Robbar

প্রেতশিলায় লিখা

Published by: Robbar Digital
  • Posted:April 25, 2026 8:24 pm
  • Updated:April 25, 2026 8:24 pm  

রোববার.ইন-এ এবার মাঝে মাঝেই গল্পের আসর। তবে, শুধুই রবিবার করে। কেমন লাগছে সেইসব গল্প আপনাদের? জানাতে পারেন [email protected]এই মেল আইডিতে। গল্প পাঠাতেও পারেন আমাদের। গল্পের শব্দসীমা ২০০০। পাঠাতে হবে ইউনিকোড, ওয়ার্ড ফাইলে। সঙ্গে পরিচয় ও ফোন নাম্বার দিতে ভুলবেন না। 

জয়ন্ত দে

আমার এক বন্ধু তমাল একদিন ফোন করল। বলল, ‘তোর কাছে একজনকে নিয়ে যাব, তিনি তোকে খুব খুঁজছেন।’
আমি তাকে সবিনয়ে প্রত্যাখ্যান করলাম, বললাম, ‘এখন কিছুদিন আসিস না, কাজের খুব চাপ, এসআইআর চলছে, তার ওপর ভোট– জিনা হারাম করে দিয়েছে!’
তমাল কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল, ‘আসলে তাকে আমি কথা দিয়েছি, তোর সঙ্গে দেখা করিয়ে দেব। তাহলে তার কী হবে? আমার যে কথার খেলাপ হয়ে যাবে!’ আমি বললাম, ‘আমাকে না জানিয়ে এমন কথা দিলি কেন?’ বন্ধুটি বিব্রত গলায় বলল, “আমি দিইনি বিশ্বাস কর, সে-আদায় করে নিয়েছে। তুই ভাই দু’-একদিনের মধ্যে আধঘণ্টা সময় দে। টিফিনের সময় যাই। খেতে খেতে ওর কথা শুনে নিবি।” আমি বললাম, ‘এখন টিফিন আওয়ার্স কি– পেচ্ছাপ করতে যাওয়ার সময় নেই। কী বলতে চায় সে? নাম ওঠেনি– ডিলিটেড, না অ্যাডজুডিকেশন?’

বন্ধুটি কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল, ‘সে তোর উপকার করতে চায়– তোর কিছু একটা গোলমাল হয়ে গেছে–।’
‘মানে!’ আমি যতখানি বিস্মিত, ততখানি বিরক্ত। বললাম, ‘সে আমার সঙ্গে দেখা করতে চাইছে, সোজা কথায় সে আমার কৃপাপ্রার্থী, অথচ সে আমার উপকার করতে চাইছে! এ তো শুধু সময় নষ্ট নয়, বরং আমাকে বিরক্ত করতেই আসছে বলতে পারিস?’
তমাল ফোনের ওপারে কিঞ্চিত ঘাবড়ে গেল। বলল, ‘সেরকমই তো বলছে, আমি কী করব বল? খুবই নাছোড়, আর একটু গোলমেলে ব্যাপার– তুই শোন না একবার!’
আমি বললাম, ‘তার মানে তোর ঘাড় থেকে তাকে নামিয়ে তুই আমার ঘাড়ে চালান করতে চাইছিস। এখন এসআইআর উইথ ভোট, খুব চাপ রে–’
“আমি জানি, সে ক’দিনের জন্য এসেছে, তাই–।”
‘আপাতত আমার কোনও বিপদ নেই। নাম টাম আছে’ মজা করলাম। ‘এরমধ্যে দেখা হবে না, সত্যিই আমি সময় করতে পারব না। পরে অন্য সময় বলিস।’
তমাল শুকনো গলায় বলল, ‘তুই কিন্তু দেখা করতে পারতিস, আমার মন বলছে এতে তোর ভালো হবে।’
ওর কথা শুনে আমার পিত্তি জ্বলে গেল। আমি ঠান্ডা গলায় বললাম, ‘আমি ভালো চাই না।’
তমাল দীর্ঘশ্বাস ফেলল। বলল, ‘এভাবে বলিস না। ঠিক আছে, আমি ওঁকে জানিয়ে দেব।’
কিন্তু তমাল হয় বেহায়া, নয় মাথাটা গিয়েছে। না হলে ঠিক তিন দিনের পরে শনিবার দুটো নাগাদ হাজির হল অফিসে। সঙ্গে সেই মাতব্বর। আমি আর একটু ছোটলোক হতে পারলে– দেখা করতাম না। কিন্তু অফিস পর্যন্ত চলে এসেছে যখন ঘরে ডেকে নিতেই হল।

তমাল বেশ বিব্রত মুখে বলল, ‘এদিকে এসেছিলাম, চলে এলাম রে!’
আমি ওর পাশের জনের দিকে তাকালাম না। লোকটি কুঁকড়ে আছে। এ আমার ভালো করবে? সে বিড়বিড় করল, ‘পানি।’
আমি জলের বোতল এগিয়ে দিলাম। লোকটা কঁৎ কঁৎ করে জল খেল। তারপর বলল, ‘সারজি, বাথরুমটা কোথায়?’
আমি ঠান্ডা গলায় বললাম, ‘বাইরে বেরিয়েই রাইট সাইডে দেখুন।’
লোকটা বাইরে গেল। আমি কাচের ভেতর থেকে দেখছি, ডানদিক-বাঁদিক দেখে সামনে এগিয়ে গেল। তারপর পিছন তাকিয়ে রাইট সাইড পেল। তমালকে বললাম, ‘তোর ছেলেমানুষি গেল না– তোকে বললাম, খুব চাপ চলছে, তাও নিয়ে চলে এলি। এ কী তোদের কলেজের চাকরি!’
তমাল আগাগোড়া একটু ক্যালানে টাইপের, তবে বিশ্বাসযোগ্য। বলল, ‘না-আনলে ঝামেলা ছিল। বার বার বলছে, তোর জন্য এত ঝামেলা আমি নেব কেন?’
‘আমার জন্য?’

লোকটা এল। আবার গুটিশুটি মেরে বসল। বলল, ‘চায়ে মিলবে?’
ওই যে আমি ছোটলোক নই। বললাম, ‘বলছি।’ বললাম। প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই চা এল। লোকটা বলল, ‘কালা চা! দুধ চায়ে মিলবে না?’
তমাল ফস করে মিল্ক আর সুগারের স্যাসে খুলে কাঠি দিয়ে নেড়ে দিল।
লোকটা চা শেষ করে তমালের দিকে তাকাল। তমাল বলল, ‘ইনি পান্ডেজি। পরমেশ্বর পান্ডে। একদিন পাড়ায় এসে তোর খোঁজ করছিলেন। পুরনো লোকজনরা তোদের কথা বলতে পারবে, এখন সব ফ্ল্যাট, তারা তোদের কেউ দেখেনি, চেনে না। না খুঁজে পেয়ে চলে যাচ্ছিলেন। এমন সময় আমার সঙ্গে দেখা। তোরা তো ২০-২৫ বছর হল চলে গেছিস। উনি গয়া থেকে এসেছেন।’
লোকটা বলল, ‘জি গয়া। কলকাত্তায় আমার অনেক জান পহেচান আছে। দো-তিন মাহিনা বাদ আসি।’
আমি চুপ করে আছি।
লোকটা মুখ তুলে জিজ্ঞেস করল, ‘গয়া গিয়েছেন কোনওদিন?’
আমার কোনও খোশগল্প করার ইচ্ছে নেই, সময়ও নেই। তবু বললাম, ‘কাশী বেনারস গিয়েছি, গয়ার ওপর দিয়ে ট্রেনে সফর করেছি।’
‘বাবা-মা জীবিৎ আছেন?’
‘না, অনেকদিন হল মারা গেছেন?’
‘আপনি কবে মারা গেছেন?’
‘মানে?’ আমি সোজা হয়ে বসলাম।
‘ডেট ভুলে গেছেন। আমার কাছে লিখা আছে– আপনি ২৫ ফ্যাব্রুয়ারি ২০২৩ মারা গেছেন।’
‘মানে, বুঝতে পারছি না?’
‘এই যে, আমাদের খাতায় লিখা আছে। খাতা আনিনি। খাতায় এন্ট্রি আছে– ফোটোতে দেখে নিন।’
লোকটা দ্রুত মোবাইল খুলে দেখাল– আমার নাম। জন্ম তারিখ, মৃত্যু তারিখ। বললেন, ‘বাড়ির অ্যাড্রেস লিখা আছে। আপনার ঠিকানা!’
‘এটা পুরনো অ্যাড্রেস। আমাদের পাড়ায় তোরা যে বাড়িতে থাকতিস।’ তমাল সোজা হয়ে বসে বলল।
‘আপনার বাবার নাম দেবশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়। ঠাকুর্দা রামশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়। আপনার সাত পুরুষের নাম আমাদের খাতায় লিখা আছে।’
‘তোর বাবা দেবজেঠু রামদাদুর পিণ্ডি দিতে গয়া গিয়েছিলেন– সেটা ধরে ম্যাপিং করে ওরা বাদ বাকি পেয়ে গেছে। বুঝলি–।’ তমাল বলল।
‘কী বলছিস– আমি মরে গেছি, কে বলল?’ হাসতে গিয়ে হাসতে পারলাম না।
‘হ্যাঁ, আপনি মারা গেছেন। আলবাত গেছেন। কেন কী, আপনি মরেছেন বলেই আপনার নামে গয়ার পিণ্ডি দিয়ে গেছে আপনার রিস্তেদার।’
‘আমার আত্মীয়!’
‘হ্যাঁ, আপনার কেউ হবে। সে গয়া এসেছে– গয়ার প্রেতশিলা জানেন? ওখানে পিণ্ডদান হয়ে গেছে। আমাদের কাছে এন্ট্রি আছে। আপনার নাম– জন্ম মৃত্যু ডেট, আপনার পিতৃপুরুষের নাম, ঠিকানা– সব বিলকুল মিলে গেছে।’
আমি তমালের দিকে তাকাই। কোথা থেকে একটা আহাম্মক ধরে নিয়ে এসেছে। তমালের করুণ মুখ। কী যেন একটা বলতে চাইছে।
আমি তমালের দিকে চেয়ে হাসলাম। কিছুটা বোকা হাসি। কী বলব, ঠিক বুঝতে পারছি না। আমার সব ইনফরমেশন লোকটার কাছে আছে। শুধু যেটা মিলছে না, কখনও মিলবেও না, সেটা হল আমার মৃত্যু তারিখ।
আমি পান্ডেজির দিকে তাকালাম। বললাম, ‘ভালো। কী আর করা যাবে? আপনাদের খাতায় থাকুক– আমি মৃত।’

লোকটা হাত তুলে আমাকে নমস্কার করল। মানে কথা শেষ হলে মানুষ যেমন নমস্কার জানায়। উঠতে চাইল– কিন্তু আমার কাছে তো বিষয়টা ক্লিয়ার হচ্ছে না। অগত্যা আবার প্রথম থেকে কথা শুরু করি–‘যারা গেছে– তারা আমার নামে পিণ্ডি দিল, না পিণ্ডদান করল! কেন করল?’

‘কেন করল? কেন কী, তারা জানে আপনি মৃত। মানুষের মরণ হলে তার লোকজন তার নামে পিণ্ডদান করে– আত্মা উদ্ধার হয়।’
‘আমার আত্মা তাহলে উদ্ধার হয়ে গেছে?’
‘হা জ্বি!’
‘আমি তাহলে মৃত!’
‘হা জ্বি!’
‘তাহলে এই আমি কে?’
‘মালুম নেহি! সেহি বাত আপনি বলবেন– আপনি কে?’
তমাল বলল, ‘তোকে বলেছিলাম না– গোলমেলে ব্যাপার। আমি শুনে ইস্তক হাঁ। একটা জায়গায় যদি ভুল হত, খটকা থাকত, তোর কাছে নিয়ে আসতাম না। বিরক্ত করতাম না। এবার বুঝেছিস– আমি কেন বলছিলাম।’

আমার মুখে খিস্তি এসে গিয়েছিল। ফোনে শুনলে ওকে চার অক্ষর ছ’-অক্ষর সব বলে দিতাম, মা-মাসি এক করে দিতাম। কিন্তু তমালের অনেস্টি নিয়ে আমার কোনও সন্দেহ নেই। সত্যিই তো এমন একটা ভূতুড়ে ব্যাপার শুনলে যে কেউ ঘাবড়ে যাবে, মানে তমালের মতো ক্যালানে যারা। কিন্তু এখন আমার কী বলা উচিত? লোকটার ভুল ভেঙেছে নিশ্চয়ই।
আমি লোকটার দিকে তাকিয়ে হাসলাম। ‘আপনার ভুল ভেঙেছে তো পান্ডেজি। আমি দেবশঙ্কর ব্যানার্জি মরিনি, জিন্দা আছে।’

লোকটা আমার দিকে কুত কুত করে তাকাল। নিজের মোবাইলটা খুলে কী যেন দেখল। বলল, ‘আপনি কী নাম বললেন, দেবশঙ্কর বোনার্জি। আমার লিখা দেবশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় আছে।’
‘ব্যানার্জি আর বন্দ্যোপাধ্যায় এক।’
তমাল বলল, ‘এক, এক। এটা বাংলা ওটা ইংরেজি।’
লোকটা ঘাড় নাড়ল। ‘আপনি দেবশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় আছেন– সহি বাত তো খেল খতম।’
‘খেল খতম মানে–?’
‘প্রেতশিলায় আপনার পিণ্ডদান কমপ্লিট হয়েছে।’
‘আমি বেঁচে থাকতে আমার পিণ্ডদান কমপ্লিট হবে কী করে?’
‘কী করে হবে, সেটা বাত নেই আছে। হো গিয়া। আপনার পিণ্ডদান খতম হো গিয়া। আপ মরা হুয়া আদমি!’
‘সেটা আপনাদের খাতায়।’
‘হাঁ হাঁ আমাদের খাতায় আপনি মরে আছেন। মুর্দা!’
‘কিন্তু আমি এখানে জীবিত বসে আছি, আপনার সঙ্গে কথা বলছি– এর থেকে বড় প্রমাণ কী আছে?’
‘ঠিক আছে, আপনি এই চেয়ারে জীবিত থাকুন। আমাদের প্রেতশিলায় লিখা থাকুক আপনি মুর্দা।’
‘না, আপনি যখন দেখে গেলেন– ফিরে গিয়ে আমার নামটা কেটে দেবেন। আবার জিন্দা করে দেবেন।’
‘হোগা নেহি সারজি। সব নিয়মমাফিক কাজ হয়েছে। একদম শুদ্ধ ভাবে ফোটো লাগিয়ে কাজ সম্পন্ন হয়েছে। কী করে, তা ফেরত নেব। প্রেতশিলা জানেন? প্রেতশিলা– কাম খতম হয়ে গেছে।’ লোকটা গলা চেপে জোর দিয়ে বলল।

প্রেতশিলা! ছোটবেলায় শুনেছি পিণ্ডদান করলে পাহাড়ের ফাটল দিয়ে নাকি প্রেত হাত বাড়িয়ে পিণ্ড খায়, গ্রহণ করে। সেই প্রেতশিলা! শালা মাথার ভেতর চিড়িং চিড়িং করছে। বললাম, ‘এখন আমার করণীয় কী?’
‘কী করবেন?’
‘এটা তো হতে পারে না। একজন জীবিত লোককে মৃত দেখিয়ে কেউ পিণ্ড দিল। সে তো ভালো কাজ করার জন্য দেয়নি। ক্ষতি করতে চেয়েছে। সিম্পলি আমাকে মারতে চেয়েছে। কী জানি কোনও গুণ তুক কালাজাদু কি না? শাস্ত্রে এর কী বিধান আছে? নিশ্চয়ই আমার কেস প্রথম কেস নয়। মহাভারতে খুঁজলে ঠিক পাওয়া যাবে, বা বেদে আছে। আমি বালবাচ্চা নিয়ে সংসার করি। আমার ভালোমন্দ আছে। এখন কী করতে হবে বলুন?’

‘আমি কী বাতাব। আমি ইনফরমেশন দিলাম। আপনি গয়া যাবেন। গুরুঠাকুর আছে। তাঁকে বলবেন। কাগজপত্তর শো করবেন। ভুল হলে কাগজপত্র দেখে আপনার নাম তুলে দেবে।’
‘নাম তুলে দেবে কি– নাম কেটে দেবে।’
লোকটা হাসল। ‘নাম তোলা মানে নাম কাটাই হল।’
‘না, এক হল না। গলদ থেকে গেল।’
লোকটা মাথা নাড়ল। ‘সারজি, পুলিশ গলতি করলে তাকে দূরে ট্রান্সফার পাঠিয়ে দেয়। আর পাইলট গলতি করলে নজদিক ট্রান্সফার করে। তাকে কলকাত্তা সে বিহার উড়ান দেয়।’
কথাটা শুনে আমার মেজাজ গরম হয়ে গেল, বললাম, ‘আপনাদের কাছে আমার নাম, ঠিকানা, বাবার নাম-ঠাকুর্দার নাম ছাড়া আর কোনও প্রমাণ আছে? দেখাতে পারবেন? পুরো চিটিংবাজি কেস! কার নামে পিণ্ড দেওয়া হল? সে অরিজিনাল কি না? ফোটো লাগিয়ে কী ফোটো?’
লোকটা একটু থামল। তমালের দিকে তাকাল।
তমাল বলল, ‘দেবু, তুই এত উত্তেজিত হোস না।’
‘তোরা আমাকে জীবিত অবস্থা থেকে উৎপাটন করে গাদাঘরে ফেলে দিচ্ছিস, আর আমি ঠান্ডা থাকব? উত্তেজিত হব না! নিন, প্রমাণ দেখান।’
লোকটা ঠান্ডা গলায় বলল, ‘আছে, বিলকুল প্রমাণ আছে। আপনি দেখবেন?’
‘হ্যাঁ দেখব।’

লোকটা টেরিকটের পাঞ্জাবির বুকপকেটের রাখা রাজ্যের কাগজ থেকে একটা ছেঁড়া ছবি বের করল। ছবিটা আড়াআড়া ছেঁড়া। হাফ-ছবিতে আমি আছি। যুবক আমি দাঁড়িয়ে আছি, আমার হাতে ধরা আছে একটা মহিলার হাত।
পান্ডেজি বলল, ‘এ আপনি আছেন তো?’
তমাল বলল, ‘হ্যাঁ, এটা দেবুর ছবি। আপনাকে তো আমি আগেই বলেছি। এই ছবি দেখেই কনর্ফাম হয়েছি। এবার তুই বল–’
আমি বিড়বিড় করলাম, ‘হ্যাঁ আমি, আমার মতো–। কিন্তু এই মহিলা কে? আমি কার হাত ধরে দাঁড়িয়ে আছি? কার হাত?’
তমাল ঝুঁকে এল, ‘এটা জোনাকি হতে পারে কি? দেখ– কাচের চুড়ি অনেক। জোনাকি চুড়ি পরত। কাচের চুড়ি। কিন্তু হাতটা বড্ড রোগা, কাঠি কাঠি। জোনাকি তো একটু গোলগাল, মোটাসোটা…।’
‘হ্যাঁ, কাচের চুড়ি আছে। কিন্তু এ জোনাকির হাত নয়–।’
‘তবে, তবে কে? সেই মেথরের মেয়ে চামেলি। ওর সঙ্গে তোর– ও কিন্তু এমন রোগাই ছিল। তোর সঙ্গে সেই– আমি তো জানি হাসপাতালে গিয়েছিল– ক্যাশ দিলি, পল্টুদের দিয়ে ভয় দেখানো হল। তারপর ওকে দেশে পাঠিয়ে দিল। সেই চামেলির হাত নাকি–।’
‘চামেলি হবে না। কী সব বস্তাপচা কথা টেনে টেনে বের করছিস।’
‘তাহলে কে হবে? তোর বস্তায় কতজন ছিল রে! তোরা প্রভাবশালী লোক ভাই–’ তমাল হাসে।
আমি বলি, ‘আর হাফ-ছবি কোথায়? মেয়েটার ছবি দেখতে চাই?’
পান্ডেজি হাসে, “হাত ধরাধরি করে কেউ কি উপর যায়— দু’-জনের হাত খুলেই তো যাবে! যে পিণ্ডদান দিল সে খুলে দিয়েছে।”

                                                                             অলংকরণ স্যমন্তক চট্টোপাধ্যায়