Robbar

পৃথিবীর শেষ পাখি

Published by: Robbar Digital
  • Posted:May 23, 2026 11:15 pm
  • Updated:May 23, 2026 11:17 pm  

রোববার.ইন-এ এবার মাঝে মাঝেই গল্পের আসর। তবে, শুধুই রবিবার করে। কেমন লাগছে সেইসব গল্প আপনাদের? জানাতে পারেন [email protected]এই মেল আইডিতে। গল্প পাঠাতেও পারেন আমাদের। গল্পের শব্দসীমা ২০০০। পাঠাতে হবে ইউনিকোড, ওয়ার্ড ফাইলে। সঙ্গে পরিচয় ও ফোন নাম্বার দিতে ভুলবেন না।

সুদীপ বসু

‘ফিরে যা।’ শিখাদি বলল।

‘ফিরব না।’ আমি বললাম।

–‘আমি তোকে তাহলে মেরে ফেরত পাঠাব।’

আমি বললাম ‘কোথায়?’

–‘কী কোথায়?’

–‘মানে কোথায় ফেরত পাঠাবে?’

–‘বাড়ি’।

–‘বাড়ি আমি চিরকালের জন‌্য ছেড়ে এসেছি। জানো না শিখাদি?’

–‘বাড়িতে জানে?’

–‘না। কেউ জানে না।’

–‘তাহলে আমি একবার গিয়ে কথা বলি?’

‘তুমি কক্ষণও কারওর সঙ্গে কোনও কথা বলবে না। বলে দিলাম।’ আমি ঝাঁঝিয়ে উঠলাম।

শিখাদি এবার একটু নরম হল। বলল, ‘তোর এখনও সময় হয়নি।’

বললাম, ‘তাতে কী!’

একটু থেমে বললাম, ‘সময়ের ছাড় আমি কোনওদিন পেয়েছি বলে তোমার মনে হয়?’

‘পিছবি না তবে?’ শিখাদি জিজ্ঞেস করল।

–‘নাহ্‌। ফাইনাল।’

–‘তাহলে মর গিয়ে।’

–‘তুমি আমাকে মরতে বলছ? আমি কত কত বছর আগে মরে গিয়েছি, তুমি খোঁজই নাওনি।’

শিখাদি চুপ করে ছিল।

আমি বললাম, ‘শিখাদি, ও শিখাদি… শোনো।’

–‘বল।’

–‘একটু কাছে এসো। একটা কথা কানে কানে বলি।’

শিখাদি এগিয়ে এল, আমি ওর কানের কাছে মুখ নিয়ে গেলাম।

–‘সত‌্যি বলতে কী, মরতে আমার ইচ্ছে করে না গো, শিখাদি।’

শিখাদি বলল– ‘চল।’

 

এখন বেলা পড়ে আসছে। আকাশজোড়া মনখারাপ। নার্সিংহোমের একটা সস্তা লোহার বেডে মলিন শক্ত তোশকের ওপর শুয়ে আছি। শার্সিগুলো ভাঙাচোরা। শীতের হাওয়া আসছে। জানলার বাইরে দেখছি একটা পুরনো চটাওঠা বাড়ির ছাদে একটা লোহার ঘোরানো সিঁড়ি বেয়ে একটা মেয়ে কাপড় মেলতে উঠছে। নিচে একটা বাচ্চা ছেলে ওপরে উঠার জন‌্য ঘ‌্যান ঘ‌্যান করছে। সিঁড়ি বেয়ে নেমে এসে বাচ্চাটাকে একটা থাপ্পড় কষাল। বাচ্চাটা এবারে সত‌্যিকারের মতো করে কাঁদছে। আমার কেবিনের দেওয়ালে একটা তিন বছরের আগেকার ক‌্যালেন্ডার। একটা পায়রা কার্নিশে এসে বসে উড়ে গেল। হঠাৎ চোখে পড়ল ক‌্যালেন্ডারের নিচে সবুজ কালিতে লেখা:

How much longer do I seek you house by house, door to door?
How much Longer, Corner to corner, Street by street?

সন্ধের মরে ছাই হয়ে যাওয়া আলোয় লেখাগুলো আবছা ঠেকছে। পাশের ঘরে একটা মেয়ে প্রাণপণে চিৎকার করছে, ‘আমাকে আটকাও, কে আছো?’ আমাকে আটকাও তো দেখি…’। নাইট-শিফটের নার্সের কঠিন গলা পেলাম– “লায়লা হানিম, উঠে বসো মা। ছ’টার ইঞ্জেকশন আছে। ওঠো।”

বাইরে দূরে কোথাও পুরনো হিন্দি গানের সুর বাজছে। এটা সেই সময়কার গান, যখন হিন্দি সিনেমায় খুব গয়না চুরি যেত।

একটা কালপেঁচা খুব শব্দ করে উড়ে গেল। আমার ঘরের ভিতরে একটা তেপায়া টেবিল, একটা নড়বড়ে ভিজিটার্স চেয়ার, একটা দেওয়াল-ঘড়ি– সময় যাকে একা ফেলে রেখে চলে গিয়েছে। ওদিকে বাইরে সূর্যও চলে যাচ্ছে। দরজায় পাল্লাটা আধখোলা। উল্টোদিকের ঘরে অন‌্যান‌্য মেয়েরা জামাকাপড় চেঞ্জ করছে। দু’জন উঠে দাঁড়িয়ে হাসপাতালের মধ‌্যেই রিল বানাচ্ছে। একজন খ্রিস্টান নার্স ভিডিও করছে। বলছে, ‘বাহ্‌! ভালো করিস তো। এবার সেরে গেলে সিনেমায় করবি।’

একটা লম্বা করিডোরের দু’ ধারে সার সার ঘরকে জানলার গ্রিলে মেয়েদের ভিজে ভিতরের জামা বাইরের হাওয়ায় লুটোপুটি খাচ্ছে।

দিনাবসানের রাঙামুকুল আলোয় একটা লম্বা মেয়ে একটা ছোটখাটো রোগা মেয়ের দু’কাঁধে হাত রেখে বলল– ‘খসাতে হেব্বি কষ্ট মাইরি। তাই না বল? খসাতে?’

 

ঠিক সেদিনই শিখাদি এল। হন্তদন্ত হয়ে।

–‘কী রে ঘরের আলো জ্বালাসনি?’

‘নাহ্‌।’ আমি বললাম।

‘পাগলি কোথাকার। আলোটা জ্বালিয়ে দেবার মতো একটা লোকও জোটেনি গোটা ওয়ার্ডে?’ বলে শিখাদি জ্বেলে দিল।

আমি বললাম, ‘আলো জ্বাললে আমার খুব কান্না পায়।’

শিখাদি আমার কপালে হাত রাখল। নার্সিংহোমের মাঠে ফুটবল খেলা প্রায় শেষ হয়ে আসছে।

–‘জ্বর আছে তোর, হ্যাঁ, গায়ে জ্বর আছে তোর। ডাক্তার আসেনি?’

–‘এসেছিল, রাউন্ড দিয়ে গিয়েছে, আমার রক্ত নেমে গিয়েছে বলল।’

–‘ও। আর সিস্টার এসেছিল? আচ্ছা গায়ে কাঁটা দিচ্ছে কি তোর?’

–‘দিচ্ছে কাঁটা। শীত করছে, আচ্ছা, তুমি এলে যে বড়।’

‘এলাম’, শিখাদি বলল, ‘খেতে দিয়েছিল সকালে?’

আমি জানলার বাইরে তাকিয়েছিলাম। বললাম, ‘খেতে দিয়েছিল, খেতে দেয়। পেট ভরে। ভাবছি এখানেই থেকে যাব।’

–“পাগলি কোথাকার। তোকে ছেড়ে দেবে। আর হয়তো দিন দু’-তিনেক।”

পুবদিকের জানলার গ্রিলে হঠাৎ দেখি, পৃথিবীর শেষ ছোট্ট পাখিটা এসে বসেছে। পাখা দোলাচ্ছে। হয়তো উড়ে যাবে এক্ষুনি।

‘রিলিজ পেয়ে কোথায় যাবি কিছু ঠিক করেছিস?’ শিখাদি জিজ্ঞেস করল…

‘যাহ্‌ উড়ে গেল।’ আমি বললাম।

শিল্পী: শান্তনু দে

দরজায় এসে পড়া ছায়া আমি সেদিন হঠাৎ চিনতে পারি।

রিমো।

‘এতটা পথ বাসে করে এলে?’ আমি চোখ বন্ধ করেই বললাম।

‘হ্যাঁ, সে তো বটেই। সাড়ে তিন ঘণ্টা পাক্কা।’ রিমো বলল।

–‘কেন এলে, আসবার দরকার ছিল না।’

‘তোমাকে দেখতে এলাম।’ রিমো একেবারে যেন বুরবাক বনে গেল। ‘তোমাকে দেখতে। আর কী?’

আমিও বললাম, ‘আর কী?’

রিমো ভাঙা চেয়ারটা টেনে নিয়ে আমার পাশে বসল। এত বছর পর আমার নামটা ধীরে ধীরে গোটা গোটা করে উচ্চারণ করে বলল– ‘সব হয়ে গিয়েছে? কমপ্লিট? মানে সব।’

‘এবার তুমি খুশি তো রিমো?’ আমি চোখ বন্ধ করেই জিজ্ঞেস করলাম, ‘আমি তো দারুণ খুশি।’

রিমো একটু আমতা আমতা করে বলল ‘আমিও… সত‌্যি।’

–‘একটা বড় দুশ্চিন্তা গেল। কী বলো?’

–‘তা ঠিক।’

সিস্টার আমাকে সন্ধের মুখে হালকা সাজগোজ করিয়ে দিয়েছিল।

‘ওষুধ ঠিকঠাক খাচ্ছ?’ রিমো বলল।

–‘ব‌্যথাটা একটু কমেছে? এছাড়া আমি আর… এতদূরে এসে ভর্তি হলে।’

–‘বাসে এতদূর এলে, এত শীত, এত হাওয়া, জানলার ধারে বসনি তো?’

রিমো কিছু বলে উঠবার আগেই বললাম, ‘আচ্ছা রিমো, শোনো, একটা কথা জিজ্ঞেস করি?’

–‘করো।’

–‘মাফলার পরোনি কেন? মাফলার?… কেন এলে?’

রিমো একটু থতমত খেয়ে গেল।

তারপর রুকস‌্যাকটা পিঠ থেকে নামিয়ে রেখে বলল– ‘মাফলার ব‌্যাগে আছে।’ রিমো হঠাৎ ঝুঁকে পড়ল আমার ওপর।

‘কেউ এসে পড়লে।’ আমার খুব লজ্জা লাগছিল। আবার গা-শিরশিরও করছিল।

–‘আসুক।’

–‘এবার থেকে…’

‘এবার থেকে?’ রিমো জিজ্ঞেস করল।

–‘এবার থেকে তুমি আমাকে নতুনভাবে পাবে রিমো।’

–‘তোমাকে আমি সবসময়ই নতুনভাবেই পাই।’

–‘মনরাখা কথা যত…’

–‘না। সত‌্যি কথা।’

আমি বললাম, ‘রিমো, শোনো, এখানে হরলিক্স খাচ্ছি, প্রোটিনেক্স খাচ্ছি, ডিম খাচ্ছি। গায়ে ভিটামিন লাগছে, প্রোটিন লাগছে, আর কী চাই? আমি এখানেই থেকে যাব।’

রিমো বলল, ‘তুমি সেরে ওঠো। তারপর কিছুদিন কমপ্লিট রেস্ট। তারপর আমরা আবার আগের মতো থাকব। বেড়াতে যাব, খাব, ঘুরতে যাব, হাসব, গল্প করব, সার্কাসে যাব এক্কেবারে…’

‘ঝাড়া হাত-পা’, আমি বললাম।

–‘হ‌্যাঁ, ঝাড়া হাত-পা।’

করিডোর দিয়ে সেই মুহূর্তে ঘর্ঘর ঘর্ঘর শব্দ তুলে একটা হুইলচেয়ার চলে গেল।

রিমো গুচ্ছের ফল এনেছিল আমার জন‌্য। ক‌্যাবিনেটের ওপর রেখেছিল।

আমি বললাম, ‘খাব। খুউব করে খাব।’ আমি ফল খাব, মিষ্টি খাব, মাছ-মাংস-ডিম খাব। দুধ খাব। ওষুধ খাব। খেয়েদেয়ে স্বাস্থ‌্যটাস্থ‌ ভালো করে, আবার আগের মতো তোমার সঙ্গে ঘুরব, বেড়াব, হাসব গল্প করব, লিফ্টে চড়ব, খেলা দেখতে যাব, সিনেমা দেখতে যাব, লিফ্ট থেকে নেমে আসব…।

–‘একদম ঝাড়া-হাত-পা।’

‘তোমায় ছাড়বে কবে?’ রিমো জিজ্ঞেস করল।

‘পরশু।’ আমি আন্দাজে জবাব দিলাম।

রিমো বলল– ‘কে নিতে আসবে?’

–‘অনেকে।’

–‘আমি আসব।’

–‘না, প্লিজ।’

–‘কেন? কীসের অসুবিধে।’

–‘আছে অসুবিধে। তুমি আসবে না। তুমি বেটার একটা কল করে নিও, সব বলে দেব।’

–‘আচ্ছা।’

‘রিমো।’ আমি হঠাৎ বললাম, ‘আমার আর এখন কোনও পিছুটান রইল না।’

রিমো ঘড়ি দেখল। বলল, ‘এখন উঠি।’

‘এসো। মনে করে মাফলার, সোয়েটার… আর শোনো, বাসের জানলার ধারে সিট এক্কেবারে না।’

রিমো বেরিয়েই যাচ্ছিল, আমিই পিছন থেকে ডাকলাম– ‘অ‌্যাই, অ‌্যাই শুনছ!’ রিমো ফিরে এলে আমি কষ্ট করে একটু উঁচু হয়ে ওর গলা দু’হাতে জড়িয়ে ধরে ওকে টেনে আনলাম নিচে। বললাম, ‘আরেকটু কাছে এসো… এসো… এসো না।’

রিমো হেসে বলল, ‘বাব্বা… কতদিন পর!’

বাড়ি থেকে আসার সময় জিনিসটা সঙ্গে করে নিয়ে এসেছিলাম। বালিশের নিচ থেকে গোপনে বার করে এক ঝটকায় ওর গলায় বসিয়ে দিলাম।

একটা চিৎকার, আর রিমো লুটিয়ে পড়ল মাটিতে, রক্তের নদীর ভেতরে।

 

মিনিট তিনেকের মধ‌্যেই সিস্টার এল, বলল, “দেখি, বাঁ-পাশ কাত হও, ছ’টা পনেরোর ইঞ্জেকশন আছে, আমি কাত হলাম।”

সিস্টার বলল, ‘কাল হয়তো ছুটি হয়ে যাবে। পেইনটা কমেছে? নয়তো আবার ইঞ্জেকশন… আর একটা… আহ্‌, জলের গ্লাসটা বারবার ঢাকা দিতে ভুলে যাও কেন?… বাড়ি ফিরে ভালোভাবে থাকবে, কেমন? রেস্ট নেবে…’

শিল্পী: শান্তনু দে

পরেরদিনই দুপুর দুটোয় ছুটি হয়ে গেল। ওয়ার্ডেন এসে বলে গেল ‘সব গোছগাছ হয়ে গিয়েছে তো? বাড়ি যেতে হবে। রিসেপশনে এসে দেখা করো।’

রিসেপশনের দিদি বলল, ‘তুমিই সই করবে?’

–‘হ্যাঁ।’

–‘কে নিতে এসেছে?’

–‘অনেকেই…’

–‘আচ্ছা এই ফাইলটা ধরো। সাবধানে থাকবে। বাচ্চা মেয়ে, ভালো হয়ে থাকবে।’

 

বাইরে বেরিয়ে দেখি বিকেলের সূর্য চলে যাচ্ছে। রাস্তায় অসম্ভব ভিড়। নার্সিংহোমের সামনে সার বেঁধে কতরকম রুটের খালি বাস দাঁড় করানো আছে। বাসের পর মিনিবাস, মিনিবাসের পর অটো, অটোর পর রিকশার সারি, সব খালি, তার পিছনে তিনটে পুলিশভ‌্যান, বেশ কয়েকটা ফাঁকা অ‌্যাম্বুল‌্যান্স। বড় সড়ক ভিড়ে ভিড়াক্কার। উল্টোদিকের ফুটপাথ থেকে শয়ে শয়ে লোক খুব উদ্বিগ্ন মুখে নার্সিংহোমের গেটের দিকে তড়িঘড়ি হেঁটে আসছে। ওল্ড কোর্ট হাউস বিল্ডিংয়ের শ‌্যাওলা-ধরা কার্নিশে, ইলেকট্রিক তারে অসংখ‌্য কাক-পাখি অস্থিরভাবে এসে বসছে, ওড়াউড়ি করছে। আশপাশের সব দোকানের শাটারই বন্ধ। একজন ট্রাফিক সার্জেন্ট আমাকে বেরতে দেখেই টুপিটা খুলে সম্ভাষণ করল।

ওই অসম্ভব ভিড়ের মধ‌্যে দিয়ে একটা বাচ্চা মেয়ে, দুটো বিনুনি বাঁধা, দৌড়তে দৌড়তে আমার কাছে এসে বলল, ‘এই নাও দিদি, তোমার জন‌্য, একটু দেরি হয়ে গেল।’

তার হাতে গ্ল‌্যাডিওলা আর কারনেশনের আলাদা আলাদা দুটো বোকে। আর অসংখ‌্য চকলেট।

আমার হাতে দিয়েই দৌড়, আমি চিৎকার করে বললাম, ‘কে তুমি? তোমার নাম কী?’

সে দৌড়তে দৌড়তে জবাব দিল, ‘আমার নাম নেই।’

আমি বললাম, ‘আচ্ছা শোনো নেই, রাস্তায় এত ভিড় কেন, কিছু জানো?’

মেয়েটি দৌড়তে দৌড়তে অস্তসূর্যের দীর্ঘ ছায়ার ভেতর মিলিয়ে যেতে যেতে বলল, ‘ওরা সবাই তোমায় ফিরিয়ে নিয়ে যেতে এসেছে দিদি।’ তারপর মিলিয়ে গেল।

শিল্পী: শান্তনু দে

আমি হাঁটছি। কিন্তু দ্রুত হাঁটতে পারছি না। এত ভিড়, এত যানজট পেরিয়ে আমি এগতেই পারছি না। বাসট্রামের ভেতরকার অলিগলি পেরনো যত সহজ, মানুষের ভিতরকার অলিগলি পেরনো ততই জটিল। গাছগুলো নুয়ে পড়ছে আমায় দেখে। যে বাড়ির সামনে দিয়ে যাচ্ছি দরজা খুলে যাচ্ছে। বাড়িগুলোর ছাদভর্তি লোকজন সবাই আমাকে সাহস জোগাচ্ছে। বারন্দায় ভিড় করে আছে মেয়ে-বউরা। সবার উদ্‌গ্রীব মুখ। রাস্তা আমাকে পথ দেখিয়ে নিয়ে চলেছে। আমি যত এগচ্ছি, তত হারিয়ে যাচ্ছি। যত হারিয়ে যাচ্ছি, তত নিজেকে ভুলে যাচ্ছি। হয়তো একটা বোরখা দিয়ে নিজেকে আড়াল করে নিলে নিজেকে চিনতে পারতাম। কে জানে!

আচ্ছা, আমার দু’-হাতে ধরা এই নরম গোলাপি টাওয়ালটার ভেতর থেকে কি কেঁদে উঠল কেউ? মনে হল যেন! আচ্ছা আপনারা কেউ কিছু শুনেছেন?