

মেস কেড়ে নিয়ে শহর আমাদের জন্য এখন যে আস্তানা বরাদ্দ করেছে সেখানে নিশ্চিন্তি কই! অহোরাত্র গ্রিলে তালা, এদিকে নজর, সেদিকে নজরদারি। সতর্কতার শেষ নেই। তা সত্ত্বেও যদি বিপদ আসে, আজ কি আর কেউ প্লাইউড হাতে এসেও দাঁড়াবে?
এই স্বঘোষিত প্রতিভাবানদের দেশে, সবজান্তা শিল্পবিশেষজ্ঞর দেশে, স্বঘোষিত শ্রেষ্ঠ শিল্পীর দেশে, আমিই ‘শেষকথা’ প্রমাণ করার ঔদ্ধত্যময় দেশে– শিল্পের ইতিহাস ভেঙেচুরে যাবেই।
অল্পস্বল্প না-দেখার ভিতরই বুঝি এই শহরটার কুহক। চাইলে সে চোখের সামনেই কাউকে ফুঁসলে নিয়ে যেতে পারে। একটা সন্ধেই তখন আত্মগোপনের চিরকুট, যেমন মেস আমাদের।
আমরা তো এদিকে হোম-ডেলিভারিকে বিদায় দিয়ে ততদিনে ভাতের হোটেলে বেঞ্চি বুক করে ফেলেছি। যে কোনও মেসতীর্থেই ধীরে জেগে ওঠে এই সব হোটেল। তাদের হোটেল বললে বড় পাঁচ-সাত তারা-রা কুপিত হতে পারে। না বললে, আমাদের সম্মানে লাগে।
যাবতীয় আলাপ-আলোচনা সত্ত্বেও আমরা এখনও কলকাতার ‘অভাব’ নিয়ে গবেষণা থামাতে পারিনি। সবসময়েই কলকাতা ধাওয়া করে চলেছে ‘উন্নয়ন’-এর। তাই বিশ্বের তো বটেই, ভারতের অন্যান্য বড় শহরের সঙ্গে প্রতিযোগিতাতেও কলকাতার হার নিশ্চিত।
‘আ হিস্ট্রি অফ ক্যালকাটা স্ট্রিটস’ (১৯৮৭) আসলে রাস্তা ধরে ধরে কলকাতাকে চেনার কৌশল। রাস্তার নাম কীভাবে এল, কবে তৈরি হল এবং নামগুলো বদলাল কী করে। এই যে কলকাতার রাস্তার নামবদল, এইটা খুঁজতে শুরু করলেই একরকমভাবে কলকাতার ইতিহাসকে পাওয়া যায়, বুঝেছিলেন পি টি নায়ার।
কলকাতার রাত্রি-চরিত্র বদলে গিয়েছে প্রবল। রাত কি আজও তেমনতর রাত? তাতে কি মিশে নেই আলোর ভেজাল? হেমেন্দ্রকুমার রায়ের সেই কলকাতার রাত নিয়ে কিছু প্রাসঙ্গিক আলাপ-বিলাপ।
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved