Robbar

কলাম

অগ্রন্থিত শক্তির শক্তি

আজ থেকে প্রায় ২৫ বছর আগে সবাইকে তাজ্জব করে দিয়ে হাজির হয়েছিলেন ‘অগ্রন্থিত’ এক ‘শক্তি চট্টোপাধ্যায়’! কবিতা নয়, কবি স্বয়ং। কারণ তিনি বোঝাতে চেয়েছিলেন তাঁর ‘আমি’র আর কোনও অস্তিত্ব নেই, বিবরণ নেই, সত্তাভেদ নেই, একমাত্র তাঁর কবিতা ছাড়া। তিনি নিজেই দীর্ঘ এক কবিতা। অগ্রন্থিত।

→

তালাচাবির বন্ধুত্ব

জীবনের ব্যক্তিগত স্তরেও আসলে আমরা বহু তালা বয়ে বেড়াই। অভিমান, ভয়, অপরাধবোধ। এসব আমাদের ভিতরের কক্ষগুলো বন্ধ করে রাখে। বাইরে থেকে কেউ জোর করলে দরজা ভাঙতে পারে, কিন্তু ভাঙা দরজা নিরাপত্তা দেয় না। দরকার হয়, সমঝোতা, ক্ষমা, ভালোবাসার মতো একটি উপযুক্ত চাবি।

→

প্রেমেনদার উৎসর্গ করা বই বেচে দিয়েছিলেন বন্ধু ‘শিব্রাম’!

শিবরামের সঙ্গে প্রেমেন্দ্র মিত্রের বন্ধুত্ব কিন্তু তাতে নষ্ট হয়নি। বন্ধু ‘শিব্রাম’কে নিয়ে একাধিক লেখা লিখেছেন প্রেমেনদা। আবার ‘পাতালে পাঁচ বছর’ প্রথমবার প্রকাশের পরে শিবরাম লিখেছিলেন– ‘পাতালে বছর পাঁচেক’ নামে একটি গল্প।

→

সেই কবে একটা যুদ্ধ হয়েছিল

১৯৭২-এর শুরু থেকে সে বাড়িছাড়া। তার কথার আভাস থেকে বাহাত্তরের কলকাতার ত্রাস গোপন রইল না। কলকাতা থেকে সে কোনও রকমে চেন্নাই, সেখান থেকে ভাগ্যের সঙ্গে ভেসে পড়ে পোর্ট ব্লেয়ার। গত সাত বছরে সে মায়ের কোনও খোঁজ জানে না। মাকে সে জানাতে চায় যে সে বেঁচে আছে, ভালো আছে।

→

আধ্যাত্মিক বিরহ দিয়ে গড়া প্রেমের মহাকাব্য

এক রাজনৈতিক তোলপাড়ের মধ্যে ৩৭ বছর বয়েসে নিঃস্ব ও ফ্লোরেন্সে থেকে নির্বাসিত হলেন দান্তে। তিনি একা এবং গরিব। নিরাশ্রয় তিনি। পথে পথে ঘুরছেন এবং চালচুলোহীন অবস্থায় লিখে চলেছেন এমন এক স্পিরিচুয়াল প্রণয়ের মহাকাব্য, যার তুলনা নেই পৃথিবীতে।

→

জাস্টিস ডিলেইড, জাস্টিস ডিনাইড

কেজরিওয়াল, সিসোদিয়া যদি নির্দোষ‌ই হন, তাহলে তাঁদের জেল-যন্ত্রণা স‌ইতে হল কেন? কে ফিরিয়ে দেবে তাদের ভেসে যাওয়া দু’-দুটো বছর। যে দু’-বছরে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রিত্ব হারাতে হয়েছে অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে। হারাতে হয়েছে নাম-যশ, সসম্মান।

→

দেড় ফুটের ল্যাংচাভোগ ছাড়া রং খেলেন না মদনমোহন

দোগাছিয়ার ল্যাংচা আসলে নোড়াকৃতি রসগোল্লা। কোনও ভাজা মিষ্টি নয়। স্থানীয় নাম রসগোদা। বড় ল্যাংচায় লাগে আড়াই থেকে পৌনে তিন কেজি ছানা। দীর্ঘক্ষণ ছানাকে বিশেষ কৌশলে ঠেসে ময়দার আঠায় জোড় দিয়ে রসে ফোটানো চলে। একটি চার নম্বর কড়াইতে ওই মাপের দু’টি মিষ্টি বানাতে সময় লাগে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা।

→

প্যাঁচানো লোহার সিঁড়ি দিয়ে উঠলেই প্রেমেন্দ্র মিত্রর অবারিত দ্বার!

প্রেমেন্দ্র মিত্র ছিলেন আধুনিক বাঙালি সাহিত্যিকদের সর্বজনীন প্রেমেনদা আর তাঁর স্ত্রী বীণা মিত্র ছিলেন সকলের বৌদি। তাঁদের বাড়িটা ছিল কতকটা ধর্মশালার মতো। সারাক্ষণ দরজা খোলা, ভেতরে কাঠের তক্তপোশ, টিনের চেয়ার, বেতের মোড়া। কিছু জোড়া আছে, কিছু পাতা আছে। সারাক্ষণ চা-ভর্তি কাপ আসছে আর খালি কাপ ফেরত যাচ্ছে আর অবিরাম হাজার বিষয় নিয়ে কথা হচ্ছে।

→

বেঁধে থাকা বেঁধে রাখা

বেঁধে থাকার মতো, বেঁধে রাখার মতো জিনিসের খোঁজ মানুষের প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকেই। সেই প্রস্তর ও ব্রোঞ্জ যুগেও। আঠার ব্যবহার কখনও তাদের অস্ত্রশস্ত্রে, কখনও বাসস্থান নির্মাণে, কখনও শিকারে, আবার কখনও শিল্পকলায়। গুহাচিত্রকে দেওয়ালে ধরে রাখতে এবং সেটাকে টেকসই করতে আঠার ভূমিকা সাংঘাতিক।

→

মায়া মমতায় গড়া বাংলা বিয়ের ছড়া

বিয়ের পদ্য বর ও কনে দুই পক্ষেই ছাপাত। বরের বন্ধুরা আবার আলাদা করে বিয়ের পদ্য পাঠ করে বিলি করত বিবাহসভায়। পদ্য পাঠের সাধারণ নিয়ম ছিল– কনেকে সিঁদুর দান করার পরে অথবা বাসরঘরে যাওয়ার পূর্বে নাপিত ঘোষণা করতেন বিয়ের পদ্য পড়ার পালা।

→