Robbar

যে চিঠি অনন্তের পথে যাবে

Published by: Robbar Digital
  • Posted:May 13, 2026 9:00 am
  • Updated:May 13, 2026 9:18 am  

সেই সব পয়লা বৈশাখ মনে পড়ছে। এবং মনে পড়ছে আপনার জন্মদিন। আপনার সঙ্গে দেখা হতেই আপনার হাতে দিতাম আমার নতুন বই। কী আদরের সেই গ্রহণ! কী শংসার সেই চাউনি! যখনই গিয়েছি আপনার আমন্ত্রণে আপনার বাড়িতে, আপনার সানন্দ সমীপে, মনে হয়েছে, আপনি থাকবেন আমার সমস্ত বাকি জীবন ধরে। আমার আর কিছু চাহিদা ছিল না আপনার কাছে। একটি মাত্র চাহিদা ছাড়া: আমার শেষদিন পর্যন্ত আপনার বান্ধব বহতা।

প্রচ্ছদের স্কেচ: স্যমন্তক চট্টোপাধ্যায়

রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়

এমন তো কথা ছিল না আপনার আর আমার মধ্যে। আমি সংসার, সমাজ, আত্মীয় ছাড়া একটা মানুষ। এসেছিলাম আপনার আশ্রয়ে। আপনি বাড়িয়ে দিয়েছিলেন আপনার আহ্বান ও আদরের হাত। আমি ভেবেছিলাম ঈশ্বরের হাত। এবং সত্যিই তো তা ছিল। টুম্পাই তখন খুব ছোট। তবু সে-ও বুঝেছিল আমার গহন জীবন আবর্তের আগ্রাসী অন্ধকার। সেই নিবিড় আঁধারে আপনি আমাকে দিয়েছিলেন নির্ভয়নিলয়। এবং হাত ধরে এই প্রতিশ্রুতি, ছেড়ে যাবেন না। আমি জানি ছেড়ে আপনি যাননি। আমিও যাইনি আপনাকে ছেড়ে। দেখা হবে। হয়তো তাড়াতাড়ি। জীবন তৈরি করে আলোকবর্ষের দূরত্ব। মৃত্যু আমাদের প্রত্যেককে মুহূর্তে করে আত্মীয়। কাছাকাছি। মৃত্যু শুধু আনে না সমাপ্তি। আনে সমীপে।

সেই সব পয়লা বৈশাখ মনে পড়ছে। এবং মনে পড়ছে আপনার জন্মদিন। আপনার সঙ্গে দেখা হতেই আপনার হাতে দিতাম আমার নতুন বই। কী আদরের সেই গ্রহণ! কী শংসার সেই চাউনি! যখনই গিয়েছি আপনার আমন্ত্রণে আপনার বাড়িতে, আপনার সানন্দ সমীপে, মনে হয়েছে, আপনি থাকবেন আমার সমস্ত বাকি জীবন ধরে। আমার আর কিছু চাহিদা ছিল না আপনার কাছে। একটি মাত্র চাহিদা ছাড়া: আমার শেষদিন পর্যন্ত আপনার বান্ধব বহতা।

Mohun Bagan Ratna Tutu Bose: টুটু বসুই 'রত্ন', বৈঠকের পর সিদ্ধান্ত মোহনবাগানের

আপনার আশ্রয়ে এবং প্রশ্রয়ে এত বছর কাটিয়ে মনের মধ্যে তৈরি হয়েছে এই অনুভব ও অনুভূতি যে আপনি এক কথার মানুষ। আপনি কথা রাখেন। পার্ক হোটেলে আমার একটি বই উন্মোচনের অনুষ্ঠানে আমার পাশে বসে, আমার মায়ের সামনে কিছুক্ষণের জন্য ছুঁয়ে ছিলেন আমার হাত। নির্বাক সেই স্পর্শ মনে আছে আমার। মনে থাকার একটিই কারণ। সেই বাক্যহীন স্পর্শ হয়ে উঠেছিল বাঙ্ময়। বলেছিলেন আমাকে, ‘আমি আছি রঞ্জনদা।’

এই একটি কথা কি রাখলেন আপনি? আপনি আমার থেকে প্রায় আট বছরের ছোট। রাত একটার সময় ফোনে জানলাম আপনি আমাদের ছেড়ে গেছেন। মুহূর্তের জন্য সময় থেমে গেল। আমি বাকরুদ্ধ। তারপর আমার অস্ফুট প্রশ্ন। ‘কেন? কী হল?’ প্রশ্ন না আর্তনাদ, এখন আবছা আমার চেতনায়। শুধু মনে আছে স্তব্ধ উত্তর: ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাক।

যে হৃদয়ে এত মানুষের জন্য এত ভালোবাসা, যে হৃদয়ে এত সমবেদনা এবং এমন প্রসারিত আদর, তাকে অ্যাটাক করল কে? সেই হৃদয়ও থেমে গেল নিয়তি-নির্ধারিত মুহূর্তে? উপায়হীন আমরা, স্তম্ভিত। তবু একটি অসহায় প্রশ্ন আমার মনে: আমি তো সাত বছরের বড়। আমি পিছিয়ে থাকলাম কেন? একটি উত্তর রাত দুটো আঠেরোর অন্ধকার অন্তরাল থেকে ঝরে পড়ল আমার চেতনায়: কী আস্পর্ধা তোমার টুটু বসুকে হারাবে?