

পুরীর রথযাত্রার ইতিহাস বলতে গেলে ব্রিটিশ আমলের কলেরা মহামারির প্রসঙ্গ উত্থাপিত হবেই। ঐতিহাসিক ডেভিড আর্নল্ড বলছেন যে, ১৮৬৬ সালে কনস্ট্যানটিনোপলে সংঘটিত একটি সভায় পুরীর তীর্থ সমাগমকে দায়ী করা হয় বিশ্বে বিবিধ স্থানে কলেরা ছড়ানোর জন্য। ইতিপূর্বে মক্কাকেও দায়ী করা হয়েছিল এই রোগ সংক্রমণের হেতু হিসেবে।
মহিলা রাজনীতিবিদ হলেই তার প্রেম, যৌনতা বা চুম্বন নিয়ে অনায়াসে বক্তব্য রাখা যায়, যা একজন পুরুষ নেতার সম্পর্কে আমাদের মাথাতেও আসে না। মোদি-মেলোনি মিম, তাদের বারান্দা-সেলফি বা জেলেনেস্কির সাথে আলিঙ্গন আবারও একবার প্রমাণ করিয়ে দেয় যে, আমরা সকলেই আদতে একটা মেল গেজের মধ্যে রয়েছি।
‘গার্ডিয়ান’ পত্রিকার সিনিয়র স্পোর্টস রিপোর্টার এই বিশ্বকাপকে বলছেন, ‘ট্রাম্পের বিশ্বকাপ’। ইরানি ফুটবলারদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য, সেখানকার ফুটবলপ্রেমীদের আমেরিকায় ঢুকতে না দেওয়া, ‘আতঙ্কবাদী’ বলে দাগিয়ে দেওয়া, মুসলিম ও আফ্রিকান রেফারিকে নাকাল করা বুঝিয়ে দিয়েছে, এবারের বিশ্বকাপ বর্ণবিদ্বেষবাদ, যুদ্ধ বা পক্ষপাতদুষ্টতাকে সঙ্গে নিয়েই চলবে।
আমাদের দেশে গর্ভবতী মায়েদের পরিচর্যায় তৈরি হয়েছে হরেকরকম গার্হস্থ্য রেওয়াজ। কিন্তু সেই সুরক্ষা বলয় ক্রমশই শিথিল হয়ে যায় সন্তান একবার ভূমিষ্ট হয়ে গেলে। গ্রামীণ, অতি সাধারণ বাড়ির মহিলারাই শুধু নয়, যে-মহিলারা অতি সম্ভ্রান্ত পরিবার থেকে আসে, তারাও কি অনুভব করে না গর্ভবতী আর প্রসূতি হওয়ার পার্থক্য?
ফারহাতের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে যদি প্রশ্ন করা যায়, তাহলে প্রথমেই বলতে হয় যে, প্রসব-পূর্ববর্তী লিঙ্গ নির্ধারণ বেআইনি ঘোষণা করা হয়েছে ঠিকই, কিন্তু এমন অপরাধের কারণটি সমূলে উৎপাটন করা গেছে কি? অর্থাৎ যে যে কারণে ভারতে কন্যা-সন্তানকে অবাঞ্ছিত বলে ভাবা হয়, সেই কারণগুলির কোনও সুরাহা হয়েছে?
সুপ্রিম কোর্টে ৩৩ জনের মধ্যে ১ জন মহিলা জাজ, এই পরিসংখ্যান নিতান্ত হাস্যকর এবং লজ্জাজনক। সারা বিশ্বে সবথেকে বেশি মহিলা বিচারপতি দেখা যায় পূর্ব ইউরোপের দেশগুলিতে; হাঙ্গেরি, স্লোভানিয়া, লাটভিয়া বা গ্রিসে মহিলা জাজরা ৭০% সিট অধিগ্রহণ করে থাকে। আমেরিকায় সেখানে ৫১ শতাংশ এবং ভারতে মাত্র ১১ শতাংশ।
সাহিত্য, ইতিহাস, শিল্পকলা, এমনকী, ধর্মীয় পুঁথিতেও যেভাবে যৌনতা, প্রেম বা অন্তরঙ্গতা নিয়ে নানা খোলামেলা আলোচনা পাওয়া যায়, তার সঙ্গে আজকের হিন্দুত্ব মবদের মতামত মেলে না।
মারমুখী যুবাদের সামনে তার পরিচয়, ভাষা বা আইডেন্টিটি ইন্ডিয়ান– এমন জবাবদিহি অনিবার্য হয়ে পড়েছিল অ্যাঞ্জেল চাকমার জন্য। কথা হল, এই চারটে শব্দ: ‘আমি ভারতীয়, চিনা নই’, সীমান্তবর্তী এলাকার এক মৃতপ্রায় যুককের মুখ থেকে শুনে কী ধরনের সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজনীতির আঁচ আমরা পাই?
ক্ষণকালের শীত আসে। ছুঁয়ে থাকে, চলে যায়। চিরকালীন এক জনপদে সেই চঞ্চল শীত কেমন? খুব কি বদলে যায় বেনারস? ঘাটে এসে বসে পুরনো, নতুন, চিরকালীন মানুষ? বদলে যায় রুটিন? ঘুরে দেখুন বেনারস, অক্ষরে অক্ষরে, ছবিতেও।
সোশ্যাল মিডিয়া কি তার মতো আরও হাজারো ছেলেমেয়ের উপর পারফরম্যান্স প্রেশার বা একরৈখিকভাবে নিজেকে উপস্থাপন করার বাধ্যবাধকতা তৈরি করছে? না কি প্রকৃত জীবনে নিজেকে প্রকাশ করতে না পেরে ভার্চুয়াল দুনিয়া তাকে মুক্তির স্বাদ দিতে সক্ষম? এই প্রশ্ন হয়তো একুশ শতকের সবচেয়ে জরুরি ইস্যু।
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved