


গত এক দশকেরও বেশি সময়ে হাজার হাজার সংস্থা তাদের রেজিস্টার্ড অফিস অন্য রাজ্যে সরিয়ে নিয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, শুধুমাত্র সরকার পরিবর্তন কি শিল্প ফিরিয়ে আনতে পারে? না কি তার জন্য আরও গভীর পরিবর্তন প্রয়োজন? কারণ, শিল্পপতিরা শুধু জমি বা কর ছাড় দেখেন না, তারা দেখেন দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা, প্রশাসনিক গতি, দক্ষ কর্মী, আধুনিক নগর সংস্কৃতি এবং ভবিষ্যতের সম্ভাবনা। তাই বাংলার ক্ষেত্রেও মূল প্রশ্নটা শুধু রাজনৈতিক নয়, মানসিকও।
তারাতলার বহুতল থেকে বেঙ্গালুরুর ঝাঁ-চকচকে মেহফিল। সেখানে সন্ধে হলেই জাপটে ধরে উদাসী হাওয়া। শত শত গাড়ির আলো, আওয়াজের ভিড়ে ফিনকি দিয়ে উঠে আসে আদুরে আপ্যায়ন। এই কংক্রিটের শহরে একটা ছোট্ট কলকাতা গড়ে উঠেছে সমান্তরাল ভাবে। বিগত বহু বছর ধরে বাঙালিরা ভিড় করেছে এই আলো-আঁধারির শহরে। বারান্দায় রেখেছে হাইড্রেনজিয়া। টেবিলে রেখেছে ফেলুদা, ব্যোমকেশ, সুনীল, শক্তি, শিবরাম। শৌখিন দেওয়ালে টাঙিয়েছে ফেলে আসা কলকাতাকে। নীল আকাশে পেঁজা তুলোর মেঘকে দেখে ভেসে উঠেছে উত্তর কলকাতার অলিগলি, বাবুঘাট, ফুচকা, ট্রাম, ময়দান, ভেঙে যাওয়া সম্পর্ক এবং আরও কতকিছু। হু হু করে উঠেছে বুকের ভিতরটা। হয়তো এই বছরেও পুজোয় ফেরা হবে না। কলকাতা দীর্ঘদিন ধরেই রয়ে গিয়েছে না-ফেরার তালিকায়। অথচ দিনের শেষে ঝুলবারান্দা থেকে শূন্যে তাকিয়ে থাকতে থাকতে ভেসে উঠছে ‘সিটি অফ জয়’। ভেসে উঠেছে মায়াজড়ানো নগরী। সেই শহরে কি আর ফেরা হবে কখনও? কত কত প্রবাসী বাঙালি অন্য রাজ্যে কর্মসূত্রে দিন গুজরান করছেন, কত কেউ এই শহরে ফিরতে চেয়েও ভয় পেয়ে পিছু হটেছেন বারবার। সেই প্রবাসী বাঙালিরা কি এবার ফিরবেন বাংলায়?

ভোটের প্রচারে কলকাতার কেন্দ্রের এক প্রার্থী বলেছিলেন, শহরটা তো বৃদ্ধাশ্রম হয়ে গিয়েছে! তরুণ প্রজন্ম তো রাজ্যের বাইরে। আমরা ক্ষমতায় এলে প্রথম লক্ষ্য হবে তাদের রাজ্যে ফেরানো। সত্যি কি তাই? এই স্মৃতির শহরটা কি বৃদ্ধাশ্রম হয়ে উঠেছে?
একসময় ভারতের কর্পোরেট মানচিত্রে কলকাতা ছিল ধ্রুবতারা। ডালহৌসির অফিসপাড়া থেকে হুগলির ধারে কলকারখানা, একসময় কলকাতাই ছিল পূর্ব ভারতের অর্থনৈতিক হৃদস্পন্দন। কিন্তু বিগত ১৫ বছরে সেই ছবিটা ধীরে ধীরে বদলেছে। শহরের সাংস্কৃতিক জৌলুস এখনও অটুট থাকলেও কর্পোরেট ও শিল্পের জগতে কলকাতা অনেকটাই গুরুত্ব হারিয়েছে। কেন্দ্রীয় কর্পোরেট মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত মোট ৬,৬৮৮টি কোম্পানি পশ্চিমবঙ্গ থেকে তাদের রেজিস্টার্ড অফিস অন্য রাজ্যে সরিয়ে নিয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১১০টি ছিল স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত সংস্থা। শুধু গত পাঁচ বছরেই ২,২০০-এর বেশি সংস্থা রাজ্য ছেড়েছে। সবচেয়ে বেশি সংস্থা গিয়েছে মহারাষ্ট্র, দিল্লি, কর্নাটক, গুজরাট ও উত্তরপ্রদেশে। সরকারি তথ্য বলছে, মহারাষ্ট্রে গিয়েছে প্রায় ১,৩০৮টি কোম্পানি, দিল্লিতে ১,২৯৭টি, উত্তরপ্রদেশে ৮৭৯টি এবং গুজরাটে ৪২৩টি কোম্পানি। এই পরিসংখ্যান শুধু সংখ্যার হিসেব নয়, বরং ভারতের কর্পোরেট মানচিত্রে কলকাতার বদলে যাওয়া অবস্থানেরও স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়।

অনেক সংস্থা কলকাতায় ছোট অফিস রেখে দিলেও তাদের মূল অফিস, অর্থনৈতিক ডিভিশন, আইটি ইউনিট কেন্দ্র অন্য শহরে সরিয়েছে। ফলে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং ব্যবসায়িক গুরুত্ব ধীরে ধীরে অন্যত্র সরে গিয়েছে। এর পিছনে একাধিক কারণ আছে। দীর্ঘদিনের শ্রমিক আন্দোলন, ট্রেড ইউনিয়ন রাজনীতি ও শিল্প নিয়ে অনিশ্চয়তা বহু শিল্পপতিকে কলকাতার বাইরে বিনিয়োগ করতে উৎসাহিত করেছিল। ছয় ও সাতের দশক থেকেই যে শিল্প-পলায়নের শুরু, তার প্রভাব এখনও পুরোপুরি কাটেনি। পরে উদারীকরণের যুগে বেঙ্গালুরু ও হায়দরাবাদ যখন প্রযুক্তি ও আইটি শিল্পে বিপুল বিনিয়োগ টানতে শুরু করল, তখন কলকাতা সেই প্রতিযোগিতায় অনেকটাই পিছিয়ে পড়ল। যদিও পরে সেক্টর ফাইভ ও নিউটাউন আইটি হাব হিসেবে গড়ে ওঠে, তবুও বড় মাপের কর্পোরেট সংস্থা কলকাতায় থাকেনি। কলকাতার বহু মেধাবী ছাত্রছাত্রী উচ্চশিক্ষার পর কাজের খোঁজে বেঙ্গালুরু, পুনে, হায়দরাবাদ কিংবা বিদেশে চলে যাচ্ছে। ফলে কোম্পানিগুলিও সেইসব শহরে নিজেদের বিস্তার ঘটাচ্ছে, যেখানে দক্ষ কর্মী, স্টার্ট-আপ সংস্কৃতি, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও বিনিয়োগের পরিবেশ আরও শক্তিশালী।

কলকাতার মনস্তত্ত্বের কেন্দ্রে রয়েছে নস্টালজিয়া। এই শহর অতীতকে শুধু মনে রাখে না, তাকে যত্ন করে লালন করে। পুরনো বাড়ি, গান, কফিহাউস, ট্রাম, উত্তর কলকাতার বারান্দা, সবকিছুর মধ্যে এক ধরনের আবেগ জমে থাকে। ফলে শহরবাসী অনেক সময় ভবিষ্যতের চেয়ে অতীত নিয়েই বেশি স্বস্তি খুঁজে পায়। কিন্তু আজকের পৃথিবী দাঁড়িয়ে আছে সম্পূর্ণ উল্টো এক মানসিকতার ওপর। সেখানে প্রতিদিন বদলাতে হবে, দৌড়তে হবে, নিজেকে নতুন করে তৈরি করতে হবে। তাই অনেক তরুণ-তরুণীর মনে হয়, কলকাতা তাদের নিরাপত্তা দেয় ঠিকই, কিন্তু উচ্চাকাঙ্ক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় আগুনটা দেয় না।
এই শহরের আরেকটি জটিল দিক হল সামাজিক ঘনত্ব। কলকাতায় মানুষ এখনও একে অপরের জীবনের সঙ্গে খুব জড়িয়ে থাকে। পাড়ার লোক জানে কার ছেলে কী করছে, কে কোথায় যাচ্ছে, কে কবে বিয়ে করছে। বাইরে থেকে দেখলে এটা এক ধরনের মানবিক উষ্ণতা। কিন্তু মনস্তাত্ত্বিকভাবে অনেকের কাছে এই বিষয়টা অদৃশ্য চাপও তৈরি করে। কারণ তখন ব্যক্তিগত জীবন আর ব্যক্তিগত থাকে না। ফলে নতুন প্রজন্মের একটা অংশ এমন শহর খোঁজে, যেখানে তারা নিজেদের নতুন করে পেতে পারবে, যেখানে পরিচিত চোখের বিচার থাকবে না, যেখানে নিজের ব্যর্থতা বা বদলকে লুকিয়ে নয়, স্বাভাবিকভাবে বাঁচানো যাবে।
তবুও এই শহরের ভিতরে যে ব্যাকুলতা আছে, সেটা অস্বীকার করা যায় না। দিনশেষে এই বুড়ো শহরটার প্রতি ফেরার যে টান জন্ম নেয়, সেটা তো মিথ্যে নয়। এবার কি তবে শহরে ফেরার পালা? এবার কি তবে শিকড়ের কাছে ফেরা? একটা দীর্ঘ টালবাহানার পরে, অজস্র ভোটার ভোটাধিকার হারানোর পরে শপথ নিতে চলেছে নতুন সরকার। এবার কি তবে শিল্প ফিরবে শহরে? ফিরবে বহুতল বিলাসী সংস্থা? যারা এই শহরের ওপর অভিমান করে চলে গিয়েছিল অন্য শহরে, এবার কি তাদের ফেরার পালা? আজান শোনা কোনও ভোরে তারা ফিরবে জেটল্যাগ নিয়ে? যারা এখনও ব্যান সংস্কৃতির গেড়োয় আটকে, তারা কি ফিরবে লাইমলাইটের নিচে? যে-মানুষগুলো দীর্ঘদিন রাজনৈতিক টালবাহানায় ঘর ছাড়া, তারাও কি ঘরমুখো হবে এবার? যে পরিযায়ী শ্রমিকরা দূরদূরান্তে ছিটিয়ে আছেন, তারাও কি ফেরার রাস্তা ধরবেন? এই শহরটা জীবনানন্দের শহর, বনলতা সেনের পীঠস্থান। এই শহরটা অনিমেষ-মাধবীলতার, অমিত-লাবণ্যের। এই শহরের বুকে রয়েছে অন্য একটা শহর। যে শহরটা প্রতিদিন চুম্বকের মতো ফেরার আহ্বান জানায় চুপিসারে।

ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের অভিজ্ঞতা বলছে, শুধু সরকার পরিবর্তন নয়, তার সঙ্গে প্রশাসনিক মানসিকতা, শিল্পনীতি, পরিকাঠামো এবং বিনিয়োগ-বান্ধব পরিবেশ বদলাতে পারলে তবেই শিল্পের মানচিত্রে বড় পরিবর্তন আসে। উত্তরপ্রদেশ তার সাম্প্রতিক উদাহরণ। একসময় যে রাজ্য মূলত পরিযায়ী শ্রমিক পাঠানোর জন্য পরিচিত ছিল, ২০১৭ সালের পর সেই উত্তরপ্রদেশই নিজেকে শিল্প ও বিনিয়োগের নতুন কেন্দ্র হিসেবে তুলে ধরতে শুরু করে। এক্সপ্রেসওয়ে, ডিফেন্স করিডর, নতুন বিমানবন্দর, শিল্পতালুক এবং দ্রুত প্রশাসনিক ছাড়পত্রের মতো বিষয়গুলোকে সামনে রেখে সেখানে এক নতুন শিল্প-আবহ তৈরি করা হয়। Annual Survey of Industries (ASI)-এর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-’২৩ থেকে ২০২৩-’২৪ সালের মধ্যে উত্তরপ্রদেশে কারখানার সংখ্যা প্রায় ১৫.৯১% বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে শিল্পক্ষেত্রে Gross Value Added (GVA) বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ২৫% এবং কর্মসংস্থানও বেড়েছে প্রায় ৯.৩৭%। অর্থাৎ, যে-রাজ্য একসময় কাজের খোঁজে মানুষকে অন্যত্র পাঠাত, এখন সেই রাজ্যই অন্য প্রদেশ থেকে শিল্প ও বিনিয়োগ টানার ভাষা শিখেছে।
দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলিও একইভাবে দেখিয়েছে, রাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে যদি দীর্ঘমেয়াদি শিল্প-দৃষ্টি যুক্ত হয়, তাহলে অর্থনীতির ছবিও বদলে যেতে পারে। ২০১৪ সালে অন্ধ্রপ্রদেশ ভেঙে তেলেঙ্গানা গঠনের পর দুই রাজ্যের মধ্যেই শিল্প ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনিয়োগ টানার এক নীরব প্রতিযোগিতা শুরু হয়। বিশেষ করে হায়দরাবাদকে কেন্দ্র করে তেলেঙ্গানা সরকার দ্রুত আইটি নীতি, স্টার্ট-আপ সংস্কৃতি, জমি বরাদ্দ এবং এক জায়গা থেকেই দ্রুত সমস্ত প্রশাসনিক ছাড়পত্র পাওয়ার ব্যবস্থাকে জোরদার করে। ফলে মাইক্রোসফট, অ্যামাজন, গুগলের মতো বহুজাতিক সংস্থাগুলি সেখানে বড় আকারে বিস্তার ঘটায়। আজ দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলি সম্মিলিতভাবে দেশের জিডিপির প্রায় ৩০% অবদান রাখছে। এই সাফল্যের পিছনে শুধু রাজনৈতিক পরিবর্তন নয়, বরং ধারাবাহিক পরিকল্পনা, আন্তর্জাতিক মানের পরিকাঠামো এবং দক্ষ মানবসম্পদের দীর্ঘ প্রস্তুতি কাজ করেছে।
তামিলনাড়ুর অভিজ্ঞতা আবার অন্যরকম। সেখানে সরকার পাল্টালেও শিল্পনীতি খুব বেশি বদলায়নি। ফলে দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে এক স্থিতিশীল শিল্প-পরিবেশ গড়ে উঠেছে। বর্তমানে ভারতের মোট কারখানার প্রায় ১৫% বেশি তামিলনাড়ুতে অবস্থিত। উৎপাদন শিল্পে কর্মসংস্থানের নিরিখেও তারা দেশের অন্যতম শীর্ষ রাজ্য। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বন্দর, সড়ক যোগাযোগ এবং শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ধারাবাহিক বিনিয়োগই তাদের এগিয়ে রেখেছে। অর্থাৎ, শিল্প শুধু রাজনৈতিক স্লোগানে আসে না, তার জন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি আস্থা ও স্থায়ী পরিকল্পনা।

এই প্রেক্ষাপটে পশ্চিমবঙ্গের দিকে তাকালে ছবিটা আরও স্পষ্ট হয়। একসময় ভারতের অর্থনৈতিক মানচিত্রে কলকাতা ছিল পূর্ব ভারতের প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র। দেশের জিডিপিতে পশ্চিমবঙ্গের অবদানও ছিল প্রায় ১০% বেশি। কিন্তু বর্তমানে সেই অংশ নেমে এসেছে প্রায় ৫.৬%। গত এক দশকেরও বেশি সময়ে হাজার হাজার সংস্থা তাদের রেজিস্টার্ড অফিস অন্য রাজ্যে সরিয়ে নিয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, শুধুমাত্র সরকার পরিবর্তন কি শিল্প ফিরিয়ে আনতে পারে? না কি তার জন্য আরও গভীর পরিবর্তন প্রয়োজন? কারণ, শিল্পপতিরা শুধু জমি বা কর ছাড় দেখেন না, তারা দেখেন দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা, প্রশাসনিক গতি, দক্ষ কর্মী, আধুনিক নগর সংস্কৃতি এবং ভবিষ্যতের সম্ভাবনা। তাই বাংলার ক্ষেত্রেও মূল প্রশ্নটা শুধু রাজনৈতিক নয়, মানসিকও। এই রাজ্য কি আবার নতুন করে ঝুঁকি নেওয়া, উদ্ভাবন এবং শিল্পবান্ধব আত্মবিশ্বাসের ভাষা শিখতে পারবে? যদি পারে, তাহলে হয়তো একদিন সত্যিই বহু প্রবাসী বাঙালির কাছে ‘ফেরা’ শব্দটা শুধুই নস্টালজিয়া হয়ে থাকবে না, বাস্তব সম্ভাবনাও হয়ে উঠবে। তখন বেঙ্গালুরুর উদাসী হাওয়াকে সরিয়ে রেখে, ফিরে আসতে ইচ্ছে করবে ‘সিটি অফ জয়’-এ।
আমরা তো প্রতিদিন ফেরার চেষ্টা করি, প্রতিনিয়ত একটা করে দিন বেড়ে যায়। তবুও ফেলে আসা দিনের কাছে ফেরার চেষ্টা করি। এই ফেরার চেষ্টাই তো বাঁচিয়ে রাখে আমাদের।
…………………..
রোববার.ইন-এ পড়ুন আদিত্য ঘোষ-এর অন্যান্য লেখা
…………………..
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved