যানি বেসান্ত

তবে এই জয় ছিল আংশিক। কারণ, এক্ষেত্রে স্বামীর সম্পত্তি আর শিক্ষাই ছিল যোগ্যতার মাপকাঠি। ফলত এক বিশেষ শ্রেণির মধ্যে এই অধিকার সীমাবদ্ধ ছিল। প্রতিবাদ করেছিলেন মেয়েরা। সম্পত্তি নয়, শিক্ষাই হোক যোগ্যতার মাপকাঠি এই ছিল তাঁদের দাবি। আর সে হোক নারীপুরুষ নির্বিশেষেই। দাবির তালিকা দীর্ঘ ছিল। মূল দাবি, ছেলে-মেয়ে, গরীব-ধনী নির্বিশেষে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ককেই ভোটের অধিকার দেওয়া হোক। আর এক্ষেত্রে বয়সের মাপকাঠি হোক ২১ বছর। বিকল্প একটি প্রস্তাবও ছিল। সেই প্রস্তাবে বলা হয়, দলবদ্ধভাবে প্রাথমিক ভোটাররা (Primary voter) ভোটদানের মাধ্যমে দ্বিতীয় স্তরের ভোটার (secondary voter) নির্বাচন করবেন। পরে তাঁরাই নির্বাচন করবেন ব্যাবস্থাপক সভার সভ্যদের। নিজেদের স্বতন্ত্র পরিচয়, স্বতন্ত্র অস্তিত্বের জন্য মেয়েদের সংগঠিত লড়াই সেই প্রথম। এহেন লড়াকু মেয়েদের হাতে তখন আগুনঝরা কলম। সমসাময়িক পত্র-পত্রিকায় পাওয়া যাবে সেই আগুনের উত্তাপ।

zoom
আজন্মের সঙ্কোচ কাটিয়ে মেয়েরা আজ এফজিএম-এর বিরুদ্ধে সোচ্চার

পরাধীন ভারত তাঁদের দাবি পূরণ করতে পারেনি। এর জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে ১৯৫০ অবধি। তবু কি আর লড়াই ফুরয়? এক লড়াই ফুরলে শুরু হয় আর এক। আজকের মেয়েদের লড়াই কঠিন আরও। ঐতিহ্যের অজুহাতে এদেশে আজও এক বিশেষ গোষ্ঠীর মেয়েদের ইচ্ছের বিরুদ্ধে তাঁদের যৌনাঙ্গ-বিকৃত (‘ফিমেল জেনিটাল মিউটিলেশন’ এফজিএম) করা হয়। আজন্মের সংকোচ কাটিয়ে মেয়েরা আজ সেই চেষ্টার বিরুদ্ধে সোচ্চার। এদেশে বিলকিস বানো-তিলোত্তমাদের বিচারের প্রত্যাশা কখনও ফুরয় না।

zoom
মণিপুরী মাতৃকার দলের প্রতিবাদী নগ্ন মিছিল

এই দেশেই যোনিতে টাটকা বুলেট-চিহ্ন নিয়ে ভূমিশয্যায় শুয়ে থাকেন মণিপুর-কন্যা মনোরমা। পাশে পড়ে থাকা ফানেকে তাঁর ধর্ষক-পুরুষদের বীর্য-চিহ্ন যে চিহ্ন ধারণ করে ক্ষমতার দম্ভ-অহংকার। এদেশে লড়াইয়ের ময়দানই তাই মেয়েদের ভবিতব্য। মধ্যবয়সী মণিপুরী মাতৃকার দল মনোরমার জন্য প্রতিবাদে নগ্ন মিছিল করেন। কলকাতা রাত-দখলের লড়াইয়ের কথা বলে। এই বহমান প্রতিবাদই কি নারী-অস্তিত্বের ভবিতব্য! বিরুদ্ধ-শক্তির বিরুদ্ধে মাথা তুলে দাঁড়ানোর জন্য যে সেই শক্তির মুখোমুখি মাথা তুলে দাঁড়ানো চাই সহযাত্রী-সম্মুখে সেকথা জোর গলায় প্রচার করতেন বেলা আবজুগ। ‘উই হ্যাভ ডান অলমোস্ট এভরিথিং ইন পেয়ারস্‌ সিন্স নোয়া, একসেপ্ট গভর্ন। অ্যান্ড দ্য ওয়ার্ল্ড হ্যাজ সাফারড্‌ ফর ইট’ বেলার মন্তব্য। রাত দখলের লড়াইতেই তাই সমস্যার সুরাহা হয় না। এর জন্য চাই সামাজিক আধিপত্যের নিয়ন্ত্রণ। কর্তৃত্ব অর্জন করতে না-পারলে যে সুশৃঙ্খল প্রতিপক্ষের কাছ থেকে সমমর্যাদা আদায় করা মুশকিল!

Bella Abzug female genital mutilation Kamaladevi Chattopadhyay Rabindranath Tagore Sangbad Pratidin Sangbad Pratidin Robbar Sarojini Naidu women's equality day Women's Rights

Share this article on