

ছবির নাম ‘ক্লাউন’। গোপেশের ছবির প্রতিটি রেখায় কুটিলতার যে বিস্তৃত বিন্যাস, তা প্রতিটি মুখচ্ছবিকে করে তোলে প্রতিকৃতি। তাদের চোখের ক্রূরতা, মুখের রেখার অনমনীয় নিষ্ঠুরতা তাদের শরীরী ভাষাকে স্পষ্ট করে তোলে। এভাবেই ঘুরে বেড়ায় এই মানুষেরা, নিজের চেহারা লুকিয়ে, নিজের খলস্বভাব মেকি হাসির আড়ালে লুকিয়ে।
চিত্তপ্রসাদ সেই বিরল শিল্পীদের একজন, যাঁর রাজনৈতিক ও সংহতির বোধ আজও প্রাসঙ্গিক। শিল্প নিছক ঘর সাজানোর উপাদান নয়। তা এক প্রতিবাদ। আন্দোলন।– এই বোধ তিনিই আমাদের শৈল্পিক চেতনায় প্রবেশ করিয়ে দিয়ে গিয়েছেন। আজ যখন শিল্প আবার সজ্জার দিকে ফিরে যেতে চাইছে, তাঁর কাজ আমাদের মনে করিয়ে দেয়– শিল্পের দায়িত্ব কী।
শকুন ভাগাড় থেকে খাবার খুঁজে নেয়। লাশকে নিজের খাদ্যে পরিণত করে সে পরিবেশে ভারসাম্য আনে। আমাদের রাষ্ট্রীয় এবং অর্থনৈতিক ব্যবস্থাও অনেকটা সেইরকমভাবেই কাজ করে। তারা যাদের মনে করে সমাজের জীবাণু, প্রাথমিক ভাবে নিম্নশ্রেণির এবং প্রান্তিক মানুষদের, তাঁদের ঠেলে দেয় মৃত্যুর দোরগোড়ায়।
‘জন অরণ্য’ ছবির এক সংলাপে যেমন বলা হয়– মাত্র দশটি খালি পদের জন্য একলক্ষ আবেদন জমা পড়েছে। এটি কোনও ষড়যন্ত্র নয়, বরং এক ভয়ংকর বাস্তবতা। ‘জন অরণ্য’ মুক্তির ৫০ বছরে বিশেষ নিবন্ধ।
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved