

ভাড়াটে ভোটার, মাইগ্রেটেড, ডুপ্লিকেট, সংখ্যালঘু, মৃত, অবৈধ অনুপ্রেশকারী, কতরকমের অ্যালিগেশন! কাল দেখলাম একজন লিখেছেন, প্রচুর মেয়ের নাম বাদ এবারের ভোটে। বোঝো! সংখ্যালঘু আর মহিলাদের কেন যে সরকার এমন যমের মতো ভয় পায়, কে জানে!
২০১৪ লোকসভা ভোটে ‘বার্জার’ রঙের বিজ্ঞাপন– দেওয়াল জুড়ে ‘ক্রাইম’, ‘কোরাপশন’, ‘রেপ’-এর মতো নানা শব্দ লেখা; তারপরই ‘বার্জার’ রঙের পক্ষ থেকে বক্তব্য: ‘দেশ থেকে এই দাগ উঠুক না-উঠুক, বার্জার ইজি ক্লিন দিয়ে এই দাগ সহজেই উঠে যাবে।’ কিংবা ‘পাওয়ার’ কোম্পানির পাখার বিজ্ঞাপনী বার্তা– “জনগণের অবিসংবাদী প্রার্থী ‘পাওয়ার ফ্যান’কে নিশ্চিন্তে আপনার ভোটটি দিন।”
আমরা কোনওদিনই গরিব, বস্তিবাসীদের ঠিক আমাদের সমতুল্য মানুষ ভাবিনি, ভাবি না। তার ওপর সেই মানুষদের কেউ যদি ধর্মে মুসলমান হন, তাহলে তো কথাই নেই! আমরা ধরেই নিই, মুসলমান মানেই বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী!
আপাতদৃষ্টিতে এমন ভিত্তিহীন মন্তব্য তাচ্ছিল্যের সঙ্গে উড়িয়ে দেওয়াই যেতে পারে। কিন্তু যেখানে প্রধানমন্ত্রী এ-কথা বলছেন এবং ‘দেশবিরোধী’– এই শব্দচয়ন করছেন, তখন বুঝতে হবে, এর নেপথ্যে সুচতুর একটি রাজনৈতিক কৌশল রয়েছে।
খাদ্য সংস্কৃতিকে বাঙালির ‘পরিচয়’ হিসেবে যাঁরা ভেবে, খাদ্যরুচিতে অভ্যস্ত হওয়ার চেষ্টা করছেন, তাঁদের জানা দরকার ‘খাদ্য সংস্কৃতি’কে আত্মপরিচয় মনে করা বাঙালি অনেকটাই একই শ্রেণির। গরিব, ক্ষুধার্ত মানুষের কোনও খাদ্যসংস্কৃতি নেই। কিন্তু ভোট আছে।
সব রাজনৈতিক দলের ইশতেহারে উন্নত হাসপাতালকেন্দ্রিক চিকিৎসাব্যবস্থার কথাই বলা হয়েছে। অথচ স্বাস্থ্য তো শুধু রোগ নিরাময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।
এই সংকটের সমাধান শুধু সরকারি হস্তক্ষেপ বা ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দিলে মিলবে না; প্রয়োজন চাষি ও সরকার– উভয়পক্ষের সদিচ্ছা ও সচেতনতা।
এআই প্রেমিকার জন্য বিশ্বে প্রথম আত্মহত্যা! একাকী সেই যুবককে উসকানি দিয়েছিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রেমিকাটি, যুবকের দেওয়া নাম ‘জিয়া’। অন্যদিকে এআই প্ল্যাটফর্মের নির্মাতারা স্যানিটাইজার দিয়ে হাত ধুয়ে, পারফিউমে স্নাত হয়ে জানাচ্ছেন, আমাদের কোনও দোষ নেই।
ঘৃণার বসতি গড়ে সহনাগরিককে, বলা ভালো পাশের মানুষটিকে দূরে ঠেলে দিয়ে, এক টুকরো কাগজে তার পরিচয় খুঁজে, আমরা কি এক ভয়ংকর ইতিহাস-বিস্মৃতির দিকে এগচ্ছি না?
ফারহাতের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে যদি প্রশ্ন করা যায়, তাহলে প্রথমেই বলতে হয় যে, প্রসব-পূর্ববর্তী লিঙ্গ নির্ধারণ বেআইনি ঘোষণা করা হয়েছে ঠিকই, কিন্তু এমন অপরাধের কারণটি সমূলে উৎপাটন করা গেছে কি? অর্থাৎ যে যে কারণে ভারতে কন্যা-সন্তানকে অবাঞ্ছিত বলে ভাবা হয়, সেই কারণগুলির কোনও সুরাহা হয়েছে?
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved