


অসমের বন্যার কারণ অনুসন্ধান করতে গেলে শেষপর্যন্ত আমাদের ব্রহ্মপুত্রকে বুঝতে হয় শুধু একটি নদী হিসেবে নয়, বরং হিমালয় থেকে বঙ্গীয় বদ্বীপ পর্যন্ত বিস্তৃত একটি জীবন্ত, পরিবর্তনশীল ভূ-প্রাকৃতিক ব্যবস্থা হিসেবে। ব্রহ্মপুত্র একই সঙ্গে জীবনদায়ী এবং বিপজ্জনক, সৃষ্টিশীল এবং ধ্বংসাত্মক। নদীকে আটকানোর চেয়ে নদীকে বোঝা, তাকে প্রয়োজনীয় স্থান দেওয়া এবং তার পরিবর্তনশীলতার সঙ্গে মানুষের জীবনকে অভিযোজিত করাই অসমের দীর্ঘমেয়াদি বন্যা মোকাবিলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পথ। উন্নয়ন যেন মানুষের জীবনের স্মৃতি, ভালোবাসা, বিশ্বাসের পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায় তার প্রচেষ্টা করতে হবে সর্বোপরি।
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ সমভূমি, পাহাড়, অরণ্য, জলাভূমি ও নদীকেন্দ্রিক জনজীবনের অন্যতম কেন্দ্র অসম। কিন্তু এই ভূপ্রকৃতির সঙ্গে প্রায় অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে রয়েছে বন্যা ও নদীভাঙন। বর্ষা এলেই ব্রহ্মপুত্র, বরাক এবং তাদের অসংখ্য উপনদীর জলস্তর বৃদ্ধি পায়; প্লাবিত হয় গ্রাম, কৃষিজমি, সড়ক ও জনপদ। কোনও কোনও বছর একই অঞ্চলে তিন-চার দফায় বন্যা দেখা যায়। ফলে অসমের ক্ষেত্রে বন্যা কোনও বিচ্ছিন্ন দুর্যোগ নয়, বরং রাজ্যের পরিবেশ, অর্থনীতি ও মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা পুনরাবৃত্ত প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া।

এই সমস্যার ব্যাপ্তি বোঝাতে একটি পরিসংখ্যানই যথেষ্ট। অসম সরকারের ‘Water Resources Department’-এর তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যের প্রায় ৩১.০৫ লক্ষ হেক্টর বা ৩১,০৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকা বন্যাপ্রবণ, যা অসমের মোট ভূমির প্রায় ৩৯.৫৮ শতাংশ! তুলনায় ভারতের মোট ভূখণ্ডের প্রায় ১০.২ শতাংশ বন্যাপ্রবণ হিসেবে চিহ্নিত। অর্থাৎ, আনুপাতিকভাবে অসমের বন্যাপ্রবণ এলাকা জাতীয় গড়ের প্রায় চারগুণ। গড়ে বছরে প্রায় ৯.৩১ লক্ষ হেক্টর এলাকা বন্যায় আক্রান্ত হয়।
কিন্তু কেন এত বন্যা? শুধুই কি অতিরিক্ত বর্ষণ? বাস্তবে অসমের বন্যার নেপথ্যে কাজ করছে একটি জটিল ‘hydro-geomorphological system’, যেখানে হিমালয়ের নবীন ভূপ্রকৃতি, দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু, ব্রহ্মপুত্রের বিপুল জলপ্রবাহ ও পলি, নদীর গতিশীল চরিত্র, ভূমিধস ও ভূমিকম্পের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ভূমি ব্যবহারের পরিবর্তন, প্লাবনভূমিতে বসতি, জলাভূমির সংকোচন, নগরায়ন এবং পরিবর্তিত জলবায়ু।
অসমের ভূপ্রকৃতিকে প্রধানত দু’টি বৃহৎ নদীব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করে– উত্তরের ও মধ্যভাগের ব্রহ্মপুত্র উপত্যকা এবং দক্ষিণের বরাক উপত্যকা। রাজ্যের মোট ভৌগোলিক আয়তন প্রায় ৭৮,৪৩৮ বর্গকিলোমিটার; এর মধ্যে প্রায় ৫৬,১৯৪ বর্গকিলোমিটার ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার এবং ২২,২৪৪ বর্গকিলোমিটার বরাক উপত্যকা ও সংশ্লিষ্ট পাহাড়ি অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।

ব্রহ্মপুত্রের ক্ষেত্রে অসমকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখলে সমস্যাটি বোঝা সম্ভব নয়। ভারতের মধ্যে ব্রহ্মপুত্র উপ-অববাহিকার ড্রেনেজ এরিয়া প্রায় ১,৯৪,৪১৩ বর্গকিলোমিটার। এর মধ্যে অরুণাচল প্রদেশেই প্রায় ৮১,৪২৪ বর্গকিলোমিটার এবং অসমে প্রায় ৭০,৬৩৪ বর্গকিলোমিটার। মেঘালয়, নাগাল্যান্ড, সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গের অংশও এই ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত। এর বাইরে তিব্বত ও ভুটানের বিশাল উজান অঞ্চল রয়েছে। ফলে অসমে বন্যার জল শুধু সেখানকার আকাশ থেকে নামে না। শত শত কিলোমিটার দূরের পাহাড়ে পড়া বৃষ্টিও শেষপর্যন্ত বিভিন্ন নদী ও উপনদী হয়ে অসমের সমভূমিতে এসে পৌঁছয়।
তিব্বতের মালভূমিতে ‘ইয়ারলুং সাংপো’ নামে প্রবাহিত নদীটি পূর্ব হিমালয়ের গভীর গিরিখাত অতিক্রম করে অরুণাচল প্রদেশে ‘সিয়াং’ বা ‘দিহাং’ নামে প্রবেশ করে। পরে দিবাং ও লোহিত-সহ বিভিন্ন নদীর সঙ্গে যুক্ত হয়ে অসমে ব্রহ্মপুত্র নামে প্রবাহিত হয়। অসমে প্রবেশের পর নদীটির প্রকৃতি দ্রুত বদলে যায়। পাহাড়ি অঞ্চলের তুলনায় এখানে ভূমির ঢাল অনেক কম। ফলে নদীর গতিবেগ ও ‘sediment carrying capacity’-র পরিবর্তন ঘটে। উজান থেকে বয়ে আনা বালি, কাদা, নুড়ি ও অন্যান্য পলি বিভিন্ন স্থানে জমা হতে থাকে। ব্রহ্মপুত্র তাই অনেকাংশে একটি ‘braided river’, অর্থাৎ একটিমাত্র স্থির চ্যানেলের পরিবর্তে বহু শাখা-প্রশাখায় বিভক্ত, মাঝখানে অসংখ্য বালুচর ও চর, যেগুলি সৃষ্টি হয়, ভাঙে, আবার অন্যত্র গড়ে ওঠে। এই চরিত্রই অসমের বন্যা ও নদীভাঙন বোঝার মূল চাবিকাঠি।
ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার উত্তরদিকে পূর্ব হিমালয় ও ভুটানের পাহাড়; দক্ষিণে নাগাল্যান্ড, কার্বি আংলং ও মেঘালয়ের উচ্চভূমি। এই পাহাড়ি অঞ্চল থেকে বহু নদী খুব অল্প দূরত্বে উচ্চতা হারিয়ে অসমের সমভূমিতে নামে। উত্তর তীরের গুরুত্বপূর্ণ নদীগুলির মধ্যে সুবনসিরি, রঙ্গানদী, ডিক্রং, জিয়া-ভরলি, পুঠিমারি, মানস, বেকি, আই ও সংকোশ উল্লেখযোগ্য। দক্ষিণ তীরে বুড়ি দিহিং, দিসাং, দিখৌ, ভোগদৈ, ধনসিরি, কপিলি, কুলসি, কৃষ্ণাই-সহ বহু নদী ব্রহ্মপুত্রে এসে মিশেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্ষাকালে কোনও উপনদীর ‘flood peak’ যদি ব্রহ্মপুত্রের ‘flood peak’-এর সঙ্গে একই সময়ে মিলে যায়, তখন পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুতর হয়ে ওঠে। এখানেই অসমের বন্যার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য– একই সময়ে বহু নদীর জলস্তর বৃদ্ধি।

অসম ভারতের অন্যতম উচ্চ বৃষ্টিপাতপ্রাপ্ত অঞ্চলের অংশ। ‘অসম স্টেট ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান’ অনুযায়ী, রাজ্যে গড় বার্ষিক বৃষ্টিপাত প্রায় ২,৪২৫ মিলিমিটার। বঙ্গোপসাগর থেকে বিপুল জলীয় বাষ্প নিয়ে আসা দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু উত্তর-পূর্ব ভারতের পাহাড়ে বাধা পেয়ে উপরে উঠে যায়। বায়ু ঠান্ডা হয়ে ঘনীভূত হলে প্রবল ‘orographic rainfall’ ঘটে। বিশেষ করে মেঘালয়ের দক্ষিণ ঢাল পৃথিবীর সর্বাধিক বৃষ্টিপাতপ্রাপ্ত অঞ্চলগুলির মধ্যে অন্যতম।
সমস্যাটি শুধু মোট বৃষ্টির পরিমাণ নয়। কয়েক দিন বা কখনও কয়েক ঘণ্টার মধ্যে একটি জলাধার-অঞ্চলে বিপুল বৃষ্টি হলে পাহাড়ি নদীর জলমাত্রা দ্রুত বেড়ে যায়। নদী তখন জলধারণ ক্ষমতা ছাড়িয়ে প্লাবনভূমিতে ছড়িয়ে পড়ে। সরকারি নথিতে, ২০০৪ ও ২০১৪ সালে মেঘালয়ের জলাধার-অঞ্চলে ‘ক্লাউড-বার্স্ট’-এর পর নিম্ন অসমের দক্ষিণতীরের নদীগুলিতে উচ্চমাত্রার ‘flash flood’ এবং ২০১১ সালের আগস্টে অরুণাচলের জলাধার-অঞ্চলে প্রবল বৃষ্টির পর গাইনদী ও জিয়াধলে বিধ্বংসী ‘flash flood’-এর উল্লেখ রয়েছে। অর্থাৎ, বন্যা ঘটানোর জন্য অসমের সংশ্লিষ্ট জেলায় অতিবৃষ্টি হওয়াই আবশ্যক নয়, উজানের বৃষ্টি কয়েক ঘণ্টা বা কয়েক দিনের মধ্যে নিম্ন অববাহিকায় বিপদ তৈরি করতে পারে।
ব্রহ্মপুত্রের জল যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার বহন করা পলিও ততটাই গুরুত্বপূর্ণ। হিমালয় ভূতাত্ত্বিকভাবে একটি নবীন পর্বতমালা। ভারতীয় প্লেট ও ইউরেশীয় প্লেটের সংঘর্ষ এখনও চলমান। খাড়া ঢাল, দুর্বল ও ভঙ্গুর শিলা, ভূমিকম্প, প্রবল বর্ষণ এবং ভূমিধসের কারণে হিমালয়ের বিপুল পরিমাণ মাটি ও শিলা ক্রমাগত ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছে। বর্ষাকালে পাহাড়ি ঢাল থেকে নেমে আসা নদীগুলি এই ক্ষয়জাত পদার্থ বহন করে সমভূমিতে নিয়ে আসে। পাহাড়ে নদীর গ্র্যাডিয়েন্ট বা ঢাল বেশি হওয়ায় বড় আকারের তলানি অধঃক্ষেপ বহন করা সম্ভব। কিন্তু অসমের সমভূমিতে পৌঁছে ঢাল কমলে নদীর পরিবহন ক্ষমতা কমে এবং পলি জমতে থাকে। এই ক্ষয়, বহন ও অধঃক্ষেপণ প্রক্রিয়াই ব্রহ্মপুত্রের চ্যানেলকে ক্রমাগত পুনর্গঠন করে।

পলি কেন বন্যার চরিত্র বদলে দেয়? পলি মানেই যে পুরো নদীর তলদেশ সমানভাবে উঁচু হয়ে যাচ্ছে, বিষয়টি এত সরল নয়। পলি কোথাও চর তৈরি করে, কোথাও ‘channel bar’, কোথাও নদীর মূল প্রবাহকে পাশের দিকে সরিয়ে দেয়। পরবর্তী বন্যায় আবার সেই চর ভেঙে অন্যত্র তলানি জমতে পারে। ফলে নদীর প্রস্থ এবং ‘channel capacity’ স্থান ও সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়। একটি স্থানে গত বছর যে পথে মূলস্রোত ছিল, পরের বছর সেখানে চর তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে, নতুন চ্যানেল তৈরি হয়ে স্রোত কোনও গ্রাম বা বাঁধের দিকে আঘাত করতে পারে। এই কারণেই ব্রহ্মপুত্রের বন্যার সঙ্গে পারের ক্ষয়, চ্যানেল স্থানান্তর এবং চর গঠনকে আলাদা করে দেখা যায় না।
বন্যার জল কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহ পরে নেমে যেতে পারে। কিন্তু নদীভাঙনে হারানো জমি ফিরে আসে না। অসম সরকারের ‘Water Resources Department’-এর হিসেবে ১৯৫০ সালের পর থেকে ব্রহ্মপুত্র ও তার উপনদীর ভাঙনে ৪.২৭ লক্ষ হেক্টরের বেশি জমি হারিয়ে গিয়েছে। গড় বার্ষিক ভূমিক্ষয়ের পরিমাণ প্রায় ৮,০০০ হেক্টর। কোনও কোনও স্থানে ব্রহ্মপুত্রের প্রস্থ প্রায় ১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। আরও তাৎপর্যপূর্ণ হল নদীর বিস্তার। বিভিন্ন সময়ের সার্ভে অনুযায়ী, ব্রহ্মপুত্রের দখলে থাকা এলাকা ১৯১২-’২৮ সময়ে প্রায় ৩,৮৭০ বর্গকিলোমিটার, ১৯৬৩-’৭৫ সময়ে প্রায় ৪,৮৫০ বর্গকিলোমিটার এবং ২০০৬ সালের NESAC সার্ভে-তে প্রায় ৬,০৮০ বর্গকিলোমিটার হিসেবে পাওয়া যায়। অর্থাৎ, সমস্যাটি শুধু কতটা জল আসছে, তা নয়; নদী নিজেই তার স্থান পরিবর্তন করছে। মাজুলির মতো নদীদ্বীপ এই প্রক্রিয়ার প্রতীক। সরকারি হিসেবে নদীভাঙনে মাজুলির মূল আয়তনের প্রায় ৬০ শতাংশ ইতিমধ্যে হারিয়ে গিয়েছে।

১৫ আগস্ট, ১৯৫০-এর অসম-তিব্বত ভূমিকম্প উত্তর-পূর্ব ভারতের ভূ-প্রাকৃতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এটি শুধু বসতি ও অবকাঠামো ধ্বংস করেনি; পূর্ব হিমালয়ের অসংখ্য স্থানে ব্যাপক ভূমিধস সৃষ্টি করেছিল। পাহাড় থেকে বিপুল পরিমাণ পাথরের টুকরো ও চূর্ণ নদীতে প্রবেশ করে। কোথাও ভূমিধস সাময়িকভাবে নদীর পথ আটকে দেয়; পরে সেই প্রাকৃতিক বাধা ভাঙলে আকস্মিকভাবে জল ও পলি নিম্নদিকে ছুটে আসে। পরবর্তী দশকগুলিতে ব্রহ্মপুত্রের ‘channel morphology’ এবং ‘sediment regime’-এ যে বড় পরিবর্তন দেখা যায়, তার আলোচনায় ১৯৫০ সালের ভূমিকম্প গুরুত্বপূর্ণ। তবে বর্তমানের প্রতিটি নদীপার ক্ষয় বা প্লাবনকে সরাসরি সেই একটি ঘটনার ফল হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। বরং ভূমিকম্প দেখিয়ে দেয় যে, এই নদী-ব্যবস্থা কতটা ‘tectonically sensitive’।
অসমের আরেকটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল– একই বর্ষায় একাধিকবার বন্যা হওয়া। সরকারি ‘Water Resources Department’-এর বর্ণনা অনুযায়ী, বন্যাপ্রবণ এলাকায় প্রায় প্রতি বছরই তিন থেকে চারটি প্লাবনস্রোত দেখা যেতে পারে। স্বাধীনতার পর ১৯৫৪, ১৯৬২, ১৯৭২, ১৯৭৭, ১৯৮৪, ১৯৮৮, ১৯৯৮, ২০০২, ২০০৪ ও ২০১২-সহ বিভিন্ন বছর বড় বন্যার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। একবার বন্যা হলে কৃষক হয়তো পুনরায় বীজ বপন করতে পারেন। কিন্তু কয়েক সপ্তাহ পরে আবার বন্যা হলে দ্বিতীয় ফসলও নষ্ট হয়। ঘর মেরামতের আগেই আবার জল ঢুকে পড়ে। পানীয় জলের উৎস দূষিত হয়, গবাদিপশুর খাদ্য সংকট তৈরি হয় এবং সড়ক যোগাযোগ বারবার বিচ্ছিন্ন হয়। ফলে পুনঃপ্লাবন একটি একক বড় বন্যার তুলনায় সামাজিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি বাড়িয়ে দিতে পারে।
অসমের বন্যা বলতে অধিকাংশ সময় ব্রহ্মপুত্রকে সামনে আনা হলেও বরাক উপত্যকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বরাক সাব-বেসিন ভারত, বাংলাদেশ ও মায়ানমারের অংশ জুড়ে বিস্তৃত। ভারতের মধ্যে এর ‘drainage area’ প্রায় ৪১,৭২৩ বর্গকিলোমিটার। মেঘালয়, মণিপুর, মিজোরাম, অসম, ত্রিপুরা ও নাগাল্যান্ডের অংশ এই অববাহিকার অন্তর্গত। বরাক উপত্যকার মূল সমভূমি ঘনবসতিপূর্ণ এবং ব্যাপক কৃষিনির্ভর। কাটাখাল, জিরি, চিরি, মধুরা, লোঙ্গাই, সোনাই, রুকনি ও সিংলা প্রভৃতি বরাকের গুরুত্বপূর্ণ উপনদী। এগুলির অনেকটাই বৃষ্টি দ্বারা পুষ্ট। ফলে জলাধার অঞ্চলে ভারী বৃষ্টির সময় দ্রুত জলস্তর বৃদ্ধি পায়। বরাক অবশেষে বাংলাদেশে প্রবেশ করে বৃহত্তর মেঘনা নদীব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়। তাই অসমের বন্যা-ব্যবস্থাপনা বলতে শুধু ব্রহ্মপুত্র নয়, বরাক অববাহিকাকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

এখানেই একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন মাথা চাড়া দেয়– ব্রহ্মপুত্র তো হাজার হাজার বছর ধরেই বন্যা ঘটাচ্ছে। তাহলে আজ বন্যা এত বড় দুর্যোগ কেন? এর উত্তর ‘hazard’, ‘exposure’ এবং ‘vulnerability’-র সম্পর্কের মধ্যে রয়েছে। বন্যা না-হয় প্রাকৃতিক দুর্যোগ। কিন্তু প্লাবনভূমির মধ্যে যদি জনসংখ্যা, কৃষি, রাস্তা, স্কুল, হাসপাতাল, বাজার ও স্থায়ী বসতি বৃদ্ধি পায়, তবে একই মাত্রার বন্যায় ক্ষতির পরিমাণ বহুগুণ বেড়ে যায়। ব্রহ্মপুত্রের চরাঞ্চল ও নদী-তীরবর্তী বহু মানুষের জীবিকা কৃষি, মাছ ধরা এবং নদীনির্ভর অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত। উর্বর পলিমাটির কারণে প্লাবনভূমি কৃষির জন্য আকর্ষণীয়। ফলে বিপদের সম্ভাবনা জানা সত্ত্বেও মানুষকে নদীর কাছেই থাকতে হয়। এখানে বন্যা তাই শুধু ‘hydrological event’ নয়; এটি জমিজায়গা, জীবনজীবিকা, দারিদ্র, বাসাবদল এবং সামাজিক ঝুঁকির প্রশ্ন।
১৯৫৪ সালের বিধ্বংসী বন্যার পর ভারত-জুড়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণে অবকাঠামোগত ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব বাড়ে। অসমেও ব্যাপক বাঁধ-নির্মাণ শুরু হয়। অসম সরকারের হিসেবে, রাজ্যে প্রায় ৪,৪৭৩.৮২ কিলোমিটার বাঁধ নির্মিত হয়েছে। পাশাপাশি ৬৫৫ কিলোমিটারের বেশি বাঁধ উঁচু ও শক্তিশালী করা, শত শত ক্ষয়রোধী ব্যবস্থা ও নগরসুরক্ষা প্রণালী, ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং স্লুইস বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রায় ১৬.৫০ লক্ষ হেক্টর বন্যাপ্রবণ এলাকাকে কিছু মাত্রায় সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু একই সরকারি নথি স্বীকার করছে যে, এখন পর্যন্ত মূলত আশু ও স্বল্পমেয়াদী পদক্ষেপই বাস্তবায়িত হয়েছে; দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থার ঘাটতি রয়েছে। বাঁধ বা ‘এমব্যাঙ্কমেন্ট’ মাঝারি বন্যায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা দেয়। কিন্তু ব্রহ্মপুত্রের মতো ‘channel-migrating’ নদীর ক্ষেত্রে একটি সমস্যা হল নদীর স্রোত বাঁধের দিকে সরে এলে পার-ক্ষয় বাঁধের ভিত্তিকে দুর্বল করতে পারে। আবার বাঁধ ভেঙে গেলে বা ফাটল ধরলে অল্প সময়ে বিপুল জল সুরক্ষিত বলে বিবেচিত এলাকায় ঢুকে পড়তে পারে। তাই প্রশ্নটি ‘বাঁধ থাকবে কি থাকবে না’ নয়; বরং কোথায় বাঁধ দরকার, কীভাবে রক্ষণাবেক্ষণ হবে এবং কোথায় নদীকে প্লাবনভূমি ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হবে।
অসমের অসংখ্য বিল, অক্স-বো হ্রদ, জলাভূমি, পুরনো নদীখাত এবং নিচু জমি প্রাকৃতিকভাবে বন্যার জল ধারণ করে। বর্ষায় নদীর অতিরিক্ত জল এসব অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে এবং পরে ধীরে ধীরে নদীতে ফিরে যায় বা মাটিতে প্রবেশ করে। অর্থাৎ, জলাভূমি হল প্রাকৃতিক জল-সংরক্ষণ ব্যবস্থা। যখন জলাভূমি ভরাট হয়, ‘drainage channel’ সংকুচিত হয় অথবা রাস্তা ও বসতি প্রাকৃতিক জলপ্রবাহ বন্ধ করে দেয়, তখন সেই জল অন্যত্র জমা হতে বাধ্য। এই সমস্যাটি গৌহাটিতে বিশেষভাবে স্পষ্ট।

গৌহাটিতে জলাবদ্ধতা বা ‘flash flood’ হলেই ব্রহ্মপুত্রকে দায়ী করলে পুরো সমস্যাটি বোঝা যায় না। শহরটি পাহাড়, নিম্নভূমি ও জলাভূমির একটি জটিল ভূপ্রকৃতির ওপর গড়ে উঠেছে। ‘ASDMA’-র ‘urban flood review’-তে অপর্যাপ্ত অবকাঠামো, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, প্রাকৃতিক জলাভূমি ও জঙ্গল হ্রাস, পাহাড় এলাকায় জবরদখল এবং প্রাকৃতিক নিকাশী ব্যবস্থার অবরোধকে গুয়াহাটির ‘flash flood’-এর গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। দীপোর বিল, শিলসাকো, বোরসোলা, সরুসোলা প্রভৃতি জলাভূমি শহরের নিকাশী ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত। অনধিকার জলাভূমি দখল, পলি পড়া, তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়া ও আবর্জনা ফেলা তাদের জলধারণ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। পাহাড়ি ঢালে প্রবল বৃষ্টি হলে জল দ্রুত শহরের নিচু অংশে নামে। সেখানে যদি ড্রেন আবর্জনা বা পলিতে আটকে থাকে এবং জলাভূমির ধারণ ক্ষমতা কমে যায়, তবে কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই শহরের রাস্তা নদীর মতো হয়ে উঠতে পারে। এটি মূলত শহুরে জলবিজ্ঞানের সংকট, যেখানে প্রাকৃতিক ভারী বৃষ্টির সঙ্গে অপরিকল্পিত নগরায়ন যুক্ত হয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তন অসমের বন্যা সৃষ্টি করেছে, এমন বক্তব্য একেবারেই সঠিক নয়। ব্রহ্মপুত্রের বন্যা জলবায়ু পরিবর্তনের বহু হাজার বছর আগে থেকেই ঘটছে। কিন্তু পরিবর্তিত জলবায়ু এই প্রাকৃতিক ব্যবস্থার ওপর নতুন চাপ তৈরি করছে। বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা বাড়লে তার জলীয় বাষ্প ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। উপযুক্ত আবহাওয়াগত পরিস্থিতিতে এর ফলে অল্প সময়ে বেশি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা বাড়তে পারে। আবার বর্ষার বৃষ্টির ‘spatial’ এবং ‘temporal distribution’ পরিবর্তিত হলে একই মরশুমে দীর্ঘ শুষ্ক আবহাওয়া এবং তারপর অত্যন্ত প্রবল বৃষ্টি দেখা যেতে পারে। বন্যার ক্ষেত্রে মোট মরশুমি বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি তাই গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে– বৃষ্টি কত সময়ের মধ্যে পড়ছে।
ধরা যাক, একটি মাসের স্বাভাবিক বৃষ্টির বড় অংশ যদি মাত্র দুই-তিন দিনে নেমে আসে, তবে মাটি, নদী ও ড্রেনেজ সিস্টেম সেই জল দ্রুত সামলাতে পারে না। পাহাড়ে ভূমিধস এবং সমভূমিতে ‘flash flood’-এর ঝুঁকি বাড়ে। তাই জলবায়ু পরিবর্তনকে অসমের ক্ষেত্রে ‘risk multiplier’ হিসেবে দেখা অধিক যুক্তিসঙ্গত, যা ইতিমধ্যেই বন্যাপ্রবণ একটি ব্যবস্থার চরম ঘটনাগুলির ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তা বাড়াতে পারে।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈপরীত্য রয়েছে। আমরা মানুষের দৃষ্টিতে বন্যাকে ‘বিপর্যয়’ বলি। কিন্তু প্লাবনভূমির বাস্তুতন্ত্রের জন্য নিয়মিত বন্যা প্রয়োজনীয়। বন্যার জল উর্বর পলি নিয়ে আসে। নদী ও বিলের মধ্যে সংযোগ তৈরি করে। মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর ব্রিডিং এবং মাইগ্রেশনের সুযোগ সৃষ্টি করে। তৃণভূমি ও জলাভূমির বাস্তুতন্ত্র পুনরুজ্জীবিত হয়। কাজিরাঙার মতো প্লাবনভূমি-বাস্তুতন্ত্রের পরিবেশগত গতিশীলতার সঙ্গেও মৌসুমি প্লাবনের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। অতএব বন্যা নিজে ইকোলজিকাল সমস্যা নয়; ‘uncontrolled human exposure to flood’ একটি ‘disaster problem’। এখানেই অসমের ভবিষ্যৎ বন্যাসুরক্ষা নীতির দৃষ্টিভঙ্গি বদলানো দরকার।
ব্রহ্মপুত্রকে স্থির একটি নদী হিসেবে ধরে তাকে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা বাস্তবসম্মত নয়। এটি একটি ডায়নামিক রিভার সিস্টেম– যেখানে জল, পলি, চ্যানেল এবং প্লাবনভূমি একসঙ্গে কাজ করে। তাই ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় কয়েকটি বিষয় বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
প্রথমত, ‘basin-scale management’ দরকার। শুধু অসমের প্রশাসনিক সীমানার মধ্যে নদী ব্যবস্থাপনা করলে হবে না। অরুণাচল, মেঘালয়, নাগাল্যান্ড, সিকিম, ভুটান এবং বৃহত্তর অঞ্চলের বৃষ্টিপাত ও ‘river-flow information’ দ্রুত ভাগ করে নেওয়া প্রয়োজন।
দ্বিতীয়ত, ‘Flood Early Warning System’ আরও স্থানভিত্তিক করতে হবে। ‘ASDMA’ ইতিমধ্যে ‘FLEWS’, ‘Flood Hazard Atlas’ এবং ১৯৯৮-২০২৩ সময়কালের ‘Flood Hazard Zonal Atlas’-এর মতো উদ্যোগ নিয়েছে। এগুলির সঙ্গে ‘satellite observation’, ‘weather radar’, ‘automatic rain gauge’, ‘river gauge’ এবং ‘community warning network’ যুক্ত করা জরুরি। এ-বিষয়ে সিটিজেন সায়েন্সের ভূমিকা বিশেষ উল্লেখযোগ্য।
তৃতীয়ত, ‘floodplain zoning’ কার্যকর করা প্রয়োজন। কোথায় প্রতি বছর জল ওঠে, কোথায় ১০ বা ৫০ বছরের ‘return-period flood’ পৌঁছতে পারে এবং কোথায় ক্ষয়জনিত ঝুঁকি বেশি, সেই অনুযায়ী ভূমি ব্যবহার নির্ধারণ করতে হবে।

চতুর্থত, চর ও নিয়মিত বন্যাপ্রবণ এলাকায় ‘flood-resilient housing’ দরকার, উঁচু ‘plinth’, ‘raised community shelter’, গবাদিপশুর জন্য উঁচু আশ্রয়, নিরাপদ পানীয় জলের ব্যবস্থা এবং বন্যার সময় সচল থাকবে এমন যোগাযোগ ব্যবস্থা।
পঞ্চমত, জলাভূমি এবং ‘natural drainage corridor’-কে বন্যা অবকাঠামো হিসেবেই দেখতে হবে। একটি প্রাকৃতিক জলাভূমি সংরক্ষণ করা অনেক ক্ষেত্রে শুধু জীববৈচিত্র রক্ষা নয়, শহর বা গ্রামের জন্য কয়েক লক্ষ ঘনমিটার অতিরিক্ত জল ধারণের স্থান রক্ষা করা।
ষষ্ঠত, শহর ও শহরতলির নিকাশি ব্যবস্থা, আবর্জনা ব্যবস্থাপনা করার বিশেষ প্রয়োজন। আবর্জনা জমে জলের স্বাভাবিক গতিপথে বাধা সৃষ্টি করে। এবং সর্বোপরি, নদীভাঙনে জমি হারানো পরিবারগুলির জন্য বন্যাত্রাণের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী পুনর্বাসন ও জীবিকার নিরাপত্তা দরকার। কারণ, বন্যার জল নেমে গেলেই দুর্যোগ শেষ হয় না।
অসমের বন্যার কারণ অনুসন্ধান করতে গেলে শেষপর্যন্ত আমাদের ব্রহ্মপুত্রকে বুঝতে হয় শুধু একটি নদী হিসেবে নয়, বরং হিমালয় থেকে বঙ্গীয় বদ্বীপ পর্যন্ত বিস্তৃত একটি জীবন্ত, পরিবর্তনশীল ভূ-প্রাকৃতিক ব্যবস্থা হিসেবে।

হিমালয়ের খাড়া ও ক্ষয়প্রবণ ঢাল বিপুল পলি তৈরি করে; মৌসুমি বৃষ্টি সেই পলি ও জল নদীতে নিয়ে আসে; পাহাড় থেকে সমভূমিতে প্রবেশের পর নদীর গ্র্যাডিয়েন্ট কমে যায়; তলানি ভরাট হয়ে চর তৈরি হয়; ‘channel’ পরিবর্তিত হয়; বর্ষায় ব্রহ্মপুত্র ও তার উপনদীর ‘flood peak’ একই সময়ে মিললে নদী প্লাবনভূমিতে ছড়িয়ে পড়ে। এই প্রাকৃতিক ব্যবস্থার ওপর বসতি, কৃষি, রাস্তা, শহর, বাঁধ ও অন্যান্য অবকাঠামোর চাপ বাড়ছে। জলাভূমি ও প্রাকৃতিক নিকাশি ব্যবস্থা সংকুচিত হচ্ছে। পরিবর্তিত জলবায়ু চরম বৃষ্টিপাতের অনিশ্চয়তাকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। তাই অসমের বন্যা শুধুমাত্র ‘অতিরিক্ত বৃষ্টি’ নয়। এটি একই সঙ্গে ভূতত্ত্ব, জলবিজ্ঞান, নদীর ভূ-আকৃতি, জলবায়ু, ভূমি ব্যবহার এবং মানুষের ‘vulnerability’-র সম্মিলিত ফল।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ব্রহ্মপুত্রকে সম্পূর্ণ বন্যামুক্ত করা সম্ভবও নয়, পরিবেশগতভাবে কাম্যও নয়। বরং প্রশ্ন হওয়া উচিত কীভাবে বন্যা হলেও তাকে প্রতি বছর মানবিক বিপর্যয়ে পরিণত হওয়া থেকে রোখা যায়?
এর উত্তর রয়েছে বন্যা নিয়ন্ত্রণের ধারণা থেকে ‘flood resilience’ এবং ‘living with rivers’-এর দিকে এগিয়ে যাওয়ার মধ্যে। নদীর জন্য প্রয়োজনীয় স্থান সংরক্ষণ, প্লাবনভূমির বৈজ্ঞানিক ব্যবহার, জলাভূমি পুনরুদ্ধার, উজান থেকে ‘real-time’ তথ্য আদানপ্রদান, উন্নত পূর্বাভাস, ‘erosion mapping’, ‘climate-resilient infrastructure’ এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জ্ঞানকে পরিকল্পনার অংশ করা, এই সমস্ত ব্যবস্থাকে একসঙ্গে গ্রহণ করতে হবে। কারণ অসমের ক্ষেত্রে নদীকে বাদ দিয়ে উন্নয়ন সম্ভব নয়।
ব্রহ্মপুত্র একই সঙ্গে জীবনদায়ী এবং বিপজ্জনক, সৃষ্টিশীল এবং ধ্বংসাত্মক। নদীকে আটকানোর চেয়ে নদীকে বোঝা, তাকে প্রয়োজনীয় স্থান দেওয়া এবং তার পরিবর্তনশীলতার সঙ্গে মানুষের জীবনকে অভিযোজিত করাই অসমের দীর্ঘমেয়াদি বন্যা মোকাবিলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পথ। উন্নয়ন যেন মানুষের জীবনের স্মৃতি, ভালোবাসা, বিশ্বাসের পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায় তার প্রচেষ্টা করতে হবে সর্বোপরি।
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved