Robbar

অসুন্দরের বিবর্তন

Published by: Robbar Digital
  • Posted:May 30, 2026 6:20 pm
  • Updated:May 30, 2026 6:29 pm  

‘ফেমিনিন-গ্রোটেস্ক’ চরিত্রের ওপর স্পটলাইট ফেলার কিছু অসুবিধা আছে। প্রধান অসুবিধা হল নারীচরিত্র সুশ্রী এবং লাবণ্যময়ী না-হলে পাঠক সেই চরিত্রের প্রতি প্রথম থেকে একরকম বিরূপ মনোভাব পোষণ করেন, কারণ কদর্য নারীচরিত্র ‘male-gaze’-এর বিরুদ্ধাচারণ করে। ১৯৭৫ সালে লরা মালভে তাঁর ‘Visual Pleasure and Narrative Cinema’ শীর্ষক একটি প্রবন্ধে লেখেন যে, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে– প্রত্যেকে আসলে নারীদের ‘male gaze’ বা পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে দেখেন, যা একজন নারীকে ভোগ করার বস্তু করে তোলে। গ্রোটেস্ক নারীচরিত্র এই দেখার দৃষ্টিকে ভেঙে চুরমার করে দেয়।

রবীনা মিত্র

যে কোনও শব্দের আগে ‘ফেমিনিন’ কথাটি বসানো মাত্রই যে, শব্দটির মধ্যে আমরা টানা-টানা চোখ, লম্বা চুল, মসৃণ ফরসা গাল ইত্যাদি দেখতে শুরু করি, তার একটা অসুবিধা আছে। অসুবিধাটা এরকম– ‘ফেমিনিন’ শব্দটির সঙ্গে জুড়ে গিয়েছে এক আশ্চর্য একমুখিতা। এই একমুখিতা আমাদের মনে ‘নারীত্ব’ এবং ‘সৌন্দর্য’– এই দু’টি ধারণাকে অভিন্ন বলে প্রতিপন্ন করে। যেমন ধরা যাক, ‘ফেমিনিন কনশাসনেস’ (নারীত্ব-চেতনা), ‘ফেমিনিন-ডিজায়ার’ (নারী-আকাঙ্ক্ষা) ‘ফেমিনিন-এলিয়েনেশন’ (নারীসুলভ বিচ্ছিন্নতা), ‘ফেমিনিন-অল্টারিটি’ (নারী-অন্যত্ব), ‘ফেমিনিন-এক্সপেরিয়েন্স’ (নারী-অভিজ্ঞতা), ‘ফেমিনিন-এক্সপ্রেশন’ (নারী-অভিব্যক্তি), ‘ফেমিনিন-আইডেন্টিটি’ (নারী-পরিচিতি), ‘ফেমিনিন-সেক্সুয়ালিটি’ (নারী-যৌনকামনা), ‘ফেমিনিন-ডিসকোর্স’ (নারী-ভাষ্য) এমনকী, ‘ফেমিনিন রেজ’ (নারী-ক্রোধ) এবং ‘ফেমিনিন রিপ্রেশন’ (নারী-অবদমন)-ও।

On Ugliness by Umberto Eco | Hachette UK

আচ্ছা, এই কথাগুলো পড়তে গিয়ে আমরা যে-নারীমূর্তিকে মানসচক্ষে ভেসে উঠতে দেখলাম, তার গাল কি ব্রণর কালশিটে দাগে ভর্তি? তার ত্বক কী কুঁচকানো, তার কি চুল নেই, ন্যাড়া বা প্রায় ন্যাড়া? তার কি মুখে অসহ্য দুর্গন্ধ? তাকে কি এই শব্দগুলো পড়তে পড়তে আমরা সারাক্ষণ গা চুলকোতে, মাথা চুলকোতে, নাক খুঁটতে, প্রকাশ্য রাস্তায় গালিগালাজ করতে দেখলাম? নাকি প্রতিবারই ‘ফেমিনিন’ এবং ‘নারী’ শব্দটি পড়তে গিয়ে আমরা দেখলাম একজন সুশ্রী, এণাক্ষী অথবা মীনাক্ষী কেশবতী কন্যেকে? সত্যি করে বলুন তো পাঠক? আপনাদের মধ্যে একজনেরও কী কোনও কুৎসিত বা বিকৃতমস্তিষ্ক নারীর কথা মনে এসেছে?

এবার, মুশকিলে পড়া গেল ‘ফেমিনিন-গ্রোটেস্ক’ শব্দবন্ধ নিয়ে। ‘গ্রোটেস্ক’ কী? ‘গ্রোটেস্ক’ বলতে বোঝায় কদর্য। কিম্ভূতকিমাকার। সৃষ্টিছাড়া। কুৎসিত। উদ্ভট। এই কদর্যতা কী শুধুমাত্র শারীরিক? না, এই কদর্যতা মানসিকও। তার মানে ‘ফেমিনিন গ্রোটেস্ক’ মানে দাঁড়াল ‘নারী-কদর্যতা’। যাচ্চলে, এ কী করে সম্ভব? এ তো সোনার পাথরবাটি! বা ইংরেজিতে যাকে বলে ‘অক্সিমোরন’। ‘dangerously beautiful’ বা ‘virtual reality’। কিন্তু মানিকবাবুর সিনেমাতেই আমরা দেখেছি ‘সোনার পাথরবাটি’ আসলে হয়। সেরকমই নারীত্বের কদর্য দিকও হয়। সম্ভব। সম্ভব যে, তা ব্যক্তিজীবনে আমরা প্রত্যেকেই জানি। তাই বলে সাহিত্যে অথবা শিল্পে তো কুৎসিত, কদর্য, উদ্ভট নারীদের প্রোটাগনিস্টের জায়গা দেওয়া যায় না বা নারীত্বের কদর্য দিককে স্পটলাইটের তলায় আনা যায় না! কেন যায় না? তাতেও আবার অনেকগুলো সমস্যা আছে। সেকথায় পরে যাওয়া যাবে।

Euripides - Medea - First R. C. Trevelyan Translated Edition – Benedict Wilson Books Ltd

যদিও ‘ফেমিনিন-গ্রোটেস্ক’ কথাটি প্রথম প্রবর্তিত হয় বিশ শতকের নারীবাদী চিন্তাবিদ, মেরি রুসো, জুলিয়া ক্রিস্তাভা– এঁদের হাত ধরে। কিন্তু আমরা যদি বেশ কিছুটা পিছন দিকে হাঁটি, তবে খ্রিস্টপূর্ব ৪৩১-এ গ্রিক নাট্যকার ইউরিপিডিসের লেখা ‘মাদিয়া’ নাটকে আমরা মূল চরিত্রে দেখি এমন এক নারীকে যে, এক চূড়ান্ত ব্যতিক্রমী নারীচরিত্র হিসেবে উঠে আসে পাঠক এবং দর্শকদের সামনে। মাদিয়া চরিত্রটি, নাটকটিতে যে অসম্ভব হিংসা, ক্রোধ, প্রতিশোধস্পৃহার প্রকাশ ঘটিয়েছে, তা চিরকালীন সর্বংসহা, মমতাময়ী, স্নিগ্ধ, নারীচরিত্রের একেবারে বিপ্রতীপে জ্বলন্ত এক নির্ভীক, দৃপ্ত চরিত্র হয়ে রয়ে গিয়েছে।

মেরি রুসো, জুলিয়া ক্রিস্তাভা

শেক্সপিয়র-সৃষ্ট লেডি ম্যাকবেথ চরিত্রের কথা না-বললে ‘ফেমিনিন-গ্রোটেস্ক’ সম্পর্কে আলোচনা সম্পূর্ণ বৃথা। এই সম্পূর্ণ ভিন্ন মাত্রার নারী-চরিত্রে শেক্সপিয়র দর্শকদের দেখান যে, সময় বিশেষে নারীমন কতখানি কদর্য হয়ে উঠতে পারে যেখানে, উচ্চাকাঙ্ক্ষার বশবর্তী হয়ে সে নিজের সন্তানকে নৃশংসভাবে হত্যা করতে বদ্ধপরিকর হয়ে ওঠে। আমরা লেডি ম্যাকবেথকে বলতে শুনি–

“I have given suck, and know
How tender ’tis to love the babe that milks me:
I would, while it was smiling in my face,
Have pluck’d my nipple from his boneless gums’
And dash’d the brains out…”

( Act 1, Scene 7)

কিন্তু এই সন্তানহত্যার প্রবণতা আমরা এর অনেক আগে কি ‘মাদিয়া’ নাটকেও পাইনি? যেখানে মাদিয়া বলছে– ‘I will kill my children… my own.’

সুতরাং, আমাদের পরিচিত স্নেহে পরিপূর্ণ, মমতাময়ী মায়ের চরিত্রগুলি দু’ক্ষেত্রেই হয়ে উঠছে হিংস্রতা, সহিংসতা এবং বিকৃত মাতৃত্বের মূর্ত প্রতিমূর্তি! কিন্তু এই দুই নারীর ক্ষেত্রেই আমরা দেখি শুধুমাত্র মানসিক কদর্যতা। এই দুই নারী কিন্তু শারীরিক দিক থেকে সুশ্রী এবং যেহেতু এখন এই উত্তর-আধুনিকতার যুগেও মানসিক বিকৃতি বা অসুস্থতাকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয় না, সেক্ষেত্রে আজ থেকে এত বছর আগে যখন ‘মাদিয়া’ বা ‘ম্যাকবেথ’-এর মতো নাটক লেখা হল তখনও নাট্যকাররা কোনও কুশ্রী নারীচরিত্র সৃষ্টি করার কথা কল্পনা করতে পারেননি।

‘দ্য ক্যান্টারবেরি টেলস’-এর অলংকরণ

সেই কাজটি কিছুটা করলেন জেফ্রি চ’সার ১৩৮৭ খ্রিস্টাব্দে। তাঁর ‘দ্য ক্যান্টারবেরি টেলস’-এর ‘ওয়াইফ ওফ বাথ’ চরিত্রটির সম্পর্কে তিনি লিখলেন–

‘Gat-toothed was she, soothly for to saye.’

অর্থাৎ, তাঁর দাঁতের মাঝে সত্যি বলতে বিরাট বিরাট ফাঁক ছিল।

‘Housebondes at chirche dore she hadd fyve’

ওয়াইফ অফ বাথ পাঁচজন পুরুষকে চার্চে গিয়ে বিয়ে করেছিলেন।

সুতরাং, দেখা গেল, এই চরিত্রটি  সমসাময়িক প্রচলিত নারীত্বের সমস্ত ছক ভেঙে শারীরিক এবং সামাজিক কদর্যতার ছবি স্পষ্টভাবে পাঠকদের সামনে তুলে ধরছে। এই কারণে ‘ওয়াইফ অফ বাথ’-কে প্রোটো-গ্রোটেস্ক বা আদি-উদ্ভট চরিত্র হিসেবে দেখা হয়ে থাকে।

Jane Eyre: by Charlotte Bronte Classic Illustrated ( Complete and With the Original illustrations ) eBook : Bronte, Charlotte: Amazon.in: Kindle Store

আরও একধাপ এগলে আমরা ভিক্টোরিয়ান সাহিত্যে শার্লট ব্রন্টের বহুচর্চিত উপন্যাস ‘জেন আয়ার’-এ বার্থা চরিত্রে আবার দেখতে পাই এক অদ্ভুত, বিকট নারীকে, যার উগ্র চলাফেরার ধরন, শারীরিক অস্বাভাবিকতা, অবদমিত ক্রোধ, পশুশুলভ আচরণ তাকে নারী-কদর্যতার এক গথিক রূপ দান করেছে। বার্থা চরিত্রের বর্ণনা দিতে গিয়ে শার্লট লিখছেন–

“It grovelled, seemingly, on all fours; it snatched and growled like some strange wild animal.”

এখানে একটি বিশেষ শব্দের দিকে পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাইব। বার্থা একজন নারী। কিন্তু লেখক একজন নারীর ক্ষেত্রে ‘She’ সর্বনাম ব্যবহার না করে, ব্যবহার করলেন ‘It’, যা মুহূর্তে আমাদের বুঝিয়ে দিচ্ছে যে এই নারীকে মানুষ বলে ধরাই হচ্ছে না। এই প্রাণীটি মানুষ নাকি অন্য কিছু তা নিয়ে সন্দেহের অবকাশ রয়েছে। এবং সেকথা আরও স্পষ্টভাবে প্রমাণ হয় নিচের বিবরণ থেকে–

‘What it was, whether beast or human being, one could not, at first sight, tell.’

আরও এক জায়গায় শার্লট লিখছেন,

‘The clothed hyena rose up, and stood tall on its hind feet.’

এর থেকে পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে যে, বার্থা (যদিও সে এই উপন্যাসের মূল চরিত্র নয়) প্রচলিত নারীত্বের সমস্ত স্বাভাবিকতা এবং সুস্থতার চেনা কক্ষপথ ছাড়িয়ে বেরিয়ে যাওয়া এক গ্রহ হয়ে প্রবেশ করেছে এক ভিন্ন গ্যালাক্সিতে, যেখানে তার স্বাভাবিকত্বের সঙ্গে মিলছে না পাঠকের স্বাভাবিকত্বের সমীকরণ।

ওটেসা মসফেঘ

এইবার দৃষ্টি ফেরানো যাক, একেবারে সাম্প্রতিক অতীতে মার্কিন লেখিকা ওটেসা মসফেঘ-এর লেখা একটি উপন্যাসের দিকে যেখানে উপন্যাসটির মূল নারীচরিত্রটি ‘ফেমিনিন-গ্রোটেস্ক’-এর একেবারে প্রকৃষ্ট উদাহরণ। এই অল্পবয়সি মেয়েটির নাম এইলিন। উপন্যাসটির নামও তাই। এই মেয়েটি– এইলিন– এই গল্পের কথক। সে নিজের বিষয়ে বলছে এমন কিছু কথা, যা  দ্বিতীয় কোনও ব্যক্তি কারও ব্যাপারে বলতে পারেন, এবং বলাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু প্রোটাগনিস্ট নিজে নিজেকে এমন অনায়াসে অপমান করতে করতে গল্প এগিয়ে নিয়ে চলেছে, এরকম প্রায় দেখাই যায় না! এইলিন বলছে,

‘I looked so boring, lifeless…’

বা,

‘I hid my shameful perversions under a facade of prudishness.’

অথবা,

‘I liked books about awful things– murder, illness, death.’

বা ধরুন,

‘There are no prizes for good little girls. If you want something, fight for it.’

ভাবনার ব্যাপারটা হল এইলিন যখন এই কথাগুলো বলছে আমরা, পাঠকরা কিন্তু কথাগুলোর সঙ্গে নিজেদের অস্তিত্বের মিল পাচ্ছি। আমি নারী-পুরুষ নির্বিশেষে এই কথাগুলোর সঙ্গে আধুনিক যুবক-যুবতীদের চারিত্রিক সাদৃশ্য খুঁজে পাচ্ছি।

এই চরিত্রটির শারীরিক কদর্যতা, ওর মুখে ব্রণর দাগ, কুৎসিত চেহারা, চলাফেরায় একরকম দ্বিধাবোধ এবং অসামঞ্জস্য– এইসব কিছুর সঙ্গে মিলেমিশে থাকা অবদমিত যৌনকামনা, ভালোবাসা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা (বলা ভালো ‘লোভ’) এই সমস্ত কিছুই এক ধরনের কদর্যতার দিকে নির্দেশ করলেও এই গ্রোটেস্ক কিন্তু আমাদের আর অবাক করে না। কেন করে না? কারণ এই উত্তর-আধুনিকতার যুগে আমরা নিজেদের ভিতরের কদর্য দিকগুলোকে চিনতে শিখেছি এবং অনেক ক্ষেত্রে মেনেও নিয়েছি। আজকের বিদ্যুৎবেগে ছুটে চলা এই পৃথিবীতে আত্মঘৃণা, দ্রুত সাফল্য পাওয়ার লোভে ঘটে চলা মানসিক অবক্ষয়, অবদমিত যৌন-ইচ্ছে, আবেগের বিকৃত প্রকাশ– এই সবই হামেশা উপলব্ধি করে চলেছি আমরা। তাই একে আমরা একরকম ‘ইভোলিউশন অফ ফেমিনিন গ্রোটেস্ক’ বলতে পারি, যেখানে একজন নারী তার সমস্ত কদর্যতা নিয়ে প্রোটাগনিস্ট হিসেবে আমাদের সামনে দাঁড়াতে পারছে। এইরকম চরিত্রের সংখ্যা খুব বেশি না-হলেও অন্তত হাতে-গোনা কয়েকটি চরিত্রের মুখে আলো পড়তে তো দেখা যাচ্ছে! এই বা কম কী?

লরা মালভে

আগে বলেছিলাম, ‘ফেমিনিন-গ্রোটেস্ক’ চরিত্রের ওপর স্পটলাইট ফেলার কিছু অসুবিধা আছে। প্রধান অসুবিধা হল নারীচরিত্র সুশ্রী এবং লাবণ্যময়ী না-হলে পাঠক সেই চরিত্রের প্রতি প্রথম থেকে একরকম বিরূপ মনোভাব পোষণ করেন, কারণ কদর্য নারীচরিত্র ‘male-gaze’-এর বিরুদ্ধাচারণ করে। ১৯৭৫ সালে লরা মালভে তাঁর ‘Visual Pleasure and Narrative Cinema’ শীর্ষক একটি প্রবন্ধে লেখেন যে, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে– প্রত্যেকে আসলে নারীদের ‘male gaze’ বা পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে দেখেন, যা একজন নারীকে ভোগ করার বস্তু করে তোলে। গ্রোটেস্ক নারীচরিত্র এই দেখার দৃষ্টিকে ভেঙে চুরমার করে দেয়। আরেকটি সমস্যা হল বাণিজ্যিক। নারীচরিত্র রূপবতী না-হলে পাঠক বা দর্শক তার কল্পনাকে বাস্তবায়িত হতে দেখতে পায় না। ফলে সে হতাশ হয় এবং বাণিজ্যিক দিক থেকে শিল্প মার খায়।

আলফ্রেড হিচককের ‘রিয়ার উইন্ডো’ (১৯৫৪) ছবির দৃশ্য

পরিশেষে একথা বলা যায় যে, নারী-কদর্যতা এই অত্যন্ত আধুনিক সময়ে দাড়িয়ে মূলধারার সাহিত্যে প্রবলভাবে প্রবেশ করতে না-পারলেও, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ‘ফেমিনিন-গ্রোটেস্ক’-এর বিশ্বব্যাপী গ্রহণযোগ্যতা কিছুটা হলেও বেড়েছে। গ্রোটেস্ক চরিত্র যে-ধরনের অস্বস্তি এবং অস্বাভাবিকত্ব তৈরি করে থাকে, তাকে সর্বান্তকরণে আত্মীকরণ করেছে যে যন্ত্রণাদগ্ধ অথচ স্বাধীন স্বর, সেই স্বর উচ্চারণ করে, সেই মহামন্ত্র জপ করে শেষ হোক এই উদ্ভট-বন্দনা–

‘Out of the ash
I rise with my red hair
And I eat men like air.’

(Sylvia Plath)