


ভগবানকে সমস্ত জগতে বিরাজিত মহাশক্তি বলে জানে এবং সমস্ত স্ত্রী-জাতিতে সেই মহাশক্তির বিকাশ প্রত্যক্ষ করে ধন্য হয়। তাকেই বলি ‘শাক্ত’। বাকি যা তুমি বলছ, এগুলো একেক প্রকার সাধকের জন্য প্রয়োজনীয় একেক প্রকার ব্যবস্থা মাত্র। ওই ভাবটিই হল মূল। ওই ভাব-সম্পদে পৌঁছানোর জন্যে যার যে-ব্যবস্থার দরকার পড়ে, যার যা পেটে সয়, তার গুরু সেই ব্যবস্থাই করেন।
৮.
লাল পাথরে নির্মিত ক্ষুদ্রাকার মন্দির। ভিতরে প্রায় দু’হাত প্রমাণ উঁচু কালো কষ্টিপাথরের কালীপ্রতিমা। দেবী দিগম্বরী, উত্তুঙ্গস্তনী। কটিদেশে নরকরমালা মাত্র পরিধান। গলায় নরকরোটির হার। চতুর্ভুজা দেবীর বাম করদ্বয়ে খড়্গ ও নরকপাল। দক্ষিণ করদ্বয়ে বর ও অভয়মুদ্রা। অলক্তরঞ্জিত চরণ শুভ্র শিববক্ষে আলীঢ় মুদ্রায় স্থাপিত। অর্থাৎ ডান-পা সম্মুখে স্থাপিত এবং বাম-পা পশ্চাতে প্রসারিত। পশ্চাদ্বর্তী চরণ অতীতে এবং সম্মুখবর্তী চরণ ভবিষ্যতে সংস্থাপিত। আলুলায়িত-কুন্তলা, নেত্রত্রয়ে কজ্জলরেখা, লোলজিহ্বা শুভ্র দশনে লাজভরে শাসিত, শিরোদেশে হেমময় মুকুট। ক্ষুদ্রাকার মূর্তি, অথচ অঙ্গসংস্থান নিখুঁত, মুখচোখ সুচারু এবং অতি মনোরম। সর্বোপরি একটি সদানন্দময়ী বালিকার ভাব।
মন্দিরের ভিতরে আধো-আলো, আধো-অন্ধকার। দীপাধারে পিত্তল-প্রদীপের ওষ্ঠে অগ্নিবিন্দুর মৃদু চুম্বন। আলো-অন্ধকারের মধ্যে উড্ডীন ধূপের ধোঁয়া অনিয়ত নানা বক্ররেখায় সুরভি বিস্তার করে চলেছে। দেবীর সম্মুখে সতী-ভৈরবী পূজায় বসেছেন। মেরুন পাড় সাদা খোলের একটি কাপড় তাঁর গায়ে। দক্ষিণবাহু উন্মুক্ত। মাথায় ঘোমটা নেই। পিঠের উপর ছড়ানো ভেজা একরাশ কেশকলাপে জলবিন্দু কম্পমান। তাঁর আসনের ডানদিকে পুষ্পপাত্র, বামদিকে পূজার ঘণ্টা, কমণ্ডলু ও সম্মুখে শ্বেতপাথরের বেদীর উপর রাখা কাঠের বারকোশে ফল ও মিষ্টান্নের নৈবেদ্য।
মন্দিরের মেঝে বেশ ঠান্ডা। আমি যখন মন্দিরে ঢুকি, তখন পূজা আরম্ভ হয়ে গেছে। এক কোণ থেকে একটি কম্বলাসন টেনে নিয়ে একপাশে বসেছিলাম। আমি যে মন্দিরে এসেছি, তিনি বোধহয় তা খেয়াল করেননি।
দেখে যা মনে হল, সতী-ভৈরবীর পুজো ভাবের পুজো। অর্থাৎ বিধিনিষেধের তেমন কড়াকড়ি নেই। প্রথমেই ফুল, চন্দন, বেলপাতা ও মালা দিয়ে মা-কে সুন্দর করে সাজিয়েছেন। তারপর দীপধূপ জ্বেলে পূজায় বসেছেন। মন্ত্রাদি এত নিম্নস্বরে পড়ছেন, ভালো করে কান না-পাতলে শোনা যায় না। সংস্কৃত মন্ত্রের মধ্যে বেশ কয়েকবার বাংলা ভাষায় মায়ের উদ্দেশে কী যেন উচ্চারণ করলেন, ভালো বুঝতে পারলাম না। বোধহয়, খেতে ডাকলেন বা ওরকম কিছু। আপন মনে হাসলেনও একবার। ছোটো ছেলেমেয়েরা ঘুমের মধ্যে যেমন দেয়ালা করে, তাঁর হাসিও ঠিক তেমনই মনে হল। আপন মনের হাসি। আত্মনিমগ্ন। ভোগ-নিবেদন ইত্যাদির পরে গভীর ধ্যানে ডুবে গেলেন। দেখলে মনে হবে, শরীরে অণুমাত্র সাড় নেই। যেন মর্মর একটি মূর্তি মায়ের দিকে মুখ করে স্থির বসে আছে।
পূজা শেষ হওয়ার একটু আগে আমি মা-কে প্রণাম জানিয়ে মন্দিরের বারান্দায় বেরিয়ে এসে বসলাম। কিছুক্ষণ পরে তিনি পূজা সেরে বাহির হয়ে এসে আমাকে দেখে সামান্য অবাক হলেন। বললেন, ‘কতক্ষণ হল এসেছ?’
‘অনেকক্ষণ। আপনার পূজা দেখছিলাম।’
‘তা বেশ। এখানেই থাকো তুমি। আমি পূজার বাসনকোশন ধুয়েই আসছি। দেখো, যেন পালিয়ে যেও না!’

মন্দিরের দাওয়ায় একলাটি বসে আছি, দূরে কোথাও বনের পাখি মিষ্ট স্বরে ডাকছে, খানিক পরে তিনি কুয়োতলার দিক থেকে ধীরে ধীরে এলেন। মন্দিরে ঢুকে দু’টি শালপাতার দোন্নায় কিছু ফলমিষ্টি প্রসাদ নিয়ে ফিরলেন। আমার হাতে একটি শালের দোন্না ধরিয়ে দিয়ে বললেন, ‘প্রসাদ খাও!’ নিজেও বসলেন দাওয়ার খুঁটিতে ঠেস দিয়ে প্রসাদ হাতে।
কিছুক্ষণ পরে প্রসাদ খেতে খেতে জিজ্ঞেস করলেন, ‘তুমি কি আমাকে কিছু বলতে এসেছিলে?’
যা বলব বলে এসেছিলাম, কখন যেন ভুলে গেছি। অথবা সতী-ভৈরবীই হয়তো সেসব ভুলিয়ে দিয়েছেন আমাকে। কিছু কিছু কথা অনেক সময় ভুলে যাওয়াই ভালো। তবে অন্য একটা প্রশ্ন তখন মনের মধ্যে উঠিউঠি করছিল। খানিক ভেবে নিয়ে প্রশ্ন করলাম, ‘আরও অন্যান্য সব জায়গায় আমি শাক্ত, বৈষ্ণব, বাউল, ফকির, দরবেশ, বেদান্তীদের সঙ্গ করেছি। নানা লোকে নানা কথা বলে।’
‘হ্যাঁ, তা তো বলবেই। এক গাছে অনেক পাখি। অনেক রঙ, অনেক রকমের বোল,’ সতী-ভৈরবী উত্তর দিলেন।
‘মানে বলছেন, গাছটা একই। তাই তো?’
‘হ্যাঁ, গাছ একই। কিন্তু পাখিদের রঙ, বোল সব আলাদা আলাদা।’
‘আচ্ছা, এত সব ভাব, এত রকমের মতাদর্শের মধ্যে শাক্তদের সাধন-ভজনই সব চেয়ে বিচিত্র ধরনের, নয় কি?’
তিনি আমার প্রশ্ন যেন বুঝতে পারলেন না। ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ‘বিচিত্র কেন হবে?’
‘বিচিত্র নয়? এক দেবীরই কত রকম রূপ। সাধনাও কত আলাদা আলাদা। কোথাও সাড়ম্বরে ষোড়শোপচারে পূজা হয়। কোথাও আবার তারই সঙ্গে পশুবলিও হয়। কোথাও পুজো-আচ্চা সবই গোপন। কেউ শ্মশানে শবসাধনা করে। কেউ আবার গুপ্ত স্থানে ভৈরব-ভৈরবী হয়ে চক্রে বসে। কোথাও পঞ্চ-মকারের পূজা হয়। মাংস, মদ্য, মুদ্রা, মৎস্য, মৈথুন। কেউ পশুভাবের অধিকারী। কেউ বীরভাবের। কেউ আবার দিব্যভাবের। কেউ কেউ কুণ্ডলিনী জাগরণের কথাই বিশেষভাবে বলেন। আবার এই আপনার পূজা যা দেখলাম, এ তো ভাবের পূজা।’
‘আমার পূজা?’ অসহায়ভাবে বললেন সতী-ভৈরবী, ‘আমি তো পুজো কিছু করি না। আমি মায়ের সখী। মায়ের বান্ধবী। মা-কে সাজাই। খাওয়াই। চুল বেঁধে দিই। গল্প করি। আর কিছুই না।’
মুগ্ধ হলাম। কিন্তু মুগ্ধতার সেই ভাব ভিতরে রেখে বাইরে পূর্বপ্রসঙ্গেরই অনুবর্তন করতে লাগলাম। বললাম, ‘তা ঠিক। তবে আমি বলছিলাম, এই যে এত রকম দেবীপূজার পদ্ধতি, এত রকম আচার-বিচার, এরা কি সবাই শাক্ত?’
আমার প্রশ্ন শুনে তিনি হাসলেন। তারপরই হঠাৎ তাঁর স্বভাবসুলভ বালিকাভাব পরিত্যাগ করে বেশ দৃঢ়তার সঙ্গে বললেন, “… ‘শাক্ত’ মানে কী জানো, বাবু? ‘শাক্ত’ মানে মদ-ভাঙ্ নয়, মেয়েমানুষ নয়! ‘শাক্ত’ মানে সেই লোক, যে কিনা ভগবানকে সমস্ত জগতে বিরাজিত মহাশক্তি বলে জানে এবং সমস্ত স্ত্রী-জাতিতে সেই মহাশক্তির বিকাশ প্রত্যক্ষ করে ধন্য হয়। তাকেই বলি ‘শাক্ত’। বাকি যা তুমি বলছ, এগুলো একেক প্রকার সাধকের জন্য প্রয়োজনীয় একেক প্রকার ব্যবস্থা মাত্র। ওই ভাবটিই হল মূল। ওই ভাব-সম্পদে পৌঁছানোর জন্যে যার যে-ব্যবস্থার দরকার পড়ে, যার যা পেটে সয়, তার গুরু সেই ব্যবস্থাই করেন। আমি, বাবু, এইটুকুই জানি।”
আমি বললাম, ‘আপনি যাকে মূল ভাব বলছেন, তা ধরে রেখেই তো সব শাক্ত সাধকেরা সাধনা করেন। তাহলে পরস্পরের মধ্যে এত ঝগড়া-বিবাদ বাঁধে কেন?’
সতী-ভৈরবী অবাক হয়ে বললেন, ‘কে তোমাকে বলল যে, সকলেই এই মূল ভাব ধরে রাখে বা ধরে রাখতে পারে?’
‘পারে না? তাহলে তাদের ওই সব সাধনা?’
‘মূল কথা ভুলে গেলে সব সাধনাই ফক্কা!’ এই বলে তিনি খুব হাসতে লাগলেন।
আমি এবার একটু সতর্ক হয়ে পা ফেললাম। গম্ভীর মুখে জিজ্ঞাসা করলাম, ‘মূল ভাব যে অনেকেই ভুলে যায়, আপনার হাতে তার কী প্রমাণ আছে?’
সতী-ভৈরবী সুর করে বললেন, ‘বলে বৃক্ষ তোমার নাম কী? ফলে পরিচয়। শক্তি-সাধনা যে করছে, সাধনার ফল হিসেবে তার তো শক্তিমান বা শক্তিময়ী হওয়ার কথা। আমাদের দেশে, বিশেষত পুব-দিকটায়—বাংলায়, ত্রিপুরায়, প্রাগ্জ্যোতিষপুরে— শক্তিপূজা, মাতৃপূজাই তো সব চেয়ে বেশি হয়। কিন্তু ফল কী? চারদিকে দেখছ না, বেশির ভাগ লোক দুর্বল, নির্জীব, কাম-ক্রোধের অধীন, রাতদিন পরস্পরের প্রতি হিংসেয় জ্বলে পুড়ে মরছে। এর থেকেই তো বোঝা যায়, তাদের সাধনাও ওই রকমই। মূল ভাব ভুলে না গেলে কি এমন হয়?’
‘কিন্তু যতই যাই হোক, যেভাবেই হোক, মায়ের পুজোই তো সবাই করছে!’
এবার তিনি আমার উপর একটু বিরক্ত হলেন। কুঞ্চিত ভ্রূ ও তীব্র কটাক্ষপাতে উপেক্ষার ভাব ফুটে উঠল। বললেন, ‘আচ্ছা, তুমি এত বুদ্ধিমান আর এই সহজ কথাটা বুঝতে পারছ না? বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এই পূজা আড়ম্বর-পরিপূর্ণ, নিজেদের ভোগসুখের জন্যে, আর কিছুই না!’ বলতে বলতে উত্তেজনায় তাঁর মুখ লাল হয়ে উঠল। তীক্ষ্ণ স্বরে বলতে লাগলেন, ‘ভড়ং, বাবু, ভড়ং! সব ভড়ংবাজি! এতই যদি মাতৃভক্তি করে, দেবীপূজা করে, তাহলে মন্দির থেকে বেরিয়ে এসেই মেয়েদের উপর হিংস্র জন্তুর মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে কেন? সারা দেশে মেয়েদের উপর এত অত্যাচার, এত নিপীড়ন, নারকীয় ধর্ষণ—এসব তোমার চোখে পড়ছে না? শাক্ত সাধনা এগুলো? এই তার ফল?’

সেই শান্ত সুষমামণ্ডিত সতী-ভৈরবী কোথায় যেন চলে গেছেন। তার জায়গায় আমার সামনে বসে আছেন এক উগ্রভৈরবী। ধাতব উচ্চস্বরে তিনি বলে চলেছেন, “যে শক্তিপূজা করে, সে বামাচারীই হোক আর দক্ষিণাচারীই হোক, প্রকৃত শক্তিসাধক কখনও মেয়েদের অসম্মান করতেই পারে না। কাম দিয়েই হোক আর প্রেম দিয়েই হোক, প্রকৃত শাক্ত সাধক মেয়েদের পূজাই করে থাকে মনে মনে। সে-পূজা তোমাদের ওই ‘নারী দেবী, নারী মা, নারী দশভুজা, নারী হ্যানাত্যানা’ বলে মেয়েদের বশীভূত করে রাখার মতলববাজি নয়। প্রকৃত কৌল সাধক মেয়েদের নিজেরই মা বা নিজেরই কন্যা কিংবা গুরু অথবা হয়তো বন্ধু বা শিষ্যা, হয়তো বা সঙ্গিনীরূপেই—কোনো না কোনো একটা সুস্থ সম্পর্কের মধ্য দিয়েই আন্তরিক শ্রদ্ধা করে থাকেন। কখনই দাসী বা ভোগ্যারূপে চিন্তা করেন না। ওভাবে চিন্তা করাও মহাপাপ বলে জানবে। আর এই মহাপাপের দঁকেই গোটা সমাজ, গোটা দেশ ডুবে গেছে! মেয়েদের প্রতি আজন্ম অবহেলা, পারলে তাদের মাতৃগর্ভে কিংবা শৈশবেই মেরে ফেলা, আর যদি বেড়ে ওঠে তাহলে মেরেধরে নিপীড়ন করে ধর্ষণ করে পণ্যা করে তুলে পৈশাচিক ভোগের উল্লাস… এরা সব কীসের পুরুষ যে জানোয়ারদের হাত থেকে নিজেদের মা-বোনকে রক্ষা করতে পারে না? কীসের পুরুষ এরা, যারা নিজেদের বোন কিংবা নিজেদের মেয়ের উপর লালসাপূর্ণ দৃষ্টিক্ষেপ করে? মেয়েমানুষ কী জিনিস, ভগবানলাভ না হলে তা আদপে বোঝাই যায় না। সেই জন্যেই তাদের প্রতি একটা উন্নত ভাব অবলম্বন করে জীবনধারণ করতে হয়। কই, তোমাদের সেই উন্নত ভাব কই, অ্যাঁ? তোমরা কি পুরুষ? সত্যিকারের পুরুষ?”
বলতে বলতেই হঠাৎ তিনি আমার কাঁধে হাত দিয়ে ভয়ানক এক ঠেলা দিলেন। আরেকটু হলেই আমি উলটোদিকে দাওয়া থেকে গড়িয়ে পড়ে যেতাম। তাঁর দেহে যে এতখানি বল আছে, আমার তা কল্পনাতীত ছিল। দেখলাম, তাঁর দুটি চোখ থেকে যেন আগুন ঠিকরে বেরোচ্ছে। সেই বিশুদ্ধ ক্রোধের সামনে আমি একেবারে জবুথবু হয়ে গেলাম। আমার বুকটা ভয়ে ঢিপ্ ঢিপ্ করে উঠল। তা সত্ত্বেও কেন জানি মনে হল আমার, এসব কথা তিনি কোনো তত্ত্বদর্শনের ফলে অথবা পরোক্ষ অভিজ্ঞতা থেকে বলছেন না।
একটু চুপ করে থেকে কিছুটা সাহস সঞ্চয় করে শুধু বললাম, ‘কিন্তু আপনি পুরুষদের শুধু খারাপ দিকটার কথাই বলছেন। ভালোও কি অনেকেই নয়?’
তিনি নিজেকে এবার সংবরণ করে নিয়ে অপেক্ষাকৃত শান্ত স্বরে বললেন, ‘ভালো আছে, বাবু, ভালো আছে। ভালো না থাকলে সমাজ ধ্বংস হয়ে যেত। তবে অনেকে ভালো, তা আমি বলতে পারব না। আমার জীবনের তিক্ত অভিজ্ঞতাগুলিই আমাকে তা বলতে দেবে না।’
চুপ করে গেলেন। আমিও চুপ করেই রইলাম। এই আমার সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত, যখন সতী-ভৈরবী নিজমুখে তাঁর জীবনের কথা বলতে উদ্যত হয়েছেন। এখন একটা কথাও আর বলা চলবে না। শুধু অপেক্ষা করতে হবে। যদি সত্যিই তিনি মুখফুটে কিছু বলেন।
আমার মনের কথা কে জানে কোন অলৌকিক শক্তিবলে যেন পড়ে নিয়ে গম্ভীর স্বরে বলতে লাগলেন সতী-ভৈরবী, ‘তুমি যা শুনতে চাইছ বহুদিন ধরে, আজ আমি তার সবই বলব, মন দিয়ে শোনো। এর একটা কথাও এরপর তুমি ভুলে যাবে না। এ এক বিড়ম্বিত জীবনের রূপান্তরের কাহিনি…’
……………. আয়নার ওধারে-র অন্যান্য পর্ব …………….
৪। সতীর সন্ধানে
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved