
ইন্টারনেট, শিল্পকলা-বিষয়ক বই, ম্যাগাজিন এবং ডিজিটাল মাধ্যম আবির্ভাবের ফলে অনেক সফল শিল্পীর শিল্পকর্ম বিনামূল্যে ও অফুরন্তভাবে পাওয়া যায়। কিছু চিত্রকর এর সুযোগ নিয়েছেন এবং স্রেফ একটি স্টাইল ‘চুরি’ করে সেটিকে নিজের বলে চালিয়ে দিয়েছেন! আরও খারাপ ব্যাপার হল, তারা যে আসল, মৌলিক কাজগুলো নকল করে, কখনও-কখনও সেগুলোকে কোনওভাবে পরিবর্তন করার চেষ্টাও করে না।
২৯.
আপনি বাগান থেকে একরাশ এলেমেলো রুগ্ন বুনোফুল তুলে ফুলদানিতে রাখলেন। মন ভরল না আপনার। পাশের বাগাান থেকে না জানিয়ে নিয়ে এলেন যত্নে চাষ করা দুটো পছন্দসই চন্দ্রমল্লিকা। গুঁজে দিলেন বুনো ফুলের ফাঁকে। ঝলমলিয়ে উঠল আপনার ফুলদানি। জাত বদলে গেল, বুনোফুল পেয়ে গেল আভিজাত্যের ছোঁয়া। এই চন্দ্রমল্লিকা যে আপনার নয়, সেটা হয়তো মাথায় নিলেন না।
চৌর্যবৃত্তির সরল আভিধানিক অর্থ হল চুরি। আর চুরি মানে মালিকের অনুমতি না নিয়ে পরের দ্রব্য নেওয়া। স্থান-কাল-পাত্র বিশেষে চুরির দণ্ড ও দণ্ডদাতা ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু চুরি দণ্ডণীয় অপরাধ। অনেক সময় মালিকানা বিতর্কিত হলে চুরি প্রমাণ করা শক্ত। অনেক কিছুই প্রমাণ করা যে শক্ত সে তো সব শ্রেণির মানুষরা এখন ভালোই বোঝেন। অতএব শক্ত ছেড়ে সরলে যাওয়াই বোধহয় ভালো হবে। ভাবুন, চুরি যদি দণ্ডণীয় অপরাধ হয়, তবে আমার মতো অনেকেই জীবনের সিংহভাগই জেলে কাটাতেন। শৈশবের রোদে দেওয়া আমসত্ত্ব কিংবা কুলের আচার মনে পড়ছে!

আমার আরও মনে পড়ছে, মা রান্না শেষে চান করতে যাওয়ার ফাঁকে ঢাকা দেওয়া কড়াইয়ের ঢাকনা খুলে রান্নার ওই আলু-ফুলকপি, আর গোটা বড়ির তরকারি থেকে গোলগাল একটা-দুটো ফুলকপি ফুঁ দিতে দিতে বাড়ির পেছনে বাগানের মধ্যে লুকিয়ে যাওয়া, আর তারপরে আমার অন্য ভাইদেরও একই রাস্তা অনুসরণ করা। মা ফিরে এসে সহজ গোয়েন্দাগিরির দক্ষতায় বুঝত, কড়াইয়ের গায়ে ঝোলের দাগ আধ ইঞ্চি নেমে গেছে।
স্কুলের পরীক্ষার খাতায় টুকলি করা যে অপরাধ, সেটা যেমন বুঝতাম, তেমনই পাড়ার সুবোধ কাকার বউ চুরির মতো ঘটনাও তো আমরা ফিকফিক করে হেসেই উড়িয়ে দিয়েছি। এমনকী ফেসবুকে বন্ধু চুরির ব্যাপারটাও পুরো হজম করে গিয়েছি। ফেসবুকে বন্ধু চুরির ব্যাপারটা ভীষণভাবে একটা মানসিক অস্বস্তির কারণ। আমাদের মতো যারা ছবি আঁকিয়ে কিংবা