Robbar

পহলে দর্শনধারী?

Published by: Robbar Digital
  • Posted:June 20, 2026 8:47 pm
  • Updated:June 20, 2026 8:52 pm  

এক্ষেত্রে কি ব্যতিক্রম নেই? আলবাত আছে। যেখানে চেহারার সাথে সাদৃশ্য সেই অর্থে না থাকলেও শুধু অপূর্ব অভিনয় আর দারুণ স্টোরি-টেলিং দিয়ে সিনেমা তৈরি হয়েছে, আর আমরা চেটেপুটে খেয়েছি। সে-ও আরেক ক্রিকেট অধিনায়কেরই গল্প। এমএস ধোনি। তা নীরজ পাণ্ডের মুনশিয়ানা। সেই ছবি আমাদের অনায়াসেই ভুলিয়ে দেয় যে, এ আদতে সাত নম্বর জার্সি ধারকের গল্প। বরং তা হয়ে ওঠে এক সময়ের গল্প। তাতে এসে পড়ে মতি নন্দীর ছায়া।

শিলাদিত্য চ্যাটার্জি

‘আরে একদম ওর মতো দেখতে বল না… আরে পেটে আসছে মুখে আসছে না! কে বল না…’

প্রত্যেক বিয়েবাড়িতে এমন একজন কাকু বা কাকিমা থাকা বাধ্যতামূলক– যার সবাইকে কারও না কারওর মতো দেখতে লাগে। কখনও ছোটকাকুর মেজছেলের মতো, তো কখনও মধুবালার ছোটবেলার মতো। তার সর্বদাই সবাইকে কারওর মতো লাগে, কেউই যেন স্বতন্ত্র নয়। আমার ধারণা, এই ব্যক্তি আদতে দারুণ কাস্টিং ডিরেক্টর হতে পারতেন। ইনিই পারতেন খুঁজে বের করতে সৌরভ গাঙ্গুলির চরিত্রে কাকে সবচেয়ে ভালো মানাবে। কারণ, আমরা সবাই মিলে অর্ডার পাশ করে দিয়েছি যে, ‘রাজকুমার রাওকে তো একদম মানাচ্ছে না দাদার চরিত্রে!’

সৌরভ গাঙ্গুলির লুকে রাজকুমার রাও, ভাইরাল হওয়া সেই ফটো

অভিনেতার জীবনের যাবতীয় বাধাবিপত্তি– খারাপ স্ক্রিপ্ট, বাজে সহ-অভিনেতা, স্ক্যামবাজ প্রযোজক– এই সব মানিয়ে নেওয়ার পর তাকে যদি শুনতে হয়, ‘আপনাকে না মানাচ্ছে না বস্‌!’ তাহলে সত্যিই তা বড় দুঃখের। কারণ কারও চরিত্রের বাহ্যিক আড়ম্বরে মানিয়ে নেওয়ার কথা আদৌ কোনওদিন অভিনেতার ছিলই না। তার কাজ ছিল অভ্যন্তরীণ। অনেক বেশি করে তার কাজ ছিল মননে আর চিন্তায় চরিত্রের কাছাকাছি পৌঁছনো। সে হোক না বায়োপিক, শেষ অবধি তা আরও এক নিতান্ত চরিত্র বাদে কিছু না। কেনই বা অভিনয়ের নামে ‘গো-অ্যাজ-ইউ-লাইক’ খেলতে যাবে এক অভিনেতা!

এম এস ধোনির বায়োপিকে ধোনির ভূমিকায় সুশান্ত সিং রাজপুত

কিন্তু এখন খেলতে হচ্ছে। তার কারণ খুঁজতে গেলে বোঝা যায়, এই অবিকল এক দেখতে না-হতে পারার দায় অভিনেতার নয়। সেই দায়– যাঁরা সেই ছবির নির্মাতা, তাঁদের। কারণ, তাঁদের মনে হয়েছে তাঁরা কীভাবে এই ছবি বানাবেন। তাঁদের মনে হয়নি যে, বাংলার ছেলেকে নিয়ে ছবি হচ্ছে যখন, তখন হয়তো বাংলার কোনও অভিনেতাকে এই চরিত্রে ভাবা যায়। তাঁদের মনে হয়নি নতুন বা অপেক্ষাকৃত কম পরিচিত কোনও মুখকে সু্যোগ দেওয়া যায়। তাঁরা নিয়েছেন রাজকুমার রাওকে। সেই রাজকুমার রাও, যাকে আপামর দর্শক চেনে। অর্থাৎ, তাঁরাই সেই সুযোগ আরও বেশি করে প্লেটে সাজিয়ে দিলেন যে, তুলনা ঠিক আসবেই।

সৌরভ গাঙ্গুলি (বাম) ও রাজকুমার রাও (ডান)

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে দর্শক কী করবে? তার উত্তর সত্যি বলতে, দর্শক যা করার তা-ই করবে। ট্রোল, ইগনোর, রেজ। কারণ দর্শক পয়সা খরচ করে সিনেমা দেখতে বেরিয়েছে মানে, সে আসলে সিনেমা দেখতে চায় না, সে এসেছে এক্সপিরিয়েন্স কর‍তে। এই সত্যিকে মেনে নেওয়া ছাড়া উপায় নেই যে, সিনেমা দেখা আর কনসার্ট দেখার মধ্যে এই মুহূর্তে কোনও তফাত নেই। তাই অভিনেতার মন, তার চরিত্রায়ন– এসব বোঝার দায়দায়িত্ব দর্শকের আর নেই। না-হলে বাংলা ভাষাতেই এমন ছবি হয়েছে, যেখানে নায়ক শুধুমাত্র দেখতে-শুনতে আসল চরিত্রের মতো ছিলেন বলেই সেই ছবি লোকে হল ভরিয়ে দেখে এসেছে। সেই ছবি বক্সঅফিসেও কামাল করেছে। সেই কারণেই মনে রাখা দরকার, বায়োপিকের সবচেয়ে বড় সমস্যা হল– যাকে নিয়ে ছবি হচ্ছে, তার মানুষের ওপরে যা প্রভাব, তা ছবির ক্ষেত্রেও পড়বেই পড়বে। তাই হয়তো বেহালার বাঁ-হাতির চরিত্রে রাজকুমার রাও অভিনয় করছেন বলেই এত সমস্যা। মনে হয় না, প্রবীণ তাম্বের ভূমিকায় শ্রেয়স তালপাড়ে-কে নিয়ে কারওর কোনও দাবি এসেছিল বলে!

শ্রেয়স তালপাড়ে এবং প্রবীণ তাম্বে

তবে এক্ষেত্রে কি ব্যতিক্রম নেই? আলবাত আছে। যেখানে চেহারার সাথে সাদৃশ্য সেই অর্থে না থাকলেও শুধু অপূর্ব অভিনয় আর দারুণ স্টোরি-টেলিং দিয়ে সিনেমা তৈরি হয়েছে, আর আমরা চেটেপুটে খেয়েছি। সে-ও আরেক ক্রিকেট অধিনায়কেরই গল্প। এমএস ধোনি। তা নীরজ পাণ্ডের মুনশিয়ানা। সেই ছবি আমাদের অনায়াসেই ভুলিয়ে দেয় যে, এ আদতে সাত নম্বর জার্সি ধারকের গল্প। বরং তা হয়ে ওঠে এক সময়ের গল্প। তাতে এসে পড়ে মতি নন্দীর ছায়া। সে কারণেই সেই ছবি শুধু এক স্পোর্টস বায়োপিক হয়ে থাকেনি। এবার মুনশিয়ানার প্রশ্ন তো বিক্রমাদিত্য মোটওয়ানেকে নিয়েও চলে না। তিনি যা করছেন, নিশ্চয়ই ভেবেই করছেন। অন্তত, ভেবে তো ভালো লাগছে যে, বিক্রমবাবু ছড়াবেন না। ক্রমশ বিশ্বাস হারানোর এই আকালে এটুকু বিশ্বাস রাখা তাই হয়তো প্রয়োজন।

………………..

রোববার.ইন-এ পড়ুন শিলাদিত্য চ্যাটার্জি-র অন্যান্য লেখা

………………..