


দার্জিলিং পৌঁছতে না-পৌঁছতেই কলকাতার ট্যুরিস্ট যেমন বাঁধাকপি-ঠাসা বিস্বাদ মোমো দেখলেও ঝাঁপিয়ে পড়েন, তেমনই জলপাইগুড়ি বা আলিপুরদুয়ার জেলায় ঘুরতে এলে বোরোলির নাম জপ করাও যেন সমতলের বাঙালির ‘স্টেটাস সিম্বল’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই গা-ঘিনঘিনে আদেখলামির ফলে বোরোলির দাম হয়েছে আকাশছোঁয়া। ট্যুরিস্টের উদরপূরণে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগে নির্বিচারে জালে উঠছে বোরোলির চারা। আনকোরা চাহনি মেপে চড়া দামে বোরোলির নামে যে যা পারছে, গছিয়েও দিচ্ছে অনায়াসে। লাটাগুড়ি হোক বা জলপাইগুড়ির দিনবাজার, ‘বোরোলি’ লেবেল সেঁটে দেদার বিকোচ্ছে গুচ্ছের নদিয়ালি জয়া, পিয়ালি-সহ আরও কত কুচোমাছ, হাটে-বাজারে যাদের হামেশাই দেখা যায়।
ভাগ্য যখন সহায় হয়, তখন না-চাইতেই খুলে যায় পাথরচাপা কপালের মরচেধরা তালা। ময়নাগুড়ি থেকে গোরুবাথান, কালচিনি থেকে ধূপগুড়ি চষে ফেলেও বহুকাল যে ছিল অধরা, পাহাড়ি ঝরনার মিঠে জলে হুটোপুটি করে বেড়ানো সেই পাহাড়ি মাছের সন্ধান শেষে পেলাম কি না নাকের ডগায়! লাটাগুড়ি স্ট্যান্ডের মুরুব্বি টোটোচালক মান্তিদা ফিসফিসিয়ে সাবধান করে দিয়েছিলেন, আনতাবড়ি কাউকে এসব গুহ্যকথা জানাতে চাইলে মহাবিপদ। বৃহস্পতিবার চাঁদি-তাতানো রোদ মাথায় নিয়ে চালসা মোড় আসার আগেই দেখি, মঙ্গলবাড়ি-হাটের দাপটে চালসা মোড়ের অন্তত আধ কিলোমিটার আগেপিছে বাস-ট্রাক-গাড়ি-বাইকের তাগাড়ে মাছি সেঁধনোর ফাঁক নেই! কোনওমতে সেই সব ঠেলে গুটিগুটি পৌঁছলাম হাটের লেজের দিকে, যেখানে পাহাড়ের আনাচকানাচ ঘেঁটে আনা রকমারি জিনিসপত্তরের মেলা বসেছে। খুঁটিয়ে নজর চালিয়ে দেখি, গুন্দ্রুক-কিনেমা-ছুরপির স্তূপের আড়ালে অ্যালুমিনিয়াম হাঁড়ি আগলে বসে তোবড়া গালের বুড়ি। কানে ফুসমন্তর দিলে ফোকলা হেসে খুলে ফেলল ছেঁদাওয়ালা ঢাকনা– দেখি পোয়াটাক জলে চ্যাপ্টা মাথা দুলিয়ে খলবল করছে ধূসর-বাদামি রঙের একরাশ তেল চুকচুকে বুধুনা।


বেশ কয়েক বছর আগে তোদে গ্রামের পার্বতী ওরাওঁ, মাত্তর একগেলাস রকশির সঙ্গে ভাজা বুধুনার স্বাদে বিভোর হয়ে উন্মত্ত নাচ নেচেছিল মনে আছে, কিন্তু তারপর অনেক খুঁজেও সে মাছের দেখা পাইনি! এদিকে আমার চকচকে চোখ দেখে ‘দেড়শো রুপিয়া পোয়া’ দর হেঁকে দিয়েছে সেয়ানা মেছুনি। দরদাম করতে গেলে কানের লতিতে গাঁথা রুপোর ধুংরি ঝাঁকিয়ে শুনিয়ে দেয়, ভোররাতে ঝোরার হাড়-কনকনে জলে নামার হ্যাপা কি মাগনা! নোলা বড় বালাই, তায় পড়ে পাওয়া এমন অমূল্যরতন কোন আহাম্মক হাতছাড়া করে? তবে রাতে পাইজাম চালের ভাতে মাখা গুঁড়িআলু ফেলা বুধুনার মাখোমাখো ঝাল যে অশেষ তৃপ্তি দিয়েছিল, তা না মানলে ধর্মে সইবে না।


মাছের খোঁজে ডুয়ার্সের দিগ্বিদিকে ছুটোছুটি বহুকালের বাতিক। স্বীকার করতে বাধা নেই, এইসব রোমাঞ্চকর অভিযানে যেমন নানাবিধ মাছ চিনেছি, তেমনই মোলাকাত হয়েছে বিচিত্র সব মানুষজনের সঙ্গে, যেমন ময়নাগুড়ির চঞ্চলদা। নিউবাজার রোডে তাঁর গ্যারাজে সারাদিন দম ফেলার ফুরসত মেলে না, ব্যতিক্রম রবিবার। দোকানে তালা ঝুলিয়ে থলে বগলে সেদিন হাটে-বাজারে ঢুঁ না-মারতে পারলে দাদার পেটগরম হয়, মাথা ধরে, এমনকী, বুকে ধড়ফড়ানি জাগাও আশ্চর্যের নয়। তো একবার তাঁর লড়ঝড়ে মোপেড চেপে পাড়ি দিলাম জলদাপাড়া অভয়ারণ্য লাগোয়া মাদারিহাট বাজারে। খুব যে বড় বহর তেমন নয়, তবে সেই বাজারে রকমারি নদিয়ালি মাছ দেখে তাক লেগে যায়!



কাঁচাপাকা স্টল জরিপ করার ফাঁকে চঞ্চলদা চিনিয়ে দেন পিঠকাঁটা, ঝিলা, খাকসি বা খোকসা, বগা বাটা আর এলং মাছ। এর আগে নেওড়া নদী টি-এস্টেট যাওয়ার রাস্তায় সাইকেলের ক্যারিয়ারে বাঁধা হাঁড়িতে যে এলং দেখেছিলাম, তাদের গড়ন বেশ রোগাসোগা, লম্বায় বড়জোর আঙুলসমান। কিন্তু মাদারিহাটে গিয়ে দেখি, তোর্সার স্রোতে সাঁতার কেটে তাদের গায়ে-গতরে যথেষ্ট মেদবৃদ্ধি হওয়ায় প্রায় ধাড়ি বাটার আকার পেয়েছে তো বটেই, সেই সঙ্গে চেহারায় হালকা সোনালি আভা মেখে তারা রীতিমতো রূপসী হয়েও উঠেছে। আবার পাশের দোকানে দেখা পেলাম হলং নদীর বিকটদর্শন সাটি মাছের! থ্যাবড়া মুখে পুরু ঠোঁটের ফাঁকে ধারালো দাঁতের পাটি, পিঠে গণ্ডারের খড়্গসদৃশ উঁচিয়ে থাকা কাঁটা আর মোষের মতো মোটা কালো ছাল দেখে পয়লা দর্শনে সিঁটিয়েই গিয়েছিলাম। যদিও দোকানি আশ্বস্ত করলেন, সেদ্ধ হতে সামান্য বেশি সময় নিলেও স্বাদে না কি পাঁঠাকেও টেক্কা দেয়! আবার কী সব ঔষধি গুণ-টুনের ফিরিস্তিও শোনা গেল।



সে-যাত্রায় ঝানু বাজাড়ুদাদা এলং ছাড়াও ব্যাগে পুরলেন ইয়াব্বড় ঘোর কৃষ্ণবর্ণের জাত বোয়াল। প্রায় সাড়ে তিন কিলো ওজনের সেই দানবের সর্বাঙ্গ থেকে যেন মাখন গলে পড়ছে। বঁটিতে দ্রুত ফালি হতে থাকা গাদা-পেটির হিসেব কষতে কষতে বিড়বিড় করে চলল পরিকল্পনা– কোল আর লেজা যাবে বেগুন-বড়ির ঝোলে, আদা-রসুন কষিয়ে তেলঝালের জন্য গাদা। মাথা দিয়ে কাঁটাচচ্চড়ি মন্দ হবে না, কি তাই তো? রসিক ক্রেতার সওয়ালের জবাবে চওড়া হতে থাকে মাছ কুটতে বসা দোকানির মোলায়েম হাসি। এমন বোয়ালের সাক্ষাৎ পাওয়া না কি সৌভাগ্যের লক্ষণ, তাই বাজার ছাড়ার আগে দুই বান্ডিল লটারির টিকিটও পকেটস্থ হল। সেই লটারির ফলাফলে চঞ্চলদা মালামাল হয়েছিলেন কি না, সেই খবর নেওয়া হয়নি, তবে দুপুরে খাবার টেবিলে যে অমৃত আস্বাদন করেছিলাম, স্মৃতির টাকরায় তার রেশ আজও অমলিন।



দাদার সঙ্গে জমজমাট ময়নাগুড়ি পুরাতন বাজারেও অজস্রবার টহল দেওয়ার সুযোগ হয়েছে। রবিবার রেস্তওয়ালা খদ্দেরদের জন্য সেখানে স্থানীয় নদী, পুকুর আর ভেড়ি ছাড়াও দূর-দূরান্ত থেকে সেরা মানের মাছ আসে। শুধু তাই নয়, অন্যদিনের তুলনায় সাধারণ চাপিলা, গুতুম, বাটা, বাচা, ফলুই আর রুই-কাতল-চিতলদের জৌলুস যেন ঠিকরে পড়ে! সপ্তাহের অন্য দিনে যে ম্যাদামারা ছাইরঙা খলসেরা প্লাস্টিক চাদরে গুটিসুটি নিষ্প্রভ থাকে, এদিন কে জানে কোত্থেকে তাদের অঙ্গে তুঁতে আর সিঁদুরে ছোপ ধরে চোখ ধাঁধিয়ে দেয়। ঘনঘোর বর্ষায় এই বাজারে দেখেছি রায়গঞ্জের বিখ্যাত চ্যালামাছের দু’ রকম ভ্যারাইটি। অগ্রজের আশকারায় পরিচয় হয়েছে কুচো আঁশে ঢাকা লম্বা গড়নের নারকেলি চ্যালার সঙ্গে, শতপটি অথবা বারোমাইস্যা বেগুনের ফালি দেওয়া পাতলা ঝোলেই যার স্বাদ খোলতাই হয়। আবার রুপোলি আঁশের ওপর আবছা ডোরা দাগ দেখে চিনেছি ধানখেত ও পাটখেতের জমা জল ছেঁচে তুলে আনা ফুলচ্যালাদের। কাঁটা বাছতে গিয়ে যারা হামশিম খায়, ডুবো তেলে মুচমুচে ভেজে তোলা এই মাছের স্বাদ একবার পেলে তারা কোনওদিন ভুলবে না। তবে, অসম থেকে আমদানি করা কুরশা মাছ জিইয়ে রাখা নিয়ে, বৌলমারির ঘুঘু আড়তদার কালাচাঁদ সাহা ট্রাকে মোটর ফিট করা জলের ড্রামে কৃত্রিম স্রোত তৈরি করার যে আষাঢ়ে গপ্প ফেঁদেছিল, তা ভাস্কর লবণ গিলেও হজম হয়নি মোটে।



পুরাতন বাজারে ঘোরাঘুরির সূত্রেই আলাপ হয়েছিল টুকিটাকি গেরস্থালি জিনিসের ফেরিওয়ালা অধীর বর্মণের সঙ্গে। অবশ্য মিডিয়ার দৌলতে ইতিমধ্যে তিনি ‘দ্য গ্রেট সেফটিপিন ম্যান’ নামে বিখ্যাত। অধীরবাবুর বাড়ি ফালাকাটার মশলাপট্টিতে। সংসারের খরচ জোগাতে এর আগে খুচরো নানা ব্যবসা করলেও খুব সুবিধা হয়নি, তবে শেষ পর্যন্ত সেফটিপিনের কারবার মোটামুটি জমে গিয়েছে। ডুয়ার্সের বিভিন্ন অঞ্চলে ট্রেনে-বাসে-বাজারে ঘুরে বেসাতি করার সুবাদে বছর কয়েক আগে ময়নাগুড়িতে এসে ঘাঁটি গাড়েন। পরনে রংচঙে জামা-প্যান্ট, মাথায় হ্যাট আর চোখে বিদঘুটে রঙিন চশমা তো আছেই, এছাড়া পোশাকের খাঁজে-ভাঁজে লটকানো সেফটিপিনের গোছা ছাড়াও দোদুল্যমান সূচ-সুতো, ছোট কাঁচি, নেল কাটার, সেলোটেপ, গ্লু স্টিক ইত্যাদি নিয়ে ভদ্রলোকের চেহারা সত্যি দেখার মতো। মহল্লার বাচ্চারা ডাকে ‘সেফটিপিন দাদু’ নামে। এমন পড়ে পাওয়া বিটকেল নামকরণে অবশ্য কোনও আপত্তি নেই অধীরের। বরং তার জেরে জনপ্রিয়তার পারদ চড়ায় যে দু’পয়সার মুখ দেখা যাচ্ছে, তাই নিয়েই তিনি নিশ্চিন্ত।


দার্জিলিং পৌঁছতে না-পৌঁছতেই কলকাতার ট্যুরিস্ট যেমন বাঁধাকপি-ঠাসা বিস্বাদ মোমো দেখলেও ঝাঁপিয়ে পড়েন, তেমনই জলপাইগুড়ি বা আলিপুরদুয়ার জেলায় ঘুরতে এলে বোরোলির নাম জপ করাও যেন সমতলের বাঙালির ‘স্টেটাস সিম্বল’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই গা-ঘিনঘিনে আদেখলামির ফলে বোরোলির দাম হয়েছে আকাশছোঁয়া। ট্যুরিস্টের উদরপূরণে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগে নির্বিচারে জালে উঠছে বোরোলির চারা। আনকোরা চাহনি মেপে চড়া দামে বোরোলির নামে যে যা পারছে, গছিয়েও দিচ্ছে অনায়াসে। লাটাগুড়ি হোক বা জলপাইগুড়ির দিনবাজার, ‘বোরোলি’ লেবেল সেঁটে দেদার বিকোচ্ছে গুচ্ছের নদিয়ালি জয়া, পিয়ালি-সহ আরও কত কুচোমাছ, হাটে-বাজারে যাদের হামেশাই দেখা যায়। শিলিগুড়ি থেকে দিনহাটা, অসংখ্য ভাতের হোটেলে চচ্চড়ি আর ঝোলে কড়া ভেজে তোলা সে-সব জঞ্জালের সঙ্গে আহ্লাদি মুখের সেলফি পোস্টানো কলকাত্তাইয়া-বাবুকে কে বোঝাবে, বোরোলির পেলব উমামি স্বাদকাহন, কে বলে দেবে এই মাছ রান্নার প্রাথমিক শর্ত হল, তাকে কদাচ না-ভাজা। বরং কাঁচা বোরোলির কালোজিরে লঙ্কা ফোড়ন দেওয়া পাতলা ঝোল বা সামান্য পেঁয়াজকুচির সঙ্গে বাদামি আলু, ফালি করে কাটা ইশকুশ, দিশি কুমড়ো আর লাফা শাকের কচি ডগা কষিয়ে শেষে টাটকা বোরোলির চচ্চড়ি রাঁধলেই তাকে যথাযোগ্য সম্মান করা হয়। তাছাড়া, নদী-বিশেষে বোরোলির স্বাদের যে তারতম্য ঘটে, তার সুলুকসন্ধান করার মতো খাদ্যবিলাসীই বা কোথায়! অসম আর বিহার থেকে যে বছরভর ট্রাক-বোঝাই করা বোরোলি উত্তরবঙ্গের বাজারে আছড়ে পড়ছে, তার দিশা কি সবাই পায়!


এ তল্লাটে যদি যুতের বোরোলি পেতে হয়, তবে অবশ্যই হানা দিতে হবে জলপাইগুড়ির দোমোহনি হাট বা রেলগেটের কাছে বসা অস্থায়ী সান্ধ্যবাজারে, যার হদিশ পেয়েছিলাম ‘ভূত বাংলো’ দেখতে গিয়ে। ডুয়ার্সে উৎপন্ন চা বয়ে নিয়ে যেতে ১৮৯১ সালে পত্তন হয়েছিল বেঙ্গল-ডুয়ার্স রেলওয়ে। পূর্ববঙ্গের লালমণির-হাট থেকে শুরু হয়ে কোচবিহার ও জলপাইগুড়ি জেলা পেরিয়ে ভুটান সীমান্ত পর্যন্ত গিয়েছিল সেই রেলপথ। তার সদর দফতর ছিল দোমোহনি রেলস্টেশন। রেল দফতরের তৎকালীন সাহেবসুবোদের জন্য এখানে তৈরি হয়েছিল বেশ কিছু পেল্লায় বাংলোবাড়ি! এই রেলপথের ম্যানেজার তথা প্রধান স্থপতি জন আর্চিবল্ড পলওয়েলের নিবাসও ছিল দোমোহনিতেই। স্বাধীনতা এবং দেশভাগের ফলে সেই রেলপথের আংশিক অবলুপ্তি ঘটে, আর কালের নিয়মে গুরুত্ব হারায় দোমোহনি স্টেশন। তবে পলওয়েল সাহেবের সেই পরিত্যক্ত বাংলো কিন্তু আজও জরাজীর্ণ অবস্থায় দাঁড়িয়ে। আশেপাশে এমনই আরও কয়েকটি পোড়ো অট্টালিকা বট-অশ্বত্থের ঝুরি নামিয়ে ধুঁকছে। পড়ন্ত আলোয় তাদের দীর্ঘায়িত ছায়া ঘিরে তৈরি হয়েছে মুখরোচক ভৌতিক গল্পগাছা!



সেই খণ্ডহর দেখে ফেরার পথে জলপাইগুড়ি বাইপাস থেকে সামান্য নেমে রেলের আন্ডারপাসের কাছে এলইডি বাল্ব-ঝোলানো অস্থায়ী বাজারে ঢুকে মাছের রকমসকম দেখে চোখ কপালে উঠল। শুনলাম, পাশেই বয়ে চলা তিস্তা ছাড়াও এ-বাজারে আসে ধরলা ও জলঢাকা নদীর টাটকা মাছ। বিঘৎখানেক বোরোলি তো আছেই, চোখে পড়ল প্রমাণ সাইজের খোকসা, মৃগেল আর বিশাল সাপের আকৃতির বামুশ বা বাঙোশ মাছ!


তবে সবচেয়ে বেশি আপ্লুত হলাম কম-সে-কম কিলো চারেকের বাঘা মহাশেরের দর্শনলাভ করে। নদীর খরস্রোত বেয়ে সাঁতরে চলা যার রাজকীয় উপস্থিতি একদা স্বয়ং জিম করবেটকেও না কি মোহিত করেছিল। তবে সরু কাঁটায় গিজগিজে মহাশেরকে কতটা বাগে আনতে পেরেছিলেন করবেট সাহেব, তা নিয়ে কৌতূহল জাগে বইকি! এ হেন মহামান্য মীনকুলশ্রেষ্ঠ আজ হাতের নাগালে। ছাপোষা ট্যাঁকের সীমাবদ্ধতা তার আংশিক দখলদারিতেই ক্ষান্ত হতে বাধ্য হয়েছিল। তবে স্বাদ ছাপিয়ে তাকে ঘিরে যুগে যুগে সৃষ্টি হওয়া শিকারগাথাই শেষ পর্যন্ত মনে ছাপ রেখে গিয়েছিল।
[লেখার সঙ্গে ব্যবহৃত আলোকচিত্রগুলি লেখকের সূত্রে প্রাপ্ত।]
A Unit of: Sangbad Pratidin Digital Private Limited. All rights reserved