অন্যান্য সৃজনশীল কাজকর্ম করে থাকেন, তাদের এটা একেবারে হাড়ে হাড়ে জানা। আপনার বন্ধুর লিস্টটা দেখে তাদের পরিচিতিটা জেনে বেছে-বেছে গোপনে বন্ধু পাতানো। ইন্টারনেটের দৌলতে এখন দেশ-বিদেশ সব একাকার। শহর, গ্রাম, জঙ্গল, পাহাড়, মরুভূমি– কিছুই বাদ যাচ্ছে না। তারপরের ঘটনা তো আপনার জানা। আপনাকে ডিঙিয়ে, আপনারই বন্ধুর সঙ্গে বেশি গলাগলি। কাজ কারবার, স্বার্থসিদ্ধি।
কত না চুরি ছোটবেলা থেকে দেখে এলাম। আরও কত আধুনিক চুরি দেখব। আর দেখব আধুনিক পদ্ধতি এবং সময়ের মানবিক আর মানসিক অবস্থা। জোচ্চুরি, অপহরণ, হাইজ্যাক, নারীপাচার, গরুপাচার তো হল। ট্যাক্স ফাঁকি, জাল টাকা, ইন্টারনেটের হ্যাকিং, এমনকী দরকার না থাকলেও চুরি করার অদম্য ইচ্ছার মানসিক রোগ, ‘ক্লেপ্টোম্যানিয়া’। মনোবিজ্ঞান চতুর্দিকে। অতি আধুনিক, প্লেজ্যারিজম বা Plagiarism। অন্যের সৃষ্টিকে নিজের বলে চালানো। অন্যের মগজ খাটিয়ে বানানো ফসলের অদৃশ্য চুরি।

‘কুম্ভীলক বৃত্তি’। বাংলায় খটোমটো একটা শব্দ, কিন্তু সারা পৃথিবীতে সাংঘাতিক সমসাময়িক একটি বিষয়। ইংরেজিতে ‘প্লেজ্যারিজম’। সোজাসাপ্টা বলতে গেলে– ‘চুরি’। অদ্ভুত চুরি। মুশকিল হচ্ছে, কখনও তা অপরাধ, আবার কখনও না। নানা দেশে নানা আইন। যতটা করলে ধরা পড়ার ভয় নেই বা আইনের চোখে মানানসই, ততটা তো চলছেই বহুকাল, কিন্তু ঠিক কতটা?
আপনি জানেন, নতুন নয় এই কুম্ভীলক বৃত্তি। তবে এর রূপ বদল যাচ্ছে ঘন ঘন। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এই প্রবৃত্তির চরিত্র বদল হচ্ছে দ্রুত। অদূর ভবিষ্যতে চেহারা আরও বদলানোর দিকে নজর আমাদের। এখন প্রশ্ন: কুম্ভীলক বৃত্তি– চুরি না নৈতিক অবক্ষয়? কুম্ভীলক বৃত্তি শুধু চুরি নয়, সত্যিই এক ধরনের নৈতিক অবক্ষয়। কারণ এখানে একজন ব্যক্তি শুধু অন্যের সৃষ্টিকে নিজের বলে দাবি করে না, বরং নিজের সৃজনক্ষমতার সীমাবদ্ধতাকে আড়াল করার জন্য মিথ্যার আশ্রয় নেয়। এই প্রতারণা কেবল ব্যক্তিগত নয়, এটা সমাজের প্রতি এক ধরনের বিশ্বাসঘাতকতাও। কুম্ভীলক বৃত্তিতে অভ্যস্ত ব্যক্তি নিজের চিন্তা করার ক্ষমতা তো হারিয়ে ফেলছেই, বড় করে দেখলে একটা জাতির মেধাগত ও চারিত্রিক অবক্ষয়ের নির্দেশ দিচ্ছে।
এ চুরিতে প্রাপ্তি– অর্থ, নকল যশ, নকল সম্মান, নিজেকে বড় করে দেখানোর লোভ আর আত্মতৃপ্তি। জটিল অর্থে মানসিক বিকার। এই কুম্ভীলরা আসল সৃষ্টিকর্তার অবদান বিন্দুমাত্র স্বীকার না করে– তার সাধনালব্ধ লেখা, সংগীত, শিল্পকর্ম বা গবেষণার তত্ত্ব, আংশিক বা হুবহু ব্যবহার করে নিজের সৃষ্টিকর্ম বলে চালিয়ে দেয়। সহজ পথ বেছে নেয়, অন্যের শ্রমকে আত্মসাৎ করে।

আমরা জানি শিল্পকলার ক্ষেত্রে, ইতিহাস জুড়ে শিল্পীরা একে অপরকে প্রভাবিত করেছেন চিরকাল। প্রভাব ও অনুপ্রেরণার এই আদান-প্রদান প্রতিভার বিকাশে অবদান রেখেছে এবং নতুন শিল্প আন্দোলন, শৈলী ও প্রকাশের মাধ্যমের জন্ম দিয়েছে। যা একজন শিল্পীর জন্য অনুপ্রেরণার এক ফলদায়ক উৎস, তার সঙ্গে একটা পরগাছার সম্পর্কে পরিণত হতে পারে। এমনকী একটা অবৈধ জাল অনুলিপির জন্ম দিতে পারে। তাহলে, মৌলিক শিল্পকর্ম এবং অন্যের দ্বারা অনুপ্রাণিত শিল্পকর্ম, কিংবা অন্যের কাজ চুরি আর সরাসরি জালিয়াতির মধ্যে সীমারেখাটি কোথায় টানবেন? কোন নিয়মগুলো মেনে চলতে হবে? এমন একটা স্পর্শকাতর, এমনকী নিষিদ্ধ বিষয়ের উপর কিছু সহজ বিশ্লেষণমূলক আলোচনা করা যেতে পারে।
সাধারণভাবে নতুন শিল্পীরা নামীদামি শিল্পীর কাজ নকল করবে। সেটা ততটা ভয়ের নয়। সেখানে অনুশীলন, অনুপ্রেরণা, বোঝাপড়া বলে একটা বিষয় মাথায় থাকে। এখন একটা সূক্ষ্ম কিন্তু ভয়াবহ দিক হল– বড় মাপের নামীদামিরা ছোট মাপের চিন্তাশীল শিল্পীদের ছবি থেকে চুরি করছে। এদের ভাববার সময় নেই, অথচ চাহিদা প্রচুর। প্রচার-প্রসারের মঞ্চ তাদের হাতের মুঠোয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষারত নতুনদের কোন অংশতে থাবা বসাতে হবে, তার দিকে থাকে তাদের শ্যেনদৃষ্টি। তারপর শত, সহস্র হয়ে প্রচারিত, বিক্রিত পণ্য পৃথিবীর বাজার ছেয়ে যায়।
শিল্পকলায় জালিয়াতির আরও অনেক দিক। শ্রমিক শিল্পী রেখে কাজের সংখ্যা বাড়ানোর কৌশলও চালু হয়েছে। নামীদামি শিল্পীদের বেশিরভাগ সময়ে দেখা পাওয়া যাবে বক্তৃতার মঞ্চে, সমাজসেবকের ভূমিকায়, ফিতে-কাটা উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে কিংবা বিলাসবহুল হোটেলে। মগজে শান দেওয়ার অছিলায় ঘন ঘন বিদেশযাত্রাও আছে। দুর্ভাগ্যবশত, এই ব্যক্তিরা আর্থিকভাবে খুবই সফল, কারণ সাধারণ মানুষ জানে না তারা কী করছে। বেশিরভাগ মানুষ বর্তমান শিল্পজগৎ সম্পর্কে এখনও তেমন পরিচিত নন।

আর এক দল আছে, মধ্যমেধার। কারিগরী দক্ষতায় পারদর্শী। তাদের উদ্দেশ্য, নামী শিল্পীর রচনা চুরি করে, আঙ্গিক চুরি করে তাঁর মতো হয়ে আত্মতৃপ্তি, কিংবা বড় ব্যবসায়ীর হাতের পুতুল হয়ে আসল সৃষ্টিকর্তার স্বাক্ষরসমেত হুবহু নকল করে মোটারকম রুজি-রোজগার। ভেবেছিলাম, আমার মাধ্যম, জলরঙের ছবি নকল করাটা বোধহয় অতটা সহজ হবে না। কিন্তু না! প্রত্যেক মানুষেরই নিজের প্রতিভা স্বাধীনভাবে প্রকাশ করার অধিকার আছে। তবে সেই সৃজনশীলতা যেন ভুল পথে না যায়, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। নইলে তা নিজের জন্য ক্ষতিকর হওয়ার পাশাপাশি জলরঙের মতো একটি শিল্পমাধ্যমের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। যে মাধ্যমটি স্বীকৃতি পেতে অনেক সময় নিয়েছে এবং এখনও পুরোপুরি স্থিতিশীল নয়।
আপনার মনে রাখা উচিত, যে কোনও শৈলী অনুকরণ করা আইনত দণ্ডনীয় নয়। কোনও শৈলী অনুকরণ বা প্রতিলিপি আইনত দণ্ডনীয় কেবল তখনই, যখন এর সাথে পরজীবী কার্যকলাপ যুক্ত থাকে, অর্থাৎ অন্য কোনও ব্যক্তির খ্যাতি ও সুনামের সুযোগ নেওয়ার সুস্পষ্ট ইচ্ছা থাকে। আপনি কি নকল করা, রচনাচুরি, জালিয়াতি এসবেরর সংজ্ঞা দিতে পারেন? কখন কুম্ভীলক বৃত্তি অনুকরণ-এ পরিণত হয়?
তবে এটাও সত্যি যে, সব ক্ষেত্রে কুম্ভীলক বৃত্তি ইচ্ছাকৃত নয়। অনেক সময় অজ্ঞতা, যথাযথ উদ্ধৃতি জানার অভাব, বা অসাবধানতার কারণেও এটি ঘটে। কিন্তু কারণ যাই হোক, এর ফল এক– বিশ্বাসের ক্ষতি। তাই শিক্ষাজীবনের শুরু থেকেই মৌলিকতা এবং সঠিকভাবে উৎস উল্লেখ করার অভ্যেস গড়ে তোলা জরুরি। শিল্পকলার ইতিহাসে দেখা যায়, এক শিল্পী আর এক শিল্পীর কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছেন ও প্রভাবিত হয়েছেন।

বিষয়বস্তু, আঁকার কৌশল ও শৈলী– সবকিছুতেই এই প্রভাব কাজ করে। এটা স্বাভাবিক, কারণ মানুষ হিসেবে শিল্পীরাও আগের শিল্পীদের অভিজ্ঞতা ও সাফল্য থেকে শেখে এবং নিজের কাজকে আরও ভালো করার চেষ্টা করে। এভাবেই শিল্প ধীরে ধীরে বদলায়। কখনও পুরনোর সঙ্গে নতুন কিছু যোগ করে, আবার কখনও পুরনোর বিরুদ্ধে গিয়ে নতুন পথ তৈরি করে। কিন্তু সমস্যা তখনই হয়, যখন এই প্রভাবের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। অর্থাৎ, যখন একজন শিল্পী শুধু অন্যকে নকল করতে শুরু করেন এবং নিজের কোনও স্বতন্ত্রতা থাকে না। তখন সেটা আর সৃজনশীল কাজ থাকে না, শুধু অনুকরণে পরিণত হয়। এটা খুবই ক্ষতিকর, বিশেষ করে যে নকল করছে সেই শিল্পীর জন্য।
ইন্টারনেট, শিল্পকলা-বিষয়ক বই, ম্যাগাজিন এবং ডিজিটাল মাধ্যম আবির্ভাবের ফলে অনেক সফল শিল্পীর শিল্পকর্ম বিনামূল্যে ও অফুরন্তভাবে পাওয়া যায়। কিছু চিত্রকর এর সুযোগ নিয়েছেন এবং স্রেফ একটি স্টাইল ‘চুরি’ করে সেটিকে নিজের বলে চালিয়ে দিয়েছেন! আরও খারাপ ব্যাপার হল, তারা যে আসল, মৌলিক কাজগুলো নকল করে, কখনও-কখনও সেগুলোকে কোনওভাবে পরিবর্তন করার চেষ্টাও করে না। AI শব্দটা ভীষণ প্রচারিত এখন। ওর হাজারো জিনিস গালে তুলে দেওয়ার প্রসঙ্গ থেকে বিরত থাকতে চাই আপাতত। আমি একজন গর্বিত শিল্পীকে তার প্রদর্শনীর উদ্বোধনে আমার কাজের একটি সুস্পষ্ট নকলের পাশে দাঁড়িয়ে সংবাদপত্রের জন্য ছবি তুলতে দেখেছি! এটা হতবাক করার মতো।
অনেকেই বলেন, তারা নকল করে জ্ঞানী শিল্পীর প্রতি ‘শ্রদ্ধা’ দেখাচ্ছেন। কিন্তু আসলে সত্যিকারের শ্রদ্ধা মানে সংযম বজায় রাখা, নিজের কাজকে আরও উন্নত করার চেষ্টা করা, অন্যকে কপি করা নয়। আজকের দিনে এই বিষয়টা অনেক সময় ভুলভাবে বোঝা বা বোঝানো হয়। যেমন ধরা যাক একজন বিখ্যাত শিল্পী, সে দেশের হোক বা বিদেশের, তার কাজের অংশ উদ্ধৃতি হিসেবে ব্যবহার করা। ঠিক যেমন লেখার মধ্যে সুযোগ মতো একটা কোটেশন ব্যবহার করে সিচুয়েশনটা বদলে দেওয়া যায়, পরিবেশটা অনেক বেশি মূল্যবান করে তোলা যায়।

ব্যাপারটা কেমন জানেন? শুরুতে বলা ওই এক মুঠো নীরস বুনো ফুলের ফাঁকে গুঁজে দেওয়া দু’-একটা চন্দ্রমল্লিকা। এই সাজানো ফুল যদি আপনি বিক্রি করেন তাহলে কিন্তু গল্পটা বদলে যাবে। লেখার ক্ষেত্রে যথাযথ কোটেশন বা উদ্ধৃতি ব্যবহারে লেখাটি সমৃদ্ধ হয় শুধু, পুরো লেখার যে পারিশ্রমিক বা রোজগার, তার কোনও পরিবর্তন হয় না। শিল্পকলার ক্ষেত্রে কোনও বিখ্যাত ছবির প্রতিলিপির চতুর প্রয়োগে, আংশিক হোক বা শতভাগ, তার নিচে শুধু শ্রদ্ধা নিবেদন লিখে দিলেই সাতখুন মাফ। অর্থাগম কিন্তু সাংঘাতিকভাবে বেড়ে যাবে। ভাবনাটা আপাতত আপনার ওপরে ছেড়ে দিলাম।
আজকাল অনেক চারুশিল্পী বিশ্বজুড়ে কর্মশালার আয়োজন করছেন। তাঁদের অভিজ্ঞতা বিতরণের কদর রয়েছে। শিল্পীদের অনেকেই পৃথিবীর বিখ্যাত আর্ট সোসাইটির সদস্য। দুর্ভাগ্যবশত, কিছু অনুরাগীর কাছে এই ওস্তাদ-শিল্পীরা কীভাবে কাজ করেন, তা শেখার সুযোগটি হল স্বীকৃতি লাভের চেষ্টায় একজন প্রতিষ্ঠিত শিল্পীর শৈলী ইচ্ছাকৃতভাবে নকল করার একটা চটজলদি সুযোগ। এ শুধু প্রলোভন নয়, অন্যের নিজস্বতা নষ্ট করার অপরাধ।
অতএব, কুম্ভীলক বৃত্তিকে শুধু ‘চুরি’ বলা যথেষ্ট নয়, এটি চুরির চেয়েও গভীর। এটি সততা, নৈতিকতা এবং আত্মসম্মানের সংকটের প্রতিফলন। একজন সত্যিকারের স্রষ্টা জানেন, অন্যের আলো ধার করে নিজেকে উজ্জ্বল করা যায় না। নিজের আলো জ্বালাতে হয় নিজেরই ভেতর থেকে। আজ আমরা এক ভয়াবহ সংকটের সম্মুখীন। প্রযুক্তির উন্নতি একদিকে, অন্যদিকে মানবিকতার অবনতি। তবুও অনুরোধ, মাথায় রাখুন– আপনি কী করতে পারেন এবং কী করতে পারেন না! আর চুরি যদি করতেই হয়, তা যেন হয় শিল্পসম্মত।
…পড়ুন অল্পবিজ্ঞান-এর অন্যান্য পর্ব…
পর্ব ২৮: মশা নিয়ে মশকরা
পর্ব ২৭: কাণ্ডজ্ঞানগম্যি
পর্ব ২৬: আয় ঘুম যায় ঘুম
পর্ব ২৫: ধুলোবালির পর বালিধুলো
পর্ব ২৪: তালাচাবির বন্ধুত্ব
পর্ব ২৩: বেঁধে থাকা বেঁধে রাখা
পর্ব ২২: এই দুনিয়া ঘোরে বনবন বনবন
পর্ব ২১: শরীরের ক্যানভাসে আঁকা শিল্প
পর্ব ২০: বিজ্ঞান পরিবেশনা ও মিউজিয়ামের অজানা গল্প
পর্ব ১৯: মরণের পরেও, এই পৃথিবীর জন্য আপনি রইলেন
পর্ব ১৮: মন রে কৃষিকাজ জানো না
পর্ব ১৭: গুপ্তধন কিম্বা লুপ্তধন
পর্ব ১৬: ছবির শরীর, শরীরের ছবি
পর্ব ১৫: মাপ করুন, সৃষ্টিশীলভাবে!
পর্ব ১৪: মাপের ভুলভাল, পাগলের মাপজোখ
পর্ব ১৩: শব্দ কল্প দ্রুম
পর্ব ১২: হ্যালো, তুমি শুনতে পাচ্ছ কি?
পর্ব ১১: ‘শব্দ’ শুধুই আওয়াজ নয়
পর্ব ১০: শিল্পকলায় বিষ্ঠা মানে ব্যঙ্গ, বিদ্রুপ অথবা প্রতিবাদ
পর্ব ৯: বাস্তব আর ভার্চুয়ালের সীমান্তে দাঁড়িয়ে হাইব্রিড আর্ট প্রশ্ন করতে শেখায়– শিল্প কী?
পর্ব ৮: মগজে না ঢুকলে শিল্পও আবর্জনা
পর্ব ৭: ছবির অসুখ-বিসুখ, ছবির ডাক্তার
পর্ব ৬: বিসর্জনের মতোই একটু একটু করে ফিকে হয়ে যাচ্ছে পৃথিবীর রং ও রূপ
পর্ব ৫: জীবন আসলে ক্যালাইডোস্কোপ, সামান্য ঘোরালেই বদলে যায় একঘেয়ে নকশা
পর্ব ৪: কুকুরেরই জাত ভাই, অথচ শিয়াল সম্পর্কে আমরা কতটুকু জানি?
পর্ব ৩: অন্ধকারে অল্প আলোর মায়া, ফুরয় না কোনওদিন!
পর্ব ২: বজ্রবিদ্যুৎ ভর্তি আকাশে ঘুড়ি উড়িয়ে আমাদের চিরকালের নায়ক হয়ে আছেন বেঞ্জামিন ফ্র্যাঙ্কলিন
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved