

সত্যজিৎ রায়ের সিনেমায় বারবার করে এসেছে মিষ্টির প্রসঙ্গ। শুধু অলস, অকেজো ‘প্রপস’ হিসেবে নয়, কখনও নিবিড় বাঙালিয়ানায়, কখনও সিনেমার দিক নির্ধারণ করেছে। সেই মিষ্টি কখনও দোকানের, কখনও ময়রাকে অর্ডার দিয়ে বানানো, কখনও-বা বঙ্গের বাইরেরও।
শুধুই দুর্বোধ্য বিষয় নয়, স্বল্প আঁচড়ে গভীর দাগ কাটাই স্রষ্টার কাজ। আবার বিষয়ের মধ্যে নাটকীয় ঘাত-প্রতিঘাত থাকাও বাঞ্ছনীয়। রমাপ্রসাদ বণিক সাধারণ বুদ্ধি-সম্পন্ন মানুষের জন্য নাটক নির্মাণ করতে চেয়েছিলেন, যেখানে রয়েছে বিষয়ের গভীরতা ও সত্যের অন্বেষণ।
বুদ্ধদেব দাশগুপ্তর ‘কফিন অথবা সুটকেশ’ বইয়ের শেষ কবিতা ‘তৈরি হও’ আর পরের বই ‘হিমযুগ’-এর প্রথম কবিতার মধ্যে সংযোগ স্থাপন করেছে শীত ঋতু।
তীব্র কালসচেতন এই উপন্যাস আমাদের দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে আসন্ন একটি প্রকাণ্ড নিরালম্বতার দিকে, আর আমরা প্রায় কেঁপে উঠি নিজেদেরই নিয়তি-দর্শনে।
দুর্গাপুজো উপলক্ষে গ্রামে বসেছে কবিগানের আসর। চাঁদ মুহম্মদ আর কাশীনাথ দেবনাথ। রাঢ়বঙ্গের দুই বিখ্যাত কবিয়াল। পালার বিষয় হিন্দু-মুসলমান। দুই ধর্মের অগুনতি শ্রোতা। শ্রোতারাই পালা নির্বাচন করে দিলেন। তবে শর্ত হল, হিঁদু হবেন চাঁদ মুহম্মদ। মুসলমান কাশীনাথ।
আদান-প্রদান যে নতুন কিছু তা না। আরাকান রাজসভার কবিরা যে বাংলায় যে কাব্য লিখেছিলেন, সেগুলোর উৎস একটু খুঁজলেই দেখা যায়– অবিভক্ত ভারতবর্ষের কবিদের কবিতার সঙ্গে তার স্পষ্ট যোগসূত্র বর্তমান। এঁদের মধ্যে মুসলমানরাও ছিলেন, তাঁদের কাব্যে কৃষ্ণরাধাও ছিল, হোলিও ছিল।
কীর্তনের উদ্দেশ্যকে মাথায় রেখেই একসময় শুরু হয়েছিল ‘খ্রিস্টকীর্তন’! এর সূচনা সেই নদীয়ার চাপড়াতেই। সেখানে যিশুর বন্দনায় শোনা যেত শ্রীখোল, করতাল ইত্যাদি কীর্তন-উপযোগী বাদ্য।
জয় গোস্বামীর বিরাট কাব্য-ভূখণ্ডের প্রবেশক দরজাটি আমাদের সামনে খুলে ধরে কে? খুলে ধরে তাঁর প্রথম বই ‘ক্রীসমাস ও শীতের সনেটগুচ্ছ’-র প্রথম কবিতার এই লাইন– ‘সমস্ত ক্ষুধার নীচে বালি আর সোরা আর গন্ধকের গৃহ’।
গুরু মাধবের পরামর্শে রাম নারায়ণ সারেঙ্গির প্রধান তারটির কার্কশ্যকে বহু পরীক্ষা-নিরীক্ষায় করে তুলেছিলেন পেলব, মিঠে। তাঁর সারেঙ্গির এই মিঠে আওয়াজ পুরোদস্তুর উচ্চাঙ্গ সংগীতের গুরুগম্ভীর মহল থেকে বাণিজ্যসফল হিন্দি সিনেমার অজস্র গানে ওঁর উপস্থিতি অনিবার্য করে তুলেছিল।
শান্তিনিকেতনে ৭ পৌষ তারিখে উৎসবের বিশেষ মাহাত্ম্য কী? মাহাত্ম্য এই যে, সেদিন আশ্রমের প্রতিষ্ঠাতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথের দীক্ষার দিন। যিনি একদিন ভোগের মাঝখান থেকে জেগে উঠে ‘বিলাসমন্দিরের সমস্ত আলোকে অন্ধকার’ দেখেছিলেন, বেড়িয়ে পড়েছিলেন অমৃত উৎসের সন্ধানে।
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved