Robbar

মনের মানুষের সন্ধানেই রানী চন্দের শিল্পনীড় রচনা

Published by: Robbar Digital
  • Posted:April 16, 2026 4:56 pm
  • Updated:April 16, 2026 4:56 pm  

রবীন্দ্রনাথ শিল্পের সঙ্গে তাঁর সখ্যতা গড়ে দিয়েছিলেন। আর অবনীন্দ্রনাথ দিয়েছিলেন তিনটি জগতের সন্ধান। প্রথম জগৎটি– ‘আপন জিনিস, আপন লোকজন, আপন সুখদুঃখ, আপন ঘরবাড়ি– এইসব নিয়ে। এই যে নিজেরটি– এই নিয়ে কত শিল্পী দিচ্ছে কত ছবি।’ দ্বিতীয় জগৎ হল ‘পাড়াপড়শি নিয়ে যেন এ গ্রাম সে গ্রাম এ বাজার সে বাজার।’ তৃতীয়টি ‘সে নিজেরও নয়, পাড়াপড়শিরও নয়। সেই গহনে কীসের খোঁজে যায় মানুষ? মনের মানুষের খোঁজে।’ এসব দিনের কথা দিয়েই শিল্পী মানুষ রানী চন্দর শিল্পের সঙ্গে ঘরবসতের কাহিনি।

স্বাতী ভট্টাচার্য

১.

‘খেলাচ্ছলেই একদিন তিনি আমাকে ফিরে ছবি আঁকার মধ্যে ডুবিয়ে দিলেন। তাঁর দান ছিল খেলার আকারে। গ্রহীতা যে, সে বুঝতেও পারত না কী পেল, কতখানি পেল। দু হাত ঢেলে দেওয়া দানের মধ্যে সে ডুবে থাকত। সময় লাগত তা থেকে উঠে মুখ বাড়িয়ে দেখতে। ততক্ষণে দাতা হতেন অদৃশ্য। সবই খেলা।’ 

[সব হতে আপন, রানী চন্দ]

রানী চন্দ

রানী চন্দের স্মৃতিকথার রেশ ধরেই, শেষ থেকে শুরু করা যাক তাঁর শিল্প-জীবনের পথ-সন্ধান! এ কি শেষ? না কি নতুন করে শুরু? জীবনের এই এক পর্যায়ে যখন তাঁর মাথার উপর থেকে রবীন্দ্রনাথ নামক সুশীতল বৃক্ষের ছায়াটি সরে গেছে, ছবি আঁকা প্রায় বন্ধ, তখনই তাঁকে ছবির জগতে আবার নতুন করে ফিরিয়ে আনলেন যিনি– তিনি সদ্য বিশ্বভারতীর দায়িত্ব নেওয়া অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর। অবনীন্দ্রনাথকে না কি রানী অনেকদিন পর্যন্ত খুবই ভয় পেতেন– অপরিচয়ের কুণ্ঠায় নয়, ব্যক্তিত্বের সম্ভ্রমে। তারপর একবার রবীন্দ্রনাথের অসুখের সময় তাদের আলাপ হল। উৎসুক তরুণী শিল্পীমন নতুন নতুন গল্প সংগ্রহের নেশায় গিয়ে বসলেন প্রবীণ শিল্পীর পদতলে। ‘জোড়াসাঁকোর ধারে’, ‘ঘরোয়া’ ইত্যাদি স্মৃতিমূলক আখ্যানের অনুলিখনে ছন্দ মিলল নবীনে প্রবীণে। এ যখনকার কথা, তখন ‘জোড়াসাঁকোর ধারে’ বেরিয়ে গেছে, ‘ঘরোয়া’র পাণ্ডুলিপি প্রস্তুত হচ্ছে, অবনীন্দ্রনাথ মেতে রয়েছেন কুটুমকাটামে। কিন্তু রানী যে ছবি আঁকছে না, সেটাও তাঁর চোখ এড়ায়নি। অবনীন্দ্রনাথ বুঝেছিলেন যে, সেইসময় রানী চন্দের অস্তিত্বের গভীরতম সংকট রবীন্দ্রনাথকে হারানো। রবীন্দ্রনাথ ছিলেন তাঁর আত্মার দোসর, তাঁরই হাত ধরে রানীর আসা এই শান্তিনিকেতনে। রানীর জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত ভরে উঠেছে কবির সঙ্গসুধায়– কখনও ছুটে গিয়ে জানাচ্ছেন ছোট-বড় সমস্যার কথা, কখনও অসুস্থ কবির গল্প-কবিতার অনুলিখন করছেন। এই শ্রুতিধরী, আবার কবির শেষ জীবনের প্রিয় ছবির সাজসজ্জা সম্পূর্ণ করতে কখনও বা হাতের কাছে এগিয়ে দিচ্ছেন রঙের বাটি। কবির প্রয়াণের পর বিশ্বভারতীর ঘরজোড়া শূন্যতা তাঁকে যেন দিশেহারা করে তুলেছিল। সেটা বুঝেছিলেন অবনীন্দ্রনাথ। তিনি তাই শুরু করেছিলেন রানীরই ভুলে যাওয়া রবীন্দ্রনাথের একটি প্রতিকৃতির প্রসঙ্গ তুলে। স্নেহভরে তাই তাঁর চেনা রাস্তায় রানীকে ফিরিয়ে আনলেন তিনি। শান্তিনিকেতনের বিভিন্ন প্রিয় জায়গা, দালান, বাড়ি, রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিবিজড়িত নানা আবাসের স্কেচ করে আনেন। তাতে রং লাগান অবনীন্দ্রনাথ, কখনও ওয়াশ দেন তাতে, আর ছবি শেষ হলে দু’জনেই স্বাক্ষর করেন ছবিতে। কখনও বা অবনীন্দ্রনাথ নিজের নামের তলায় কিংবা পাশে লিখে দেন রানীর নামও।

অবনীন্দ্রনাথের নামের পাশে রানী চন্দের নাম

এভাবেই আঁকা হয়েছিল শান্তিনিকেতন সিরিজের একগাদা ছবি। কিন্তু ‘সব হতে আপন’ শান্তিনিকেতনে স্মৃতিবিন্যাস শেষ হয় সেই হারিয়ে যাওয়া ছবিগুলির কথা দিয়েই–

‘এতকাল ধরে আমার বড়ো শখ ছিল– আমার এই শেষ বইখানিতে শান্তিনিকেতনের সেই ছবিগুলি ছাপাব। তা আর হল না। ছবিগুলি জিৎভূমেই ছিল, এখন দেখি নেই। জানি না কোথায়? আর কি তাদের পাব ফিরে? তবে লিখে রাখলাম– যদি কোনোদিন এর হদ্দিশ মেলে– এই ছবিগুলির ইতিহাসটা রইল ধরা এই লেখাতে।’

তাঁর করা ২৫টি লিনোকাটের প্রদর্শনী চলছে কলকাতার গ্যালারি ৮৮-এ। প্রতিটি ছবির তলায় দস্তুরমতো গোটা গোটা অক্ষরে লেখা ‘রানী দে’। সালটা ১৯৩২। সরকারি আর্ট স্কুলের অধ্যক্ষ তখন মুকুল দে, সাড়ম্বরে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে কলকাতায় রবীন্দ্রনাথের প্রথম চিত্র প্রদর্শনী! কিন্তু সবারই অলক্ষে, সেই সঙ্গে শিল্পলোকে আরেক ‘অপরিচিতা’র নাম ধরণীতে আনছেন কবি। মুকুল দে-র ছোট বোন রানি চন্দের ২৫টি লিনোকাটের অ্যালবামের মুখবন্ধে তিনি লিখছেন–

‘I am glad to introduce to the public miss Rani Dey, a student of the art department of Santiniketan. She has real artistic talent as is evident from these lino prints done by her showing genuine feeling for her subjects and natural skill in execution.’

রবীন্দ্রনাথের লেখা শংসাপত্র

মুকুল দে ও তাঁর ছোট ভাই মনীষী দে ততদিনে নিজ নিজ প্রতিভায় বেঙ্গল স্কুল ঘরানার শিল্পী হিসেবে স্বনামধন্য। এই পরিবারের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের পরিচয় রানীর জন্মের আগে থেকে। রানীর বাবা কূলচন্দ্র পেশায় পুলিশ হলেও, ছিলেন কবি। সেই সূত্রেই রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে তাঁর পরিচয়, পত্রবিনিময়। মা পূর্ণশশীর সহজাত নান্দনিক বোধ জারিত করেছিল রানীর শিল্পীমনটি। রবীন্দ্রনাথের স্নেহছায়াতেই শিল্পী হয়ে উঠেছেন মুকুল। তাঁর আঁকা ছবি, তাঁর সংগৃহীত বিদেশি শিল্পীদের চিত্র-সম্বলিত বই তৈরি করেছিল তাঁর চোখ। চার বছর বয়সে পিতৃহারা রানী ও তার দিদি অন্নপূর্ণাকে শান্তিনিকেতনে নিয়ে আসবার ভাবনাও রবীন্দ্রনাথেরই। অন্নপূর্ণা যান গান শিখতে আর রানী ছবির মধ্যে খুঁজে পেলেন তাঁর স্বপ্নলোকের চাবিটি। তারপর কত বসন্তে, শরতে শান্তিনিকেতনের লালমাটির পথের সঙ্গে, গাছ ফুল লতার সঙ্গে মিতালি জমেছে তাঁর। রবীন্দ্রনাথ তাঁর মনটি বেঁধে দেন অন্তহীন আনন্দের সুরে, নন্দলাল বসু শেখান সেই আনন্দের রং নানা মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলতে। ১৯২৮ থেকে ’৩২ সুরে-ছন্দে, তুলিতে-কালিতে চলেছে এই আত্ম-আবিষ্কারের আনন্দযাত্রা। তারই প্রকাশ যেন এই প্রদর্শনে।

শিল্পী: রানী চন্দ

শুধুই প্রশস্তি নয়, রবীন্দ্রনাথের ক্যাটলগের দ্বিতীয় প্রচ্ছদে সাঁটা রয়েছে একটি সংক্ষিপ্ত বিজ্ঞাপন। রানী চন্দের লিনোকাট অ্যালবামের উদ্বোধনী সংবাদ:

An Indian Lady Artist’s Impression of Life & Nature
TWENTY FIVE LINOCUTS
By
RANI DEY
With a decorated introduction
By
Sir Rabindranath Tagore 

লক্ষ করার বিষয়, প্রথম পঙ্‌ক্তিতে রানীকে পরিচয় করানো হচ্ছে ‘female’ এবং ‘Indian’ হিসেবে, তাঁর নাম আসছে পরে। বিজ্ঞাপন দিচ্ছেন তাঁরই দাদা মুকুল দে, যিনি নিজে শিল্পী, কিন্তু বোনের শিল্পী-পরিচয় তাঁর কাছে বিশেষণে সবিশেষ না-করে উপস্থাপিত করা যথার্থ মনে হয়নি।

ক্যাটালগটি সবাই দেখেছেন, কিন্তু এ আনন্দ সংবাদ কতজনের চোখে পড়েছিল সেটা আজ আর জানা যায় না। রবীন্দ্রনাথের এই প্রদর্শনী সম্বন্ধে অনেক খবর রানী চন্দ তাঁর ‘গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ’ বা ‘সব হতে আপন’ গ্রন্থে লিখেছেন। এ-ও জানিয়েছেন যে, সেসময় গুরুদেব প্রায়ই আর্ট স্কুলে মুকুল দে-র কোয়ার্টারে এসে থাকতেন। তিনিও কাছেপিঠে ঘুরঘুর করতেন। তাঁর নিজের প্রথম প্রকাশিত ছবির অ্যালবামের প্রকাশ বা সেটি দেখে দর্শকদের কি প্রতিক্রিয়া হয়েছিল, কিংবা তার ক’টি কপি বিক্রি হয়েছিল, আদৌ বিক্রি হয়েছিল কি না– সে ব্যাপারে তিনি সম্পূর্ণ নীরব। 

শিল্পী: রানী চন্দ

এ প্রসঙ্গে তাঁর স্মৃতিকথা থেকে তুলে ধরে ধরা যাক এই প্রদর্শনীর সলতে পাকাবার গল্পটি–

‘বড়দা তামার প্লেট এনে ধরলেন গুরুদেবের সামনে, হাতে দিলেন ডায়মন্ড পয়েন্ট একটি এচিং করবার যন্ত্র। গুরুদেব আঁকলেন ছবি– মকরবাহিনীর। বড়দার স্টুডিয়োতে প্রিন্ট নেওয়া হল। এই এচিং প্রিন্ট নিতে তখন আমিও শিখেছিলাম। মোটা অ্যাপ্রন পরে রোলার দিয়ে প্লেটে কালি লেপে হাতে ঘষে ঘষে প্লেট থেকে ঠিকমত কালি তুলে– কালি রেখে, প্রেসে চাপ দিয়ে হুইলের লোহার ডান্ডা ঘুরিয়ে প্রিন্ট যখন নিতাম– নিজেকে একটা বেশ জবরদস্ত কাজের লোক বলে মনে হত। মকরবাহিনীর প্রিন্ট আমিও নিলাম কয়েকটা। একটা করে প্রিন্ট নিই, আর কালিমাখা অ্যাপ্রন গায়েই গুরুদেবকে এনে দেখাই। আবার ছুটে স্টুডিও তে যাই।’

শিল্পী: রানী চন্দ

রবীন্দ্রনাথের স্নেহের প্রশ্রয় তাঁকে উৎসাহিত করেছিল, তাই নিজের আনন্দ তিনি ভাগ করে নিতে চেয়েছিলেন সতত সৃজনশীল মানুষটির সঙ্গে। অনুমান করা যায়, এই সময়ে করা ছাপাই ছবিগুলির আরও পরিণত কয়েকটি স্থানে পেয়েছে এই অ্যালবামে। এই ছাপাই ছবিগুলির মধ্যে তিনি তুলে ধরেছেন প্রাত্যহিক জীবনের নানা দৃশ্যকে। শিল্পী হিসেবে তাঁর মুনশিয়ানার প্রকাশ দেখা যায় এই ছাপচিত্রগুলিতে। সবচেয়ে লক্ষণীয় অবশ্যই তাঁর ছবিগুলির ভাবব্যঞ্জনা। আন্তরিক পর্যবেক্ষণে, প্রতিটি ছবি– মুড বা মেজাজ থেকে সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন তিনি। উদাহরণস্বরূপ ধরা যায়, তিনটি মেয়ের অন্তরঙ্গ কথালাপের ছবিটি। ছাপাই ছবির মধ্যেও প্রত্যেকের আলাদা আলাদা অভিব্যক্তি সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছিলেন তিনি। দেখতে দেখতে মনে পড়ে যায় রবীন্দ্রনাথের গানের পঙ্‌ক্তি– ‘ওলো সই ওলো সই…’।

শিল্পী: রানী চন্দ

তাঁর ছোটবেলা কেটেছে পূর্ববাংলার গ্রামে। প্রকৃতি আর মানুষ সেখানে জড়াজড়ি করে থাকে। ধলেশ্বরী নদী দিয়ে নৌকা বায় মাঝি। গ্রামের মেয়েরা চান করতে করতে ডাক দিয়ে জানতে চায়, কাদের বাড়ি কুটুম এল। কাদের মেয়ে পা রাখল বাপের বাড়িতে। সেই জীবনের মিঠে সুরটি ধরা পড়ল সাদায়, কালোয়, আলো আঁধারে– এই লিনোকাটগুলিতে। সূক্ষ্ম রেখার সহজ চলনে স্পষ্ট হয়ে ওঠে প্রকৃতির স্বাভাবিক সৌন্দর্য। চাঁদের আলোয় চরাচর ভেসে যাচ্ছে, ঘুমের গভীরে ডুবে আছে গ্রাম, সাদা কালোর অনায়াস ভারসাম্যে ফুটে উঠেছে সেই পূর্ণ চাঁদের মায়া।

শিল্পী: রানী চন্দ
শিল্পী: রানী চন্দ
শিল্পী: রানী চন্দ

এছাড়াও দেখা যায় শান্তিনিকেতনের আশেপাশের গ্রামের দৃশ্য, কলাভবনে ছাত্রীদের ডেস্কের ওপর ঝুঁকে পরে কাজ করার ছবি, খড়ের চালের বাড়ি বা দাওয়ায় বসে হুঁকো খাওয়ার দৃশ্য। কিছু কিছু ছবি তো মনে হয় কালো-সাদায় করা বলে এক বিশেষ মাত্রা পেয়েছে। চারপাশের মানুষ এবং নিসর্গের মধ্যে প্রাণ ঢেলে দেবার এক আশ্চর্য ক্ষমতা ছিল তাঁর, লেখা আর রেখায় তারই প্রকাশ। সবই চেনা ঘটনা, দেখা দৃশ্যও কিন্তু দেখতে দেখতে এক অন্যতর আবেগের ছোঁয়া লাগে মনে। হয়তো সমকালীন অন্যান্য ছাপাই-ছবিকার মুকুল দে কিংবা নন্দলাল বসুর সূক্ষ্ম রেখার মুনশিয়ানা নেই এইসব ছবিতে, কিন্তু আছে এক ধরনের কোমল অভিনিবেশ। করণ-কৌশলের সূক্ষ্মতর প্রয়োগের চেয়ে বিষয়ের শান্ত সরলতাই আজকের দর্শককেও মুগ্ধ করে।

শিল্পী: রানী চন্দ

তবে রানী এ ব্যাপারে নীরব থাকলেও, তাঁর কাজগুলি যে রসিকজনের দৃষ্টি এড়ায়নি– তার সাক্ষ্য মেলে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায়। সে বছরই উপেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়ের সম্পাদিত ‘বিচিত্রা’ পত্রিকার চৈত্র সংখ্যায় ওই অ্যালবাম থেকেই ছাপা হল ‘গল্পগুজব’, ‘মাঝদরিয়া’, ‘শিশু’, ‘জানালার ধারে’, ‘শরৎকাল’, ‘ভিজে চুল’ ও ‘জলভরণ’ নামে সাতটি ছবি। সেইসঙ্গে সম্পাদক স্বয়ং লিখলেন শিল্পীর পরিচিতি:

‘শ্রীমতি রানী বাংলাদেশের একটি প্রতিভাসম্পন্ন শিল্পী পরিবারের দুহিতা। … ১৯২৮ সাল হইতে ইনি ছবি আঁকিতেছেন এবং মাত্র বৎসর দুই উডকাট এবং লিনোকাট আরম্ভ করিয়াছেন। এই নিতান্ত অল্প সময়ের মধ্যে স্বীয় প্রতিভার বশে বাংলাদেশের শিল্পীসমাজে ইনি একটি বিশিষ্ট পদমর্যাদা লাভ করিতে সমর্থ হইয়াছেন। …  আমাদের প্রতিদিনকার জীবনযাত্রায় এবং প্রকৃতির বিচিত্র রঙ্গপটে যে অগণিত মূল কাহিনী বিরাজিত, রেখায় তাহার অনির্বচনীয়তাকে ব্যক্ত করিবার ক্ষমতা এ নব পরিচিতা শিল্পী অর্জন করিয়াছেন।’

শিল্পী: রানী চন্দ

সাধারণ পাঠক যদি এই পদ্ধতির সঙ্গে পরিচিত না-হওয়ায় শিল্পীর যথার্থ মূল্যায়ন না করতে পারেন, সেজন্যে লেখক এরপর বিস্তারিতভাবে লিনোকাট পদ্ধতিটি বর্ণনা করেছেন। কীভাবে লিনোনিয়াম শিটের উপর শিল্পী ছবির রেখা এনগ্রেভ করেছেন। পাশাপাশি একথাও জানাতে ভোলেননি যে, ‘অ্যালবামে প্রকাশিত প্রত্যেকটি ছবির সমস্ত কাজ, drawing হইতে আরম্ভ করিয়া printing পর্যন্ত শ্রীমতি রানীর দ্বারা সম্পন্ন হইয়াছে।’ 

স্মৃতিকথার পাতায় রানী ধরে রেখেছেন কলাভবনে তাঁর শিক্ষার্থী-জীবনের কথা। জানা যায়, এক অদ্ভুত প্রাণনার সঙ্গে তিনি ছবি আঁকতেন। দাদার বন্ধু হিসেবে নন্দলাল তাঁর পূর্বপরিচিত। মাস্টারমশাই হিসেবে, মানুষ হিসেবে তাঁর জীবনের অনেকখানি জুড়ে ছিলেন তিনি। নন্দলাল ফ্রেস্‌কো করবেন ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে। রানীও হাজির। কখনও রং গুলে দিচ্ছেন, কখনও দেওয়াল তৈরি করছেন। এভাবেই হাতেকলমে শিখছেন জয়পুরী ফ্রেস্‌কোর কাজ। সরকারি আর্ট স্কুলের দেওয়ালেও তিনি একটি ফ্রেস্‌কো করেছিলেন। তাঁর লেখার মধ্যে ছড়িয়ে থাকে এক সদর্থক দৃষ্টিভঙ্গি, যেন তিনি গুরুদেবের গানের বাণীটি– ‘তার অন্ত নাই গো যে আনন্দে ভরা আমার প্রাণ’ কেবল কণ্ঠস্থ করেননি, আত্মস্থও করেছেন। তবু হঠাৎ ভেসে আসা মেঘের মতো একঝলক অব্যাহত অভিমানও পাই সেখানে। সেও ওই ফ্রেস্‌কো সংক্রান্তই– “চীনা ভবনে নন্দদা ‘নটীর পূজা’ ফ্রেসকো করবেন। যেদিন শুরু করবেন সকালে আমাকে ডেকে পাঠালেন। ‘আজ চীনা ভবনের ফ্রেসকো শুরু করব, তুমি এসো’। রান্না করছিলাম। কড়াই সমেত আধসেদ্ধ তরকারি নামিয়ে রেখে ছুটে গেলাম। চীনা ভবনের বারান্দা জুড়ে মাচা বাঁধা হয়েছে। নন্দদা ততক্ষণে মাচার ওপর উঠে গেছেন। আমিও উঠতে যাব, তলা হতে বাধা পেলাম। নন্দদা জানতেও পারলেন না কিছু। … অভিমানে আমিও কোনদিন বলতে পারলাম না– ‘নন্দদা আমি এসেছিলাম’।” পাঠকের মনে প্রশ্ন উঠবে, এ বাধা কি তিনি পেয়েছিলেন মেয়ে বলে? অজানা উত্তর হারিয়ে গেছে কালের গর্ভে। কিন্তু এত বছরের ওপার হতে মহিলা শিল্পীদের আত্মপ্রকাশের কাহিনি পুনর্গঠন করতে গিয়ে বোধহয় উপেক্ষা করা যায় না এই অনুক্ত দীর্ঘশ্বাস।

নন্দলাল বসু

রবীন্দ্রনাথ, অবনীন্দ্রনাথের সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে কাটানো দিনগুলির সুখস্মৃতিতেও বিচ্ছিন্নভাবে তার নিজের ছবি আঁকার উল্লেখ পাওয়া যায়। কিন্তু সেই ছবি দেখার সৌভাগ্য হয়নি অনেকেরই। যেমন জানা হয়নি শিল্পী হিসেবে তার উত্তরণের ক্রমানুক্রমিক ইতিহাস। পাটনা মিউজিয়ামে রাখা আছে তাঁর বুদ্ধ জীবনের চিত্রায়ন। এখানে তিনি খানিকটা পরম্পরা বিলাসী। এই চিত্রাবলিতে হয়তো খানিকটা সঙ্গত কারণেই অজন্তার রেখাশৈলীর অনুসরণ করেছেন। প্রতি রেখায় রয়েছে সেই শান্ত, সংবেদনশীল গতিময়তা।

কবিতা চন্দের বই থেকে, শিল্পী: রানী চন্দ

জল রং এবং টেম্পারা পদ্ধতিতেও বহু ছবি করেছিলেন তিনি। সেখানে যেন এক রূপকথার আদল, সেখানে বাস্তব পরিবেশে উজ্জ্বল আলো আর অলংকরণের ব্যবহারে এক কল্পলোকের আভাস তৈরি হয়। ফুলের সঙ্গে ছিল তার আত্মিক সংযোগ। টেম্পারায় করা ফুলের ছবিতে রঙের মধ্যে দিয়ে নিজের অন্তর্লীন আলোর উদ্ভাসের ব্যঞ্জনা প্রকাশ পায়। পরবর্তীকালে ওয়াশ পদ্ধতিতে করা ছবিটিতে অবশ্য বর্ণবিন্যাসের সংযম ও রং বেছে নেবার সম্পূর্ণ ভিন্ন এক প্রবণতা। 

শিল্পী: রানী চন্দ
শিল্পী: রানী চন্দ

শুধু প্রিন্ট বা জলরঙের ছবি নয়, কলাভবনের সেকালের আর দশজন ছাত্রীর সঙ্গে রানী চন্দ শিখেছিলেন বাটিকের কাজ। জাভার থেকে দেখা এই পদ্ধতি প্রতিমা ঠাকুর আর নন্দলালের উৎসাহে ছড়িয়ে পড়েছিল কলাভবনে। কিন্তু তাদের মোম ঢালবার যন্ত্রটি, জান্টিং (tjanting) দিয়ে মোম লাগানোর পদ্ধতিটি আয়ত্ত করতে সকলেরই সমস্যা হচ্ছিল। ত্রাতার ভূমিকায় নামলেন মাস্টারমশাই– তুলি দিয়েই দ্রুতহারে মোম লাগাতে লাগলেন। সেদিনের কথা মনে করে রানী লিখছেন–

‘কতবার আমরা এ নিয়ে কত বেদনা পেয়েছি, কতবার মনকে সান্ত্বনা দিয়েছি– আবার কতবার খুশিতে উপচে উঠেছি। তারপর যার যার ডিজাইনে আমরা বাটিকের শাড়ি চাদর করে পরেছি, গায়ে জড়িয়েছি, আর আড়ে আড়ে একে অন্যকে দেখেছি– কারটা ভালো হয়েছে বেশি।’

শিল্পী: রানী চন্দ

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছিল নিত্যনতুন শিল্পদীক্ষার উৎসাহ। একবার তিনি আর প্রতিমা দেবী বিদেশ থেকে শিখে এলেন চামড়ায় নকশা করার পদ্ধতি, পিতলের পাত আর পিউটার পাতের কাজ। যে শান্তিনিকেতনের চামড়ার ব্যাগ আজ অতি পরিচিত, তারই সূচনাপর্বের কথা এসব। রাতারাতি উত্তরায়ণের, দক্ষিণের বারান্দায় হাতে গোনা কয়েকজন নিয়ে শুরু হল কাজ। বলাইবাহুল্য রানী সেখানেও হাজির। 

‘বারান্দার একদিকে পিউটার পাতে পিতলের পাতে এমবস্‌ করে নানা নক্‌শা তুলে কাঠের বাক্সে বসাই। বৌঠান দেখিয়ে দেন এই কাজ, নিজেও করেন। বারান্দার অন্য প্রান্তে রথীদা লেদার ওয়ার্ক করেন, আমাদেরও শেখান। চামড়ার টুকরো ছড়াছড়ি যায় সেই কোণটা জুড়ে। চামড়া কাটা থেকে নকশা তোলা, রঙ করা, সেলাই সবটাই নিজের হাতে করি। কোনোমতে তিন ভাঁজের একটা হাত ব্যাগ মোটা মোটা সেলাই দেওয়া, বড়ো জোর একটা টিপের বোতাম– এই-ই হয়ে যায় যদি– আনন্দে লাফিয়ে উঠি। চামড়ায় এতটুকু রঙ লাগাতে পুরো হাত রঙে মাখামাখি হয়ে যায়, এ রঙ সাবানে ওঠে না– দিনে দিনে নানা কাজে হালকা হয় এক সময়ে।’ 

শিল্পী: রানী চন্দ

এভাবেই শিল্পকর্মের সঙ্গে জড়িয়ে যায় জীবনচর্যা– বলছেন, ছবি না আঁকলে, মনখারাপ করতেন স্বামী অনিল চন্দ। সেই ছাত্র-বয়স থেকেই তাঁর সঙ্গে ঘুরত স্কেচখাতাটি। পূর্ণকুম্ভে গিয়েও তিনি বিশেষ বিশেষ লোকেদের স্কেচ করছেন। সে সংবাদ তিনি নিজেই দিয়েছেন। সেসব খাতা আজ অতীত ইতিহাসের সঙ্গে বিস্মৃতির গর্ভে বিলীন, তবু স্মৃতিটুকু থাক, বইয়ের অক্ষরে ধরা। রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুর পর ’৪২-এর আন্দোলনে দেশের ডাকে জড়িয়ে পড়লেন রানী। আশ্রমের ক্ষতি না-করে আদিত্যপুরের কাছে এক গোপন ডেরা থেকে গ্রেফতার হলেন। কিছুদিন কারাবরণও করেছিলেন। অল্প কিছুদিন ছিলেন রাজশাহী জেলে, আর বাকি দিনগুলি সিউড়ি জেলে। রানী লিখছেন– ‘বাইরের হাওয়া, ভিতরের হাওয়া, মনের হাওয়ায় তোলপাড় তুলল। আগস্ট আন্দোলনে জেলে গেলাম।’ আটমাস পর ছাড়া পেলেন। সেই কারাবাসের অভিজ্ঞতা নিয়ে লিখলেন ‘জেনানা ফাটক’। স্বচ্ছ কথনে জীবন্ত হয়ে উঠল জেলের বন্দিদের চরিত্রগুলি। তাদেরই নানা কাহিনি, অভ্যাস, মনোভাবের টুকরো-টুকরো ছবি। কেবল কারাবাসের খারাপ দিকগুলো নয়, ছেঁড়া মেঘের ফাঁকে উঁকি দেওয়া আলোর মতো দিকগুলোও উঠে এল জেনানা ফাটকে। বিভিন্ন কারণে শাস্তি পাওয়া মানুষদের মানবিকতার, স্বল্প সময়ে গড়ে ওঠা চলমান সম্পর্কের কিছু খণ্ডচিত্র তৈরি হল। কেবলমাত্র শব্দ দিয়ে নয়– ঋজু, বলিষ্ঠ, গতিশীল রেখায়, রানী নিজের স্কেচখাতায় এঁকেছিলেন সেই মানুষগুলোকে। কখনও বা তাদের বদ্ধ জীবনের মধ্যে বসন্তের আগমনের মতো স্বাভাবিক অথচ করুণ প্রাকৃতিক ঘটনাকেও।

বসন্তের আগমনে। শিল্পী: রানী চন্দ

অল্প কয়েকটি রেখার আঁচড়ে জীবন্ত হয়ে উঠেছিল তাঁর কারাবাসের সঙ্গীরা। চাবি হাতে মেট্রন যেমন। তাঁর সঙ্গে থাকা, বিনা অপরাধে কারাবাস করা সকলের স্নেহের পাত্র ছোট ছেলেটিও তেমন। উভয়েই নিজের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে ধরা দিয়েছে শিল্পীর রেখার বাঁধনে।

আমাদের ইন্দুমতী। শিল্পী: রানী চন্দ
জলিল, শিল্পী: রানী চন্দ

কারাবাসের পর স্বামীর রাজনৈতিক দায়িত্বের সূত্রে স্বাধীন ভারতের রাজধানী দিল্লিতে কাটিয়েছিলেন জীবনের ২০ বছর। ছবি আঁকা কমে এল বটে, কিন্তু নিজের হাতে রং বানিয়ে ছবি আঁকার যে শিক্ষা পেয়েছিলেন মাস্টারমশাইয়ের কাছে, সে অভ্যাস ছাড়েননি কোনওদিনও। ১৯৪৮-এ প্রকাশিত হয়েছিল তাঁর আঁকা একটি পিক্‌টোরিয়াল অ্যালবাম। তিনি ভারতের প্রথম মহিলা শিল্পী যাঁর একক প্রদর্শনী হয়েছে ডিলেট এবং বোম্বাইতে। এছারাও নানা গ্রুপ এগজিবিশনে অংশগ্রহণ করেছেন। সেই সূত্রে পেয়েছেন বেশ কয়েকটি সোনার পদক। অবশ্য তার আগেই কলাভবনের ছাত্রছাত্রীদের এক প্রদর্শনীতে তাঁর আঁকা ছবিটিকে ওরিয়েন্টাল আর্ট সোসাইটি স্বর্ণপদক ভূষিত করেছিল। তাঁর আঁকা ছবি রয়েছে রাষ্ট্রপতি ভবন সংগ্রহে, রয়েছে দেশের কয়েকটি রাজভবনের সংগ্রহে। শোনা যায়, ভারত সরকারের পক্ষ থেকে চৈনিক রাষ্ট্রীয় অতিথিদেরও উপহার দেওয়া হয় তাঁর ছবি।

অনিল চন্দ যখন অল ইন্ডিয়া হ্যান্ডিক্রাফটস বোর্ডের চেয়ারম্যান, বিভিন্ন উপজাতি অধ্যুষিত জায়গায় যাবার দায়িত্ব পড়েছিল তাঁর ওপর। সঙ্গে ছিলেন রানী। ‘এদের অখণ্ড জীবনের কারুকার্য’ এসময় এসময় করা অসংখ্য স্কেচে ছায়া ফেলেছে। আলো-ঝলমল কিন্নর দেশের বরফ ঢাকা পাহাড়চূড়ায় ‘হীরামোতি জ্বলে’। আর রূপসী কিন্নর কন্যারা, মনে হয় তাঁর, যেন ‘পর্বত অধীশ্বরী’। রানী রং চাপান; ছবি আঁকেন কখনও পাতায়, কখনও খাতায়। তবে সুদীর্ঘ প্রবাসজীবন আস্তে আস্তে তাঁর ছবির জগতে পর্দা ফেলতে থাকে। শান্তিনিকেতনে ফিরে গাছেদের সংসারের আলোছায়া নিয়ে মনে মনে খেলা করেন। ক্রমশ স্বামীর মৃত্যু, সন্তানের প্রবাসজীবন তাঁকে উপহার দেয় একাকিত্ব। তবু তাঁর সব হতে আপন শান্তিনিকেতনের আকাশ-বাতাসেই খুঁজে নেন আনন্দ। ভাবেন বসে– ‘অনেক গেল, অনেক এল। অনেক আছে, অনেক নেই।’

রবীন্দ্রনাথ শিল্পের সঙ্গে তাঁর সখ্যতা গড়ে দিয়েছিলেন। আর অবনীন্দ্রনাথ দিয়েছিলেন তিনটি জগতের সন্ধান। প্রথম জগৎটি– ‘আপন জিনিস, আপন লোকজন, আপন সুখদুঃখ, আপন ঘরবাড়ি– এইসব নিয়ে। এই যে নিজেরটি– এই নিয়ে কত শিল্পী দিচ্ছে কত ছবি।’ দ্বিতীয় জগৎ হল ‘পাড়াপড়শি নিয়ে যেন এ গ্রাম সে গ্রাম এ বাজার সে বাজার।’ তৃতীয়টি ‘সে নিজেরও নয়, পাড়াপড়শিরও নয়। সেই গহনে কীসের খোঁজে যায় মানুষ? মনের মানুষের খোঁজে।’ এসব দিনের কথা দিয়েই শিল্পী মানুষ রানী চন্দর শিল্পের সঙ্গে ঘরবসতের কাহিনি শুরু করেছিলাম। তাঁর চিত্রপার্বনের অভিজ্ঞতায়ও এই তিন জগতের লুকোচুরি, প্রথম পর্বে আপন দেখা দ্বিতীয় পর্ব পড়শি শিল্পের সঙ্গে আলাপচারি আর কারাবাসের নির্জনতায় তিনি খুঁজে পেলেন মানুষের ভেতর লুকনো মানুষের খোঁজ, লেখায়-রেখায় অদৃশ্য মায়ার বন্ধনে বাঁধলেন তাদের। এই খোঁজ চলল বাকি জীবন ধরেই, আর সবই, পুরস্কার, প্রদর্শনী সব বাহ্য। আর তাই তাঁর মাটির পৃথিবীতে যে শিল্পনীড় রচনা করেছিলেন তিনি সেখানে উল্লেখ পাই না সমকালীন এই শিল্প জ্যোতিষ্করা একই সময়ে ছিলেন, কাজ করেছেন ওই বিশ্বভারতীতেই। তাঁর স্মৃতিকাতর পাতা জুড়ে ঠাকুর পরিবারের সদস্যরা। আর রয়েছেন মাস্টারমশাই নন্দলাল। কেননা তাঁরই কথায় ‘নন্দন-কে ঘিরে ছিল সেই জগৎ– ছিল মুক্তির জগৎ।’ আর তিনি ছিলেন সেই ‘সীমা স্বর্গের ইন্দ্রাণী’।