

সত্যজিৎ ও ঋত্বিক। ছবিতে রবীন্দ্রসংগীতকে ব্যবহার করেছেন দু’জনেই। সত্যজিতের ব্রাহ্ম প্রেক্ষাপট, শিল্পী নির্বাচন কিংবা তালবাদ্য ব্যবহারের অনীহা– গায়কি-বিষয়ক আমাদের সন্ধানকে গাঢ়তর করে তুলতে পারে। অপরদিকে গণনাট্য আন্দোলনের কর্মী হিসেবে ঋত্বিক, জ্যোতিরিন্দ্র, দেবব্রত প্রমুখ রবীন্দ্র-গানকে জনসমাজে ছড়িয়ে দেবার পন্থী। কম্যুনিকেশনের দর্শন ও ‘পলিসি’টি আলাদা।
অবনীন্দ্রনাথের মনে কি কোনও অভিমান লুকিয়ে ছিল? কীসের সে অভিমান? শিল্পের সমকালীন অবস্থা কি তাঁকে সন্তুষ্ট করতে পারছিল না? এমতাবস্থায় অবনীন্দ্রনাথ আগামী পাঁচ বছর চিত্রপ্রদর্শনী বন্ধ করে দিতে বললেন। আরও কঠিন স্বরে তাঁর প্রিয় শিষ্যদের কাছে গুরুদক্ষিণা চাইলেন তিনি!
প্রেমের দৃশ্যায়নে দেখলাম ‘চুম্বন’-এর আধিক্য। চুম্বন দীর্ঘদিন ধরেই ভালোবাসা, আবেগ এবং ঘনিষ্ঠতার প্রতীক। ইতিহাস জুড়ে শিল্পীরা তাঁদের কাজে এই মুহূর্তগুলিকে ধারণ করেছেন। কোমল আলিঙ্গন থেকে শুরু করে আবেগপূর্ণ অধরে চুম্বন।
শান্তিনিকেতনে ৭ পৌষ তারিখে উৎসবের বিশেষ মাহাত্ম্য কী? মাহাত্ম্য এই যে, সেদিন আশ্রমের প্রতিষ্ঠাতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথের দীক্ষার দিন। যিনি একদিন ভোগের মাঝখান থেকে জেগে উঠে ‘বিলাসমন্দিরের সমস্ত আলোকে অন্ধকার’ দেখেছিলেন, বেড়িয়ে পড়েছিলেন অমৃত উৎসের সন্ধানে।
প্রতিকূল রাজনীতির কারণে হয়তো হীনম্মন্যতা একটুকরো অন্ধকারের মতো টিকে আছে। তাই মাঝেমধ্যেই বাঙালি-বিদ্বেষ মাথাচাড়া দেয়; এবং বাঙালির (এবং একইসঙ্গে ভারতের) আইকনদের ধরে ধরে আক্রমণ করা হয়। তাঁদের মধ্যে দু’জন মনে হয় এই আক্রমণের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হয়েছেন এ পর্যন্ত– এক, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, আর দুই, রামমোহন রায়।
উদয়নের বাগানে রামকিঙ্করের কংক্রিটের কাজটিতে একটি বড় মাছের মুখে একটি ছোট মাছ। মাৎস্যন্যায়। উদয়নের শান্ত পরিবেশে এই ভাস্কর্য কেন? রামকিঙ্করকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন সোমেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়। রামকিঙ্কর তার যা ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন তা একমাত্র তাঁর পক্ষেই সম্ভব।
সুনয়নী দেবী, সুখলতা রাও, সীতা দেবী, শান্তা দেবীর মতো অনেকে কলমের সঙ্গে তুলিও তুলে নিচ্ছেন হাতে– যেন এভাবেই তাঁরা খুঁজতে চাইছিলেন আত্মপ্রকাশের ভাষা। শুধু নিজেদের নয়, সমকালীন সব মেয়েদের– যাতে তারা চিনে নিতে পারে নিজেদের বিকল্প পৃথিবীটাকে। হাসিরাশিও ছিলেন এঁদের মতোই প্রতিভাশালী, কিন্তু এ ব্যতীত তাঁর ছিল ভাগ্যের সঙ্গে অসম লড়াইয়ে হার না মানার মতো এক আত্মপ্রত্যয়ী নির্দ্বিধ মন।
শুধু ভীষণ প্রেমে যে কবিমন এককালে ভেবেছিল– ‘স্নানের পরে চুল ঝাঁকালে মুখ ধোবো’, সে বেচারা জানতই না, এলোচুলের ইতিহাসে সে আসলে নিষ্পাপ প্রেমিক নয়, খাঁটি শয়তান!
ওপার বাংলায় তাঁর গান জাতীয় সংগীত থেকে বাদ দেওয়ার তোড়জোড় চলছে। এপারে শোনা যাচ্ছে বাংলা ভাষা বলেই কিছু হয় না। রবীন্দ্রনাথ নিহত হচ্ছেন প্রতিদিন। প্রতিমুহূর্তে। উদযাপনের জন্যে আমরা কেবল বাইশে শ্রাবণ দিনটা পছন্দ করেছি।
মুখোমুখি বসে রবীন্দ্রনাথের পূর্ণাবয়ব প্রতিকৃতি এঁকেছিলেন অতুল বসু। কিন্তু কোথায় যেন অতৃপ্তি ছিল। সেই ছবি সম্পর্কে একটা খুঁতখুতানি যেন লেগে ছিল মনে। তাই জীবন-সায়াহ্নে এসে চেতনার রঙে রবীন্দ্রনাথকে আঁকলেন। আঁকলেন তাঁর জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রতিকৃতিচিত্রটি।
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved