


স্বাধীনতার জন্যে সর্বাধিক মূল্য বোধহয় দিতে হয়েছিল বাংলা ও পাঞ্জাবকে। দেশভাগ ও দাঙ্গার ক্ষত নিয়ে অসংখ্য মানুষ আশ্রয় নিলেন এপার বাংলায়। নতুন এক শব্দ যোগ হল বাংলায়– ‘উদ্বাস্তু’। তাঁদের মধ্যে সব হারানো, অত্যাচারিত মেয়েদের জন্য ১৯৪৪ সালে প্রতিষ্ঠা হয়েছিল ‘নারী সেবা সংঘ’। এবার ইন্দুসুধার ডাক পড়ল সেখানে। সারাজীবন শিল্পের সঙ্গেই ঘরবসত তাঁর। মাটির গন্ধ তাঁর সারা গায়ে। জীবনের শেষ তিনটি দশক তিনি কাটালেন দক্ষিণ কলকাতার নারী সেবা সংঘের আবাসিক সুপারিনটেনডেন্ট হিসেবে– দুঃস্থ মেয়েদের হাতের কাজ শিখিয়ে, তাদের স্বনির্ভর করে তুলতে। তাঁর সর্বক্ষণের চিন্তা ছিল– কীভাবে এঁদের সাহায্য করা যায়।
৪.
‘Our education should be in full touch with our complete life, economical, intellectual, aesthetic, social and spiritual; and our educational institutions should be in the very heart of our society, connected with it by the living bonds of varied co-operations. For true education is to realise at every step how our training and knowledge have an organic connection with our surroundings.’
[‘The Centre of Indian Culture’, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাষণ, মাদ্রাজ, ১৯১৯]
যে রাঁধে, সে চুলও বাঁধে– এমন একটা প্রবাদ প্রায়ই শুনে থাকি আমরা। রাঁধার সঙ্গে চুল বাঁধার তেমন কোনও বিরোধিতা দেখি না বলেই হয়তো ধরে নিই এটার অর্থ, যে একইসঙ্গে সংসারের কাজ সামলায়, আবার নিজের খেয়ালও রাখে। কিন্তু যখন পড়ি– যে সামলে রাখে বিপ্লবীদের পিস্তল, সযত্নে আগলে রাখে সশস্ত্র বিপ্লবী ভাইদের, সে আবার তুলির সূক্ষ্ম রেখায় ফুটিয়ে তোলে আলপনার টানটোন, সোনামুখী সূঁচ দিয়ে নকশা তোলে নিপুণ হাতে, তখন ধন্ধ লাগে বইকি! কিন্তু এ তো কোনও কল্পলোকের গল্পকথা নয়, এরকমই ছিলেন এ বাংলার মনে-প্রাণে বিপ্লবী শিল্পী ইন্দুসুধা ঘোষ।

ময়মনসিংহের বিদ্যাময়ী গার্লস স্কুলে, রবীন্দ্রনাথ এই কিশোরী মেয়েটির আলপনা দেখে মোহিত হয়েছিলেন। প্রতিমা দেবীর জহুরী চোখ চিনতে ভুল করেনি তাঁর শিল্প প্রতিভাকে। ছবি আঁকার প্রতি ভালোবাসা তাঁর চিরকালের। স্কুলের যে কোনও উৎসব-অনুষ্ঠনে আলপনা দেওয়ার জন্য ডাক পড়ত তাঁর। ছবি আঁকা ও সেলাইতে নিয়মিত পুরস্কার পেতেন। সেলাইতে সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়ার জন্য সোনার মেডেলও পেয়েছেন। স্কুলে থাকতে, সেই বালিকা বয়সেও, সহজাত আগ্রহ ও অভ্যাসে– শিক্ষিকাদের জন্য কাপড়ে নকশা আঁকা থেকে শুরু করে বিভিন্ন ব্রত অনুষ্ঠানে প্রতিবেশীদের বাড়িতে আলপনা দেওয়ার জন্য ডাক পড়ত। পরবর্তীতে বলেছেন– ‘নিজে আঁকতাম, সঙ্গে সঙ্গে মহিলাদের নির্দেশ দিতেও পারতাম।’ শান্তিনিকেতনে যোগ দেবার আগে পর্যন্ত ইন্দুসুধা এভাবেই মনপ্রাণ দিয়ে তাঁর স্বতঃস্ফূর্ত দক্ষতাকে চারপাশের পরিবেশের জন্য উৎসর্গ করেছিলেন। অথচ তাঁর স্বশিক্ষিত পটুত্ব অনায়াসেই চোখে পড়ল সমকালীন তাবৎ শিল্পীকুলের। আসলে তাঁর ছিল এক সহজাত দক্ষতা, স্কুলের অঙ্গন ছেড়ে বিশ্বভারতীর উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে এসে নন্দলাল বসুর স্নেহময় শিক্ষায় আস্তে আস্তে তা বিকশিত হতে লাগল।
শান্তিনিকেতনে যাবার পরপরই উপাসনা গৃহে আলপনা দেবার দায়িত্ব তাঁকে দেন নন্দলাল। তাঁর সুচারু আলপনা দেখে বিস্মিত মাস্টারমশাই অন্যান্য ছাত্রীদের ডেকে বলেন– ‘দেখো এই মেয়েটা কোথাও কিছু শেখেনি, কিছু জানে না। তবু দেখো, আলপনার মধ্যে নেচারকে ভাঙেনি কোথাও।’

আর তাঁর মাস্টারমশাইয়ের গুরু অবনীন্দ্রনাথ? এক নাচের অনুষ্ঠানের মঞ্চসজ্জা চলছে। মঞ্চসজ্জা প্রায় শেষের মুখে, এমন সময় নন্দলাল বসু তাঁকে আদেশ দিলেন আলপনা দিতে। তাঁকে আলপনা দিতে দেখে কৌতূহলী অবনীন্দ্রনাথ একজনকে ডেকে তাঁর পরিচয় জানতে চাইলেন, পাশাপাশি স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে বলে উঠলেন– ‘হাতটি তো বেড়ে’। পরবর্তীকালে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে ইন্দু লেখেন– ‘এ আমার অক্ষয় সম্পদ’।
নন্দলালের প্রিয় ছাত্রীদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন ইন্দুসুধা। লাজুক অথচ দৃঢ়চেতা মেয়েটির মধ্যে লুকনো আগুনের আঁচ অনুভব করেছিলেন তিনি। স্বদেশী আন্দোলনের অংশ হয়ে উঠতে বা পরবর্তীকালে যুগান্তর দলের সদস্য হিসেবে কাজ করতে ইন্দুকে প্রত্যক্ষ প্রেরণা দিয়েছিলেন তাঁর পিসতুতো দাদা কিরণ রায়। স্বদেশপ্রেমের যে বীজটি সবার অজান্তেই পাতা মেলেছিল মেয়েটির প্রাণে, তার চিকন সবুজে রং লাগিয়েছিলেন কিন্তু মাস্টারমশাই নন্দলাল বসু। একবার ফিরে তাকাই ১৯১৯-এর সেই দিনটিতে। যেদিন জালিয়ানওয়ালাবাগের নিরীহ মানুষগুলির ওপর অপ্রত্যাশিতভাবে গুলি চালিয়ে নির্মম হত্যালীলায় মেতে উঠেছিলেন জেনারেল ও ডায়ার। প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠল দেশের মানুষ, দুর্মর শোকের প্রকাশে ঘরে ঘরে পালিত হল অরন্ধন। সবার চোখ এড়িয়ে সেদিন উপোসী রইলেন ইন্দু, এই দুর্দিনে ক্ষুধার কষ্টটুকুই দেশমাতৃকার উদ্দেশে নিবেদন করলেন সেদিনের কিশোরী। তিনি তখনও স্কুলের ছাত্রী। যে সে স্কুল নয়, সরকারি স্কুল– যেখানে প্রতিদিনের প্রার্থনা শুরু হয় ‘God save the gracious king’ প্রার্থনা মন্ত্রে। কোথাও স্বদেশি ভাবধারার প্রকাশের সুযোগমাত্র নেই। তবু অধুনা বাংলাদেশের ঢাকা জেলার বজ্রযোগিনীর সরকারি কর্মচারী সতীশচন্দ্র ঘোষ ও শ্রীমতী প্রিয়কুমারী ঘোষের এই শান্ত কন্যাটির মনের গড়ন ছিল এই পরিবেশের সম্পূর্ণ বিপরীত। স্বদেশি আন্দোলন শুরু হয়েছে দেশ জুড়ে। দেশের জন্য কিছু করতে ব্যাকুল হয়ে ওঠে মন। কিন্তু কী-ই বা করতে পারে ছোট মেয়েটি! তবু মনে মনে প্রতিজ্ঞা করে বিলিতি দ্রব্য বর্জনের। বাবার কাছে আবদার করে আনায় স্বদেশি বঙ্গলক্ষী কটন মিলের শাড়ি। দেশি তাঁতের সেই মোটা কাপড় পরে ময়মনসিংহের বিদ্যাময়ী গার্লস স্কুলের চৌহদ্দিতে ঢুকবার সময় সেই মোটা কাপড়ের জন্যে প্রচ্ছন্ন গর্বও অনুভব করতেন তিনি। এই দেশপ্রেমকে নিরুচ্চারে লালিত করতেন তিনি।

যৌবনের প্রারম্ভে সে যুগের রীতি অনুযায়ী সহপাঠিনীরা অধিকাংশই যখন সংসারের দায়িত্বে ব্যস্ত, ইন্দুসুধা তখন নাম লেখালেন অরবিন্দ ঘোষ, বারীন্দ্রনাথ ঘোষ ও ভূপেন্দ্রনাথ দত্ত প্রতিষ্ঠিত ‘যুগান্তর’ নামক সশস্ত্র বিপ্লবী দলে। যুগান্তর পার্টি (বা যুগান্তর দল) ছিল ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সময় বাংলায় গড়ে ওঠা সবচেয়ে শক্তিশালী ও প্রভাবশালী বিপ্লবী সংগঠন। সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে ভারতের স্বাধীনতা অর্জনই ছিল এই গুপ্ত বিপ্লবীদলের মূল লক্ষ্য। ১৯২৩-’২৪ সালে ইন্দু এই দলে যোগ দিলেন। উদ্গ্রীব হয়ে উঠলেন দেশমাতৃকার সেবায় আত্মনিবেদনের জন্য, দেশের মুক্তির জন্য লড়াই করতে। পিসতুতো দাদা কিরণ রায় তখন যাদবপুরের ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ছাত্র। তাঁর সঙ্গে এবং সহপাঠী বিজয় মোদক, হামিদুল হক, বিমল কুন্ডু, প্রমথ চক্রবর্তী, ধীরেন সাহাদের সঙ্গে কাজ করার সুবাদে সশস্ত্র বিপ্লবের মূলমন্ত্র অনায়াস দীক্ষা হয়ে গেল তাঁর। গোপন নথিপত্র ও অস্ত্রশস্ত্র লুকিয়ে রাখার ভার পড়ল তাঁর ওপর। পরবর্তীকালে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে লিখছেন–
‘সেই কাজে সাহায্য করার জন্য একটা নিরাপদ আশ্রয়ের দরকার হল। ময়মনসিংহের পুলিনবিহারী সেন তখন শান্তিনিকেতনের ছাত্র। তাঁর যোগাযোগ ঘিরে আমার এমন জায়গায় শিল্প শেখার বন্দোবস্ত সম্ভব হল আর সম্ভব হল গোপন স্বদেশী কাজে সাহায্য করতে একটি নিরাপদ আশ্রয়।’
যেন শান্তিনিকেতনে ভর্তি হওয়া লক্ষ্য নয়, বিদেশি শাসকের রক্তচক্ষু এড়িয়ে নিশ্চিন্তে স্বাধীনতা যুদ্ধে কাঠবিড়ালির ভূমিকা পালনের উপলক্ষ মাত্র। কিন্তু তাঁর গুরু, তাঁর মাস্টারমশাই বিনা আয়াসে সুন্দরভাবে রাখী বেঁধে দিলেন তাঁর শিল্পপ্রেম আর স্বদেশপ্রেমের। পরিণত বয়সেও সে কথা স্মরণ করে লিখেছেন–
“একাধারে আমি পেলাম শিল্পগুরু এবং দেশসেবা ব্রতের গুরু; যিনি আমার কথা শুনে উৎসাহ দিতেন, মনটিকে দেশের কাজে বলি দেবার জন্য প্রস্তুত হ’তে প্রেরণা দিতেন।”

ফলে গুরুর কাছে মন মেলবার আর কোনও অসুবিধাও রইল না, আর নন্দলালও পাখির ছানার মতো, আজীবন তাঁর বিপদের দিনে আগলে রেখেছেন এই মেয়েটিকে। যে না কি বিপ্লবী, কিন্তু শান্ত ও স্থিতধী, এক দৃঢ় কিন্তু কোমল ব্যক্তিত্বের অধিকারিণী। সেকালের শান্তিনিকেতনে নন্দলাল বসু ছাড়া সম্ভবত গৌরগোপাল ঘোষ ও প্রভাতমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়ই তাঁর এই অন্য সত্তাটির সম্বন্ধে অবাহিত ছিলেন। তখনও কিন্তু পুরোপুরি কাজ শুরু হয়নি কলাভবনের ছাত্রী হিসেবে; নেচার বা প্রকৃতি যে শিল্পের উৎস হয়ে উঠতে পারে এমনটি এর আগে তিনি শোনেননি। কেমন ছিল সেই অভিজ্ঞতা? শুনে নিই তাঁরই ভাষায়–
“প্রতি কাজে আনন্দ। কলাভবনে বসে আঁকা– তারপরই নিয়ে যেতেন বাইরে। স্কেচ করা শেখাবার জন্য। নেচারের মধ্যে ডুবে যেতে হ’ত একেবারে। সারাদিন ঘুরে, কখনো বৃষ্টিতে ভিজে, কখনো প্রখর রৌদ্রে পুড়ে আমাদের ঘুরে বেড়ানো আর স্কেচ করা একইসঙ্গে চলত।”
এভাবেই আস্তে আস্তে বন্ধুত্ব হল প্রকৃতির সঙ্গে। অনেক বছর পরে প্রায় ছয়ের দশকে প্রকাশিত তার আলংকারিক শিল্প-বইয়ের ভূমিকায় তুলে ধরেছেন এই প্রকৃতি সর্জনের অভিজ্ঞতাকে– ‘নকশীকরণের ক্ষেত্রে প্রকৃতির ছন্দ আঁকা আর তার আলোছায়া বিশেষভাবে যুক্ত’। আবার বলছেন– ‘এই কাজের মধ্যে শিল্পীকে বিশেষভাবে একটি দিকে নজর দিতে হবে। তা হল ফুল পাতা লতা গাছ বা অন্য কিছু থেকে নকশা করতে যাচ্ছেন তিনি, যেন সে বস্তুটির বিশেষ আকার ভাগ ও চরিত্র প্রকাশের দিকে যত্নশীল হন।’ অর্থাৎ আলপনা বলে তা নিছক বস্তুর অনুকরণ হবে, তাতে কোনও গতি থাকবে না, একথা তিনি একবারও বলছেন না। বরং বারে বারে উৎসবস্তুটির আন্তরছন্দ বা সমতার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন। আলপনায় যদি প্রকৃতির থেকে নেওয়া বস্তুটিকে চেনাও যায়, তবু তাকে শিল্পী আপন মনের মাধুরী মিশিয়ে নতুন করে উপস্থাপনা করবেন– এই তাঁর অভিমত। একথা তাঁর এই ছোট্ট রচনা, যা কি না গ্রন্থটির মুখবন্ধস্বরূপ, সেখানে বারবার বলেছেন।

তাঁর রাজনৈতিক জীবন তাঁকে নিয়ে এসেছিল মানুষের কাছাকাছি। সেজন্যই ভারতীয় সংস্কৃতি বা জীবনদর্শনের মূল কথাটির সঙ্গে অনায়াসে ঘটেছিল তাঁর আলংকারিক শিল্পের মেলবন্ধন। তিনি লিখেছেন– ‘প্রকৃতির প্রতিটি বস্তু থেকে আলংকারিক নকশার বিষয় পেলেও প্রকৃতির জল, মাটি, আগুন, হাওয়া আর আকাশ শিল্পীকে নানান ভাবে নানান নকশায় উদ্বুদ্ধ করেছে। এই পাঁচ বোনের মধ্যেই প্রকৃতি নিত্যনতুন খেলায় মেতে আছেন আর আমাদেরও প্রকৃতির সে নিত্যনতুন খেলার নব নব ছন্দ অলংকারের রচনায় সদা ব্যস্ত থাকতে হবে।’
এভাবেই কেটে যায় শান্তিনিকেতনের শিক্ষার্থী-জীবন। বন্ধুদের সঙ্গে ঠাট্টা-তামাশা যেমন, তেমনই নন্দলাল বসুর সহৃদয় উৎসাহে জমে উঠল তাদের শিল্পশিক্ষার আসর। কোনও সময় তাঁর ছোট স্কেচখাতাটিতে তাঁর অনুপস্থিতিতে এঁকে দিচ্ছেন ‘একটি বর্ষার ছবি, বক উড়ছে, নৌকা ভাসছে ভরা নদীতে’; কখনও বা তাঁর আঁকা নকশার ওপর কয়েকটি ফুল এঁকে নকশাটির শোভা বাড়িয়ে দিচ্ছেন। এমনটিই ছিলেন নন্দলাল, ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে তাঁর মধুর সম্পর্কের উত্তাপে আশ্রয় পেত শিল্পী হওয়ার স্বপ্ন-ভরা তরুণ মনগুলি।
এই পর্যায়ে আলপনা ছাড়া ইন্দুসুধা কিছু কাজ করেন লিনোতে। আবার বেঙ্গল স্কুল ঘরানায় ছবিও আঁকেন। বিশেষভাবে উল্লেখ করা যায় তাঁর ‘কার্তিকেয়’ ছবিটি। বেঙ্গল স্কুলের শিল্পীরা নানা দেবদেবীর ছবি আঁকলেও, কার্তিকের ছবি খুব বেশি পাওয়া যায় না। তবে বিপ্লবী ইন্দুসুধা যে দেবসেনাপতির ছবি আঁকবেন, সেটাই তো স্বাভাবিক।

ছবিটির কম্পোজিশন লক্ষণীয়। কার্তিকের ময়ূরবাহন রূপটির এই উপস্থাপনায় নন্দলাল বসুর শৈলীর ছাপ স্পষ্ট। ছবিটির পুরোভাগে যে ময়ূরটি দেখা যাচ্ছে– তার লেজটি যেন পিছন থেকে না উঠে পাশের থেকে উঠেছে। মনে হয় যেন এখানে একটি নয়, দু’টি ময়ূর আছে। প্রকৃতপক্ষে এই লেজটির অনুপুঙ্খ চিত্রায়নের ফলে দর্শকের চোখ সেদিকেই আকৃষ্ট হয়। কার্তিকের অলংকারেও নব্যবঙ্গীয় শিল্পশৈলীর প্রভাব আছে। কার্তিকের মগ্নতা এই ছবিতে একটি অন্য মাত্রা এনেছে। তবুও জলরঙে টেম্পেরা পদ্ধতিতে করা এই ছবিটিতে কিঞ্চিৎ মুনশিয়ানার অভাব দেখা যায়।

তুলনায় পরের ছবিটি অনেকটাই পারদর্শিতার সাক্ষী। তবে ওয়াশের হালকা রং এই ছবিতে নেই। বরং উজ্জ্বল রঙের আবহে দীপ্ত তাঁর এই ছবিটি। কেন যেন মনে হয়, এরা দু’জন কিরাত কিরাতী। রাতের জঙ্গলের ভাবটি ভারী সুন্দর ফুটেছে ছবিতে। চরিত্রদু’টির অভিব্যক্তি যথাযথ। মেয়েটির মুখের ভাব ও অঙ্কন শৈলী বাগ গুহার ফ্রেস্কোর কথা মনে করিয়ে দেয়। এই ছবিটির আলোছায়ার খেলা গভীর জঙ্গলে রাত্রির রহস্যময় রূপটিকে শৈল্পিকভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।
শিল্পশিক্ষা শেষ করার পর “অনেককেই অনিচ্ছাসত্ত্বেও নিজেদের শিল্পচর্চার ক্ষতি ক’রে অন্য কাজ করতে হ’ত জীবিকানির্বাহের জন্য।” শিল্পীদের এই অবস্থাটা নন্দলাল মেনে নিতে পারেননি। এছাড়াও নন্দলাল বসু বিশ্বাস করতেন মেয়েদের অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতায়, আর এ ব্যাপারে চারুশিল্পের চেয়ে, প্রাত্যহিক জীবনের ব্যবহার্য জিনিসে সোনার কাঠি ছুঁইয়ে দেওয়া কারুশিল্পের ওপরেই তাঁর ভরসা ছিল সমধিক। তাই শিক্ষার্থীদেরও কারুশিল্পের প্রচার ও প্রসারে সতত উৎসাহ দিতেন তিনি। এই উদ্দেশ্যেই বেশ কিছু ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে প্রতিষ্ঠা করলেন ‘কারুসংঘ’। শিল্পী প্রভাতমোহন হলেন সচিব, অন্যদের মধ্যে ছিলেন রামকিংকর বেজ, বিনোদবিহারী মুখোপাধ্যায়, মণীন্দ্রভূষণ গুপ্ত, বিনায়ক মাসোজি প্রমুখরা। কিন্তু ইন্দুসুধাই ছিলেন সেখানকার একমাত্র মহিলা সদস্য।

কারুসংঘ থেকে ১৯৩০-এ প্রকাশিত হল ইন্দুসুধা ঘোষের সূচি-শিল্পের নকশার বই ‘সীবনী’। বইটির ‘পরিচয়’ অংশে অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর লেখেন: ‘শ্রীমতী ইন্দুসুধার আঁকা এই সেলায়ের নমুনাগুলি শুধু ছাপার কাগজে ও কালিতে থাকবার জিনিষ নয়, এগুলির যথাযথ ও যথোপধুক্ত স্থান হচ্ছে মেয়েদের অঙ্গরাখায়। সাদা ও বিচিত্র বর্ণের সূত্রে গাঁথা হওয়াতেই এদের সার্থকতা। আমি শ্রী ইন্দুসুধার এই শিল্প ও কারুকার্যের সম্যকরূপ আদর কামনা করি।’
এ বইটির আরম্ভে, নকশায় রঙের ব্যবহার সম্বন্ধে ইন্দুসুধা লেখেন বেশ কয়েকটি জরুরি কথা। সেখানে একদিকে প্রকৃতি থেকে শিক্ষাগ্রহণ, অন্যদিকে ব্যক্তিগত রুচি ও স্বাতন্ত্র্য– নন্দলাল ও কলাভবনের শিক্ষার এই বিশেষ ধারাটি সুন্দরভাবে প্রকাশিত হয়। তাঁর এই নাতিদীর্ঘ লেখাটিতে– তাঁর আত্মস্থীকৃত ডিজাইনের দর্শন শুধু নয়; আজ যা সাধারণের মধ্যে শান্তিনিকেতনের নকশা হিসেবে সুপরিচিত– তার প্রাথমিক ধারণাগুলিও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। পড়ে নেওয়া যাক শেষের লাইন ক’টি: ‘রং মানানোটা রংয়ের আয়তন ও ঘনত্বের ওপর অনেকটা নির্ভর করে। রংয়ের মানান অসংখ্য রকম। রং সাজাতে হলে প্রকৃতির কোনো জিনিষের মধ্যে থেকে নেওয়াই ভাল। যেমন ডালিমফুলের লালের সঙ্গে তার ভিতরের রেণুর সোনালিটি মানায়। এখানে লাল কতখানি এবং কি রকম ঘন ও তার সঙ্গে কি রকম ঘন কতখানি সোনালি মানিয়েছে সেটি লক্ষ্য করতে হবে।’ যেহেতু বইটির নকশাগুলো সাদাকালোতে ছাপা, তাই হয়তো তাঁর মনে হয়েছে নকশায় রঙের ব্যবহার সম্বন্ধে এই মুখবন্ধটি দেওয়ার কথা– যাতে নতুন শিক্ষার্থীরা একটি দিকনির্দেশনা পায়।

এটাই ইন্দুসুধার চরিত্রের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য। তাঁর মনের সংবেদনশীল প্রতিটি পদক্ষেপই সুপরিকল্পিত। তাঁর মধ্যে ছোটবেলা থেকেই মানসিক দৃঢ়তা ও স্থৈর্যের যে প্রকাশ দেখা যায় সেটি ব্যতিক্রমী বইকি। তাঁর লেখায় একটিও অতিরিক্ত কথা যেমন নেই, তেমনই নেই কোনও অস্পষ্টতা; অথচ প্রকাশভঙ্গি সাবলীল, আবেগের বাহুল্য না-থাকলেও উপরের উদ্ধৃতি থেকেও তাঁর শিল্পী-মনটিকে চিনে নিতে কোনও অসুবিধা হয় না।
এই পর্বে যে কোনও কারণেই হোক কারুসংঘ স্থায়ী হয়নি বেশিদিন। এবার মাস্টারমশাই তাঁকে পাঠালেন শ্রীনিকেতনে। সানন্দে সেখানে গিয়ে কার্যভার তুলে নিলেন তিনি। বাটিক, সূচিশিল্প, আলপনা– আশেপাশের গ্রামের মেয়েদের নিয়ে নানারকম হাতের কাজের চর্চা চলতে লাগল সোৎসাহে।

তরুণী ইন্দুসুধা মনের আনন্দে শ্রীনিকেতন ঘিরে রবীন্দ্রনাথের স্বপ্ন সার্থক করে তুলতে ব্রতী হলেন। মাঝেমাঝেই নন্দলাল, বিনোদবিহারীরা এসে আড্ডা জমাতেন। তরতরিয়ে দিন কাটছে, এর মধ্যেই খবর এল– ‘বন্দরের কাল হল শেষ’, পুলিশের সন্দেহভাজনদের তালিকায় নাম উঠেছে তাঁর।
অদ্ভুতভাবে আবার একবার আত্মগোপনের সুযোগ এল। স্বামী আত্মবোধানন্দজি (সত্যেন মহারাজ) নিবেদিতা স্কুলে ছাত্রী ও শিক্ষিকাদের আঁকা শেখাবার জন্যে একজন শিল্পীর খোঁজ চাইলেন নন্দলাল বসুর কাছে। বলাবাহুল্য আর দেরি না করে ইন্দুসুধাকে মাস্টারমশাই পাঠিয়ে দিলেন কলকাতায়। সেসময় দলেরও প্রয়োজন ছিল তাঁকে। কলকাতায় বেশ কিছু বিপ্লবীকে আশ্রয় দেওয়ার, অস্ত্রশস্ত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র লুকিয়ে রাখার ভার পড়ল ইন্দুসুধার ওপর। পলাতক বিপ্লবীদের আশ্রয় দেবার জন্য একটি বাড়ি ভাড়া করলেন। আবার সেখানকার আশ্রিত একটি ছেলে ধরা পড়ে যাওয়ার পরে, সেই বাড়ি ছেড়ে অন্য একটি বাড়ি ভাড়া করলেন। সেখান থেকেই যাতায়াত করেন স্কুলে। শান্তশিষ্ট কোমল-স্বভাব এই মেয়েটির ভেতরে লুকনো আগুন বা দৃঢ় সংকল্পের খবর তাঁর বেশিরভাগ সহকর্মীরই ছিল অজানা।

কিন্তু শেষরক্ষা হল না। স্টেটসম্যানের সম্পাদক এলফ্রেড ওয়াটসনের হত্যা মামলায় তাঁর যোগাযোগ অনুমান করে, তাঁকে ধরতে তৎপর হয়ে উঠল পুলিশ। বিপ্লবী সহযোগীদের সাহায্যে পালিয়ে গেলেন উত্তরবঙ্গের সামসিং চা-বাগানে। সামসিং থেকে ধরা পড়লেন তিনি। প্রথমে প্রেসিডেন্সি জেলে ও তারপরে হিজলি জেলে বন্দি করে রাখা হল তাঁকে। তাঁর বিরুদ্ধে কোনও প্রত্যক্ষ প্রমাণ না-পাওয়া গেলেও, প্রায় পাঁচবছর বন্দি রইলেন তিনি। কিন্তু সবকিছুই কেড়ে নিলেও তাঁর মনের কোণে লুকনো একটুকরো শান্তিনিকেতন, তাঁর আনন্দযাপনের অভিজ্ঞান তো তাঁরা কেড়ে নিতে পারেননি। তাই কারাবাসের দিনগুলোও সুন্দরের ছোঁয়ায় রঙিন করে তোলেন তিনি। হিজলি জেলের উঁচু প্রাচীরের বাইরের দুনিয়ার সঙ্গে একমাত্র সংযোগ– ‘বাইরের জানলা বেয়ে খানিকটা উঠে শালবনের লাল কচি পাতার মেলা। শান্তিনিকেতনের শালবীথির কথা মনে করিয়ে দিল। পুলিশকে খোসামোদ করে লাল কচি পাতা আনিয়ে খাবার টেবিলে সাজিয়ে দিলাম। প্রায় চার বছর বন্দি ছিলাম এই জেলে, জেলে বসে ছবি আঁকতাম।’

আলপনা দিয়ে সাজানো ওই একফালি ঘরের সামনেটা। অন্য বন্দিনীদেরও উৎসাহিত করেন। দিনের যেটুকু সময় প্রহরীদের কড়া পাহারায় খুপরির বাইরে আসার সুযোগ পান, গাছের চারা লাগান, দু’-একটি ফুল ফুটলে আনন্দে অধীর হন। খোলা গলায় গেয়ে ওঠেন ভোরের বৈতালিক, অন্য বন্দিনীরা গলা মেলান তাতে। রবীন্দ্রনাথের তপতী, মালিনীর অভিনয়ও করেন তাঁরা। এসব পড়ে মনেই হতে পারে তাহলে আর কারাবাসের কষ্ট কী? কোনও চিঠিপত্র না-পাওয়ার, কারও সঙ্গে দেখা করতে না-পারার, বারবার অসুস্থ হয়ে পড়ার এবং তীব্র মানসিক অত্যাচারের মুখোমুখি হওয়ার কষ্ট ভুলে থাকার জন্যই এত আয়োজন। মাস্টারমশাই তাঁকে পাঠালেন লিনোকাটের যন্ত্রপাতি, লিনো। জেলগেটের প্রহরা পেরিয়ে তা তাঁর হাতে পৌঁছল না। মধ্য তিরিশে পৌঁছবার আগেই শরীর ভাঙতে লাগল। অসুস্থতার কারণে এবং প্রমাণাভাবে ছাড়া পেলেও নজরবন্দি হয়ে থাকতে হল একবছর। ছাড়া পেয়েই নন্দলালের আগ্রহে ফিরে গেলেন শান্তিনিকেতন। স্নেহের ছাত্রীকে এগ টেম্পেরা শৈলী শেখাতে বসলেন মাস্টারমশাই। ভগ্নস্বাস্থ্য মেয়েটির মন ভালো করবার জন্য প্রথম দিনেই ‘ডিম ভেঙে রং গুলে একখানা কাঠের ওপর তুলির এক আঁচড়ে জেলগেটের একটি বড় তালা এঁকে’ তাঁকে উপহার দিলেন।
এবার নতুন কর্মস্থলে এলাহাবাদ। সেখানে মিউনিসিপালিটি দুঃস্থ মহিলাদের শিল্প ও হাতের কাজের একটি প্রতিষ্ঠান করেছিল। নাম ‘মিউনিসিপাল মহিলা শিল্পভবন’। এই যে দুঃস্থ বয়স্ক মহিলা– এঁদের হাতের কাজ ও লেখাপড়া শিখিয়ে, মনের আনন্দে কাটিয়ে দিলেন নয়টি বছর। সেখানে ভাষা পরিবেশ সবই নতুন। কিন্তু শিল্পই তাঁর আয়ুধ, শিল্পচর্চার মধ্য দিয়েই দেশসেবার নতুন অধ্যায় লেখা হল। মাটির কাছে মানুষের কাছে স্বাবলম্বনের বার্তা পৌঁছে এক নতুন আনন্দের স্বাদ পেলেন তিনি। এর মধ্যেই স্বাধীন হল দেশ। সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তে এলাহাবাদে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করলেন লাল বাহাদুর শাস্ত্রী। সারা দেশের সঙ্গে আনন্দে মাতোয়ারা হয়ে উঠলেন ইন্দুসুধা ও তাঁর ছাত্রীরা। ‘আ গ্যয়া দিন স্বাধীনতা কা’ গানটি গাইতে গাইতে সারা এলাহাবাদ পরিক্রমা করলেন।
স্বাধীনতার জন্যে সর্বাধিক মূল্য বোধহয় দিতে হয়েছিল বাংলা ও পাঞ্জাবকে। দেশভাগ ও দাঙ্গার ক্ষত নিয়ে অসংখ্য মানুষ আশ্রয় নিলেন এপার বাংলায়। নতুন এক শব্দ যোগ হল বাংলায়– ‘উদ্বাস্তু’। তাঁদের মধ্যে সব হারানো, অত্যাচারিত মেয়েদের জন্য ১৯৪৪ সালে প্রতিষ্ঠা হয়েছিল ‘নারী সেবা সংঘ’। এবার ইন্দুসুধার ডাক পড়ল সেখানে। সারাজীবন শিল্পের সঙ্গেই ঘরবসত তাঁর। মাটির গন্ধ তাঁর সারা গায়ে। জীবনের শেষ তিনটি দশক তিনি কাটালেন দক্ষিণ কলকাতার নারী সেবা সংঘের আবাসিক সুপারিনটেনডেন্ট হিসেবে– দুঃস্থ মেয়েদের হাতের কাজ শিখিয়ে, তাদের স্বনির্ভর করে তুলতে। তাঁর সর্বক্ষণের চিন্তা ছিল– কীভাবে এঁদের সাহায্য করা যায়। সাতের দশকে আকাশবাণীতে এই নিয়ে একটি বক্তৃতাও দেন। সুন্দর পরিচ্ছন্ন হস্তাক্ষরে লেখা সেই বক্তৃতার খসড়া খাতাটি দেখলে বোঝা যায়– কত সুন্দর বিশ্লেষণ করেছেন তিনি মেয়েদের স্বনির্ভরতার প্রয়োজনে হাতের কাজের ভূমিকা নিয়ে। ‘বহু ফেলে দেওয়া জিনিস নিয়ে কুটুম কাটামের ভঙ্গিতে পুতুল তৈরির উপাদান জোগাতে পারে। এক্ষেত্রে উপাদান দুর্লভ ও বহুমূল্য নয়। চাই সৃজনশীল মন ও কর্মকুশলতা।’ আর এভাবেই তিনি মিলিয়ে দিয়েছেন জীবনের প্রয়োজন ও নন্দনতাত্ত্বিক সৌন্দর্যের প্রয়োজনকে।

রবীন্দ্রনাথের কথা দিয়ে শুরু করেছিলাম। ইন্দুসুধা তাঁর জীবনে এই সর্বাঙ্গীণ শিক্ষা-ভাবনার– যা জীবনযাপন ও নান্দনিক বোধের সঙ্গে ওতপ্রোত– তারই বিকাশ ও বিস্তার ঘটিয়েছেন। শান্তিনিকেতন তাঁকে যে শিক্ষা দিয়েছিল, আমরণ তারই আলোয় উদ্ভাসিত করেছেন বহু অশান্ত কূলহীন দিশাহীন মেয়েকে।
তথ্য-ঋণ:
১. ‘কারুসঙ্ঘ’, পুলক দত্ত
২. ‘যে আগুন নেভে নাই’, শিলাদিত্য উৎসব সংখ্যা, সেপ্টেম্বর ২০১৯
৩. ‘পুণ্যস্মৃতি’, ইন্দুসুধা ঘোষ
৪. ‘ভারতের ভাস্কর ও চিত্রশিল্পী’, কমল সরকার
[কৃতজ্ঞতা: নানা তথ্য দিয়ে সাহায্য করেছেন শ্রী পুলক দত্ত, শ্রীমতী স্বাতী ঘোষ ও শ্রী সুবীর বন্দ্যোপাধ্যায়। ইন্দুসুধার লেখাদু’টি সংগ্রহ করে দিয়েছেন শ্রীমতী মৃণ্ময়ী দেব ও শ্রী তন্ময় দাশগুপ্ত।]
…………… পড়ুন চিত্রার্পিত কলামের অন্যেন্য পর্ব ……………
পর্ব ৩ : অরুন্ধতীর ছবি: আলো ক্রমে আসিতেছে
পর্ব ২ : আমিনা করের ছবি যেন জীবনানন্দের কবিতা
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved