Robbar

লাইমলাইট

১৯শে এপ্রিল ঋতুপর্ণকে মনে করায়

প্রতিটি উনিশে এপ্রিল আমাদের ঋতুপর্ণ ঘোষ এবং তাঁর সিনেমাশিল্পকে মনে করিয়ে দিয়ে যায়। আমরা সেই স্মৃতিতে অনেক প্রহর থেকে যেতে চাই। তাঁর শিল্পের প্রভাব বাঙালি জীবনে নেভার নয়। ঋতুপর্ণ এরপরেও বহু ছবি করেছেন, কিন্তু তাঁর অননুকরণীয় কথাবিশ্ব তৈরি হয়েছিল ‘১৯শে এপ্রিল’ থেকে, এমন বললে অত্যুক্তি হয় না।

→

ভয় যেখানে ভূত নয়

‘জাম্প স্কেয়ার’-এর অনুপস্থিতি এবং তেমন কোনও পুরনো ফর্মুলা ব্যবহার না-করে উৎকৃষ্ট ভয়ের-ছবির নির্মাণের নতুন ঝোঁকে পরপর অনেকগুলি ছবি তৈরি হয়েছে আমেরিকায়। ‘ওয়েপন্স’ এই নতুন ঘরানার ভয়ের-ছবি।

→

ভারতমাতা, বিদ্যা বালান ও জাফর পানাহির টাইমমেশিন

পানাহি ২০০৩-এর কলকাতার বুকে, বাংলার মাটির মেয়ের পাল্টে ফেলা ছায়ায়, দাঙ্গাবাজ মানুষের প্রচারের প্রতিচ্ছবি খুঁজে পাবেন হয়তো। আর আবার তিনি হাঁটবেন কান থেকে বার্লিন, অফসাইডে গোল করে আবার কারাগারের পথে। অবন ঠাকুর তাকিয়ে থাকবেন রিভার্স বঙ্গভঙ্গের এক ডিসটোপিয়ান ইতিহাসের দিকে।

→

যুদ্ধ-বিধ্বস্ত পৃথিবীর স্বীকৃতি মিলল অস্কারে

এবারের আন্তর্জাতিক ছবি বিভাগের প্রায় সব ক’টি ছবিই নানাবিধ স্বৈরশাসন বা যুদ্ধ পরিস্থিতি, আগ্রাসন, তৎপ্রসূত দুঃসহ ব্যক্তি-স্মৃতি ও ট্রমাকে উপজীব্য করেছে। তবে অলিভার ল্যাক্সের ‘সিরাত’ এই তালিকায় একটি উল্লেখযোগ্য ব্যতিক্রম।

→

হাল্লারাজার ঘরে আলো-ছায়ার নাটকীয়তা

ঝুলন্ত বারান্দার জানলার আয়তন দেখলেই বোঝা যায়– হাল্লার ঘরগুলোয় আলো কেন এত কম ঢোকে! হাল্লার সব ঘরের লাইট সেট আপ করার সময় এটাই মাথায় রেখেছিলেন সৌম্যেন্দু রায়। এখানেই সৌম্যেন্দু রায়ের অসাধারণত্ব।

→

গদারের ‘পেনেলোপি’

ব্রিজিট বার্দোর ক্যামিল চরিত্রটি প্রেম, নির্ভরতা ও স্বায়ত্তশাসনের টানাপোড়েনের প্রতীক। ‘লে মেপ্রি’-তে গদার দেখান, কীভাবে গ্রিক পুরাণের ওডিসি আধুনিক পুঁজিবাদী প্রযোজনার ভেতর পুনর্লিখিত হয়। বাস্তবের দুনিয়ায় দেবতারা নেই– আছে প্রযোজক, বাজার, আর আপসের নীরব হিংসা।

→

কলকাতার তলপেটে আলো ফেলেছে ‘রেডলাইট টু লাইমলাইট’

এই ডকুমেন্টারিতে নাটকীয়তা আছে, কিন্তু সেটা মোটেও অতিপ্রাকৃতিক নয়। বরং সেটা যেন দৈনন্দিন ঘেশকুটে জীবন থেকে উঠে আসা খুব ব্যক্তিগত, মানসিক বিষয়; যা আমরা চাপা দিয়ে রাখি, দেখতে বা দেখাতে চাই না।

→

কিছু মায়া রয়ে গেল

পূর্ব-পশ্চিম নাট্যদলের প্রযোজনায় ‘আ-শক্তি’র প্রথম শো হয়ে গেল অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস-এ। এই ধরনের নাটক দেখতে গিয়ে একটা আশঙ্কা মনে কাজ করে। আমরা যারা শক্তি চট্টোপাধ্যায়কে আমাদের শহরের এখানে-ওখানে দাপটে ঘুরে বেড়াতে দেখেছি, যারা শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের মুগ্ধ ভক্ত হিসেবে প্রতিটি লাইন পড়েছি তাঁর রচনার, যারা ক্যাসেটে তাঁর স্বকণ্ঠে কবিতাপাঠ শুনেছি বারবার, তাদের সেই রোমাঞ্চ আর উত্তেজনা কোথাও ধাক্কা খাবে না তো?

→

কাহিনি নয়, ফর্ম আর ফাস্ট পেসিং-ই এ ছবির ইউএসপি

এ ছবি শেষ অবধি কেমন, নির্দেশনা-চিত্রগ্রহণ-সম্পাদনা-অভিনয় কত উৎকৃষ্ট অথবা নিকৃষ্ট, আদৌ তা বাংলা সিনেমার জগতে গেমচেঞ্জার কি না– ইত্যাকার প্রশ্নে না গিয়েও বলা যায় প্রায় পরস্পরবিরোধী দুই ধরনের প্লট ডিভাইসকে এমন মজাদারভাবে ব্যবহার করার জন্য অন্তত ছবিটি আমাদের মনে থেকে যাবে।

→

মকরন্দের ফুটপাথ বদল হয় গোপন, নিজস্ব মধ্যরাতে

মকরন্দ দেশপান্ডে অভিনয় করেন মকরন্দের ভূমিকায়, তাঁর স্মৃতির চরিত্রগুলিকে তিনিই জীবন দেন একক অভিনয়ে। অতি নিরাভরণ নাট্যভূমিতে থাকে অকিঞ্চিৎকর সব উপকরণ– একটি আসব-বোতলের আভাস, ঝুলতে থাকা দুটো দড়ি, বাতিল কিছু প্যাকিং বাক্স আর ছোট উঁচু একটা মঞ্চের মতো– এইমাত্র।

→