Robbar

Charlie Chaplin

নির্বাকের রূপদক্ষ শিল্পী

চ্যাপলিন শব্দের বিড়ম্বনাকে মূকাভিনয়েরই একটা এক্সটেনশন বানিয়ে ফেলেন, হিঙ্কলের ভাষার মর্মার্থ অভিধানের মুখাপেক্ষী থাকে না। টুথব্রাশ গোঁফে তা দিয়ে চ্যাপলিন বলতে চান, ‘একঘেয়ে লাগল নাকি?’

→

এমনও হাসি আছে বেদনা মনে হয়

হাসি যে একটা বেনিয়মের শক্তি হয়ে উঠতে পারে, সেইটে রেনেসাঁস-উত্তর ইউরোপে এক ধরনের পাগলামি বলে দেগে দেওয়া হয়। সতেরো শতাব্দী থেকে হাসিকে অ্যাসাইলামে বন্দি করা হয়। ক্ষমতা গম্ভীরভাবে থাকতে চায়। কে না জানে গাম্ভীর্য নির্বোধের মুখোশ।

→

যে বইয়ের যে কোনও পাতাই প্রথম পাতা

১৯৫২ সালে প্রথম প্রকাশিত হল সিমোনের জার্নাল, ইংরেজি ভাষায়: ‘আমেরিকা ডে বাই ডে’। তখনও এই বই তেমন কদর পেল না। ‘But with the passage of time, America Day by Day emerges as a supremely erudite American road book’, জানাচ্ছেন ডগলাস ব্রিংকলে। আগেই বলেছি এই বইটার মজা হল, যেখান থেকে খুশি পড়া যায়। সময় কাটানোর জন্যে একেবারে পারফেক্ট বন্ধু বই।

→

মঞ্চে গাইতে গাইতে হঠাৎ কণ্ঠ হারিয়ে ফেলেন হান্না চ্যাপলিন, শেষ লাইনটি গেয়ে মায়ের সম্মান রক্ষা করেন ছ’বছরের চার্লি

নারীর কণ্ঠ বন্ধ হয়, আর তার জায়গায় তৈরি হয় পুরুষের ইতিহাস। একদিকে হান্নার নিঃস্বতা, অন্যদিকে চার্লির প্রতিভা। কিন্তু কে সেই ‘প্রতিভা’র ভিত্তি নির্মাণ করে? সমাজ কীভাবে ভাঙা গলাকে অপদার্থতা ভাবে, অথচ সেই কণ্ঠ হারানোর মধ্য দিয়েই তো তৈরি হয় এক ট্র্যাজিক মুখাভিয়ন। চার্লি নিজেই বলেছিলেন, ‘My mother taught me not through speech, but through silence.’

→

চার্লির মতো আমরাও কিন্তু যন্ত্রের পেটেই আছি

‘মডার্ন টাইমস’-এ স্ক্রু ঢিলা চার্লির মনে হচ্ছিল জগৎটাই একটা বিশাল যন্ত্র। এটা সত্যি বলতে কী, দিব্যদৃষ্টির মুহূর্ত। আমাদের এই দিব্যদৃষ্টির মুহূর্ত আসবে যখন আমরা বুঝব যে, বিপন্ন এই গ্রহে আমরাও একইভাবে অস্তিত্ব নামে একটা ভার্চুয়াল যন্ত্রের অন্তর্গত। এবং তখন হয়তো সেই যন্ত্রে আমরা চার্লিসম ব্যাঘাত ঘটাতে পারব!

→