


১৮৮৫ সালে জগন্নাথদেবের রথযাত্রার সময় শ্রীরামকৃষ্ণ কলকাতায় বলরাম বসুর বাড়িতে গিয়েছিলেন। সেখানে অনেক ভক্ত সমবেত হয়েছিলেন। তাঁদের কাছে ঠাকুর গোপালের মায়ের ঈশ্বর-উন্মাদনা ও দিব্য দর্শনের কথা সপ্রশংসভাবে বলছিলেন। এরপর তিনি বলরামকে বললেন গোপালের মা-কে ডেকে পাঠাতে। হঠাৎ সমাধিস্থ অবস্থায় তাঁর শরীর গোপালের ভঙ্গিতে রূপান্তরিত হল!
অঘোরমণি দেবী ১৮২২ সালে কলকাতার কাছে কামারহাটি গ্রামে এক ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তৎকালীন প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, মাত্র নয় বছর বয়সে বিয়ে দেওয়া হয়। তিনি বিধবা হয়েছিলেন মাত্র ১৪ বছর বয়সে। বিয়ের সময় একবারই স্বামীকে দেখেছিলেন। পরবর্তী সময়ে তাঁর ভাই নীলমাধব বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে থাকতেন। যিনি কামারহাটিতে কৃষ্ণ মন্দিরের পুরোহিত ছিলেন। অঘোরমণি স্বামীর পারিবারিক গুরুর দ্বারা আধ্যাত্মিক জীবনে দীক্ষিত হয়েছিলেন এবং শিশু কৃষ্ণকে দেবতা হিসেবে পেয়েছিলেন। মানসিক অস্থিরতায় মন্দিরে বারবার যাতায়াতের সময় তিনি গোবিন্দচন্দ্র দত্তের বোনের সঙ্গে পরিচিত হন। যিনি তাকে গঙ্গানদীর তীরে মন্দিরের বাগানে একটা ছোট ঘর দিয়েছিলেন। অঘোরমণি তাঁর গয়না এবং স্বামীর সম্পত্তি বিক্রি করে ৫০০ টাকা বিনিয়োগ করে এক অনাড়ম্বর যাত্রা শুরু করেন। তিনি তাঁর জীবনের পরবর্তী ৩০ বছর সেই ছোট্ট ঘরে অত্যন্ত সহজসরল জীবনযাপন করেছেন।

তাঁর দৈনন্দিন রুটিনের মধ্যে ছিল রাত দুটোয় ঘুম থেকে ওঠা। হাত-পা ধোয়া এবং সকাল আটটা পর্যন্ত আধ্যাত্মিক অনুশীলন চালিয়ে যাওয়া। তারপর তিনি কৃষ্ণ-সংলগ্ন মন্দিরে কাজ করতেন। যাকে রাধামাধবের মন্দিরও বলা হয়। ১৮৫২ থেকে ১৮৮৩ সাল পর্যন্ত তিনি এই রুটিন অনুসরণ করেছিলেন। সন্ধ্যায় তিনি মন্দিরের সেবায় যোগ দিতেন আর নৈবেদ্য দেওয়ার পরে সাধারণ খাবার গ্রহণ করতেন। মধ্যরাত পর্যন্ত চলত তাঁর আধ্যাত্মিক অনুশীলন। তিনি বাগানবাড়ির দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে থাকতেন। তাঁর নিয়মিত কঠোর অনুশীলন এবং তপস্যা থেকে একমাত্র বিরতি ছিল তাঁর বাড়িওয়ালির সঙ্গে মথুরা, বৃন্দাবন, গয়া, বারাণসী এবং এলাহাবাদের পবিত্র স্থানগুলিতে ভ্রমণ।
উনিশ শতকের আটের দশকে সাধক হিসেবে শ্রীরামকৃষ্ণের খ্যাতি দূর-দূরান্তে ছড়িয়ে পড়েছিল। অঘোরমণি তাঁর সঙ্গে দেখা করার তাগিদ অনুভব করলেন। ১৮৮৪ সালের এক শরৎকালের বিকেলে, গোবিন্দ দত্তের আত্মীয়ার সঙ্গে তিনি দক্ষিণেশ্বরে গেলেন। তখন তাঁর বয়স প্রায় ৬২। গুরুর চেয়ে ১৪ বছরের বড়। শ্রীরামকৃষ্ণ তাঁদের আন্তরিকভাবে স্বাগত জানালেন। ঘরে বসালেন। তাঁদের জন্য কয়েকটি ভক্তিগীতি গাইলেন। তিনি সহজেই দুই মহিলার ভক্তির গভীরতা উপলব্ধি করতে পারলেন। পরে তিনি তাঁদের সম্পর্কে মন্তব্য করেছিলেন, “আহ্! তাঁদের মুখ ও চোখের অভিব্যক্তি কী সুন্দর! তাঁরা যেন ঈশ্বরপ্রেমের স্রোতে ভাসছেন। তাঁদের চোখ ঈশ্বরপ্রেমের তীব্র অনুভূতিতে পূর্ণ।” তিনি তাঁর স্বভাবসুলভ স্নেহপূর্ণ ভঙ্গিতে তাঁদের বিদায় জানালেন এবং আবার আসতে বললেন। এটি কোনও গতানুগতিক সৌজন্যমূলক আমন্ত্রণ ছিল না। চুম্বক যেন লোহাকে নিজের দিকে টানছিল। অঘোরমণি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব গুরুর কাছে যাওয়ার তীব্র ইচ্ছা অনুভব করলেন। কিছুদিন পর তিনি রাস্তার ধারের এক দোকান থেকে কেনা কিছু বাসি মিষ্টি নিয়ে আবার দক্ষিণেশ্বরে গেলেন। অনেক দ্বিধা নিয়ে তিনি মিষ্টিগুলো গুরুকে নিবেদন করলেন। গুরু সেগুলো আস্বাদন করে বললেন, “বেশ, মিষ্টির জন্য তোমার টাকা খরচ করার দরকার নেই। নিজের হাতে নারকেলের মিষ্টি বল আর সবজির তরকারি রান্না করো।” এরপর থেকে অঘোরমণির দক্ষিণেশ্বরে যাওয়া খুব ঘন ঘন হতে লাগল। কিন্তু গুরুর প্রতি তাঁর মুগ্ধতা কিছুটা ম্লান হয়ে গিয়েছিল এই ধাঁধার কারণে যে, গুরু তাঁর সঙ্গে আধ্যাত্মিক বিষয় নিয়ে কথা না বলে, বেশিরভাগ সময়েই খাবার নিয়ে কথা বলতেন। কখনও কখনও তিনি আর গুরুর কাছে না যাওয়ার সংকল্প করতেন। কিন্তু প্রতিবারই দেখতেন যে তিনি নিজেই নিজেকে দক্ষিণেশ্বরের দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন। এইভাবে, পরবর্তী তিন-চার মাস ধরে তিনি নিয়মিত শ্রীরামকৃষ্ণের কাছে যেতেন কামারহাটি থেকে দক্ষিণেশ্বর পর্যন্ত পায়ে হেঁটে।

সময় গড়িয়ে চলল। গুরুর সান্নিধ্যে মগ্ন ছিলেন অঘোরমণি। তাঁর তীব্র আকাঙ্ক্ষা তাঁর মধ্যে সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণের এক ভাব জাগিয়ে তুলেছিল। ধীরে ধীরে, তাঁর কঠোর তপস্যার ফল লাভের সময় ঘনিয়ে এল। সেটা ছিল ১৮৮৫ সালের বসন্তের এক আশ্চর্য সকাল। নিত্যদিনের অভ্যাসমতো তিনি সবেমাত্র জপ শেষ করেছিলেন এবং পরম বিস্ময়ে তিনি দেখলেন, শ্রীরামকৃষ্ণ তাঁর বাম পাশে বসে আছেন। হাসি মুখ। ডান হাত মুঠো করা। চরম কৌতূহলে তিনি তাঁকে স্পর্শ করার চেষ্টা করলেন। কিন্তু দেখলেন যে শ্রীরামকৃষ্ণের রূপ অদৃশ্য হয়ে গিয়েছে। তার জায়গায় আবির্ভূত হয়েছে স্বয়ং গোপাল– ১০ মাস বয়সী এক শিশু। যে তাঁর দিকে হামাগুড়ি দিয়ে আসছে। পরম দৃষ্টিতে তাকিয়ে মাখন ভিক্ষা করছে! অঘোরমণির ভাষায়, “আমি এতটাই অবাক হয়েছিলাম, যে, আনন্দে কেঁদে ফেললাম। বললাম, ‘হায়! আমি এক গরিব বিধবা। তোমার জন্য মাখন কোথায় পাব, বৎস?’” কিন্তু গোপাল শুনল না। “আমাকে কিছু খেতে দাও” সে আমাকে বারবার বলতে লাগল। চোখে জল নিয়ে আমি উঠে আমার কাছে থাকা কিছু শুকনো মিষ্টি নারকেলের বল ওর জন্য নিয়ে এলাম। গোপাল আমার কোলে বসে আমার জপমালাটা ছিনিয়ে নিল। আমার কাঁধে লাফিয়ে উঠল আর ঘরের মধ্যে এমনভাবে ঘুরতে লাগল যে, মন্ত্রজপ চালিয়ে যাওয়ার আমার সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে গেল। পরদিন ভোরের প্রথম আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে অঘোরমণি গোপালকে বুকে জড়িয়ে ধরে দক্ষিণেশ্বরের দিকে রওনা হলেন। গোপালের ছোট্ট গোলাপী পা দু’টি সুন্দরভাবে দুলছিল।

কী এক পরম সুখের অভিজ্ঞতা! তিনি তাঁর যখের ধনকে রক্ত-মাংসের দেহে আলিঙ্গন করছিলেন! তিনি উপলব্ধি করলেন যে শ্রীরামকৃষ্ণই তাঁকে এই বর দিয়েছেন। তিনি আর কেউ নন, স্বয়ং সেই গোপাল। তিনি পাগলের মতো “গোপাল, গোপাল” বলে কাঁদতে কাঁদতে গুরুর ঘরে পৌঁছালেন। অঘোরমণি গুরুর ঘরে বসতেই, গুরু সমাধিতে বিভোর হয়ে শিশুর মতো সানন্দে তাঁর কোলে বসে পড়লেন। তাঁর গাল বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ল, এবং তিনি সঙ্গে আনা সুস্বাদু খাবার দিয়ে গুরুকে খাওয়াতে লাগলেন। কিছুক্ষণ পর গুরু স্বাভাবিক জ্ঞান ফিরে পেলেন এবং তাঁর শয্যায় ফিরে গেলেন। অঘোরমণি আনন্দে নৃত্য শুরু করে দিলেন। সেই অবস্থায় তিনি বললেন, “গোপাল এখন আমার কোলে। ওহ্! এখন সে তোমার শরীরে প্রবেশ করেছে। আহ্! সে আবার বেরিয়ে এসেছে। এসো আমার সোনা; তোমার এই অসহায় মায়ের কাছে এসো।” গোপালের মায়ের এই চমৎকার অবস্থা দেখে শ্রীরামকৃষ্ণ অত্যন্ত আনন্দিত হলেন, তাঁর শরীরে হাত বুলিয়ে তাঁকে স্বাভাবিক চেতনায় ফিরিয়ে আনলেন। তিনি তাঁকে পেট ভরে খাওয়ালেন এবং সন্ধ্যায় কামারহাটিতে ফেরত পাঠিয়ে দিলেন। এই ঘটনার পর, শ্রীরামকৃষ্ণ ও অন্যরা তাঁকে ‘গোপালের মা’ বলে সম্বোধন করতে লাগলেন।

ফেরার পথেও তিনি তাঁর কোলে শিশু কৃষ্ণকে অনুভব করছিলেন। নিজের ঘরে যাঁর নামজপ ও ধ্যান করেই তিনি সারা জীবন কাটিয়েছেন– সে তখন তাঁরই পাশে খেলছে। নানা আবদার ও দুষ্টুমি সমেত। তাঁর জপের মালাও কেড়ে নিত। তাঁকে শান্ত করতে তিনি আদর করে ঘুম পাড়ানোর চেষ্টা করতেন। কিন্তু শিশুটি অভিযোগ করল যে বালিশটা বড্ড শক্ত! জ্বালানি কাঠ সংগ্রহের কাজেও গোপাল তাঁকে সাহায্য করত। এভাবেই কামারহাটির পবিত্র মন্দির-বাগানে এক দিব্যলীলা চলতে লাগল– বর্তমান সময়ের নিরিখে যা এক বিরল ঘটনা!

গুরু ও শিষ্যের সম্পর্কের চমৎকার নিদর্শন পাওয়া যায় একটা ঘটনায়। ১৮৮৫ সালে জগন্নাথদেবের রথযাত্রার সময় শ্রীরামকৃষ্ণ কলকাতায় বলরাম বসুর বাড়িতে গিয়েছিলেন। সেখানে অনেক ভক্ত সমবেত হয়েছিলেন। তাঁদের কাছে ঠাকুর গোপালের মায়ের ঈশ্বর-উন্মাদনা ও দিব্য দর্শনের কথা সপ্রশংসভাবে বলছিলেন। এরপর তিনি বলরামকে বললেন গোপালের মা-কে ডেকে পাঠাতে। হঠাৎ সমাধিস্থ অবস্থায় তাঁর শরীর গোপালের ভঙ্গিতে রূপান্তরিত হল! দুই হাঁটুতে ভর দিয়ে হামাগুড়ি দেওয়া। এক হাত মাটিতে রাখা এবং মুখে যেন কারওর আগমনের প্রতীক্ষায় ব্যাকুল ভাব। সেই দিব্য দৃশ্য দেখে ভক্তরা বিস্মিত হলেন। ঠিক সেই সময়েই গোপালের মা সেখানে প্রবেশ করলেন। শ্রীরামকৃষ্ণের দিকে তাকিয়ে তিনি বললেন, “আমার গোপাল তো হাসবে-খেলবে, হাঁটবে-ছুটবে। কিন্তু এ কী? গোপালের এমন রূপ দেখতে আমার ভালো লাগছে না।”

শ্রীরামকৃষ্ণদেবই একদিন নরেন্দ্রর সঙ্গে এই সরল ভক্তিমতী বৃদ্ধার আলাপ করিয়ে দেন। নরেন্দ্র তখন আধ্যাত্মিক দর্শনে অতটা বিশ্বাস করতেন না। কিন্তু গোপালের মায়ের মুখে তাঁর ঈশ্বর দর্শনের গল্প শুনে তিনি গভীরভাবে মুগ্ধ হন এবং তাঁর দর্শন যে সত্যি তা স্বীকার করেন। পরবর্তী জীবনেও স্বামীজির সঙ্গে তাঁর অত্যন্ত স্নেহের ও গভীর সম্পর্ক ছিল।
শ্রীমা সারদা দেবী প্রায়শই তাঁর সঙ্গে দেখা করতে যেতেন। সিস্টার নিবেদিতা তাঁর ঘর সম্পর্কে লিখেছেন, “তাঁর ছোট্ট ঘরটি ছিল একেবারেই আরামহীন। এক মুঠো মুড়ি আর মিছরিই ছিল তাঁর একমাত্র সম্বল। কিন্তু জায়গাটা ছিল ঝকঝকে পরিষ্কার। তাঁর নিজেরই বলিষ্ঠভাবে বয়ে আনা গঙ্গার জলে তা অনবরত ধোওয়া হত। আর হাতের কাছের একটি কুলুঙ্গিতে রাখা ছিল রামায়ণের একটি পুরনো বই, তাঁর বড় শিং-এর চশমা, আর জপমালা ভর্তি ছোট বাক্স।
শ্রীরামকৃষ্ণের মহাপরিনির্বাণের পর গোপালের মা শোকে মূহ্যমান হয়ে পড়েন। তাঁর শেষ দিনগুলিতে সিস্টার নিবেদিতা তাঁকে নিজের মেয়ের মতো সেবাযত্ন করেন। ১৯০৬ সালের ৯ জুলাই তাঁর অন্তিম পরিণতি ঘটে। তাঁকে গঙ্গার কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। যেখানে ভোরবেলা নদীর পবিত্র জল স্পর্শ করে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর দেহত্যাগের সময়, যখন শ্রীমা তাঁর পাশে বসলেন, গোপালের-মা ধীরে ধীরে বিড়বিড় করে বললেন, “গোপাল, তুমি এসেছ? এতদিন তুমি আমার কোলে বসেছিলে। কিন্তু আজ তোমার পালা আমাকে তোমার কোলে নেওয়ার।” যখন তাঁর মাথা শ্রীমার কোলে রাখা হল, তখন শ্রীমা সস্নেহে তাঁর শরীর স্পর্শ করলেন। সেখানে নিস্তব্ধতা নেমে এল। তখন গোপালের-মা, যিনি নিশ্চয়ই শ্রীমায়ের মধ্যে গোপালকে দেখেছিলেন, স্মৃতিকাতর স্বরে বললেন, “হে গোপাল, এতদিন তুমি আমার চরণ ধৌত করেছ এবং আমার জন্য আসন পেতে দিয়েছ। আজ তুমি তোমার চরণধূলি আমার কপালে লাগিয়ে দেবে।”
এভাবে এক ভক্তযুগের অবসান হল।
পরবর্তী সময় মন্দিরের কাছে ১৯৭১ সালে ভাবময়ী অঘোরমণি উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হয় এবং ২০০০ সালে উচ্চ বিদ্যালয় হিসেবে উন্নীত হয়।
‘গোপালের মা’ (অঘোরমণি দেবী) বেলুড় মঠের নামানুসারে রামকৃষ্ণ মিশন সেবা প্রতিষ্ঠান নার্সিং ছাত্রীদের জন্য একটি বৃত্তি বা পুরস্কার প্রদান করে থাকে ‘The School of Nursing, Ramakrishna Mission Seva Pratishthan’।

বর্তমানে কিছু ভক্ত সহযোগে পুজো ও নামকীর্তন হয় রাধাগোবিন্দ মন্দিরে।
মন্দির প্রতিষ্ঠা দিবস (পৌষ সংক্রান্তি), জন্মাষ্টমী, রাধাষ্টমী, রাস পূর্ণিমা, দোল পূর্ণিমা ও অন্নকূট উৎসব পালিত হয় এখনও। একসময় মেলা বসত। প্রচুর লোক সমাগম হত।
তবে, এখন গোবিন্দ দত্তের রাধাগোবিন্দ মন্দির খানিকটা অন্ধকারময়। কাছাকাছি থাকার ফলে টের পাই অনেকেই এই ইতিহাস জানেন না। এমনকী অঞ্চলের বেশিরভাগ মানুষ এই স্থানের মাহাত্ম্য না জেনেই চলে যায় পাশের গঙ্গার ঘাটে। মন্দির কর্তৃপক্ষ, রামকৃষ্ণ মিশন এবং সাধারণ মানুষের কাছে বিনীত অনুরোধ এই ঐতিহাসিক মন্দির নিয়ে ভাবুন। কিছু সামাজিক কাজ শুরু হোক। যেখানে শ্রীরামকৃষ্ণ, সিস্টার নিবেদিতার মতো মানুষের নিয়মিত চরণ পড়েছে সেই পূণ্যভূমি সকলে জানুক, দেখুক ও আনন্দ উপভোগ করুক…
তথ্যসূত্র:
১। স্বামী প্রভানন্দ রচিত ‘ফার্স্ট মিটিং উইথ শ্রী রামকৃষ্ণ’
২। স্বামী চেতনানন্দ রচিত ‘দে লিভড উইথ গড’
৩। ‘নির্বাণ’, জুলাই ২০০৮। রামকৃষ্ণ মিশন, সিঙ্গাপুর কর্তৃক প্রকাশিত। ড. চেতনা মান্দাভিয়া।
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved